মানসিক আঘাত ভুলতে ইমোশনাল ‘ইটিং’ পরিহার করুন

ওয়াহিদা সুলতানা লাকি:

আমরা মেয়েরা অনেকেই অল্প বয়সে হুট করে মুটিয়ে যাচ্ছি যা বর্তমানের প্রতিযোগিতার জীবনযাপনে অহেতুক একটা ভাবনা হিসেবে যোগ হয়েছে ব্রেইনে। যেখানে চারপাশে নারীরা এতোকিছু করছে সেখানে পড়া, চাকরি, সংসার সব সামলে এক্সারসাইজ কিংবা জিম করবার মতো সে অবসর কোথায়?

বয়ফ্রেন্ড কিংবা হাজব্যান্ডের কাছে লজ্জা পাবার চেয়েও বেশি অস্বস্তি বোধ করছি নিজের সুন্দর ড্রেসটা কিংবা ব্লাউজটা ঠিকঠাক আর লাগছে না। শাড়ির আঁচলের পাশ থেকেই অনাঙ্ক্ষিত মাংস উঁকি দিচ্ছে। আমার কাছে তো একটু মোটা হয়ে গেলেই খুব হাঁসফাস লাগতে থাকে যেহেতু ছোটবেলা থেকেই স্লিম ফিগারের অধিকারী ছিলাম।

আমরা অনেকেই জানি না “ডিপ্রেশনাল ইটিং” কিংবা “ইমোশনাল ইটিং” কী! আমরা অনেক মেয়েরাই যেকোনো ফ্রাস্ট্রেশন এড়াতে কোন পথ খুঁজে না পেয়ে ভালো ভালো খেয়ে প্রশান্তি খুঁজবার চেষ্টা করি। লক্ষ্য করে দেখলাম গত জানুয়ারি মাসে প্রচণ্ডরকম একটা মানসিক ধাক্কা খাবার পর থেকে আমি খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দেবার বদলে চুটিয়ে খাওয়া শুরু করেছি। বিশেষ করে মিষ্টিটা কেনো যেন ভীষণ প্রিয় হয়ে উঠলো। ভাত আগে যে এমাউন্ট খেতাম তাই-ই খাচ্ছি। সীমিত খাদ্যাভ্যাসের মানুষ আমি, অথচ আড়াই মাসে দশ কেজি ওয়েট গেইন করে ফেলেছি। সিএমএইচে গিয়ে ডাক্তারকে বলবার পর সব শুনে তিনি আমার থাইরয়েড টেস্ট করালেন। ফলাফল শূন্য।

হাঁটতে শুরু করলাম, ভাত একবেলা আর রুটি দুইবেলা চালাতে লাগলাম। মাস শেষে ফলাফল তাতেও শূন্য। লক্ষ্য করলাম আমি দুধ চায়ের প্রতি মারাত্মকভাবে এডিকটেড হয়ে পড়েছি। কষ্ট পেলে বসে বসে খানিকক্ষণ কাঁদি, এরপরই উঠে গিয়ে ভরা এক মগ চা করে খেয়ে নেই। যে আমি সারাদিনে এক কাপ চা খেতাম সে আমি এখন পাঁচ থেকে ছয় মগ চা খাই, তাও আবার চিনিযুক্ত।

ওজন কিংবা মুটিয়ে যাওয়া হ্রাস করতে আমরা ভাত ফেলে রুটি শুরু করি ঠিকই, কিন্তু সামান্য এক চামচ চিনি ভাতের চেয়েও কত দ্রুত গতিতে আপনার ওজন বাড়িয়ে তোলে আপনি লক্ষ্যই করেন না। ওদিকে প্রোটিনটাকেও স্কিপ করে দেই। ফলাফল, নখ ভাঙ্গা আর চুল পড়ায় সাফারিং করতে করতে ভাবি ডিপ্রেশনে আছি বলেই হয়তো চুল পড়ে যাচ্ছে।

নানাবিধ ফাস্ট্রেশন কিংবা ডিপ্রেশন থেকে আপনিও আমার মতো সারাদিন এটা সেটা খেয়ে প্রশান্তি খুঁজছেন না তো? এটাকে বলা হয় “ইমোশনাল ইটিং”।এর পরিত্রাণ হিসেবে গল্পের বইয়ে ডুব দিন, ক্রিয়েটিভ কিছু করুন, নয়তো নিজের ঘর সাজান ভিন্ন ভিন্ন এঙ্গেলে। নিজের সাজ পোশাকে মনোযোগী হোন। ভালো বন্ধুত্ব গড়ে তুলুন। পারলে দু এক কলম লিখবার অভ্যাস গড়ে তুলুন। অন্যের ভর্ৎসনায় নয়, নিজের ভালো থাকবার জন্য হলেও ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন তবু ইমোশনাল ইটিং থেকে বেড়িয়ে এসে সুস্থ থাকুন। মনে রাখুন বিশেষজ্ঞদের মতে মুটিয়ে যাওয়া শুধু সকল রোগের লক্ষণ নয়; এটি নিজেও একটি রোগ।

লেখক: অনলাইন এক্টিভিস্ট

শেয়ার করুন: