Women Chapter https://womenchapter.com বাংলাদেশের প্রথম নারী বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ পোর্টাল। Fri, 03 Apr 2020 23:53:46 +0000 en-US hourly 1 https://womenchapter.com/wp-content/uploads/2013/07/logo-2-50x50.jpg Women Chapter https://womenchapter.com 32 32 কোভিড -১৯: কী করছি, কী করবো, কী করবো না https://womenchapter.com/views/33743 https://womenchapter.com/views/33743#respond Fri, 03 Apr 2020 23:53:46 +0000 https://womenchapter.com/?p=33743 অধ্যাপক ড. আমানুল্লাহ ফেরদৌস:

শখের লম্বা লম্বা নখগুলা কেটে ফেলুন। এদের চিপাচোপায় করোনা লুকিয়ে থাকতে পারে।

গয়নাগাঁটি, হ্যান্ড ব্যান্ড, শরীরের চিপায়চোপায় লুকনো বিভিন্ন মেটাল, নাক্ফুল, ঠোঁটফুল, থুতনিফুল, জিহ্বাফুল, আইব্রুফুল, নাভিফুল ইত্যাদি খুলে ফেলুন। আইব্রু লম্বা হয়ে যাচ্ছে? ছোট কাঁচি দিয়ে কাজ সেরে ফেলুন। চুল লম্বা হয়ে যাচ্ছে? সেলুনে কিন্তু যেতে পারবেন না বহুদিন। একজন আরেকজনেরটা কেটে দিন কিংবা কার্ল মার্কস বা ফ্রেডরিক এঙ্গেলসের মতো লম্বা চুলদাঁড়ি রাখুন। বেচারাদের বহু গালিগালাজ করেছেন, এখন অন্তত ওঁদের মতো কিছুটা হয়ে যান। যাই হোক, ফেসিয়াল জরুরি হয়ে পড়েছে? জ্বী ঐটা ভুলে যান। কতোদিনের জন্য? জানি না। আপাতত ঘরে বসেই লেবু, মুলতানি মাটি, শসা, হলুদ, চন্দন ইত্যাদি দিয়ে কাজ সেরে ফেলুন (সাবধান কাঁচা ডিমের কুসুমে হাত দিবেন না কিন্তু, পোলট্রি সাবধানে ডিল করুন)।

লেবু, জাম্বুরা, কামরাঙা, লাইম, আনারস, কমলা, ম্যান্ডারিন, রসুন, এভোকাডো, আম, তেঁতুল ইত্যাদি টকজাতীয় খাবার বেশী বেশী খান। এদের pH লেভেল করোনার pH লেভেল থেকে বেশী। যারা মধু, কালোজিরা খেতে চান, খান। আমি সারা বছরই খাই এগুলো। যারা ট্রাডিশনাল চাইনিজ মেডিসিন (TCM) বা ভেষজ/আয়ুর্বেদ খেতে চান, খান। শুধু মনে রাখবেন এগুলো করোনার ঔষধ না। এগুলো আপনার ইমিউনিটি বাড়াতে পারে শুধু। ভাত/রুটি খাওয়া কমিয়ে প্রোটিন বাড়ান। প্রতিদিন ডাল, ডিম, দুধ খান।

কতোদিন খাবো এগুলো? উত্তর জানি না। হয়তো ২০২০ সাল পুরোটাই! এখানকার হামলাটা কখন হবে বুঝতে পারছি না। তবে সুনামি না হলেও হামলা একটা হবে এটা জানি।

কোয়ারেন্টিন ভালোভাবে মানুন। সম্পর্কের চেইন ভেঙে দিন। আমি আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, ইতালি এবং ফ্রান্সে কথা বলে দেখেছি যে উনারা পুরোপুরি কোয়ারেন্টিন মানছেন না। তিনটা প্রশ্ন করি। তিন নাম্বার প্রশ্নে গিয়েই দেখি যে এটা কোয়ারেন্টিন না।

প্রথম প্রশ্ন: ভাই কেমন আছেন? উত্তর: মোটামুটি আছি।

দ্বিতীয় প্রশ্ন: বাসায় কোন অসুবিধা নেই তো? উত্তর: না, আপাতত নেই।

তৃতীয় প্রশ্ন: বাসার বাহিরে যান নাতো? উত্তর: না ভাই। একদম ঘরে বন্দি। শুধুমাত্র বাসার নীচে একটা সাবওয়ে থেকে ছোট ছেলেটার জন্য একটা ফুট-লং নিয়ে আসি মাঝেমধ্যে! কোথাও যাই না ভাই, শুধুমাত্র সবজি আনতে যাই সামনের ভিয়েতনামিজ গ্রসারী থেকে! কোথাও যাই না, শুধুমাত্র ছেলেটিকে ড্রপ করে আসি তার কেয়ার জবে!

এতে করে কোয়ারেন্টিন চেইন কিন্তু ভেঙ্গে গেলো। ঢাকাতেও তাই দেখছি। বাঁধা কাজের লোক। তিনদিন খাবার না দিলেও চলবে কিন্তু বিকেল বেলা অন্যান্য বাসার কাজের মেয়েদের সাথে একটু কথা বলে নীচে গিয়ে। সবাই বাঁধা লোক। সমস্যা নাই। বুঝেন নাই ব্যাপারটা?

যারা বলছেন আমাদের গণ ইমিউনিটি আছে, এখানে হামলা হবে না তারা হয়তো বোকার স্বর্গে বাস করছেন। অনেকে বলছেন হামলা নয়, ভারতীয় উপমহাদেশে হলে হবে সুনামি। যারা বলছেন বিসিজি টিকা দেয়া আছে তারা হয়তোবা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। কোন বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা এখনো এটা কনফার্ম করে নাই। আমি পড়েছি কয়েকটা পেপার। ফাইনাল কিছু না। চায়নাতেও কিন্তু পঞ্চাশের দশক থেকেই ইউনিভার্সাল টিকাদান কর্মসূচি চালু আছে। বাংলাদেশের যে প্রায় শতাধিক মানুষ ইউরোপ এবং আমেরিকাতে করোনায় মারা গেলেন, তাদেরও কিন্তু বিসিজি দেয়া ছিলো।

তাহলে? অনেকে বলছেন আমাদের এসোনোফিল হাই। তাহলে কি হয়েছে? এই এসোনোফিল নিয়ে কি এই অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ লোক ভাইরাল ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয় নাই।

অনেকে বলছেন হাই টেম্পারেচার লো হিউমিডিটির কথা। একটু আগে বিল গেটস বিবিসিকে বললেন ওয়েদার করোনার ক্ষেত্রে কাজ নাও করতে পারে। যাই হোক ওয়েদার একটা ফ্যাক্টর হতে পারে কিন্তু দিল্লী, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াতে তাহলে কি হচ্ছে? গরমে যদি আমিষ করোনার বাহিরের ফ্যাট গলে যায়, তাহলে দিল্লী, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ুতে শত শত লোক এই গলিত করোনা দ্বারা আক্রান্ত? অবশ্যই না। করোনা এখানে তার রূপ আরেকবার পরিবর্তন করেছে। ধরুন, এই কয়মাস সে এখানে থাবা দিল না কিন্তু এতে এটা মিন করে না যে সে এখানে শীতে এসে হামলা করবে না। সেতো ভাইরাস। তার তো কোন মরণ নাই ভাই। সে লক্ষ লক্ষ লোকের ভিতর এসিম্পটোমেটিক হয়ে মাইগ্রেশান করতে থাকবে সময় সুযোগের অপেক্ষায়। একসময় গিয়ে সে দুর্বল হয়ে যাবে। অথবা আপনি ফ্লু-শট (ভ্যাকসিন) পেয়ে যাবেন।

সেটা কবে? আমি নিশ্চিত সেটা ২০২২ এর আগে না। তাই যদি হয় তাহলে ধরে রাখুন বাংলাদেশের মতো প্রান্তিক এবং অত্যন্ত গরীব দেশগুলো করোনা ইফেক্টে একদম ভঙ্গুর হয়ে যাবে। আমেরিকার মতো দেশে আজ পর্যন্ত ৬৬ লক্ষ লোক চাকুরি হারিয়ে ফেলেছে। অস্ট্রেলিয়াতে আজ পর্যন্ত ১৬ লক্ষ লোকের চাকুরি নাই। ইতোমধ্যেই আপনিও কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছেন। সেটার পরিমাণ কতো তা বুঝতে আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে আর মাত্র ৪ সপ্তাহ!

গতকাল দ্য ইকোনোমিস্ট বলেছে বাংলাদেশের অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির দিকে যাচ্ছে এবং আমাদের প্রবৃদ্ধি ৩.৫ এ নেমে আসতে পারে। অর্থমন্ত্রী এবং এডিপি বলেছে প্রবৃদ্ধি ১.৫ থেকে ২.৫ কমে যেতে পারে। এর মানে কি জানেন তো? এর মানে নতুন চাকুরি গোল্লা মারেন বরং ৮০-৯০ লক্ষ লোক তাদের বর্তমান চাকুরি হারাবে। ১ কোটি টাকার ফ্ল্যাট আপনি ৪০ লাখ টাকায়ও ক্রেতা খুঁজে পাবেন না। পঞ্চাশ লক্ষ টাকা কাঠা জমির মূল্য হবে ১০ লক্ষ টাকা। ব্যাংকের সুদের হার নেমে আসতে পারে ৩% থেকে ৪% এ। রেমিটেন্স এবং গার্মেন্টস অর্ধেক হয়ে যেতে পারে। এতে বাংলাদেশের মানুষ হয়তো না খেয়ে মারা যাবে না কিন্তু এদেশটাকে যেমন দেখছেন এখন আপনি হয়তো সেরকম আর দেখবেন না বহুদিন। এককভাবে কোন একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে হয়তো এটাকে সামাল দেয়া সম্ভবপর নাও হতে পারে। একটা সর্বদলীয় কোয়ালিশানে যেতে হতে পারে।

তবে আমি মনে করি বাংলাদেশ ঠিকে যাবে শুধুমাত্র ১ কোটি ১০ লক্ষ প্রবাসীর জন্য, ২.৫ কোটি কৃষকের জন্য, ৪০ লক্ষ মাছ চাষীর জন্য আর ৩০ লক্ষ গার্মেন্টস কন্যার জন্য। ধান, সবজি, মাছ, লবণ আর পোলট্রি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার জন্য।

আরেকটা কথা, ইউএনের বরাতে বিবিসি, দ্য অস্ট্রেলিয়ানসহ বিশ্বের বহু গনমাধ্যম জানাচ্ছে যে বাংলাদেশে ৫-৭ কোটি লোক করোনায় আক্রান্ত হবে এবং ২০ লক্ষ লোক মারা যাবে। আমি এই প্রজেকশনে বিশ্বাস করি না। বিশ বছর ধরে পাবলিক হেলথ, এপিডেমিওলোজি, ইমারজিং এবং রিইমার্জিং এপিডেমিক এবং ভাইরাস পড়াই ক্লাসে। এদেশের ৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩টি পাবলিক হেলথ ডিপার্টমেন্ট আমার হাতে কিংবা প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে তৈরি করা। ফলে এখানে কী হতে পারে সেটা আমরা বুঝি। প্যানিক করার দরকার নেই। দরকার শুধু ভালন্যারেবল জনগুষ্টির দিকে নজর রাখা যেমন ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা, ৯০ হাজার কারাবন্দি, ৫০/৬০ লক্ষ বস্তিবাসী এবং বিদেশ থেকে আগত লোকজন। র‌্যাপিড এন্টিবডি টেস্টের দিকে আমাদের যেতেই হবে, পরে কনফার্মেটরি পিসিআর টেস্ট। গনস্বাস্থ্য যেটা করতে চাচ্ছে বা সাউথ কোরিয়া যেটা করেছে সেটাকে সরকার গ্রহণ করলে ভালো হবে। তবে সঠিক টেস্টের কোন বিকল্প নেই।

আগামী দিনগুলোতে আমাদের প্রতিদিন প্রায় ১০,০০০ টেস্ট করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে খুবই সাবধানতার সহিত। মনে রাখতে হবে সরকার যে ২০টি পিসিআর ল্যাব করতে যাচ্ছে এবং প্রাইভেটে যে আরো ১০ টার মতো পিসিআর ল্যাব আছে সেগুলো কিন্তু WHO এর বায়োসেফটি লেভেল-২ দ্বারা পরিচালিত। এগুলোর সেফটি লেভেল অবশ্যই লেভেল-৩ এ তুলতে হবে। নতুবা বিপদ ঘটে যেতে পারে। আর ভেন্টিলেটর আনতে হবে মিনিমাম ৫০০০। গাজীপুরের আমাদের ম্যাশিন টুলস ফ্যাক্টরি ভেন্টিলেটর বানাতে পারবে বছরে ১০,০০০। আমি দাবী করেছিলাম দিনে ২,০০০ টেস্ট করার জন্য, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন দিনে ১,০০০ টেস্ট করার জন্য। এই টেস্টগুলো যেন আব্দুল টেস্ট না হয়। আব্দুল টেস্ট কি? বরিশাল বি এম কলেজের রসায়ন বিভাগের একসময় ল্যাব বিয়ারার ছিল নাম আব্দুল। সে Salt জিহবায় স্পর্শ করে বলতে পারত কোন Salt, যার নাম আব্দুল টেস্ট। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী লগ্নে এসেও আমরা এখনও যেন আব্দুল টেস্টেই না থাকি (আব্দুল টেস্টের কথা আমার এক আমলা বন্ধুর পোস্ট থেকে নেয়া)।

অধ্যাপক ড. আমানুল্লাহ ফেরদৌস

বিশ্ব কতোদিনের জন্য থেমে গেলো সেটা এখন বলা যাচ্ছে না। অনেকে বলছেন স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি কবে খুলবে? আমি আসলে জানি না। ঈদের আগে তো অবশ্যই না। আমেরিকা এবং ইউরোপের মহামারীর চিত্র যতদিন লোকজন টিভিতে দেখবে ততদিন তারা তাদের বাচ্চাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো বন্ধ রাখবে এটা ধরে নিতে পারেন। জোর করে অফিস আদালত খুলে দিতে পারেন কিন্তু অনেক কিছুই আনসার্টেন হয়ে পড়েছে। তাই বাচ্চাকে বাসায় লম্বা সময় পড়ানোর প্রিপারেশান নিন।

আর ম্যাডাম/স্যারদেরকে বলছি, ইয়ে বাচ্চেকি খেল নেহি হ্যায়। প্রনোদনা দিতে হবে। ১০ বিলিয়ন ডলার নিয়ে প্রস্তুত হোন। বিশ্ব ব্যাংক-এডিপির কাছে টাকা চেয়েছেন শুনলাম। তাড়াতাড়ি টাকাটা ছাড় করান। ২ লক্ষ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি কাটছাঁট করে সেখান থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে আসুন। অবশ্য এই টাকাও তো মানুষের পকেটে। মানুষ এই বিপদে টাকা দিবে কিনা সেটাও বলা যাচ্ছে না। ইনকাম না থাকলে মানুষ ট্যাক্স দিবে কোথা থেকে?

আমরা আশা করি এই দুর্যোগ আমরা সামাল দিতে পারবো। কিন্তু আমরা শুধুমাত্র আশার উপর বিশ্বাস করে কাজ করলে হবে না। আগামী দুই বছরের পরিকল্পনা এক্ষুণি করতে হবে। আমাদের আরো আগে জাম্প দেয়া দরকার ছিলো, আমরা সময় নষ্ট করেছি ইত্যাদি ইত্যাদি বলে আর সময় নষ্ট করার সময় আমাদের হাতে নেই। এগুলোর উত্তর আমরা আজকে নয়, আগামীকাল নয়, এগুলোর উত্তর আমরা খুঁজবো অনেক পরে, সময় আছে সেটার। এখন একজন আরেকজনকে ব্লেম দেয়ার সময় নয়। এখন সময় কাজের। মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর উচিত সব বিরোধী দলের সাথে বসে একটা সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা। একই সঙ্গে করোনা থেকে মুক্তি এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান, এই সুযোগ প্রকৃতি উনাকে করে দিয়েছে, এটাকে কাজে লাগানো দরকার।

আপনাদের সবার মঙ্গল কামনায়।

অধ্যাপক ড. আমানুল্লাহ ফেরদৌস
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

]]>
https://womenchapter.com/views/33743/feed 0
চোখ বুজে “অ্যানা ফ্রাঙ্ক”কে ভাবুন! https://womenchapter.com/views/33734 https://womenchapter.com/views/33734#respond Thu, 02 Apr 2020 20:33:15 +0000 https://womenchapter.com/?p=33734 জয়শ্রী দত্ত:

হলোকস্ট ভিকটিম ইহুদি কিশোরী অ্যানা ফ্রাঙ্ক দুই বছরেরও বেশি সময় একটা এটিকে/চিলেকোঠায় অন্ধকারে জীবনের ভয় নিয়ে বন্দী ছিলেন তার পরিবারসহ আরও দুটি ইহুদি পরিবার নিয়ে। খাবারের কী নিদারুণ স্বল্পতা তিনটি পরিবারের জন্য, এতোগুলো অভুক্ত পেট! একই ছাদের নিচে গাদাগাদি, ছোট বড় সবাই সবার মুখোমুখি একটিমাত্র কামরায়, অথচ কারো মুখে একটুকুন হাসিও নেই, উচ্চকিত শব্দ তো দূরে থাক, পাছে সকলে হিটলারের বাহিনীর কাছে ধরা পরে প্রাণ হারাতে হয়! কেননা ঐ চিলেকোঠার নিচেই ছিল কারখানা যেখানে রোজ শ্রমিকরা আসা যাওয়া করতো সন্ধ্যা পর্যন্ত।

খ্রিস্টমাসের মতো ইহুদিদের ট্রাডিশনাল একমাত্র প্রধান উৎসব “হানুকা” পর্যন্ত তারা আনন্দে উদযাপন করতে পারেনি এই বন্দীদশায়! অ্যানা ঐ চিলেকোঠায় বসে অপ্রতুল সরঞ্জাম দিয়েই নিজের হাতের তৈরি “হানুকার উপহার” বানিয়ে প্রত্যেকের জীবনে একদিনের জন্য হলেও “অতি শংকাতেও বেঁচে থাকা”টা কতো আনন্দের — তা অনুভব করালো!

ঐ বন্দিদশায় কৈশোরের বাঁধ না মানা মন তার সারাক্ষণই আঁকুপাঁকু করতো এই জেলখানা ভেঙে মুক্ত বিহঙ্গ হতে, মন চাইতো তার বয়সী অন্য সকলের মতো যখন তখন কারো প্রেমে পড়তে! তার চিরাচরিত সামাজিক আচরণের বিধিনিষেধ আর মায়ের বকুনি থেকে পালিয়ে যেতে মন চাইতো! কিন্তু কিছু করার নেই প্রতিদিন ঘুমে দুঃস্বপ্নে গোঙানি ছাড়া!

এমন নরকময় দুই বছরের বন্দী দশায় তার সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরতার বন্ধু ছিলো দুটি, একজন তার বিদ্যোৎসাহী বাবা, আর অন্যটি তার ব্যক্তিগত ডায়েরি!
ঐ “ডায়েরি অফ আ ইয়াং গার্ল” পড়েই তাবৎ বিশ্ব জানতে পেরেছে ঐ অন্ধকার চিলেকোঠায় দুই বছরের “অতি শংকাতেও বেঁচে থাকা” কাকে বলে!

এই গল্প আমরা সকলেই জানি ছোটবেলা থেকেই!
যেটা জানতাম না সেটা হলো “সত্যিকারের বন্দীদশায় উপলব্ধি”!

অ্যানা’র বেঁচে থাকবার জন্য একমাত্র সম্বল ছিলো কেবল তার বন্ধুপ্রতিম জ্ঞানী বাবা আর এক পুরনো পাতার ডায়েরি!

অথচ এই “করোনার ক্রান্তিকালে” আমাদের পুরো পরিবার আছে আমাদের সাথে, কাভার্ড ভর্তি খাবার আছে, মনোরঞ্জনের জন্য টিভি আছে, প্রেমিক/প্রেয়সীর কণ্ঠ শোনার জন্য ফোনে আনলিমিটেড মিনিট আছে, ২৪/৭ ভিডিও কল দিয়ে দেখবার জন্য হোয়াট্স অ্যাপ আর ম্যাসেঞ্জার আছে,
মনের কথা, অভিজ্ঞতা কিংবা ক্ষোভ ছাড়বার জন্য “ডায়েরি”র বদলে ফেইসবুক আছে, পড়াশোনার জন্য অনলাইন রিসোর্স আছে!
কী নেই “বেঁচে থাকা”র জন্য? অ্যানা ফ্রাঙ্কের চেয়ে তো শতভাগ ভাগ্য প্রসন্ন আমাদের!

অ্যানা বাইরে যাননি দুই বছর, তারপরেও বাঁচতে পারলেন না, গুপ্তচর এসে পুরো পরিবারকে নাৎসীদের হাতে তুলে দেয়, পরে হলোকস্ট ক্যাম্পে রোগে ভূগে মারা যান!

অথচ আমাদের ঘরে রোজ আলো আসে, আমরা প্রাণ খুলে উচ্চশব্দে অট্টহাসি হাসলেও কেউ খোঁজ পেয়ে এসে আমাদের ধরে নিয়ে যাবে না, আমাদের বাঁধভাঙা যেকোনো ইচ্ছে আমরা যখন তখনই মিটিয়ে নিতে পারছি এখনও! আমরা ঘরে বসেই শখের কাজগুলো করে নিতে পারছি!

দুই বছর না হোক, দুইটা মাস কেন আমরা বাইরে বেরুনো সীমিত করতে পারছি না?
আমাদেরও তো “করোনা” খুঁজে বেড়াচ্ছে হিটলারের মতো!

প্রিয় প্রাণহরণের ভয় নেই?

“করোনা- রেজিম” এর আগ্রাসন থেকে বাঁচতে শুধু ক’টা দিন ঘরে বসে যার যেভাবে খুশী বাঁচা কি অ্যানা ফ্রাঙ্কের “বেঁচে থাকা”র চেয়েও কঠিন?

আমেরিকাবাসী শুধু ঘরে বসে না থাকার জন্য আজ ইতালি আর স্পেনের পরের স্থানেই মৃত্যু মিছিলে নেমেছে!

আর কিছুই নয়, কেবল একটু ঘরে সময় কাটানোই আজকে ঠেকিয়ে দিতে পারতো হাজার হাজার মৃত্যুকে!

