Women Chapter https://womenchapter.com বাংলাদেশের প্রথম নারী বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ পোর্টাল। Wed, 03 Jun 2020 21:17:04 +0000 en-US hourly 1 https://womenchapter.com/wp-content/uploads/2013/07/logo-2-50x50.jpg Women Chapter https://womenchapter.com 32 32 নতুন মা এবং সামাজিকতা https://womenchapter.com/views/34470 https://womenchapter.com/views/34470#respond Wed, 03 Jun 2020 21:07:44 +0000 https://womenchapter.com/?p=34470 রোকসানা বিন্তী:

কিছু কিছু কাজ দূর থেকে অনেক সহজ মনে হয় কিন্তু আসলে ততটা সহজ না, উদাহরণ হিসেবে বলা যায় বাচ্চা পালা!শান্ত শিষ্ট সুইট একটা বাচ্চাকে দেখলে হয়তো অনেকের মনে হয়, “আরে ধুর! এই বাচ্চা পালা কোন বিষয় নাকি! আমি একলাই পাইলা ফেলতে পারবো!”
কিন্তু দেখা যায় আপাতদৃষ্টিতে শান্ত ভদ্র বাচ্চাই ঘুমাইতে গেলে তিনঘণ্টা লাগায়, খাইতে পাঁচ ঘন্টা লাগায়!

বাচ্চার খাওয়া আর ঘুমই তো শেষ না ,খাওয়া রেডি করতে হবে, ফিডার ধুতে হবে, বাচ্চাকে গোসল করাতে হবে, বাচ্চার গরম লাগছে কিনা বা ঠাণ্ডা লাগছে কিনা, আবহাওয়ার সাথে উপযুক্ত কাপড় আছে কিনা, বাচ্চার টয়লেট ঠিকমতো হচ্ছে কিনা, খাবারে পুষ্টি আর ভেরিয়েশন দুইটাই মেইনটেইন হচ্ছে কিনা, এরকম আরও হাজারটা টেনশন থাকে মায়ের মাথায়!

অসুখ বিসুখের কথা না হয় বাদই দিলাম!
হাউজওয়াইফ মা হোক আর ওয়ার্কিং লেডি মা হোক বা স্টুডেন্ট মা হোক, সবাইকেই কমবেশি এই পেইনগুলো নিতে হয়! সেই সাথে আছে ঘর সংসার, রান্নাবান্না! ওয়ার্কিং লেডি মায়েদের জন্য এক্সট্রা অফিসের কাজ! স্টুডেন্ট মায়েদের পড়ালেখার প্রেসার!
তো একবার সেই মায়ের কথা ভাবুন তো!
চিন্তা করুন তার কী ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা!

বাচ্চা সংসার সবকিছু মিলিয়ে যখন মায়ের পাগল পাগল দশা তখন তার উপর চাপিয়ে দেয়া হয় আরেকটি বোঝা যার নাম সামাজিকতা!

সারাদিন হয়তো ফোন একবার হাতে নেয়ার সুযোগ হয়নি কিন্তু সে কেন একে ওকে ফোন দিয়ে খোঁজ খবর নেয়নি, এটা তার দোষ!
বাচ্চার ডায়পার কিনতে গিয়ে হিমশিম খাওয়া মেয়েটা কেন অমুককে ঈদে গিফট দেয়নি!
পুরো সপ্তাহে নিজের জন্য যেই মা একটা ঘন্টাও সময় পায়নি সে কেন তমুককে দাওয়াত দিল না!
দাওয়াত দেয়ার পরও সে কেন এটেন্ড করলো না!
কেন হাসপাতালে রোগী দেখতে গেল না!
ওজন বেড়ে গিয়েছে কেন শুকায় না!
কেন! কেন! কেন!

এমন আরও শত সহস্র কেন!
খাওয়ার সময় নেই, ঘুমানোর ঠিক নেই, চারদিকে যেন কেবল দায়িত্ব আর কর্তব্য!
যখন মায়ের সাথে সবার কথা বলা উচিত ভালোবাসার সুরে তার বদলে পুরো পৃথিবী যেন একসাথে তার সাথে অভিমান করা শুরু করে দেয়!
অভিযোগের তীরে বিদ্ধ করে প্রতিনিয়ত যা কোনভাবেই কাম্য নয়!
জীবনটা তো অনেক বড়!

হুট করে পাহাড়সমান দায়িত্ব মাথায় এসে পরা মা’টাকে সকল সামাজিকতা থেকে কয়েক বছরের জন্য মাফ করে দিয়ে দেখুন কী হয়!
খোঁজ খবর দরকার হলে নাহয় আপনিই ফোন দিন!
তার সুবিধামতো তাকে চলতে দিন!
খারাপ সময় সারাজীবন থাকে না!

বাচ্চা একদিন ঠিকই বড় হবে, ব্যস্ততাও কমে যাবে কিন্তু আজকে সামাজিকতা রক্ষা করতে না পারার জন্য আপনি বাচ্চার মাকে যেই কথাগুলো বলেছেন সেগুলো তার মনে ঠিকই রয়ে যাবে!
আপনাকে দেখলেই তার মনে পড়ে যাবে সেই কথাগুলো!
বর্তমানের একচিমটি ভালোবাসার অভাব আপনি ভবিষ্যতে একড্রাম দিয়েও পূরণ করতে পারবেন না!
কখনোই না…।

উপ পরিচালক
বাংলাদেশ ব্যাংক

]]>
https://womenchapter.com/views/34470/feed 0
গোধুলী বেলার একটুখানি আলো https://womenchapter.com/views/34465 https://womenchapter.com/views/34465#respond Wed, 03 Jun 2020 20:02:37 +0000 https://womenchapter.com/?p=34465 বাসন্তি সাহা:

উর্মি আর আসে না। গত চার বছরে উর্মি আমার, আমার ছেলে-মেয়ের খুব ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছিল। উর্মি একজন স্পেশাল টিচার, শুধু টিচার নয়, নির্ভরযোগ্য অসাধারণ এক মেয়ে। সিঙ্গল মাদার। তিন মাসের টাকা দিয়ে না করে দিয়েছি। এমনি করে না করেছি রূপাকে, শান্তাকে, স্বপনদা আর সাহায্যকারী শারমিনকেও। অনেককেই হয়তো বলবেন, কেন রেখে দিলেন না? সত্যি যদি পারতাম!

মানুষের প্রতি ভালবাসা বড় কষ্ট দেয়। হৃদয়ের মধ্যে বেড়ে ওঠা অদম্য এই আলোর, এই ফুলের পাপড়ির কোনো রঙ নেই। কিন্তু প্রকাশ বড় রঙিন, আনন্দের। হৃদয়ের কোনে জন্ম নিয়ে ক্রমশ সে দিনে দিনে ছড়িয়ে যায়। বেড়ে ওঠে ডালপালা নিয়ে। তাই তাকে তুলে ফেলতে যে কী কষ্ট! কতবার কতদিন এসে বলেছে, আন্টি এখন একটু শুয়ে থাকেন, আমি তো আছি। অথবা চায়ের কাপ হাতে তুলে দিয়ে বলেছে সবসময় তো আপনিই দেন। আজ আমি আপনাকে দিলাম। প্রতি মুহূর্তে ভাবি রূপা ও উর্মি দুজনেই সিঙ্গল মাদার। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে একাই লড়ে যাচ্ছিল মেয়ে দুটোকে মানুষ করার জন্য। কী আত্মবিশ্বাস দেখেছি তাদের চোখে মুখে! কিন্তু কোনোভাবেই তাদের পাশে আমি থাকতে পারলাম না। ‘আপন হতে বাহির হয়ে বাইরে দাঁড়া, বুকের মাঝে বিশ্বলোকের পাবি সাড়া’। কেবল শুনেই গেলাম।

আমরা যারা পলায়নবাদী, মানুষের পাশে দাঁড়ানোতে অসহায়তার অজুহাতে মুখ লুকোতে চাই , নিজে ভালো থেকে দূর থেকে কান্নার ইমো দিয়ে দায়িত্ব এড়াতে চাই, অথবা বলি বাচ্চারা ছোট তাই, না হলে কতকিছু করতাম! তাদেরও সময় এসেছে ভাবার নিজেকে নিয়েও। যখন অতি আপনজন স্ত্রী, সন্তান আক্রান্ত বাবাকে খাবার না দিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখবে, মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত। অনেক ডাকাডাকি করার পরেও কেউ এগিয়ে আসবে না্। তাদের জন্য সেইদিন অপেক্ষা করছে। করোনার চেয়ে এই অমানবিক, দানবিক রূপ ভয়ঙ্কর। দু’বছর, পাঁচবছর পরে হয়তো করোনার থাবা আমরা কাটিয়ে উঠবো কিন্তু মানুষের এই রুপ কাটানো সহজ হবে না।

এই দুর্ভাবনার সময়ে গোধুলীবেলার একটু আলোর মতো দুই একটি সংবাদ আমাদের আশা জাগায়। আত্মীয় সন্তানরা যাকে ছেড়ে গেলো তাকে দাহ করছে একজন অনাত্মীয়, ভিন্ন ধর্মের মানুষ। এমন দু’একটা খবরে যন্ত্রণার উপশম হয়, অবসান হয় না। যেনো বিষন্ন প্রদীপগুলো শেষরাতে আস্তে আস্তে নিভে যেতে থাকে। তবু সেই একশটার মধ্যে নব্বইটা নিভে গেলেও দশটা প্রদীপ টিম টিম করে জ্বলে, তবে বাকিদেরও বেঁচে থাকার সাধ হয়।
মাঝে মধ্যে এও ভাবি, এটা কী আমাদের বানানো? কেউ এভাবে ভাবতে শেখাচ্ছে নাতো! বাইরে বের হলে সাধারণ মানুষের যে চলাচল তা দেখেতো মনেই হয় না আমরা একটা এমন অস্থির, আশঙ্কার সময় কাটাচ্ছি। হয়তো এটাই আসলচিত্র। তাহলে যে মানুষগুলো মারা যাচ্ছে প্রতিদিন! কোনটা সত্যি! ভাবনাগুলো নির্ঘুম রাতগুলোকে কেবল বিভ্রান্ত, বিষন্ন করে তোলে।

আমরা শুধু ঘরে বসে টেলিভিশনের স্ক্রিনে ফেরিঘাটে, দোকানে, বাজারে মানুষগুলোকে দেখে তাদের বোধ-বুদ্ধি নিয়ে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই। ভাবি না খেয়ে ঘরে বসে মরুক বরং কেনো বাইরে বের হবে! আমরা যারা লকডাউনে ঘরে বসে দেখছি তাদের কাছে পুরোটাই দৃশ্য, অনুভূতি আর উপলদ্ধির আবছায়া প্রকাশ, সত্যটাকে এড়িয়ে যাওয়ার একটা ছোট্ট প্রয়াস। আমরা জানি মানুষগুলো খাবে কী ঘরে থাকলে? কারণ এই আগুনের আঁচ আমাদের দিকেও আসছে একটু একটু করে।

সময় সমস্ত ক্ষতকে প্রলেপ দেয়। কিন্তু আমাদের প্রতিদিনের জীবনে সবকিছুর সাথে এই উপলব্ধি, এই অসহায়তা কী একেবারে মুছে ফেলতে পারবো? করোনা চলে গেলেও? যারা বলছে ভাবছি না চিন্তা করছি না। তারাও কী নিজেকে বোঝাচ্ছে নাতো! ‘ভেসে থাকতে পার যদি সেইটে সবার চেয়ে শ্রেয়, না পারতো বিনা বাক্যে টুপ করিয়া মরিয়া যেয়ো। এটা কিছু অপূর্ব নয় ঘটনা সামান্য খুবই। আবার এটাও তো ঠিক ‘‘শঙ্কা যেথায় করে না কেউ সেখানেই হয় জাহাজ ডুবি’’।

বাসন্তি সাহা
উন্নয়ন কর্মী
basantitaposh@gmail.com

]]>
https://womenchapter.com/views/34465/feed 0
Run Like A Girl https://womenchapter.com/views/34458 https://womenchapter.com/views/34458#respond Wed, 03 Jun 2020 19:47:40 +0000 https://womenchapter.com/?p=34458 আলী আজগর রাকিব:

আপনাকে যদি কেউ বলে মেয়েদের মত দৌড়াও তাহলে আপনার রিএকশন কেমন হবে?

ফেসবুকে একজন পোস্ট দিয়েছেন মেয়েদেরকে উদ্দেশ্য করে। পোস্টের বিষয়বস্তু হলো, আপনার স্বামী-সন্তানের পরিচয় বাদ দিয়ে আপনার আলাদা পরিচয় আছে কিনা? আপনার হয়তো নিজের কোনো আলাদা পরিচয় নেই, কিংবা নিজের পরিচয় তৈরি করার যোগ্যতা নেই, কিংবা নিজের পরিচয় তৈরি করার ইচ্ছা-সুযোগ নেই। কিন্তু কোনো মেয়ে যখন নিজের পরিচয় তৈরি করার জন্যে লড়ছে, তখন তাকে আপনি বাজে কথা বলছেন। তাকে নিরুৎসাহিত করছেন, অনেকক্ষেত্রে অপমান করছেন।

এই পোস্টের কমেন্ট সেকশনে সম্ভবত মেয়েদের উপস্থিতি বেশি ছিল এবং তাদের মধ্যে অনেকেই অপমান বোধ করছিল। তাদের বক্তব্য, এখানে গৃহিণীদের অপমান করা হয়েছে। ছেলের খাতিরে, স্বামীর খাতিরে, সুন্দর সংসারের জন্যে মেয়েদের সবকিছু বিসর্জন দিয়ে পুরোপুরি গৃহিণী হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। এমন করা উচিত মেয়েদের। মা-দাদীরা করে এসেছে, আমাদেরও করা উচিত। আলাদা পরিচয়ের দরকার নেই, ছেলের-স্বামীর পরিচয়ই তাদের পরিচয়। অনেক পুরুষেরও কমেন্ট ছিল। তারা আরও কিছু যুক্ত করেছিল, যেমন, তাদের কাছে তাদের বউ প্রাইম মিনিস্টার, তাদের কাছে রানী, তার বউয়ের তার চেয়ে ভালো চাকরির যোগ্যতা থাকলেও সে পুরোপুরি গৃহিণী হয়েছে নিজের ইচ্ছায় এবং সে কারণে তারা সুখের সংসার করতে পারছে। তারা এবং তাদের বউ এ কারণে লজ্জিত না, বরং গর্বিত।

কেউ যদি নিজের ইচ্ছায় গৃহিণী হয়, অন্যদের সেখানে কিছু বলার উচিত নয়, যেমনটা কোনো চাকরিজীবী নারীদের ব্যাপারে অন্যদের নাক গলানো উচিত নয়। তবে এখানে একটা প্রশ্ন থেকে যায়, তাদের ইচ্ছাটা কতটুকু তাদের?

আমরা তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ব্যাপারে পরে আলোচনা করবো। আপাতত প্রথমে করা প্রশ্নতে ফিরে যাই। আপনাকে কেউ ‘মেয়েদের মতো দৌড়াও বললে আপনি কী করবেন?’ সর্বাধিক ক্ষেত্রে একটা ব্যাঙ্গের হাসি ফুটে উঠবে। তারপর অদ্ভুত ভঙ্গিতে আপনি দৌড়ে দেখাবেন।

কেন এমনটা করবেন?

হাস্যরসের সাথে উত্তরটা হবে হয়তো, কারণ মেয়েরা এমন করেই দৌড়ায়। আমি আশা করছি আপনি যদি এরকম মত প্রকাশ করেন, সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ আপনাকে সমর্থন করবে এবং অবশ্যই সেখানে মেয়েরাও থাকবে।

আমি আবার যদি প্রশ্ন করি, কিন্তু কেন?

আপনি চাইলে ‘মেয়ের মতো দৌড়াও’ শোনার পর একজন মেয়ে এথলেট যে খুব দ্রুত দৌড়ায় তার মতো দৌড়ে দেখাতে পারতেন, কিন্তু আপনার মাথায় সেটা আসেনি। আপনার মাথায় ‘মেয়েদের মতো দৌড়াও’ কথা শোনার পর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মনে হবে আপনাকে দুর্বলভাবে দৌড়াতে বলা হচ্ছে। একজনকে মেয়েকেও যখন বলা হয়, মেয়েদের মতো দৌড়াও তখন সে ঠিক এটাই ভাবে। কারণ সমাজে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী মেয়েরা দুর্বল। তারা দ্রুত দৌড়াতে পারে না। আপনি আস্তে দৌড়ালে আপনার আশেপাশের মানুষজন বলবে,’তুই তো ব্যাটা মেয়েদের মতো দৌড়াস। জোরে দৌড়া’। এই কথা আপনার বোনও শুনছে। শুনে বুঝতে পারছে, সমাজের প্রচলিত নিয়ম হলো মেয়েদের ধীরে দৌড়ানো নিয়ম। কারণ তার দিকে, শরীরেো দিকে মানুষজন তাকিয়ে আছে। তাকে দ্রুত দৌড়ানো চলবে না। তাকে খুব ধীরে, ক্ষেত্রবিশেষে মেকি ঢং করে দৌড়াতে হবে। এটা মেয়েলি আচরণ!

আমি গ্রামে বড় হয়েছি। আমার বোন-কাজিন ছিল আমার থেকে বয়সে বড়, সমবয়সীও অনেকে ছিল। আমরা সবাই মিলে গোল্লাছুট খেলতাম। তখন আমার বোন-কাজিন অনেকেই ক্লাস সেভেন-এইটে পড়তো। আমরা ছেলেমেয়ে সবাই একসাথেই খেলতাম। যারা দশ বছর আগেও গ্রামে শৈশব কাটিয়েছেন, তাদের অনেকেই হয়তো বোন-চাচাতো বোন-পাড়তুতো বোনদের সাথে খেলেছেন। আমাদের গোল্লাছুট খেলাতেও আমাদের মধ্যে অনেক মেয়েই ছেলেদের থেকে দ্রুত দৌড়াতো। আমার সে বোনদেরও যদি কাউকে বলা হয় ‘মেয়েদের মতো দৌড়ে দেখাও’ তারাও এখন ধীরে দৌড়ে দেখাবে। কারণ মেয়েরা এভাবেই দৌড়ায়, ধীরে-লোক চক্ষু আড়াল করে। তারা ভুলে যাবে তাদের শৈশব-কৈশোরের দৌড়ানোর কথা। কিন্তু একদিন আমার সে বোনেরাই আমাদের থেকে দ্রুত দৌড়াতো, গোল্লাছুট খেলায় নেতৃত্ব দিত!

এখন চলুন, আমাদের অমীমাংসিত বিষয় এর দিকে নজর দেই। এই যে মেয়েরা বিয়ের চাকরি ছেড়ে দিচ্ছে বা যোগ্যতা থাকার পরও চাকরি-বাকরি-ব্যবসা কিছুই করছে না, বরং নিজেকে আরও গুটিয়ে নিচ্ছে। দিন দিনে পরিণত হচ্ছে স্বামীর স্ত্রী, সন্তানের মা, শ্বশুরবাড়ির পুত্রবধূ হিসেবে কতটা তাদের নিজের ইচ্ছায় করছে?

আমার স্কুল লাইফের একজন বান্ধবী, আমাদের সকল বান্ধবীদের থেকে সবচেয়ে প্রাণবন্ত ছিল, তার বিয়ের পর সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে। যতদিন না স্বামী নিজে নতুন ফেসবুক একাউন্ট খুলে দিয়েছে ততদিন স্বামীর আইডি দিয়ে ফেসবুকে এসেছে! বিয়ের আগে সে এমন ছিল না, বিয়ের পর কেন এতো পরিবর্তন?

এখানেও আমাদের সমাজের সেই তথাকথিত ‘ভালো মেয়ের ধারণা!’ সমাজের প্রচলিত নিয়ম-ধ্যান ধারণা অনুযায়ী ভালো মেয়েদের বিয়ের পর কাজ হলো স্বামী-সেবা, শ্বশুরবাড়ির মানুষের সেবা এবং বাইরে থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া। এরকম করলে আপনি ভালো মেয়ে, নাহলে চারপাশে আপনার বিভিন্ন কুৎসা শুনতে পারবেন। অনেক ক্ষেত্রে শ্বশুরবাড়ির মানুষজন সরাসরি মেয়েদের চাকরিতে বাধা দেয়, স্বামীরা বোঝায় সন্তান মানুষ করার জন্যে তার চাকরি-বাকরি-ব্যবসা গুটিয়ে ফেলা জরুরি!

সন্তান শুধুই একজন মেয়ের, তাকে মানুষ করা দায়িত্ব নেওয়ার জন্যে একজন মেয়েকে তার ইচ্ছা বিসর্জন দিতে হবে! এরকম আরও সুন্দর সুন্দর যুক্তি আপনি চারপাশে শুনতে পাবেন। আপনাকে উদাহরণ দেওয়া হবে আপনার মা-দাদীর, যারা সেবাদাসী ও সন্তান উৎপাদন করে নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছা বিসর্জন দিয়ে সারা জীবন হেঁসেল ঠেলে গেছে। পুরুষ বোঝাবে আপনি তার প্রাইম মিনিস্টার, তবে যা বলবে না তা হলো, আপনার লাইফের প্রতিটা সিদ্ধান্তের জন্যে আপনাকে আপনার স্বামীর মুখাপেক্ষি হয়ে থাকতে হবে।

আপনি নিজের ইচ্ছায় চাকরি-বাকরি ছেড়ে বিয়ের পর গৃহিণী হয়েছেন। আমার আপনার কথাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে ছোট্ট একটা প্রশ্ন আছে,
গৃহিণী হওয়া ছাড়া আপনার আর কোনো উপার ছিল কি?

(একটা ভিডিও লিংক দিলাম নিচে। ভিডিওতে কয়েকজনকে ‘মেয়েদের মতো দৌড়ে, মেয়েদের মতো মারামারি করে দেখাতে বলা হয়। তাদের প্রতিক্রিয়া আর মতামত দেখতে পারবেন এতে।)

]]>
https://womenchapter.com/views/34458/feed 0
‘ঘরজামাই’ পুরুষ যখন শ্বশুরবাড়ির সকলের মাথাব্যথার কারণ! https://womenchapter.com/views/34452 https://womenchapter.com/views/34452#respond Tue, 02 Jun 2020 23:56:38 +0000 https://womenchapter.com/?p=34452 নাসরীন রহমান:

বিয়ের পর মেয়েরা স্বামীর বাড়ি চলে যাবেন, এটাই আমাদের সমাজে চলে আসা সাধারণ নিয়ম। আর সেই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে যদি বিয়ের পর মেয়ের স্বামী শ্বশুরবাড়িতে এসে থাকেন, তবে তাকে বলা হয় ‘ঘরজামাই’। যখন কোনো পুরুষ বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে স্থায়ীভাবে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়, বুঝতে হবে সে হয়তো অকর্মা নয়তো লোভী! মানসিকভাবে সুস্থ শারীরিকভাবে সবল কোন পুরুষ কখনই চাইবে না আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে ঘরজামাই হতে।

সানজিদা খাতুন, হাসিখুশি, দু-চোখে স্বপ্ন নিয়ে আগামীর পথে এগিয়ে চলার স্বপ্নে বিভোর ছিল মেয়েটি। কিন্তু এর মধ্যে বিষাদের কালো ছায়া এসে ভর করতে শুরু করেছে ওর মনে! না, ওর নিজস্ব কোন কারণে নয়; ঘরজামাই বোনের স্বামী ওর মাথাব্যথার কারণ!

বিয়ের দুই বছর পর বাচ্চাসহ বোন আর বোনের স্বামী এসে উঠেন বাবার বাড়ি; সেই থেকে স্থায়ী সেখানেই। ছোট্ট ফ্লাট, এর মধ্যে একটি রুম ছেড়ে দিতে হয়েছে ওদের। সানজিদাকে থাকতে হচ্ছে মেজ বোনের সাথে এক রুমে। আরেক রুমে মা, বাবা।

একবছর আগে সানজিদার বাবা স্ট্রোক করায় এখন বলতে গেলে পরিবারের অভিভাবক এখন বোনের স্বামী, ওরফে ঘরজামাই! সাথে সহযোগী বড় বোন!
এরই মধ্যে সে কব্জা করে নিয়েছে শ্বশুরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান! মিষ্টি কথায় শ্বশুরকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে উদ্দেশ্য হাসিল করেছে; সানজিদার কোন ভাই না থাকায় সুযোগটা নিয়েছে; অসুস্থ শ্বশুরের কী করার আছে? নিজের শারীরিক অক্ষমতার কারণে নির্ভর করতে হচ্ছে জামাই-র উপর।

ঘরজামাই বোনের বরই এখন হর্তাকর্তা! সংসারের সব সিদ্ধান্ত বোন আর বোনের জামাই-ই নেন। সানজিদাকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও মেনে নিতে হয় সবকিছু; এমন নয় বোন আর বোনের জামাই খুব খুব ভালো চায় ওদের। কথায় কথায় খবরদারি, শাসন! বোন-বোন জামাইয়ের অভিভাবকসুলভ এই আচরণ এতটাই পীড়াদায়ক যা রীতিমতো মানসিক নির্যাতন সানজিদার কাছে! ও ঠিকই বুঝতে পারে যে আখের গুছিয়ে নিচ্ছে বোন আর বোনের জামাই। অসুস্থ বাবা, মায়ের দিকে তাকিয়ে নিরবে সহ্য করে সব। দেখেও সব না দেখার ভান করে।

আমাদের সমাজে ‘ঘরজামাই’ থাকার প্রচলন নুতন নয়, বহু যুগ থেকেই এর প্রচলন। অনেক পরিবারেই অভিভাবকেরা ইচ্ছে করেই মেয়ে -মেয়ে জামাইকে নিজেদের কাছে রাখেন, তাদের কোনো ছেলে সন্তান না থাকার কারণে, ভাবেন মেয়ের জামাই-ই ছেলের মতো তাদের দেখভাল করবে! অনেকে আবার রাখতে বাধ্য হন; হালসময়ে অনেক স্বামী -স্ত্রী দুজনেই কর্মজীবী হওয়ায় সন্তানদের দেখভাল করার সুবিধার্থে অনেক পুরুষ ঘরজামাই থাকেন।

কিন্তু এই ঘরজামাই প্রথাই মাথাব্যথার কারণ হয় যখন ঘরজামাই হয় সুযোগসন্ধানী, লোভী! শ্বশুরের সম্পত্তির উপর যখন লোভের থাবা বসায় এই ঘরজামাই এবং অলিখিত অভিভাবক এতো ভূমিকার জেঁকে বসে অভিভাবকত্ব আচরণের মাধ্যমে!

এখন দেখা যাক কেন এই মোড়লগিরি ঘরজামাইদের?

যেহেতু এখন পর্যন্ত আমাদের সমাজে ঘরজামাই প্রথাকে সুদৃষ্টিতে দেখা হয় না, বরং সমালোচনার দৃষ্টিতেই দেখা হয়, স্বাভাবিক কারণে ঘরজামাই থাকা পুরুষ মানসিকভাবে হীনমন্যতায় ভুগেন; তাদের এই মানসিক দ্বন্দ্বের প্রকাশ ঘটে তাদের মোড়লগিরি আচরণের মাধ্যমে। শ্বশুরবাড়িতে বসবাসরত ঘরজামাইরা তাদের অবস্থানকে আরও পাকাপোক্ত করতে, নিজেদের গ্রহণযোগ্য করতে অলিখিত অভিভাবক এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন!

এই অভিভাবকসুলভ আচরণ করতে গিয়ে অনেক সময়ই সীমারেখা মেইনটেইন করতে পারেন না।
অনেক ঘরজামাই আবার ইচ্ছে করেই এমন করেন; সামাজিক অবস্থানগত দিক থেকে স্ত্রীর পরিবার উচ্চ অবস্থানে থাকায় এবং নিজে ঘরজামাই থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেন; ভাবেন সবাইকে দমন করে রাখতে পারলে শ্বশুরবাড়িতে তার অবস্থান মজবুত হবে!

]]>
https://womenchapter.com/views/34452/feed 0
সম্পত্তিতে বাংলাদেশি হিন্দু-বৌদ্ধ নারীর অধিকার, বিদ্রুপ ছাড়া কিছু নয় https://womenchapter.com/views/34447 https://womenchapter.com/views/34447#respond Tue, 02 Jun 2020 23:01:14 +0000 https://womenchapter.com/?p=34447 সান্দ্রা নন্দিনী:

এটি ভীষণরকম যৌক্তিক এক দাবি। বাংলাদেশের হিন্দু ও বৌদ্ধ নারীদের নিজের বাবার বাড়ির ও স্বামীর সম্পত্তির যে এককণা পরিমাণও পাওয়ার অধিকার নেই, আমরা সেই ঘৃণ্য কালো আইনটিই সংশোধন করার জোরালো দাবি তুলতে চাই। আমরা চাই আমাদের কণ্ঠস্বর, আমাদের চিৎকার যেন দেশের সকল মানুষের কানে তালা লাগিয়ে দেয়। আর সেই তীব্র আওয়াজে যেন রাষ্ট্র নড়েচড়ে বসে। কেননা অতীত অভিজ্ঞতা বারংবার প্রমাণ করেছে যে নাছোড়বান্দা না হলে, চিৎকার জোরালো না হলে কোনো দাবিই পূরণ হয় না।

একই মা-বাবার সন্তান হয়েও শুধুমাত্র জেন্ডার আলাদা এই দোহাই দিয়ে যখন প্রাপ্য সম্পত্তির ভাগ দেওয়া থেকে কন্যাসন্তানকে বঞ্চিত করা হয়, তখন বুঝতে হবে এই রীতির পেছনে কতখানি রাজনীতি ও পুরুষতন্ত্র কাজ করে। মেয়েদের অন্য এরেকটি পরিবারে চলে যেতে হয় এটি কীভাবে তার জন্মগত অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে! অথবা মেয়েসন্তান অন্য ধর্মে বিয়ে করলে তার নিজের পরিবারের সম্পত্তি হাতছাড়া হওয়ার হুমকিতে পড়ে যাবে এজন্য তাদের সম্পত্তির ভাগ দেওয়া যাবে না, এই যুক্তিও ভীষণ ঠুনকো মনে হয় না?

সান্দ্রা নন্দিনী

ঠুনকো এই কারণে বলছি কেননা প্রথমত, সম্পত্তির ভাগ না দিয়েও এতদিন যাবত অন্য ধর্মে বিয়ে করা কোনভাবেই ঠেকানো যায়নিl দ্বিতীয়ত, যেসব হিন্দুনারী নিজধর্মেই বিয়ে করছেন তাদের কেন বঞ্চিত করা হচ্ছে তবে যুগের পর যুগ? তাদের পুরস্কার কোথায় তাহলে? তাছাড়া, প্রচুর ছেলেও অন্যধর্মে বিয়ে করে এবং ধর্মান্তরিত হয়েছে, হচ্ছে (কেননা ধর্মান্তরিত না হয়ে বিয়ের রীতি খুব বেশিদিন আগে চালু হয়নি) তাহলে সেই ভয়ে কেন আগে থেকেই আইন করে তাদেরকেও সম্পত্তি দেওয়া থেকে বঞ্চিত করা হয় না? অন্য সম্প্রদায়ে বিয়ে করলে মেয়ে বা ছেলে সন্তানটি পারিবারিক সম্পত্তি পাবে কিনা সেটা সেই পরিবারকেই নির্ধারণ করতে দিন, আইন করে আপনাকে তা বন্ধ করতে হবে না।

ব্যক্তিগতভাবে আমি আমার মা-বাবার একমাত্র সন্তান। আমার মাও একজন স্বোপার্জিত স্বনির্ভর নারীl সেক্ষেত্রে মা-বাবা দু’জন তথা পারিবারিক সম্পদের ভাগ পেতে যদি আমাকে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াতে হয়, কিংবা আমার পরিবারের পক্ষ থেকে ‘দানপত্র’ করে আমাকে প্রাপ্য হিসেব বোঝাতে হয়, তবে সেক্ষেত্রে আমি বিষয়টিকে অত্যন্ত অন্যায়, লজ্জা ও অপমানজনক বলেই মনে করছি। আমি ছেলেসন্তান হলে আরামে চোখ বন্ধ করে সব পেয়ে যেতাম, আর মেয়ে বলে এখন কাঠ-খড় পুড়িয়ে নিজের পরিরাবের কাছ থেকেই ‘দান’ পাওয়ার জন্য হাত পেতে বসে থাকবো, এভাবেতো চলতে পারে না। একজন নারীকে কী ভয়াবহভাবে অসম্মানিত করার একটি প্রথা!