এখনও তো বেঁচে আছি, আসুন এই “বেঁচে থাকা” ঘরে বসেই একসাথে উদযাপন করি।
হাজার হাজার শবদেহের নিঃসঙ্গ কফিনের সারি আর দেখতে পারছি না রোজ!

চোখ বুজে “অ্যানা ফ্রাঙ্ক”কে ভাবুন!

]]>
https://womenchapter.com/views/33734/feed 0
গৃহবন্দী দিনগুলোয় মুক্ত থাকুক মনটা https://womenchapter.com/views/33729 https://womenchapter.com/views/33729#respond Thu, 02 Apr 2020 15:16:42 +0000 https://womenchapter.com/?p=33729 মুমতাহিনা খুশবু:

“চিকিৎসকেরা যে ভুল করেন তা হলো তারা মনের চিকিৎসা না করে শরীর সারাতে চান। যদিও মন ও শরীর অবিচ্ছেদ্য, তাই আলাদা করে চিকিৎসা করা উচিৎ নয়।”
– প্লেটো

যান্ত্রিকতার আধুনিক জীবন যাপনে একবারের জন্যও একা অনুভব করেন না এমন মানুষ হয়তো খুব কমই খুঁজে পাওয়া যাবে।
ভালো থাকার জন্য শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিকভাবে সুস্থ থাকাটা খুবই জরুরি। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে উদাসীন।
শারীরিক অসুস্থতার জন্য আমরা ডাক্তার দেখাতে অলসতা করি না, কিন্তু মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়লে বা ঠিক অনুভব না করলে ডাক্তার দেখানো তো দূরের কথা নিজের কাছের কারও কাছে সেই হতাশা, উদ্বিগ্নতা বা ঠিক অনুভব না করাটা নিয়ে আলোচনাও করি না।

আমি কোন বিশেষজ্ঞ নই, বিশেষজ্ঞদের মতো কোন মতামত দিতেও আসিনি। আমি শুধু চাই আমরা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা করি, সচেতন হই ডিপ্রেশন, স্ট্রেস, এংজাইটির মতো মানসিক বিষয়গুলো নিয়ে। আমি নিজে যখন ঠিক অনুভব করি না, তখন বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন লেখা, মোডিভেশনাল ভিডিও ইত্যাদি থেকে সাহায্য নিই।

মুমতাহিনা খুশবু

কোন মানুষই পুরোজীবনে সবসময় মানসিকভাবে ঠিক থাকে না।
মানসিক সুস্থতা বলতে আমি মানসিক, আবেগীয় এবং সামাজিকীকরণ জনিত ঠিক থাকাকে বুঝি। মানসিক স্বাস্থ্য আমাদের ভাব, অনুভূতি, চিন্তা-চেতনা, কাজ-কর্ম ও আচরণের উপর প্রভাব বিস্তার করে। এছাড়াও আমরা দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, পারস্পারিক সম্পর্কের মিথস্ক্রিয়া ও আবেগ কিভাবে সামলাই তা মানসিক সুস্থতার উপর নির্ভর করে।
জীবনের শুরু থেকে শেষ অবধি সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার দক্ষতা নির্ভর করে মানসিক সুস্থতার উপর।

পুরো পৃথিবী আজ খুব খারাপ সময়ের মুখোমুখি। গৃহবন্দী হয়ে থাকার এই দিনগুলোতে মানসিক সুস্থতার উপর গুরুত্ব দেয়া খুব বেশি প্রয়োজন। শরীর সুস্থ রাখতে হলে আগে মনকে সুস্থ রাখতে হবে।
মানুষ সামাজিক জীব তাই সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন গৃহকোনে আবদ্ধ হয়ে মনের মাঝে অসুস্থতা সৃষ্টি হওয়াটা খুব বেশি অস্বাভাবিক না। এই গৃহবন্দী হয়ে থাকার মানসিক প্রভাব অবশ্যই রয়েছে।
ভেবে দেখুন আপনার পরিবারের ব্যবসায়ী যে মানুষটি আছেন তিনি হয়তো এই মহামারী চলে যাওয়ার পর নিজের আর্থিক ক্ষতিটি কিভাবে পুষিয়ে নিবেন তা নিয়ে চিন্তিত।

আপনার পরিবারের মধ্যে যে সদস্যটি প্রাইভেট চাকরি করে সে হয়তো মহামারী শেষে নিজের চাকরিটা থাকবে কিনা তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

মধ্যবিত্ত পরিবারের যে সন্তানটি টিউশনির মাধ্যমে নিজের পড়াশোনা, হাত খরচ এবং অন্যন্য চাহিদা পূরন করে সে হয়তো বসে থাকা এই সময়টার ক্ষতি নিয়ে হতাশায় পড়বে।
এরকম আরো অনেক অনেক ক্ষেত্র আছে উপলব্ধি করবার মতো।
উদ্বিগ্নতার কারণে জার্মানির আর্থিক কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্টের আঞ্চলিক রাজ্যের অর্থমন্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনাটি শুনেছেন, ভেবে দেখেছেন?

না ভাবলে, ভাবুন।

আমি রোজ বই পড়া, ছবি আঁকা, রান্না করা ইত্যাদি কাজের মাধ্যমে নিজেকে ব্যস্ত রাখার পরও যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি এবং আমার যৌথ পরিবারের অন্যসব সদস্যদের আচার আচরণ বিশ্লেষণ করে যে উপলব্ধি তা থেকেই লিখতে বসা।

দীর্ঘ গৃহবন্দী থাকায় যেসব সমস্যা হতে পারে বলে অনুভব করছি:

# নিদ্রাহীনতা
# খাবারে অনীহা
# মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া
# প্রযুক্তির প্রতি আসক্তি
# অতীতের জন্য আকুতি
# ক্লান্তি বা অবসাদ
# বিষণ্ণতা
# হতাশা
# ভয় বা উদ্বিগ্নতা
# নেতিবাচক চিন্তা
এবং এমন অনেক কিছুই যা আমাদের কথা বার্তা, আচার আচরণেও প্রভাব ফেলবে বা ইতোমধ্যে ফেলছে।
এসব সমস্যার সম্মুখীন হলে নিজেই নিজেকে সাহায্য করতে না পারলে আমাদের উচিৎ হবে অন্যের সাহায্য নেয়া এবং এর প্রভাব থেকে বেড়িয়ে আসা। তবে নিজের ইচ্ছা শক্তিটুকু থাকতে হবে সবার আগে।

মেঘলা এই খারাপ লাগা সময়গুলো কাটাতে যা করণীয় হতে পারে:

১। বেশী নয়, আগামী সাত দিনের একটা কর্ম পরিকল্পনা করুন। অপরিহার্য কাজগুলো ছাড়াও কী কী অতিরিক্ত করতে চান তার একটি পরিষ্কার ধারণা তৈরি করে নিন।

২। যারা বিশ্বাসী তারা স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দিন শুরু করুন। ঘরেই হাঁটুন, হালকা ব্যায়াম করুন। নিজ নিজ ধর্মীয় প্রার্থনা করুন, নামায আদায় করুন।

৩। সংবাদপত্র, টিভি ও অন্যান্য মিডিয়া থেকে সংবাদ দেখা সংক্ষিপ্ত করুন। সচেতনতার জন্য যতটুকু তথ্য প্রয়োজন নিন, তার অধিক না। বেশি বেশি সংবাদ দেখা মহামারী সম্পর্কে উদ্বেগ বা আতঙ্ক তৈরি করতে পারে।

৪। সামাজিক দূরত্বের দিনগুলোতে যোগাযোগের দূরত্ব কমিয়ে আনুন। ব্যস্ততার কারণে এতোদিন যে সকল আত্মীয়স্বজন কিংবা বন্ধুবান্ধবের খোঁজ নিতে পারেননি রোজ তাদের মধ্যে অন্তত একজন এর সাথে কথা বলুন। সম্পর্কগুলো প্রাণ ফিরে পাক আবার।

৫। প্রযুক্তির ব্যবহার যেন আসক্তির পর্যায়ে না যায় তাই ভালোলাগা বা শখের কাজগুলো করুন। বইপড়া, ছবি আঁকা, লেখা, গান শোনা ইত্যাদি শখের বিষয়গুলোতে সময় দিন।

৬। পরিবারের সাথে সুন্দর সময় কাটান। পরিবারে শিশু বা বৃদ্ধ থাকলে তার সাথে রোজ কিছু সময় কাটান। নিজের সাথে অন্যদেরও যত্ন নিন। একদিন না হয় বাবা বা ভাই এর হাতে চা খাওয়ার আবদার করুন, সিনেমা/নাটক দেখুন একসাথে। পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করুন। মহামারী শেষে কী করতে চান সে বিষয়েও পরিকল্পনা করতে পারেন সবাই মিলে।

৭। যখন বিরক্ত, একঘেয়ে অনুভব করবেন তখন নিজের কোন পছন্দের পানীয় নিয়ে আকাশ দেখতে বারান্দা বা উঠোনে চলে যান অথবা গান শুনুন। ধ্যান করুন। এই সময় নিঃসঙ্গ হয়ে একান্ত নিজেকে সময় দিন। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চেষ্টা করুন। সময় নিন মেজাজ ঠিক হওয়া পর্যন্ত।

৮। প্রতিদিন স্নান করুন। নিজের যত্ন নিন। সুন্দর পোশাক পরুন। আমরা যখন নিজেকে সুন্দর পরিপাটি দেখি অর্থাৎ নিজেকে যখন নিজের ভালোলাগে তখন আমাদের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তি বেড়ে যায়।

৯। দম বন্ধ লাগা সময়গুলোতে মন খুলে কথা বলুন। অস্থির লাগা সময়গুলোতে যা করতে ইচ্ছে হয় করুন। এমনকি কাঁদতে ইচ্ছে হলে কাঁদুন অথবা নিজের খারাপ লাগা গুলো একটা সাদা কাগজে লিখে ছিঁড়ে ফেলুন (কখনো পুনরায় লেখাটি পড়তে যাবেন না)।

১০। অবসরে আমরা অনেকেই পুরনো ডায়েরি বা ছবি, ভিডিও দেখছি। অতীতের এসব স্মৃতি হাতরাতে গিয়ে হতাশায় ডুববেন না যেন। বরং ভালোসময় গুলোকে মনে করুন, ভালো স্মৃতি আর জীবনের ভালো দিকগুলো থেকে উৎসাহ নিন।

সর্বোপরি সুস্থ থাকতে নিজের মনের যত্ন নিন, গুরুত্ব দিন মানসিক সুস্থতাকে। নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন। মনের উপর চাপ সৃষ্টি না করে হতাশা, বিষন্নতার মতো নেতিবাচক অনুভুতিগুলোকে মেনে নিন স্বাভাবিক অনুভূতির অংশ হিসেবে, যা অতিক্রম করা কঠিন কিছু নয়।

বিশ্বাস রাখুন যে পরিস্থিতি একদিন ঠিক হয়ে যাবে, স্বাভাবিক হয়ে আসবে সবকিছুই। আমাদের শুধু সহানুভূতি, সহমর্মিতার সাথে অন্যের অনুভূতি বুঝতে হবে। সাহায্যের হাত বাড়াতে হবে একে অন্যের প্রতি। শুধু সামাজিক বা আর্থিকভাবে নয়, সাহায্যের হাত বাড়াতে হবে আবেগীয়, মানসিক সুস্থতায়ও।

গৃহবন্দী দিনগুলোয় মনটা যেন বন্দী না হয়ে যায়। মুক্ত থাকুক মনটা, দৃঢ় হোক মানসিক

]]>
https://womenchapter.com/views/33729/feed 0
করোনা পরিস্থিতি: অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয় https://womenchapter.com/views/33726 https://womenchapter.com/views/33726#respond Thu, 02 Apr 2020 14:55:32 +0000 https://womenchapter.com/?p=33726 উপমা মাহবুব:

চারপাশে যা অবস্থা দেখছি তাতে কোনো কোনো সময় মনে দুঃখ দিয়ে মনে হয়, ভাগ্যিস আমাদের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ টেস্ট কিট নাই। যদি থাকতো তাহলে বাংলাদেশের মানুষকে টেস্ট করানোর কথা বলা লাগতো না। হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন টেস্ট করানোর জন্য লাইন দিত। একটু কাশি আসছে, যাই টেস্ট করে আসি। একটু শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, যাই টেস্ট করি। বাচ্চার কপালে হাত গিয়ে গা একটু গরম মনে হচ্ছে, থার্মোমিটারে মাপার দরকার নাই। টেস্ট করা লাগবে। মনের বাঘই বাঙালিকে খাওয়ার জন্য যথেষ্ট। যে কারণে হাসপাতাল বানাতে আমরা বাধা দেই। ১৬ ঘন্টায় ৬ হাসপাতাল ঘুরেও মুমূর্ষু রোগীকে কোনো হাসপাতাল গ্রহণ করে না। কবরস্থানে লাশ কবর দিতেও কারও কারও সমস্যা। অথচ সেই মৃত ব্যক্তির করোনা টেস্টে দেখা যাচ্ছে করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট।

উপমা মাহবুব

নিজের জন্য আর কত বাঁচবেন বলুন তো? আজকে করোনা রোগী ভেবে একজনকে অচ্ছুত করছেন, শুধু নিজের নিরাপত্তার কথা ভাবছেন। মনে রাখবেন কাল আপনারও একই অবস্থা হতে পারে।

প্রতিদিন গড়ে সত্তর হাজার ফোন যাচ্ছে আইইডিসিআর-এ। অসংখ্য পুরুষ কণ্ঠ ফোন করে কল সেন্টারের নারীদের জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, আপনার কী বিয়ে হয়েছে? আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাই, ইত্যাদি। ফোনে কেউ একজনকে তার সিম্পটম করোনার সিম্পটম না এটা বুঝিয়ে বলার পরও সেই ব্যক্তি বার বার আইইডিসিআর-এ কল করছেন।
আচ্ছা যারা এগুলো করেন, তারা কেন করেন একটু জানাবেন প্লিজ? জানেনই তো ওদের সেবা দেওয়ার ক্ষমতা সীমিত। একটু কম মজা বা একটু কম প্যানিক করে ওরা যতটুকু পারে ততটুকু তো অন্তত করতে দিন। সারাদিন ওদের সমালোচনা করে কী করবেন? আপনি কী আরেকটা আইইডিসিআর বানাতে পারবেন?

প্রতিদিন টিভিতে আরেক নাটক দেখি। একদিন দেখলাম এক পথচারি সাংবাদিককে বলছেন, ‘কফ তো মানুষ ফেলবেই। সরকারের উচিত কফ ফেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা করে দেওয়া’। সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার কয়েকদিন পর এক পুলিশ ভাই দুঃখ করে সাংবাদিককে বললেন, ‘আজকে একজনকে পেলাম উনি ধানমন্ডি থেকে কারওয়ান বাজার এসেছেন বাজার করতে। শিক্ষিত লোক এরকম আচরণ করলে কী করি বলেন তো?’ আমরা কিছু মানুষ বাসায় ঢুকে বসে আছি। অথচ শিক্ষিত হয়েও অসংখ্য অসচেতন মানুষ শহরের পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অল্পবয়স্ক ছেলেরা পাড়ার দোকানে আড্ডা দিচ্ছে। শহরের শিক্ষিত মানুষকে ঘরে ঢোকাতে যদি সরকারকে এতো কাজ করতে হয়, রাস্তায় রাস্তায় এতো টহল দেওয়া লাগে, তাহলে গ্রামে-গঞ্জে যেখানে মানুষ দরিদ্র, অসচেতন তাদের জন্য ওনারা কীভাবে কাজ করবেন?

তবে সবদিক দিয়ে এগিয়ে আছেন কিছু ফেসবুক ব্যবহারকারী। সেখানে এখন জমজমাটভাবে চলছে খোঁচাখুচি, ট্রল চালাচালি। ফেসবুকে একে অন্যকে ট্যাগ করে কোনো খেলা খেলা যাবে নাকি যাবে না, বাসায় কিছু রান্না করে সেই খাবারের ছবি কেন কেউ আপলোড করবে, গরীব মানুষের মাঝে সহায়তা বিতরণ করে তা শোঅফ করার কী আছে – ফেসবুকে একজনের পিছনে আরকজনের লাগালাগি করার টপিকের কোনো শেষ নেই। বাসায় বসে থাকলে যা হয় আর কী!

এদিকে দেশে-বিদেশে অসংখ্য রিপোর্ট বের হয়েছে যে পরিবারের সব সদস্য হোম কোয়াটেন্টাইনের কারণে বাসায় অবস্থান নেওয়ায় নারীর উপর গৃহস্থালী কাজের চাপ অনেক বেড়ে গেছে। এই রিপোর্ট ফেসবুকেও এসেছে। ব্যস তাতেই শুরু হয়ে গেল। বাসায় অবস্থান নেওয়ায় স্বামীরা কেমন দুঃসহ জীবনযাপন করছে, স্ত্রীদের যন্ত্রণায় তাদের জীবন কেমন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে তা নিয়ে ফেসবুক জুড়ে হাসাহাসি, জোকস আর ট্রলের ঝড় চলেছে। যেসব স্বামী-স্ত্রী মিলেমিশে সংসারের কাজ করছেন তাদের পোস্টকে কে পাত্তা দেয়? গৃহে নারী নির্যাতনের হার বেড়ে যাওয়া নিয়েও রিপোর্ট শেয়ার হচ্ছে। এ রকম একটা পোস্টের কমেন্টে পড়লাম একজন লিখেছেন, বাড়িতে স্বামীর কাছে একটু-আধটু মার খাওয়ার পরও স্ত্রী নিরাপদেই আছেন। বাইরে বেরুলে তিনি আরও অনেক বেশি অনিরাপদ! এরকম আরও বাজে কমেন্টস, ট্রল, জাতি হিসেবে নারী কত নিকৃষ্ট সে সংক্রান্ত মনগড়া বক্তব্য সবই সেই পোস্টের নিচে আছে। এতেই বোঝা নারীর প্রতি আমাদের তথাকথিত শিক্ষিত সমাজের অনেক বড় অংশ এখনো কতটা নিম্নমানসিকতা প্রদর্শন করে থাকেন।

আমার মনে হয় অতিরিক্ত ভীতি, অতিরিক্ত সাহস বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য, ট্রল বা জোকস করতে পারার মানসিকতা বাঙালি জাতির এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। এর মূল কারণ সম্ভবত আমরা শুধু নিজেকে নিয়েই চিন্তা করি। নিজে ভালো থাকলে আশেপাশে কে কেমন আছে, আমার কোনো কাজে কার কী ক্ষতি হলো আর কে কী মনে করলো তা আমরা থোড়াই কেয়ার করি। কিন্তু এখন সময়টা সত্যিই খুব খারাপ। নিজে সচেতন না হলে এবং অন্যের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে বা দিলে যে যতই ঘরের ভেতরে অবস্থান নিক বা কেন, কেউই নিরাপদে থাকতে পারবে না।

তাই সবার প্রতি অনুরোধ, পুরো দেশের কথা চিন্তা যদি নাও করতে পারেন, তারপরও সম্ভব হলে নিয়ম মেনে কিছু স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করুন। প্রতিবেশি, এলাকার মানুষসহ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। যদি তা না করতে চান তাহলে অন্তত ঘরে থাকুন, পরিবারকে নিরাপদে রাখুন, অন্য আত্মাীয়দের খোঁজ-খবর নিন। তাদের মনে সাহস জোগান। অযথা বাইরে ঘোরাঘুরি করবেন না। আর বাসায় বসে আর্থিক সহায়তা প্রদানের কাজটি কিন্তু আপনারা সহজেই চালিয়ে যেতে পারেন। এগুলোর কোনোটি সম্ভব না হলে বই পড়ুন, ইউটিউব থেকে কিছু নতুন স্কিল শিখুন। পরিবারের সদস্যদের সময় দেন। দয়া করে সংকটকালিন এই মুহূর্তে অতিরিক্ত ভীতি প্রদর্শন, অতিরিক্ত সাহস প্রদর্শন কিংবা সংকট নিয়ে হাসাহাসি, ট্রল এসব করবেন না। নিজে ভালো থাকুন, অন্যদেরও ভালো থাকতে দিন, প্লিজ।

লেখক:
উন্নয়ন পেশাজীবী

]]>
https://womenchapter.com/views/33726/feed 0
লকডাউনে পারিবারিক সহিংসতার হার আশংকাজনক https://womenchapter.com/views/33720 https://womenchapter.com/views/33720#respond Wed, 01 Apr 2020 14:37:50 +0000 https://womenchapter.com/?p=33720 শকুন্তলা দেবী:

বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে একের পর এক শহর যখন লকডাউনে চলে গেছে, নেওয়া হয়েছে জীবন বাঁচানোর ব্যাপক প্রচেষ্টা, তখন এটিই আবার ঝুঁকিপূর্ণ একটি শ্রেণির জীবনকে আরও বেশি ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। দেশে দেশে বেড়ে গেছে পারিবারিক সহিংসতার মাত্রা। সহিংসতা আর নিপীড়নের মধ্যে থাকা নারী ও শিশু কোয়ারেন্টাইনের এই সময়টাতে পরিত্রাণের কোনও উপায় খুঁজে পাচ্ছে না।

একটিভিস্ট ও সার্ভাইবারদের বলছেন, ব্রাজিল থেকে জার্মানি, ইতালি থেকে চীন- সব জায়গাতেই এই সহিংসতার মাত্রা বাড়ছে খুবই উদ্বেগজনক হারে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে প্রকাশ, করোনা ভাইরাসের প্রাথমিক কেন্দ্রস্থল হুবেই প্রদেশে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগের সংখ্যা তিনগুণ বেশি বেড়ে গেছে। যা এককভাবে একটি কাউন্টির জন্য অনেক বেশি। ফেব্রুয়ারিতে লকডাউন শুরু হওয়ার পর অভিযোগের সংখ্যা গত বছরের ৪৭ থেকে বেড়ে এই বছরে ১৬২ তে এসে দাঁড়িয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ওয়ান ফেই (Wan Fei) যিনি ‘সহিংসার বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান’ নামে একটি দাতব্য সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা, তিনি সিক্সথ টোন ওয়েবসাইটে (Sixth Tone Website) বলেন, ‘পারিবারিক সহিংসতার ক্ষেত্রে মহামারি এই সময়ের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। ৯০% পারিবারিক সহিংসতার ঘটনার কারণ কোভিড-১৯ মহামারির সাথে সম্পৃক্ত’।