আরেকটি কঠিন ও জোরালো যুক্তি সমাজপতিরা দিয়ে থাকেন যে, বিয়ের সময় মেয়েদের তাদের ভাগ বুঝিয়ে দিয়েই পরিবার থেকে খরচ করা হয়। দেখুন, এটা অনেকটা কান টানলে মাথা আসার মতো ব্যাপার। কেননা মেয়েসন্তানটি যেহেতু পারিবারিকভাবে সম্পত্তির কোনো ভাগ পায় না, সেক্ষেত্রে একটা হিসেব চলে আসে যে ঠিক আছে তাহলে বিয়ের সময় একটা খরচ দেখিয়ে দেওয়ার। পারিবারিক সম্পত্তির ভাগ দেওয়া হলে সেক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা এমনিতেই আর থাকবে না, যারযার সামর্থ্যানুযায়ীই ছেলে ও মেয়েসন্তানের বিয়ে দেওয়ার চল শুরু হয়ে যাবে। মেয়ের বিয়ের খরচ যোগানোর জন্য পরিবারকে নিঃস্ব হতে হবে না তখন। কেননা গলায় জোর থাকবে যে পারিবারিক সম্পত্তির ভাগ তো মেয়ে পাবেই তবে আর বিয়ের সময়ে কেন সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে খরচ করতে হবে। এখন সে জোরটা নেই বলেই মেয়ের বিয়ে মানেই পরিবারের জন্য বিশাল পাহাড় সমান চাপে হাস-ফাঁস অবস্থা।

সময়ের সাথে সকল নিয়ম-রীতি পাল্টায়, এই অবস্থাটিরও পরিবর্তন আনতে হবে। আধুনিকতা মানে কেবল সারাদিন মোবাইল হাতে নিয়ে গ্রুপচ্যাট, অনলাইন শপিং কিংবা নতুন নতুন রেস্টুরেন্টে খেয়ে বেড়িয়ে সেই ছবি ফেসবুক-ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করা না। একটি রাষ্ট্র ও সেই রাষ্ট্রের মানুষ আদৌ কতখানি ‘আধুনিক’ সেটা সেখানকার প্রচলিত আইন-কানুন, রীতি-নীতি ও সামাজিক প্রথার ওপর নির্ভর করেl তাই নিজেদের ভিত্তি আগে মজবুত করে তারপর নাহয় আধুনিকতার ওই চটুল জোয়ারে গা ভাসানো যাবে।

আসুন না, সবাই মিলে একজোট হয়ে একটা অন্ধকার দিককে আলোকিত করি। ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণী-জেন্ডার ভেদে দেশের সকল মানুষ অসম্ভব যৌক্তিক এই দাবিটি আদায়ে একাট্টা হয়ে লড়াইয়ে নামি…।

হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ (বৌদ্ধদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য)

বাংলাদেশে প্রচলিত হিন্দু আইনে উত্তরাধিকার নির্বাচন দুইটি মতবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত। ‘দায়ভাগ’ ও ‘মিতাক্ষর’ এই দুই মতবাদের মাধ্যমে হিন্দু আইনে সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে হস্তান্তর হয়ে থাকে। ‘দায়ভাগ’ পদ্ধতিটিই বাংলাদেশে প্রচলিত আছে।

‘দায়ভাগ’ মতে, পিণ্ডদানের অধিকারী ব্যক্তি মাত্রই মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী! যারা পিণ্ড দিতে পারে,তারাই মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তির ওয়ারিশ! ‘দায়ভাগ’ মতবাদের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরে হিন্দু নারীদের প্রতি চরম বৈষম্য লক্ষ্য করা যায়। যারফলে,একজন নারী তার পিতা ও স্বামী উভয়ের সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

দায়ভাগ উত্তরাধিকারের কিছু সাধারণ নিয়ম

১। দায়ভাগ আইনে পিতার মৃত্যুর পর পুত্রগণ পিতার সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার লাভ করে।
২। পিতার মৃত্যুর পর পুত্রগণ যৌথ পরিবার গঠন করতে পারে। যৌথ পরিবারের কর্তা প্রয়োজনে সম্পত্তির কিছু অংশ ক্রয়, বিক্রয় , বন্ধক বা অন্যভাবে হস্তান্তর করতে পারেন।
৩। কোন হিন্দু মালিক যখন মারা যান, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকে উত্তরাধিকার শুরু হয়। ভবিষ্যতে কোন উত্তরাধিকারী জন্মগ্রহণ করতে পারে বলে উত্তরাধিকার স্থগিত রাখা যাবেনা।
৪। স্ত্রীধন বলতে নারীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি বোঝায়। এর উপর নারীর চূড়ান্ত অধিকার ও কর্তৃত্ব রয়েছে।
৫। মৃত ব্যক্তির স্ত্রী ও পুত্র থাকলে স্ত্রী পুত্রের ১ অংশের সমান অংশ পাবে।
৬। একাধিক কন্যা থাকলে কুমারী কন্যা পাবে, বিবাহিত নিঃসন্তান কন্যা পাবেনা। কন্যার গর্ভজাত পুত্রসন্তান উত্তরাধিকারী হবে।
৭। স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী জীবন সত্ত্ব ভোগ করেন। তার মৃত্যুর পর সেই সম্পত্তি পুত্রদের মধ্যে ভাগ হয়।
৮। বণ্টনের সময় কোন অংশীদার মারা গেলে তার উত্তরাধিকারীগণ ওয়ারিশ হবে।
৯। কোন পুত্র দত্তক নিলে সে স্বাভাবিক পুত্রের ১/৩ অংশের মালিক হয়।
১০। কন্যার পুত্র অর্থাৎ দৌহিত্ররা মাথাপিছু হারে সম্পত্তি পাবে।

কখন উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন

হিন্দু আইনে কিছু ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারী এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন, যথা:
ক. ধর্মচ্যুত হলে বা ধর্মত্যাগ করলে।
খ. সন্ন্যাসী উত্তরাধিকার হয় না। সন্ন্যাসীকে সংসার ত্যাগী হিসাবে মৃত ধরা হয়।
গ. অন্ধ, বধির, মূক, অঙ্গহীন, পুরুষত্বহীন এবং বুদ্ধি প্রতিবন্ধী পুরুষ ও মহিলাগণ হিন্দু আইনে উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত। এমনকি দুরারোগ্য কুষ্ঠ-ব্যধিগ্রস্ত ব্যক্তিগণও উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত।
ঘ. স্বামী অসতী স্ত্রী রেখে মারা গেলে, সেই অসতী স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তি পাবে না।
ঙ. হত্যাকারী ও তার ওয়ারিশ মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হবে।

এসকল পুরোনো আইনে এখনো হিন্দু সম্পত্তি বণ্টনের ফলে বাংলাদেশের হিন্দু নারীরা শুধুমাত্র সামাজিক বা অর্থনৈতিকভাবেই না,সাংবিধানিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

বর্তমানে ভারতে প্রচলিত উত্তাধিকার আইন

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করার বিষয় হচ্ছে, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ইতোমধ্যে তাদের উত্তরাধিকার আইনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে।

Hindu Succession Act, 1956 প্রণয়নের মাধ্যমে এখন ভারতীয় হিন্দু নারীরা পুরুষের মতই সম্পত্তিতে পূর্ণ অধিকার পাচ্ছে! এই আইনকে সময়ের সাথে সাথে প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে আরো সময়োপযোগী করা হচ্ছে। এছাড়াও সম্পত্তি অর্জন বিষয়ক আইন ১৯৩০; উত্তরাধিকার আইন ১৯২৫; ভূমি আইনে হিন্দু নারীদের অধিকার, ১৯৩৭ ইত্যাদি আইনসমূহ ভারতীয় হিন্দু নারীদের সম্পত্তির অধিকার অর্জনে ও হস্তান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

লেখক: সাংবাদিক

]]>
https://womenchapter.com/views/34447/feed 0
যৌথ পরিবার, পারিবারিক শিক্ষা এবং আমরা মায়েরা https://womenchapter.com/views/34439 https://womenchapter.com/views/34439#respond Mon, 01 Jun 2020 23:17:44 +0000 https://womenchapter.com/?p=34439 নারগিস মুন্নী:

আমার ছেলেমেয়েদের চলাফেরা, আচার-আচরণ ও কাজকর্ কোনরকম ভুলত্রুটি হলেই আমার হাজব্যান্ড প্রায়ই আমাকে বলবে, এজন্যই সম্রাট নেপোলিয়ন বলেছিলেন –
“আমাকে একটি মা দাও আমি তোমাদের একটি জাতি দেব।”

‘সন্তানের শুদ্ধ চারিত্রিক গঠনে কেবল কি মায়েদেরই দায়িত্ব’ এমনটা ভেবে কষ্ট পেয়েছি, কষ্ট পেয়ে আরও শুদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করেছি। এই দুই মাসের লকডাউনে হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতায় আরও ঋদ্ধ হলাম। মনন ও মগজে গেঁথে গেছে সন্তানের পারিবারিক শিক্ষার জন্য প্রয়োজন পারিবারিক শিক্ষা আর এই শিক্ষার উৎকৃষ্ট স্থান হলো যৌথ পরিবার। আর এই যৌথ পরিবার টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজন একমাত্র মায়েদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা।

২৪ মার্চ লকডাউনের ঘোষণা শোনার পরই অবচেতন মনেই সিদ্ধান্ত নিলাম করোনাকালে আমরা গ্রামের বাড়িতেই থাকবো। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবাই চলেও আসলাম। একমাত্র দেবরের পরিবারও আমাদের সাথে যোগ দিল। আমার তিন ছেলেমেয়ে, সবাই বড় হয়ে গেছে। একমাত্র দেবরের তিন ছেলেমেয়ে এখনও ছোট। ওদের বড় সন্তান জন্ম হওয়ার পরপরই দেবরের  কর্মক্ষেত্রে বাসা নিয়ে ওরা আলাদা সংসার পাতে। সেই থেকে আর একত্রে এত দীর্ঘ সময় আমাদের থাকার সুযোগ হয়নি।

শাশুড়িসহ আমরা মোট ১১ জন সদস্য হলাম গ্রামের বাড়িতে। পনের-বিশ দিন বেশ হাশি-খুশিতেই কাটালাম আমরা, যেমন কাটাই প্রতি কোরবানির ঈদে বড়জোর ৪/৫ দিন।

লকডাউনের এই সময়টা আমরা বেশ উপভোগ করছি। মনে হচ্ছে ফিরে গেছি সেই আবহমান বাংলায়! যেখানে জীবন-জীবিকার জন্য ছুটোছুটি নেই, কোন অসুস্থ প্রতিযোগিতা, হিংসা নেই, লোভ নেই আছে শুধু টানাপোড়নহীন সময়ের অফুরান ভালোবাসা। পানের পাটা নিয়ে যেন নিরবচ্ছিন্নভাবে নকশি কাঁথায় রঙিন বুনন। বুড়ো দাদুর হাত-পা টিপে দেওয়া, দুপুরে খাবার পর রূপকথার ঝুলি নিয়ে বসা, রাতে ছেলে-বুড়োর চুটিয়ে লুডু খেলা সবকিছুই এখন সহজ সরলীকরণ।

এই প্রাণবন্ত, উপভোগ্য সময়ের সীমা যত বাড়ছে যৌথ পরিবারের নেগেটিভ বিষয়গুলোও ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে। আমার ছেলেমেয়েরা যখন ছোট ছিল তখন একসাথে থাকার সুবাদে দাদা-দাদু, কাকা সবার সান্নিধ্যেই বড় হয়েছে। তাই সংসারের কিছু রুলস বা নিয়ম পরিবারের সবার কাছ থেকে দেখে ওরা অভ্যস্ত, যা কিছুটা হলেও অনেকের সাথে মিলে-মিশে থাকার ক্ষেত্রে কাজে লাগে বা মানিয়ে চলার ক্ষেত্রে সহায়ক। অন্যদিকে দেবরের ছেলেমেয়েরা অনেক কিছু শেখা থেকে বঞ্চিত হয়েছে শুধুমাত্র এককভাবে ওদের মায়ের সান্নিধ্যে থাকার জন্য। যেমন-

খেতে বসলে ডাইনিং টেবিলের নির্দ্দিষ্ট করা বাসার বয়োজ্যেষ্ঠদের চেয়ারে না বসা।
বাড়ির সবাই উপস্থিত থাকলে একা একা না খেয়ে অপেক্ষা করে একসাথে খাওয়া।
বাবা, চাচারা কিছু নিয়ে এলে তা সবাই মিলেমিশে খাওয়া। পরে খেলেও সবাই খেল কিনা তা জেনে তারপর খাওয়া। বাসার বাইরে কেউ থাকলে তার জন্য যত্ন করে তুলে রাখা।
কোন আত্মীয়-স্বজন কিংবা পড়শি বাসায় কিছু পাঠালে তা বাসার বয়োজ্যেষ্ঠদের দেখিয়ে তারপর খাওয়া।
সবাই মিলে কিছু খাওয়ার সময় ভাল জিনিসটি বাসার বয়োজ্যেষ্ঠদের দেওয়া।
ইফতারের আগ মুহূর্তে অতি ছোটরাও সবার সামনে ইফতারের কোনো আইটেম না খাওয়া।
ঈদে মামা, চাচা, খালা যে কারোর ঈদ-উপহার বাড়ির কর্তা বা বয়োজ্যেষ্ঠদের নিয়ে সবাইকে আনন্দচিত্তে দেখানো।
বড়রা কোন বিষয়ে বকা-ঝকা করলে তা তর্ক না করে শুনে থাকা।
এমন অনেক কিছুই আছে যা আমরা ছেলেমেয়েদের পরিবার থেকেই শেখানোর চেষ্টা করি।

আর কাজ? সে তো আছেই-

গৃহকর্মীর অনুপস্থিতিতে খাবার পরিবেশন এবং খাবার শেষে টেবিল গোছানোর কাজে মা, চাচী, বড় বোনটির সাথে ছোটদেরও সাহায্য করা।
খাবার শেষে যার যার প্লেট সে সে নিজ দায়িত্বে ধুয়ে ফেলা।
নিজের জামা-কাপড়গুলো নিজেই গুছিয়ে ফেলা।
গোসল শেষে বাথরুমে ভেজা কাপড় যত্রতত্র ফেলে রেখে না আসা।
এমন  অনেক কিছুই সন্তানদের পরিবারেই শিখিয়ে থাকি যা জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রেই প্রয়োজন।

যে নিয়ম এবং কাজের কথা বললাম একক পরিবারে থাকার কারণে এর কোনটাই দেবরের ছেলেমেয়রা শেখার সুযোগ পায়নি। আমরা মায়েরা ছেলেমেয়েদের বেশী স্নেহের চোখে দেখি বলে কিংবা সন্তানরা মায়েদের বেশী আপন ভেবে এই নিয়ম-রীতি মেনে চলার ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখায়। যা বুমেরাং হয়ে দেখা দেয় সন্তানরা বড় হওয়ার পর যার লাগাম তখন আর টেনে ধরা যায় না। আমি আমার শাশুড়িকে দেখেছি উপরের সমস্ত নিয়ম-রীতির একটু অন্যথা হলে এখন এই বৃদ্ধ বয়সেও তার কঠোরতা চরম আকার ধারণ করে।

যা বলছিলাম, লকডাউনের সুবাদে এই যৌথ পরিবারে প্রথম বাধ সাধলো ডাইনিং চেয়ারে বয়োজ্যেষ্ঠের চেয়ার নিয়ে। ওরা ভুল করে বার বার বসে যায়, আমরা সবাই বার বার শুধরে দেই। এটা ওদের মানতে খুব কষ্ট হচ্ছিল, চেয়ার তো চেয়ারই, এক চেয়ারে বসলেই তো হলো।
ওদের অনেক কষ্টে বোঝানো হলো এই চেয়ারটাতে কেবলমাত্র ওদের দাদুই বসবে, আর কেউ নয়। ওরা বুঝলো, তবে ওরা বলে আমার নানু হলে বলতো ‍নানুভাই তুমি বসো, তুমি বসো, আমার একটা চেয়ার হলেই হলো। এই আদর মাখানো শিথিলতাই অনেক নিয়ম শেখানোকে বিনষ্ট করে দেয়।