এই ধরনের পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা পৃথিবীব্যাপি পুনরাবৃত্ত হচ্ছে। ব্রাজিলের সম্প্রচার মাধ্যম গ্লোবো’র মতে, ব্রাজিলের রাজ্য পরিচালিত একটি ড্রপ ইন সেন্টার ইতিমধ্যে এ ধরনের ঘটনার বৃদ্ধি দেখতে পাচ্ছে, যা করোনার ফলে বিচ্ছিন্ন থাকাকে দায়ী করে।

রিও-ডি জেনেরিও’র পারিবারিক সহিংসতা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ বিচারক আদ্রিয়ানা মেল্লো বলেন, ‘আমরা মনে করছি, সহিংসতার ঘটনা ৪০% বা ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা যে সমস্যার মুখোমুখি এখন, তা মোকাবিলার জন্য আমাদের শান্ত থাকা দরকার’।

কাতালান আঞ্চলিক সরকারের তথ্যমতে, অবরুদ্ধ সময়ের কয়েকদিনের মধ্যে হেল্প লাইনে ফোন করার পরিমাণ ২০% বেড়ে গেছে। সাইপ্রাসে ৯ মার্চের পর দ্বীপটিতে যখন প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের ঘটনাটি নিশ্চিতভাবে সনাক্ত করা হয় তখন থেকে এই ধরনের হেল্প লাইনে কল করার পরিমাণ ৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বীপটির রাজধানী নিকোশিয়াভিত্তিক পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ সংস্থার আনিতা দ্রাকা (Annita Draka) বলেন, ‘এই রকমের বৃদ্ধি নাটকীয় এবং কলের সংখ্যা কেবল বেড়েই গেছে’। তিনি আরও বলেন, ‘হেল্পলাইনগুলি ২৪ ঘন্টা খোলা রয়েছে। এখানে সারাদিন ধরে কল আসছে’।

এই উদ্বেগজনক পরিসংখ্যানে কেবলমাত্র তারাই অন্তর্ভুক্ত হতে পারছে যারা সহায়তা নিতে পারছে। নিপীড়ক সঙ্গী শুনে ফেলতে পারে এই ভয়ে অনেকেই কল করতে পারছে না। কল করলে ঘরের বাইরে যাওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এই ভয়ও কাজ করছে তাদের মধ্যে।

ইতালির একটিভিস্টদের মতানুসারে, হেল্পলাইনগুলোতে কলের সংখ্যা দ্রুত কমে গেছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রচুরসংখ্যক হতাশামিশ্রিত ক্ষুদে বার্তা পাচ্ছেন তাঁরা।

নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে গঠিত ইভিএ কোয়াপারেটিভ নামের একটি একটিভিস্ট সংগঠনের সদস্য লেল্লা পাল্লাদিনো বলেন, ‘একটি ক্ষুদেবার্তা এমন এক নারীর কাছ থেকে এসেছিল যে স্নানঘরে ঢুকে দরোজা বন্ধ করে সাহায্য চাইছিল’। নিশ্চিতভাবেই বলা যায় বর্তমানে একটি অপ্রতিরোধ্য জরুরি অবস্থা বিরাজ করছে। বাইরে বের হতে না পারায় নারীরা আরও হতাশা এবং ঝুঁকির মুখে পড়েছে’।

পাল্লাদিনো ধারণা করছেন লকডাউন অবস্থা শিথিল হলে পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনা ‘বিস্ফোরক আকারে বৃদ্ধি’ পাবে।

রোমের একটি আশ্রয় কেন্দ্রের একটিভিস্ট মারা বেভিলায়াকুয়া বলেন, ‘সবকটি আশ্রয়কেন্দ্রই খোলা আছে। যেকোনো উপায়ে নারীদের সংস্পর্শে আসার জন্য তাঁরা অনুসন্ধান কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। যোগাযোগ করার সবগুলো মাধ্যম যেন খোলা থাকে আমরা সবাই মিলেই তা নিশ্চিত করছি। আমাদের মোবাইল ফোনগুলো সবসময়ের জন্য সচল আছে এবং নারীরা ইমেইল বা ফেইসবুকের মাধ্যমেও আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে’।

স্পেনে যেখানে কঠোরভাবে মানা হচ্ছে লকডাউন, কেউ এই আইন ভাঙলেই তাকে জরিমানা করা হচ্ছে, সেখানেও সরকার বলেছে যে, নির্যাতনের অভিযোগ করার জন্য যদি কোনো নারী বাড়ির বাইরে যায় তবে তাদেরকে জরিমানা করা হবে না।

কিন্তু তারপরও লকডাউন শুরু হওয়ার মাত্র পাঁচদিনের মাথায় গত ১৯ মার্চ দেশটির উপকূলীয় প্রদেশ ভ্যালেন্সিয়াতে প্রথম পারিবারিক সহিংসতা উদ্ভুত নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। যেখানে একজন নারীকে বাচ্চাদের সামনেই খুন করেছিল তার স্বামী।

একটিভিস্টদের মতে, করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে নারী ও শিশুদের প্রতি হুমকি যে বাড়বে তা অনুমেয় ছিল। নির্যাতন বেড়ে যাওয়া একটি প্যাটার্ন যা অনেক জরুরি অবস্থাতে পুনরাবৃত্ত হতে দেখা যায়, যেমন সংঘর্ষ, অর্থনৈতিক সংকট কিংবা রোগের প্রাদুর্ভাব হতে দেখা যায়। তাছাড়া কোয়ারেন্টাইন সময়ের নিয়মকানুন কঠিন পরীক্ষা হিসেবেও হাজির হয়।

উইমেন ডেলিভারের (Women Deliver) মানবাধিকার এডভোকেসির সিনিয়র ম্যানেজার মার্সি হার্শ বলেন, ‘এটা সব সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে ঘটে থাকে। আমরা যে বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত তা হলো, সহিংসতার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে পরিষেবাগুলো পাওয়ার ক্ষেত্রে অভিগম্যতা এবং পরিষেবাগুলো পেতে নারীদের সুবিধাও ক্রমাগত কমতে থাকবে। এটাই আসল চ্যালেঞ্জ’।

আইনি বা নীতিগত পরিবর্তন আনার জন্য অনেক দেশেই আহ্বান জানানো হয়েছে। কোয়ারেন্টাইনে থাকা নারী ও শিশুদের প্রতি বর্ধিত ঝুঁকির বিষয়টি যাতে প্রতিফলিত হয়।

যুক্তরাজ্যে উইমেনস ইক্যুয়ালিটি পার্টির নেতা মান্ডু রেইড লকডাউনের সময়টাতে অপরাধীদেরকে বাড়ি থেকে সরিয়ে নিতে বিশেষ পুলিশি ক্ষমতা চেয়েছেন। সেইসাথে সুরক্ষা আদেশের জন্য কোর্ট ফি মওকুফ করতেও কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ইতালির ট্রান্টোর এক প্রসিকিউটর রায় দিয়েছেন যে পারিবারিক সহিংসতাময় পরিস্থিতিতে ভিকটিম নয়, নির্যাতনকারীকে অবশ্যই পারবারিক বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হবে। এই সিদ্ধান্তটিকে “মৌলিক” বলে সম্বোধন করেছে ট্রেড ইউনিয়ন সিজিআইএল।

ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে বলেছে, “করোনাভাইরাসের কারণে ঘরে আটকে থাকা সবার পক্ষেই কঠিন, তবে লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য এটি একটি বাস্তব দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে”।

জার্মানির গ্রিন পার্টির সংসদীয় নেতা কাটরিন গরিং-একার্ট (Katrin Göring-Eckardt) চলতি সপ্তাহে বলেন, উগ্র সঙ্গীদের সাথে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া হাজার হাজার নারীর জীবন নিয়ে তিনি ভীত। সে কারণে ওইসব নারীদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অর্থ ছাড় দিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

জার্মান মিডিয়াকে তিনি বলেন, “আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর জায়গা এমনকি স্বাভাবিক সময়েও খুবই অপ্রতুল থাকে। খালি হোটেল এবং গেস্ট হাউসগুলিকে আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তর করার আহ্বান জানান তিনি এবং সেইসাথে ঝুঁকিতে থাকা নারীদের বাসা ছেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে শর্ত তুলে নিতে বলেন”।

তার ডেপুটি, কাটিয়া ডরনার (Katja Dörner) বলেন, যোগাযোগ করার ক্ষেত্রে নিষেধ থাকা সত্ত্বেও যেখানে শিশুদের ওপর নিপীড়ন হওয়ার আশংকা আছে, সেখানে নিয়মিত পরিদর্শন করা উচিত।

নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনার সবচেয়ে খারাপ রেকর্ড রয়েছে ভারতের উত্তর প্রদেশে। সেখানকার রাজ্য পুলিশও মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে একটি নতুন পারিবারিক সহিংসতা হেল্পলাইন চালু করেছে।
সংবাদপত্রের প্রথম পৃষ্ঠার একটি বিজ্ঞাপন, “তোমার কণ্ঠস্বর নয়, করোনাকে দমন কর।” একজন নারী পুলিশ অফিসার প্রতিটি মামলা পরিচালনা করবে বলে পুলিশ অঙ্গীকারাবদ্ধ। যেকোনো সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারবে।

সূত্র:  দ্যা গার্ডিয়ান।

]]>
https://womenchapter.com/views/33720/feed 0
করোনায় পরিবার ও শিশু সুরক্ষা https://womenchapter.com/views/33714 https://womenchapter.com/views/33714#respond Wed, 01 Apr 2020 13:15:30 +0000 https://womenchapter.com/?p=33714 হৈমন্তি পাল:

আমি হৈমন্তি পাল। খুব সাধারণ এক মেয়ে, খুব সাধারণ একজন নাগরিক বটে। দেশের উন্নয়ন বা সমাজের উন্নয়নের জন্য তেমন কোন ভূমিকা আমি রাখতে পারি না জানি, এটি আমার সরল স্বীকারোক্তি। তবে ইচ্ছে যে নেই তেমনটি নয়। তাই তো এখন যখন একটি সুযোগ পেলাম তা ছাড়তে ইচ্ছা হলো না। কিছু লিখতে ইচ্ছা হলো। যদি কেউ আমার এ লেখায় সামান্যতম উপকৃত হয় তাহলে নিজেকে ধন্য বলে মনে হবে।

আজকের লেখার প্রসঙ্গ ‘করোনা’ নিয়ে। এই শব্দটির সাথে আজ বিশ্বের সমস্ত মানুষ খুব পরিচিত। কারণ শব্দটির সাথে জড়িয়ে আছে আতঙ্ক, ভয়, মৃত্যু। গোটা পৃথিবী আজ আতঙ্কিত, ভীত। আমরা বাংলাদেশের মানুষও এর বাইরে নই। আশা জাগায় কিছু মানুষের ভরসার কথায়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ই বলে থাকেন আমরা বীরের জাতি। আমি তাঁর বক্তব্য সর্বান্তকরণে দৃঢ়তার সাথে সহমত পোষণ করছি।

সত্যিই বাঙালী বীরের জাতি। এটি আমরা প্রমাণ করেছি বহুবার। আবার আরো একবার প্রমাণ করার সময় এসেছে। এজন্য আমাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ঠিক রেখে পরস্পর পরস্পররের থেকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে সমন্বিতভাবে করোনা নামক যুদ্ধের সাথে লড়াই করতে হবে। এজন্য আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

আমরা সকলে জানি, আমাদের এখন নিজেদের ঘরে অবস্থান করতে হবে। যতটা সম্ভব বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড করে হাত ধুতে হবে জীবানুনাশক সাবান দিয়ে দিনে কয়েক বার। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে, হাচিঁ, কাশির শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে। যদি কারো হাচিঁ, কাশি, জর, সর্দি থাকে তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখতে হবে।

এখানে একজন নারী, মা এবং স্ত্রী হিসেবে বলতে চাই, যাদের বাসায় ছোট বাচ্চা আছে তাদের জন্য নিশ্চয়ই বিষয়টি কষ্টকর। কারণ বাচ্চারা ঘর বন্দি থাকতে চায় না। এই সময় স্কুল বন্ধ থাকায় বাচ্চারা যেতে পারছেনা স্কুলে, পারছে না খেলতে, ফলে ওদের মনের উপর একটি বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এই বিরূপ প্রভাব থেকে বের করে নিয়ে আসতে হলে একজন মাকে অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
যেমন, বাচ্চাদের এই ভাইরাসের ক্ষতিকর দিকগুলো ভালভাবে বুঝাতে হবে। বাচ্চাদের সাথে অনেক বেশী সহজ হতে হবে, আচজরণ হবে বন্ধু সুলভ, ওদেরকে বেশী সময় দিতে হবে। প্রয়োজেন একটু ভিন্ন ধরণের বিনোদনের ব্যবস্থা করুন পরিবারের সকলকে নিয়ে, যাতে ওরা ঘরে থাকাটাকে বন্দিত্ব মনে না করে বরং আনন্দ পায়। তা ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্য বিশেষ করে আমি পুরুষদের কথা বলবো, যারা কর্মের জন্য প্রতিনিয়ত বাইরে যেতেন, তাদের কাছে ঘর বন্দি জীবনটা ভাল না লাগাটাই স্বাভাবিক। সুতরাং আরো একটু দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে নারীদের। কারণ এই সময়টাতে পারিবারিক সর্ম্পকগুলো যেন তিক্ত না হয়ে উঠে। বরং পারিবারিক বন্ধন যেন আরো মধুর এবং সুদৃঢ় হয়ে উঠে সেদিকে লক্ষ্য রাখাও বা নীয়।

অন্যদিকে পুরুষদের ক্ষেত্রেও বলবো আপনারাও এই সম্পর্কগুলো মধুর করবার জন্য নারীদের একটু সহযোগিতা করুন। যাই হোক এতোকিছুর মধ্যে একটি স্বস্তির বিষয় হলো আমাদের দেশে ভাইরাসটি মহামারী আকারে ছড়ায়নি (আইইডিসিআর এর তথ্য মতে)। তবে আমাদের এখনি আনন্দিত বা খুশি হওয়ার মতো কিছু হয়নি। এখনও অনেকটা সময় আমাদের সচেতন এবং সাবধান থাকতে হবে, যেন ভাইরাসটি মহামারী আকার ধারণ করতে না পারে।

তাছাড়া একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে খুশি হওয়ার কথাও নয়। কারণ যেখানে সারা বিশ্ব কাঁদছে, জীবন যুদ্ধে লড়ছে, এবং প্রতিনিয়ত মৃত্যুর মিছিল দেখা যাচ্ছে কোন কোন দেশে। আমি সমস্ত মানুষের সুস্থতা কামনা করি পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার কাছে। আসুন আমরা সচেতন হই, নিজেকে ভাল রাখি, নিজের পরিবার ও কাছের মানুষদের ভাল রাখি। সর্বোপরি সমাজ এবং দেশের মানুষকে ভাল রাখি। রোগ প্রতিরোধে সমস্ত নিয়ম মেনে রাস্ট্রের নেয়া সময়োপযোগি সিদ্ধান্তগুলোকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে। আসুন দেশকে বাচাঁই।

লেখক: একটি বেসরকারি পলিটেকনিকের শিক্ষক
রাজশাহী

]]>
https://womenchapter.com/views/33714/feed 0
আমরা শকুন নই, তাই মৃত স্বজন নয়, স্বচ্ছতা দেখতে চাই https://womenchapter.com/views/33706 https://womenchapter.com/views/33706#respond Wed, 01 Apr 2020 11:19:54 +0000 https://womenchapter.com/?p=33706 সালমা লুনা:

প্রধানমন্ত্রী গতকাল হেসে হেসে বলেছেন, তার বাবুর্চিখানাতেও নাকি পিপিই পরে বসে ছিল লোকজন। উনি সেটি বন্ধ করেছেন।
বিভিন্ন পেশার লোকজন নিজ টাকায় পিপিই কিনে বসে আছেন। কেউ গায়ে লাগিয়ে ব্যাংকে কাস্টমার সার্ভিস দিচ্ছেন। হসপিটালের সামনে দাঁড়িয়ে টিভির লাইভ কাভার করছেন কেউ।
তাদের জানা উচিত, ওগুলো কেনার টাকা তাদের হতে পারে, কিন্তু এই পিপিইতে আসলে সম্পূর্ণ হক স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত কর্মীদের। যারা আক্রান্ত রোগীর সান্নিধ্যে যাচ্ছেন, তাদের। যারা পরীক্ষাগারে কাজ করছেন তাদের।

হসপিটালগুলো সন্দেহজনক মনে হলেই রোগী রাখছে না। রোগীরা মারা যাচ্ছে। নিজ টাকায় পিপিই কিনে পরা মানুষ বুঝতে পারছেন না, অকারণে পিপিই পরে সেইসব অসুস্থ মানুষদের সেবা পাওয়ার অধিকারও ছিনিয়ে নিচ্ছেন তারা। পরোক্ষভাবে তাদের মৃত্যুর কারণ হচ্ছেন। কারণ পিপিই না থাকায় তাদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে ভয় পাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। ফিরিয়ে দিচ্ছেন হসপিটাল থেকে।

যদিও দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের কথা,
পিপিই-র কোন ঘাটতিই নেই হসপিটালগুলোতে।

সবসময় কঠিন কথা বলতে ভালো লাগে না।
হাতিঘোড়া কিছু মারা পড়ে না এসব লেখালেখিতে। বরং কিছু লোক বিরক্ত হন। হয়তো তারা বিরক্ত হন নিজেদের স্বভাবজাত কারণেই। কিন্তু কিছু জিনিস ভাবতে হবে সবাইকে। অকারণে নিজের সুরক্ষা নিয়ে ভেবে অন্যের জীবন সংশয় যেন না ঘটে!

আমার জানাশোনা বেশ কিছু ডাক্তার নানারকম ছলচাতুরী করে নিজের কর্মস্থলে না গিয়ে ঘরে বসে আছেন। অথচ শুনতে পাই, এসময়ে তাদের
ছুটি নাই। তবু তারা নানান অছিলায় ছুটি নিয়েছেন কীভাবে যেন!

আমি জানি ডাক্তাররা এবং তাদের স্বজনরা খুবই বিরক্ত হবেন আমার কথায়। তবু বলতেই হচ্ছে, ডাক্তাররা রোগীর সেবা দিচ্ছেন এই সময়ে এটা যেমন সত্য, তেমনি এই কথাটাও সত্য যে কিছু ডাক্তার প্রাণভয়েই একরকম পালিয়ে বেড়াচ্ছেন নিজ দায়িত্ব থেকে।
ডাক্তাররা বলছেনও নিজের জীবন বাঁচানোর অধিকার তাদের আছে। হ্যাঁ অবশ্যই আছে। কিন্তু যেহেতু স্বাস্থ্য বিভাগের কথানুযায়ী পিপিই-র ঘাটতি নেই। তাহলে এই জীবন বাঁচানোর চেষ্টার কথা উঠছেই বা কেন?
আর এজন্যই আরেকটা কথাও সত্যি। প্রায় সব হসপিটাল সামান্য লক্ষণ দেখলেও মরণাপন্ন রোগীকে হাতও লাগাচ্ছে না, সেবা তো দূরের কথা। বেশ কয়েকটি মৃত্যুর খবর আমরা জেনেছি ইতিমধ্যেই।

যার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে তার শ্বাসকষ্ট যে হার্টের সমস্যার জন্যও হতে পারে এই কথাটা শুধুমাত্র একজন ডাক্তারের জানার কথা। হসপিটালের ইট কাঠ আসবাব কিংবা যন্ত্রপাতিগুলো তো আর রোগী এটেন্ড করে না! সরকারের ইমেজ বা হসপিটালের মালিকগণও করেন না। ওখানে চাকরিরত ডাক্তার নার্সকেই ওই কাজটা করতে হয়।

তাহলে ডাক্তাররা পেশার কোন দায়িত্ব নিচ্ছেন রোগী ফিরিয়ে দিয়ে?
এই প্রশ্ন করা যাবে?

একটি নামকরা বেসরকারি হসপিটাল নিজে থেকেই লকডাউন। আইসিইউ আক্রান্ত বলে। না রহেগা বাঁশ না বাজেগা বাঁশরি। অর্থাৎ বন্ধ থাকলে রোগীও নেই, রোগী না থাকলে করোনায় ফিরিয়ে দেয়ার বদনামও নেই।
এতো এতো টাকা নিয়ে চিকিৎসা সেবা দেয় যে বেসরকারি হসপিটাল, তারা কেন করোনা আক্রান্ত সন্দেহে রোগী ফিরিয়ে দিলেও তাদের ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল হবে না?
এই প্রশ্ন করা যাবে?

স্বাস্থ্য বিভাগের বক্তব্য কী? এসব জিজ্ঞেস করার অধিকার কি আমাদের আছে?

ফ্লোরা আপার শাড়ির ফ্লাওয়ার না গুণে বরং আসুুুন এই প্রশ্নগুলো করি আমরা। অনলাইনেই করি।

অনলাইনে যিনি দাউদাউ আগুন জ্বালিয়ে প্রশ্ন করছেন, মানুষ মারা যায় না বলে তোদের আফসোস? মরলে খুশি হোস? তোরা সব শকুন!
তাকেও প্রশ্ন করুন, রোগী হসপিটালে হসপিটালে ঘুরেও চিকিৎসা পেল না কেন রে দলান্ধ ড্যাশজাদা?

পৃথিবীর বেশি করোনা আক্রান্ত দেশগুলি ডাক্তারদের নার্সদের হাততালি দিচ্ছে তাদের অক্লান্ত সেবা দেখে। আমরাও দিচ্ছি।
কিন্তু আমাদের দেশে তো এতো করোনার রোগীই নেই। বরং সবাই সঠিক নির্দেশনা মেনে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। যেহেতু রোগী নেই, সেহেতু উনারা তো রোজকার স্বাভাবিক দায়িত্বই পালন করছেন। তাহলে যার যা পেশাগত কাজ তার জন্য দেব এই হাততালি?
তাহলে রোগী যারা ফিরিয়ে দিলেন তারা কী পাবেন?