একদিন বাড়ির এক প্রতিবেশী এক বাটি পায়েস দিয়ে গেল। “ও মজা তো” এই বলে একজন এরপর আরেকজন এরপর আরেকজন এভাবে সব খাবার ছোটরাই খেয়ে ফেললো। এ নিয়ে ওদের দাদু বাসায় তুলকালাম কাণ্ড করলেন। ওদের মা খুব অসন্তুষ্ট হলো। একবাটি পায়েসই তো খেয়েছে। খেয়ে ফেলেছে এ নিয়ে এতোকিছু কেন? আমি এবং আমার বড় মেয়ে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করলাম এটা সামান্য খাবারের বিষয় নয়, ব্যাপারটা একটা রুলস শেখানো। খাবার ছোটরাই খাবে, কিন্তু বড়দের আগে জানাতে হবে কে দিয়েছে, কী দিয়েছে।
এই দুই মাসে এটা এখন রপ্ত হয়েছে । এখন কেউ কিছু দিলে দাদুকে, জ্যাঠুকে দেখাতে ওরা ভুল করে না।

একা একা খেয়ে ফেলা নিয়ে কয়েকদিন বোঝানোর পর সেটাও ঠিক হচ্ছে। এটা বাচ্চাদের জন্য একটু কঠিন হলেও অভ্যাস করাতে হবে এখন থেকেই। নতুবা এই আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতা জীবনের অনেক সুন্দর সম্পর্কের স্বাদ থেকে বঞ্চিত করবে।

ইফতারের সময় সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য রুহান খুব বায়না করতে লাগলো আমি একটু এটা খাবো, ওটা খাবো। ওর বাবা নিষেধ করছে – “না এখন খাওয়া যাবে না”। ওর মা এর কথা, ছোট মানুষ একটু খেলে কী এমন সমস্যা? বাচ্চাদের খাওয়া নিয়ে এতো কঠোরতা ঠিক না। এমন নিয়ম আমি কখনও কোথাও দেখিনি। ইত্যাদি, ইত্যাদি। এ ক্ষেত্রেও আমাদের মায়েদের আদর দেখানো ঠিক না। যৌথ পরিবার হোক আর একক পরিবার হোক, এই বেসিক রুলসগুলো ছেলেমেয়েদের আমরা মায়েরাই তো শেখাব।

এখন আমের সিজন। কম বেশি কাঁচা-পাকা আম গ্রামের বাড়িতে পাওয়া যাচ্ছে। বাড়ির অন্যান্য ছেলেদের নিয়ে একসাথে উঠানে ওদের জ্যাঠু তারাবীর নামায পড়তো। নামাজ শেষে সবাই আম বানিয়ে খেত। প্রথম প্রথম বাচ্চাগুলো কোনকিছুর তোয়াক্কা না করে সব বানানো আম গোগ্রাসে খেয়ে ফেলতো। ওদেরকে বোঝানো হলো এই বানানো আম তো সবারই খেতে ইচ্ছে করে, তাই সবাইকে একটু দেয়া উচিৎ। এটা বলার উদ্দেশ্য হলো আমরা বড়রা খাই বা না খাই পরিবারের প্রত্যেককে সাধার অনুশীলন করানো। আমি জানি child psychology এটাকে সাপোর্ট করবে না। শিশুর মনের বিরুদ্ধে কিছু করানোটা ঠিক না ভাবলে তাকে এর সুন্দর ও ভাল দিকগুলো বোঝানো উচিৎ। এর ফলাফল একসময় ইতিবাচকও হতে পারে। ঠিক না ভুল হচ্ছে জানি না, এরপর থেকে ওরা সবাইকে সেধে তারপর ওরা খাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে একটি অভিজ্ঞতার কথা বলি। আমার ছোট ভাই-এর বউ। সম্পর্ক আমাদের ভাল। একদিন আমার এক ফ্রেন্ড নিয়ে ওর বাসায় কোন এক কাজে গেলাম। বাচ্চাদের তখন বিকেলের নাস্তা খাওয়ার সময়। তো ওর ছোট মেয়েকে কিছু নাগেট ভেজে পাশের রুমে পাঠিয়ে দিল। দরজা বন্ধ করে মেয়ে নাশতা খেয়ে তারপর আমাদের সামনে এলো। আমাদেরকে যথারীতি চা-বিস্কুট দিয়ে আপ্যায়ন করলো। এই কাজের পিছনে অনেক যুক্তি আছে জানি। কিন্তু পারিবারিক শিক্ষা এটাকে কতটুকু সাপোর্ট করবে তা ভাববার বিষয়। আমার মেয়ে হলে তার ফুফুকে অল্প হলেও ভালো জিনিসটি খাওয়ানোর জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠতো। যে শিক্ষাটি আজ ওর মায়ের কাছে পেল, পরবর্তিতে ও যে ওর মায়ের সাথে একই কাজটি করবে না তা কে বলতে পারবে?

ছোট রুহান জ্যোঠুর সাথে তারাবীর নামাজ পড়ায় ফাঁকি দেয়ার জন্য বললো, মা বলেছে আমার পড়া আছে, নামাজ পড়তে হবে না। পরদিন জ্যোঠু নামাজে ওকে ডাকলো না। এরপর মায়ের কাছে বিচার। মা বললো, তুমি একা একা পড়ো। এরপর রুহানের জ্যাঠু একা একা নামাজ পড়তে বলার জন্য ওর মাকে বকাঝকা করলো-আমি ওকে নামাজে ডাকিনি সেটা আমি বুঝবো। তুমি ওকে একা একা নামাজ পড়তে কেন বললে? এটা কি আমাকে অপমান করে ওকে প্রশ্রয় দিলে না? ছেলে কি তোমার একার? ছেলেকে কি কিছু সামাজিক শিক্ষা দিতে হবে না? এখানটায় মনে হয়েছে সন্তানদের পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষা দেয়ার জন্য যৌথ পরিবারই উৎকৃষ্ট।

এবার সার কথায় আসি। এতসব রীতি-নীতি ছোটদের শেখাতে গিয়ে বউ-শ্বাশুড়ি, ভাসুর- ছোট বউ, স্বামী-স্ত্রী, জা-য়ে-জা-য়ে দু’চারটি কটু কথা, একটু আধটু মান-অভিমান, মন-কষাকষি যে হবেনা তা নয়। এখানে ও মায়েদের ভূমিকাই অগ্রগণ্য। আমরা মায়েরা যদি বিষয়গুলোকে পজিটিভলি না দেখে সন্তানের ভুলত্রুটি ধরা হচ্ছে এটা ভাবি তাহলে সন্তানদের কিছুই শেখানো যাবেনা। বলা বাহুল্য এই নিয়ম-রীতিগুলো না শেখার কারণে, এই সহনশীলতা, মিলেমিশে চলার অভ্যাস না তৈরি করার জন্য কত মা-বাবারা যে কতশত পারিবারিক অবক্ষয়ের টানাপোড়েনে দিশেহারা তার উদাহরণ তো সমাজের আনাচে-কানাচে বিস্তর।

আমাদের ক্ষেত্রেও যে একটু আধটু হয়নি, তা নয়। আমার জা তার সন্তানদের চলাফেরা, আচার-আচরণ, হাঁটাচলা, খাওয়া-দাওয়া এতসব কিছু নিয়ে বকাঝকার জন্য কষ্ট পেয়েছে,, মন খারাপ করেছে, সংসারের কাজে অবহেলা করেছে। এই অবস্থাকে সামাল দেয়ার জন্যও আমাদের অর্ৎ মায়েদের ভূমিকা অগ্রগণ্য। বড় জা হিসেবে সবকিছু সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে অপেক্ষা করেছি।ওর অবহেলিত কাজগুলো আমি পজিটিভলি করেছি। ভালো ব্যবহার করেছি। ওর ছেলেমেয়েদেরকে বাড়তি যত্ন করেছি, আব্দারগুলো পূরণ করেছি। সুযোগ বুঝে বোঝানোর চেষ্টা করেছি।