হাততালিটা শুধু সেইসব ডাক্তাররা পাবেন যারা নিজের কথা, নিজের পরিবারের কথা চিন্তা না করে, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে করোনা নেই, কিন্তু করোনার ভয় বুকে নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। সন্দেহজনক রোগীদের কাছে যাচ্ছেন। বা যে আঙ্গুলে গোনা অল্প কিছু রোগী আছে তাদের দেখভাল করছেন। যারা পরিবার রেখে দূর মফস্বলের হসপিটালে পড়ে আছেন। ডিউটি করছেন। বাড়ি ফিরতে পারবেন না আরও কত কতদিন, জানেন না।
তাদের শুধু হাততালি না। বিশেষ পুরষ্কারের ঘোষণা দেয়া উচিত।

জানি এসব লেখার সময় এখন নয়।
এখন তো কোন পেশা কতো গুরুত্বপূর্ণ আর কোন পেশার লোক মানুষের জন্য বেশি কাজ করে সেসব হিসেবেরও সময় নয়।
তবে কেন ডাক্তার, ব্যাংকার, সাংবাদিকরা তর্কে লিপ্ত হচ্ছেন?

আমরাই বা কেন আমাদের স্বজনের মৃত্যুর চেয়ে কূটতর্ক আর কুতর্ককে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি?

সবাই মিলে আসেন প্রশ্ন করি, টপ টু বটম সবার বক্তব্যনুযায়ী দেশে পর্যাপ্ত পিপিই থাকার পরও ডাক্তারদের কীসের এতো ভয়? কেন তারা হাত পর্যন্ত লাগাচ্ছেন না রোগীকে? এই কি সেবা? এই কি পেশাগত দায়িত্ব? রোগী কেন ফিরিয়ে দিচ্ছে হসপিটালগুলো? রোগীকে সেবা দিলে বা করোনা সনাক্ত হলে কার এতো লোকসান যে অনলাইনে সক্রিয় একটা চক্র সচেতন মহলকে বারবার বলে যাচ্ছে, রোগী কেন মরে না এই নিয়েই নাকি তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত! কেউ স্বচ্ছতা দেখতে চাইলেই কেন তারা আঁতকে উঠছে, ‘লাশ দেখতে চায়’- বলে?

সুনাগরিক বলেই আমিও প্রশ্ন করে গেলাম, টাকা হাতে নিয়েও চিকিৎসা না পেয়ে হসপিটালের দ্বারে দ্বারে কেন ঘুরতে হচ্ছে মানুষকে? মানুষ একজনও যদি মরে, এর দায় কে নেবে? কেই বা নিয়েছে কোনদিন!

]]>
https://womenchapter.com/views/33706/feed 0
করোনা: শ্রমজীবী নারীর জন্য মরার উপর খাঁড়ার ঘা https://womenchapter.com/views/33701 https://womenchapter.com/views/33701#respond Tue, 31 Mar 2020 21:24:41 +0000 https://womenchapter.com/?p=33701 সোমা দত্ত:

সারা পৃথিবীর মানুষ এক ক্রান্তিলগ্ন পার করছে। এতো বড় সংকট এর আগে কোন জাতি দেখেছে কিনা জানা নেই। ছোটবেলায় গল্প শুনেছি- ওলাউডার বাতাস বা শীতলা দেবীর আগমনের কথা। লোকে বলতো, শীতলা বিবি কাউকে ক্ষমা করে না। কলেরা বা গুটি বসন্তের প্রাদুর্ভাবে কী করে গ্রামের পর গ্রাম মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল, সে গল্প আমাদের অনেকের জানা। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণের যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তা সামাল দিতে বিশ্বজুড়ে হুলুস্থুল পড়ে গেছে। প্রচার অপপ্রচার দুই-ই সমান বেগে ছুটছে। তবে একটা খবরে বারবার দৃষ্টি আটকে যাচ্ছে। করোনার করুণায় বাড়ছে নারীর প্রতি সহিংসতা।

আজ একটি খবরে দেখলাম করোনা পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের মতো দেশে শতকরা ৩০ ভাগ বেড়েছে নারী নির্যাতন। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, করোনার কারণে চীনের কোথাও কোথাও পারিবারিক নির্যাতনের হার আগের চেয়ে তিনগুণ বেড়েছে।

একই প্রবণতা দেখা গেছে জার্মানি, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে বিশ্বে প্রায় ৭০ ভাগ নারী স্বাস্থ্য ও সামাজিক কর্মী হিসেবে নিয়োজিত। যারা সম্মুখভাগের যোদ্ধা হিসেবে বিরাট ভূমিকা পালন করছে, তারাও আজ ঝুঁকিতে আছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহ তথা বাংলাদেশও বাইরে নয়।

কীভাবে? বলা বাহুল্য, বিশ্বব্যাপী লকডাউনের মতো এদেশেও লকডাউন চলছে। সবার গৃহবন্দী জীবন। যেহেতু নারীকেই গৃহস্থালি ও সেবামূলক কাজের দায়িত্ব নিতে হয়, বেড়েছে সেই কাজের চাপ। বাচ্চাদের স্কুল কলেজ ছুটি। তাদেরকে দেখাশোনা করা, সময়মতো খাবার ব্যবস্থা করা তো আছেই। উপরন্তু বাসার পুরুষ সদস্যটি থাকছে ঘরে। যে কিনা মোড়ের দোকানে বা বন্ধুদের সাথে চায়ের কাপে চুমুক আর আড্ডায ঝড় তুলতো তাকেও দিতে হচ্ছে সঙ্গ অথবা বারবার চা কফির জোগান।

কেউবা আবার একটু বেশিই করোনা সচেতন। ঘরদোর পরিষ্কার রাখতে হুকুম দিচ্ছেন বারবার। কিন্তু প্রশ্ন হলো, করবেটা কে? হ্যাঁ বেশির ভাগ ঘরে এ কাজটিও নারীকে সামলাতে হচ্ছে। কেননা আমরা তো ইতোমধ্যে করোনার কম্যুনিটি সংক্রমণের ভয়ে সহায়তাকারী খালা বা বুয়া পরিচয়ে পরিচিতদের বাড়িতে আসা বন্ধ করেছি। তাঁকে ছুটি দেবার আগে এটাও ভাবিনি সারাদিন যার নুন আনতে পান্তা ফুরোয় তিনি কী খাবেন। তাঁর সন্তানদের মুখে দু’বেলা কী তুলে দেবেন? এ প্রশ্নে হয়তো অনেকেই তেড়ে আসবেন। কেন আমরা তো বেতন দিয়েই ছুটি দিয়েছি। কিন্ত কতদিনের, ক’মাসের বেতন দিতে পেরেছি। আমাদের সবার সামর্থ্যও কী এক!

আমরা কেউ কেউ নারীর গৃহস্থালি বা সেবামূলক কাজের অর্থমূল্য ও স্বীকৃতি দাবি করছি। চাতাল শ্রমিক রহিমার মতে, ‘এতে কী লাভ হবে? আমার স্বামীর তো কোন ক্ষ্যামতা নাই। তার’চে সে যদি ঘরের কামরে নিজের মনে করে আমার সাথে হাত লাগায় তাইলে তো দুইজনের শরীরড্যাই আরাম পায়। সংসারে ঝগড়াঝাঁটি কমে’।

একটি উন্নয়ন সংস্থায় কাজের সুবাদে প্রত্যন্ত অঞ্চলের খবর আসে আমাদের কাছে। বা উল্টো করে বললে খবর নিতে হয় আমাদের। আজ একটি ফোন এলো। অপর প্রান্ত থেকে জানালো তাদের এলাকা ঝিনাইদহে নারী নির্যাতন বেড়েছে। আবারও একই প্রশ্ন কীভাবে? তিনি জানালেন, স্বামীটি ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ করতো। করোনার কারণে তার কারখানায় ছুটি হয়েছে। তাই গ্রামে এসেছেন। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন নতুন বউ। যা এতোদিন লুকানো ছিল দূরত্বের আড়ালে। শুরু হয়ে যায় পারিবারিক কলহ আর মারপিট। ফলাফল যা হবার তাই। গায়ে জখম নিয়ে আাগের পক্ষের বউকে বাড়ি থেকে বিতাড়ন। আমার সংবাদদাতা অবশ্য থানায় যোগাযোগ করবার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এই সময়ে কর্তৃপক্ষ মহাব্যস্ত করোনা মহাযজ্ঞ সামাল দিতে।

এবার আসি একটু অন্য প্রসঙ্গে। মাহবুবা কাজ করেন একটি বেসরকারি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে। তার প্রতিষ্ঠানে ঘোষণা এসেছে বাসার বসে অফিস করবার। আমাদের দেশে বেশকিছু প্রতিষ্ঠানে কাজে ঢোকার সময় আছে বের হবার নেই। ফলে এ আদেশ তার জন্য কতোটা আতঙ্কের তা সহজেই অনুমানযোগ্য।

তেমনি আরেকজন মেরিনা। তিনি একজন উন্নয়ন কর্মী। তাঁর স্বামী সরকারি কলেজের শিক্ষক। বর্তমান লকডাউন পরিস্থিতিতে তার অফুরন্ত অবসর। কখনও টিভিতে দেশ-বিদেশের খবর নিচ্ছেন। কখনও বা ইন্টারনেট ঘেঁটে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। মেরিনার প্রতিষ্ঠান সরকারি ছুটির সময়েও বাসায় বসে অফিস করবার আদেশ দিয়েছে।

এই আদেশের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে মেরিনার দিন শুরু হয় কাক ডাকা ভোরে। বাসার সবাই তখন সুখ নিদ্রায় মগ্ন। একে একে নিতে হয় সারাদিনের প্রস্তুতি। বাসার সকাল দুপুর বিকাল রাত সব বেলার খাবারের চাহিদাসহ সবকিছু যে তাকেই সামাল দিতে হবে। করোনার ভয়ে তো অনলাইনে শর্টকাট মারারও সুযোগ নেই। অনেকদিন আগে দেখা বিবেক চরিত্রটির কথা মনে পড়ে যায় মেরিনার। আর ভাবে, অফিস অ্যাট হোম নারীর জন্য বাড়তি বোঝা বা মরার উপর খাঁড়ার ঘা নয় কি?

]]>
https://womenchapter.com/views/33701/feed 0
কোয়ারেন্টাইন: কঠিন, তবে অসম্ভব নয় https://womenchapter.com/views/33695 https://womenchapter.com/views/33695#respond Tue, 31 Mar 2020 19:59:33 +0000 https://womenchapter.com/?p=33695 জেবুন্নেছা জোৎস্না:

ঠিক এক সপ্তাহ আগে আমার মেয়েটি দু-দিনের জ্বর, গলা আর প্রচণ্ড মাথাব্যথা নিয়ে বিংহ্যামটন ইউনিভার্সিটির ডর্ম থেকে বান্ধবীর সাথে আমার সামনে এসে দাঁড়ালো, আমার পায়ের নিচে পৃথিবী তখন টলমল করছে, তবু নিজেকে শক্ত করে ওকে আর ওর বান্ধবীকে মাস্ক আর গ্লভস দিলাম পরতে, এছাড়া ও নিজেও বার বার করে বলে দিয়েছে যে ওর সামনে যেন আমরা মাস্ক আর গ্লভস ছাড়া না যাই। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত সে তার ঘরে কঠোরভাবে সেলফ কোয়ারেন্টাইন মেইনটেন করে চলেছে। তার দৃঢ় ধারণা তার মধ্যে করোনা’র লক্ষণ আছে এবং আমাদের কারও মধ্যে সে ছড়াতে দিবে না; ঠিক ততখানি তার বাবার ধারণা তার মেয়ের কিছু হয়নি, কেবল ঠাণ্ডা থেকে গলায় ইনফেকশন হয়েছে; সে দুঃখ পেলেও তাকে মেয়ের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য আমাকে আরও কঠোর হতে হয়েছে পুরো পরিবারের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে। আর সেই মুহূর্তে আমি তীব্রভাবে অনুভব করেছি সেইসব পরিবারের গভীর বেদনা, যারা আপন জনের মৃত্যুকালে কাছে থাকতে পারিনি, মাথায় হাত দিয়ে সান্ত্বনায় প্রশমিত করতে পারিনি ভয়ানক মাথার যন্ত্রণা, অথবা উত্তপ্ত শরীরে দিতে পারেনি একটু জল-পট্টি.. কী ভয়ানক এক পারিবারিক পৃথকীকরণের সংগ্রাম… সব থেকেও কোথাও কেউ নেই!

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে কোয়ারেন্টাইন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

এখন পর্যন্ত যেহেতু এ রোগের সুনিশ্চিত কোন ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি, তাই কোয়ারেন্টাইনই এর থেকে মুক্তির একমাত্র উপায়। অসুস্থতার শুরুতেই ইমার্জেন্সিতে যেয়ে নিজেকে আরও গুরুতর অবস্থায় নিয়ে যাবার চাইতে, ভিডিও কলে ডাক্তারের সাথে কথা বলা, এবং তার নির্দেশ মতো চলাই এখন উত্তম। তবে কারও অসুস্থতা যদি আটদিনের মধ্যে উন্নতি না হয়, তাকে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। পৃথিবী বিস্তৃত এ মহামারি’র সময়ে আমরা আপনজনের বিছানার পাশে সত্যি থাকতে পারবো না, কিন্তু একটু দূরত্ব বজায় রেখে তাদের এবং পরিবারের অনান্য সদস্যদের যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে নিশ্চয় আমরা এ দুঃসময় কাটিয়ে উঠবো। নিজেকে, আপনজনকে আর পৃথিবীকে বাঁচাতে আমাদের সামনে এখন কেবল একটি পথই খোলা আছে, কোয়ারেন্টাইন।

এই মুহূর্তে কারও ঠাণ্ডা লাগলেই আমরা ধরে নিচ্ছি যে তার করোনা হয়েছে; আমার মেয়ের কোনো টেস্ট করিনি; আশার কথা যে তার তেমন কাশি অথবা স্নিজিং ছিল না, যেটা করোনা রোগীদের প্রধান লক্ষণ। তবু আমি সবরকম সাবধানতা অবলম্বন করেছি এবং এ সাবধানতা অবলম্বন করতে গিয়ে বুঝেছি কোয়ারেন্টাইন অতো সহজ নয়, তবু পরিবারের সকলের সুস্থতার জন্য এর বিকল্পও কিছু নেই, এবং যথাযথভাবে পালন করাও সম্ভব।

মেয়েটি বাসায় আসার আগেই আমি ওর রুমে ওর জন্য যথেষ্ট পরিমাণ পানির বোতল, পেপার টাওয়েল, গ্লভস, ট্রাসক্যানসহ নিত্য ব্যবহার্য জিনিস গুছিয়ে রাখি। আমাদের যেহেতু একটি বাথরুম, তাই ও বাথরুম ব্যবহার করার সময় গ্লভস এবং পেপার টাওয়েল সহকারে ডোর এবং ট্যাপ ঘুরাতো; এবং সতর্কতাস্বরূপ ও বাথরুম থেকে বেরোনোর পর লাইটের সুইচ হতে দরজা, ট্যাপের হ্যান্ডেলসহ পুরো বাথরুম ক্লিন করেছি প্রতিবার; সবাইকে আলাদা স্যান্ডেল দিয়েছি ঘরে এবং বার বার হাত ধুয়েছি ওকে খাবার দিতে রুমের দরজা ওপেন করার সময় এবং ন্যাপকিন দিয়ে ওর ব্যবহার্য ডিশ নেবার সময়। যখন ওর রুমে ঢুকতাম, ও নিজেকে ব্লান্কেটের আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে রাখতো, তাই আজ এতোদিন মেয়েটার মুখও দেখতে পাইনি! ওর ডাক্তার ওকে যেতে বলেছে, কিন্তু শরীর অনেক দুর্বল হওয়াতে এবং ডাক্তার আর অন্যদের মাঝে ভাইরাস ছড়াবে না বিধায় সে যেতে চায় না। একটু শ্বাসকষ্ট হওয়ায় সে ইমার্জেন্সিতে যাবার ইচ্ছা প্রকাশ করলে, তার ডাক্তার তার সাথে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলে এবং তাকে সেখানে যেতে নিষেধ করে কারণ ওখানে গেলে সে আরও অসুস্থ হয়ে যাবে, আর ওর অবস্থা এতোটা সিরিয়াস নয়, যতোটা মানসিকভাবে সে ভেঙ্গে পড়েছে। ডাক্তার তাকে টায়ানল, এলার্জির ঔষধ লরাটেডেন, নাসাল স্প্রে, ইলেকট্রোলাইজ ড্রিন্ক এবং হিউমিডিটি ফায়ার ব্যবহার সাজেস্ট করে। আর আমি একটু চাল-ডাল, মুরগির মাংস আদা সহকারে সেলারি-টমেটো সেদ্ধ করে লিকুইড স্যুপ করে দিয়েছি যখন ও কিছুই খেতে পারছিল না প্রচণ্ড গলা ব্যথায়।

আজ আট দিনের সকালে মেয়ে জানালো, তার আজ জ্বর, গলা ব্যথা আর মাথায় যন্ত্রণা নেই; মেয়ের বাবা যে এক মুহূর্তের জন্য যে ভাবেনি যে তার মেয়ের থ্রট ইনফেকশন ছাড়া অন্য কিছু হয়নি, সারা মুখে বিজয়ের প্রশস্ত হাসি ছড়িয়ে বললো, ‘আমি জানি, আমার মেয়ের কিছু হয়নি’।

নিউইয়র্ক

]]>
https://womenchapter.com/views/33695/feed 0
কোভিড-১৯: বাড়ছে পারিবারিক সহিংসতা, ঝুঁকিতে নারী https://womenchapter.com/views/33692 https://womenchapter.com/views/33692#respond Mon, 30 Mar 2020 23:54:18 +0000 https://womenchapter.com/?p=33692 নাসরীন রহমান:

হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে করোনা ভাইরাস এখন আর শুধু বৈশ্বিক মহামারী হয়েই থাকেনি, বরং তা প্রভাব ফেলছে মানুষের সামাজিক, পারিবারিক, দাম্পত্য জীবনেও।

করোনা ভাইরাসের কারণে গৃহবন্দী থাকতে হচ্ছে পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষকে; একটানা গৃহবন্দী জীবন, আর্থিক ক্ষতি, কর্মক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা মানুষকে মুখোমুখি করছে এক গভীর মানসিক সংকটের সাথে, ফলে তার প্রভাব পড়ছে জীবনে।

এএফপি’র এক প্রতিবেদনে আশংকা করা হচ্ছে, করোনা ভাইরাসের কারণে ঘরে থাকা মানুষের পারিবারিক জীবনে সহিংসতা বাড়তে পারে।

বার্লিন, প্যারিস, মাদ্রিদ, রোম ও ব্রাতিস্লাভায় যে সংস্থাগুলো পারিবারিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা দিয়ে থাকে, তারাই এই শঙ্কার কথা জানিয়েছে। বহু মানুষের জন্য তাদের বাড়ি আর নিরাপদ নয়, এই মন্তব্য করেছে জার্মান ফেডারেল এসোসিয়েশন অব উইমেনস কাউন্সেলিং ও।

বাস্তবিক গত ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে শুরু হওয়া কোভিড ১৯ আজ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মানুষের জীবন যাপনের ধরন উলটপালট করে দিয়েছে।

একদিকে গৃহবন্দী দশা অন্যদিকে আর্থিক ক্ষতি! কর্মসংস্থান হারানোর আশংকায় আছেন অনেক মানুষ। বিনোদনের অভাব, বাইরে বেরুতে না পারার মানসিক চাপ, বাড়তি খরচ সব মিলে মানুষ দিশেহারা। এটা নিশ্চিতভাবে কেউই জানেন না এই বন্দীদশা কতদিন স্থায়ী হবে।

অনিশ্চয়তা, হতাশা, একঘেয়ে জীবন মানুষকে কর্তৃত্বপরায়ণ, খিটখিটে, উগ্রমেজাজী করে তুলছে। ফলশ্রুতিতে তাদের আচরণ হয়ে উঠছে মারমুখী, আগ্রাসী! এবং যেহেতু তারা ঘরেই অবস্থান করছে সেহেতু তাদের এই উগ্রআচরণের শিকার হতে হবে তখন পরিবারের সদস্যরা তথা নারী ও শিশুদেরই।

ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, চীনে করোনা আক্রান্তের সময়গুলোতে পারিবারিক সহিংসতা বেড়েছিল উল্লেখযোগ্য মাত্রায়। স্পেনে ৩৫ বছর বয়সী দুই সন্তানের এক মাকে খুন করেছেন তার সঙ্গী।

তুরস্কের নারী সংগঠনগুলোর ফেডারেশনের মুখপাত্র কানান গুলু বলেন, নারীরা আমাদের জানাচ্ছেন যে তারা ঘরে সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। তারা জানতে চাইছেন, এ পরিস্থিতিতে আমরা কোথায় যেতে পারি?

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যদি আমরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করি তবে দেখবো এখানে পারিবারিক সহিংসতার মাত্রা যেহেতু ঊর্ধ্বমুখী, সেহেতু এখানে ঝুঁকি আরও বেশি।
যেহেতু শ্রেণীগতভাবে বাংলাদেশে নারী অধস্তন শ্রেণী, তাই কোভিড-১৯ এর সংক্রমনের সময় বাংলাদেশে নারী ডমিস্টিক ভায়োলেন্সের শিকার হবেন না, এই আশংকা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বরং আগে যারা বা যেসব নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হতেন, তারা এখন আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকবেন। কারণ তাদের নির্যাতকেরা এখন আরও বেশি গৃহে অবস্থান করছেন, বা নির্যাতিতা নারী বা শিশু বাইরে বেরুতে পারছেন না প্রতিকারের আশায়।

অবস্থা এমনও হতে পারে যারা আগে সুন্দর পারিবারিক জীবন যাপন করেছেন, কোন পারিবারিক, দাম্পত্য অশান্তি যেখানে ছিল না, সেখানেও নতুন করে পারিবারিক, দাম্পত্য অশান্তি, সহিংসতা ঘটে যেতে পারে। যেহেতু সময়টাই অস্থির, বিষন্নতায় ভরা।

তাই কোভিড-১৯ এর আক্রমণ ও প্রতিরোধের সাথে সাথে গুরুত্ব দিতে হবে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধের দিকেও।

মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে হবে। মনে রাখতে হবে এই সংকট একদিন দূর হবে, ততদিন এই গৃহবন্দী দশা মেনে নেওয়াই শ্রেয়।

না হয় মনোবিজ্ঞানী অ্যাড্রিয়ানা হাভসোভার ভবিষ্যৎ বাণীই সত্য হয়ে যাবে।

যেমনটা তিনি বলেছেন, এই লকডাউন যদি কয়েকমাস ধরে চলতে থাকে তবে পারিবারিক সহিংসতা যে কতগুণ বাড়বে তা তিনি কল্পনাও করতে পারেন না!

]]>
https://womenchapter.com/views/33692/feed 0