গ্রামীণ পরিবেশে সবার সাথে মেলামেশা করার কারণে অনেক শাশুড়ির বুকফাটা কান্না দেখার সুযোগ হয়েছে। অনেক পরিবারে দেখেছি বাচ্চাদের বকাঝকাকে কেন্দ্র করে ছুতোনাতা বিষয় নিয়ে ঝগড়া করে অন্যত্র বাসা নিয়ে চলে গেছে। এসব ক্ষেত্রে কি মায়েরা সন্তানদের দাদা-দাদুর আদর-শাসন আর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করলো না? মায়েরা ভাবে, সন্তান মানে শুধু আমার, একচ্ছত্র আধিপত্য কেবল আমারই, অন্যে শাসন করার কে? এখানেই আমরা ভুল করি। সন্তান মানেই আমার না, সন্তান মানে গোটা পরিবারের। তাকে আদর করা , শাসন করা, সবকিছুর অধিকার পুরো পরিবারের। কেবল বোঝার দায়িত্বটা মায়েদের।

আজকের এই একবিংশ শতাব্দিতে বসে লকডাউনের সুযোগে ‘পুতুল খেলা’র মতো যৌথ পরিবার-যৌথ পরিবার খেলায় মেতে এর যে সুফল গাইলাম তা সত্যিই হাস্যকর।
কারণে হোক আর অকারণে হোক একক পরিবারে এখন সয়লাব আমাদের সমাজ। সোশ্যাল মিডিয়া, ড্রামা-সিরিয়ালস, পরচর্, পরকীয়া বাচ্চাদের নানাবিধ গেমস নিয়ে আমরা মায়েরা এবং সন্তানেরা যেখানে বুঁদ হয়ে আছি, সেখানে যৌথ পরিবার, তথা পারিবারিক শিক্ষা তো রূপকথার গল্পের মতো।

তবুও স্বপ্ন দেখি রূপকথার ঝুলিকে হাতের মুঠোয় পাওয়ার। স্বপ্ন দেখি শিশুরা দিদিমার কোলে শুয়ে আকাশের তারা দেখে দেখে গল্প শুনবে পঙ্খীরাজ ঘোড়ায় চড়া রাজপুত্রের, সোনার কাঠি-রূপার কাঠি আর ব্যাঙমা-ব্যাঙমীর। সুস্থ পারিবারিক চর্চায় বিকাশমান পরিবারের। সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত আমাদের আগামী প্রজন্মের। যারা বেঁচে থাকবে কেবল মাছে-ভাতে বাঙালি হয়ে। প্রয়োজন শুধু আমাদের মায়েদের একটু প্রচেষ্টা, সহনশীলতা আর সহিষ্ণুতা।

তবেই আমরা নেপোলিয়নের সেই কাঙ্খিত জাতি সমাজকে উপহার দিতে পারবো। পরিশেষে বলি-
পরিবার ভালো তো সমাজ ভালো,
সমাজ ভালো তো জাতি ভালো।

ভাবসম্প্রসারণের একটি চমৎকার এবং পরিচিত বাণী। যা আমরা অনেক কথার মালা দিয়ে সাজিয়ে গুছিয়ে বিষদ ব্যাখ্যা করে শিক্ষকদের চমৎকৃত করি। তবে এর বাস্তবজ্ঞান অনেকেই অর্জন করলেও অনেকেই হয়তো এর স্বাদ নেয়নি, তাই বাস্তবতার নিরিখে কিছু সহজলভ্য অভিজ্ঞতার বলবো যদি অনুজদের কিছুটা অনুপ্রাণিত করে।

]]>
https://womenchapter.com/views/34439/feed 0
মানসিক আঘাত ভুলতে ইমোশনাল ‘ইটিং’ পরিহার করুন https://womenchapter.com/views/34431 https://womenchapter.com/views/34431#respond Sun, 31 May 2020 21:44:05 +0000 https://womenchapter.com/?p=34431 ওয়াহিদা সুলতানা লাকি:

আমরা মেয়েরা অনেকেই অল্প বয়সে হুট করে মুটিয়ে যাচ্ছি যা বর্তমানের প্রতিযোগিতার জীবনযাপনে অহেতুক একটা ভাবনা হিসেবে যোগ হয়েছে ব্রেইনে। যেখানে চারপাশে নারীরা এতোকিছু করছে সেখানে পড়া, চাকরি, সংসার সব সামলে এক্সারসাইজ কিংবা জিম করবার মতো সে অবসর কোথায়?

বয়ফ্রেন্ড কিংবা হাজব্যান্ডের কাছে লজ্জা পাবার চেয়েও বেশি অস্বস্তি বোধ করছি নিজের সুন্দর ড্রেসটা কিংবা ব্লাউজটা ঠিকঠাক আর লাগছে না। শাড়ির আঁচলের পাশ থেকেই অনাঙ্ক্ষিত মাংস উঁকি দিচ্ছে। আমার কাছে তো একটু মোটা হয়ে গেলেই খুব হাঁসফাস লাগতে থাকে যেহেতু ছোটবেলা থেকেই স্লিম ফিগারের অধিকারী ছিলাম।

আমরা অনেকেই জানি না “ডিপ্রেশনাল ইটিং” কিংবা “ইমোশনাল ইটিং” কী! আমরা অনেক মেয়েরাই যেকোনো ফ্রাস্ট্রেশন এড়াতে কোন পথ খুঁজে না পেয়ে ভালো ভালো খেয়ে প্রশান্তি খুঁজবার চেষ্টা করি। লক্ষ্য করে দেখলাম গত জানুয়ারি মাসে প্রচণ্ডরকম একটা মানসিক ধাক্কা খাবার পর থেকে আমি খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দেবার বদলে চুটিয়ে খাওয়া শুরু করেছি। বিশেষ করে মিষ্টিটা কেনো যেন ভীষণ প্রিয় হয়ে উঠলো। ভাত আগে যে এমাউন্ট খেতাম তাই-ই খাচ্ছি। সীমিত খাদ্যাভ্যাসের মানুষ আমি, অথচ আড়াই মাসে দশ কেজি ওয়েট গেইন করে ফেলেছি। সিএমএইচে গিয়ে ডাক্তারকে বলবার পর সব শুনে তিনি আমার থাইরয়েড টেস্ট করালেন। ফলাফল শূন্য।

হাঁটতে শুরু করলাম, ভাত একবেলা আর রুটি দুইবেলা চালাতে লাগলাম। মাস শেষে ফলাফল তাতেও শূন্য। লক্ষ্য করলাম আমি দুধ চায়ের প্রতি মারাত্মকভাবে এডিকটেড হয়ে পড়েছি। কষ্ট পেলে বসে বসে খানিকক্ষণ কাঁদি, এরপরই উঠে গিয়ে ভরা এক মগ চা করে খেয়ে নেই। যে আমি সারাদিনে এক কাপ চা খেতাম সে আমি এখন পাঁচ থেকে ছয় মগ চা খাই, তাও আবার চিনিযুক্ত।

ওজন কিংবা মুটিয়ে যাওয়া হ্রাস করতে আমরা ভাত ফেলে রুটি শুরু করি ঠিকই, কিন্তু সামান্য এক চামচ চিনি ভাতের চেয়েও কত দ্রুত গতিতে আপনার ওজন বাড়িয়ে তোলে আপনি লক্ষ্যই করেন না। ওদিকে প্রোটিনটাকেও স্কিপ করে দেই। ফলাফল, নখ ভাঙ্গা আর চুল পড়ায় সাফারিং করতে করতে ভাবি ডিপ্রেশনে আছি বলেই হয়তো চুল পড়ে যাচ্ছে।

নানাবিধ ফাস্ট্রেশন কিংবা ডিপ্রেশন থেকে আপনিও আমার মতো সারাদিন এটা সেটা খেয়ে প্রশান্তি খুঁজছেন না তো? এটাকে বলা হয় “ইমোশনাল ইটিং”।এর পরিত্রাণ হিসেবে গল্পের বইয়ে ডুব দিন, ক্রিয়েটিভ কিছু করুন, নয়তো নিজের ঘর সাজান ভিন্ন ভিন্ন এঙ্গেলে। নিজের সাজ পোশাকে মনোযোগী হোন। ভালো বন্ধুত্ব গড়ে তুলুন। পারলে দু এক কলম লিখবার অভ্যাস গড়ে তুলুন। অন্যের ভর্ৎসনায় নয়, নিজের ভালো থাকবার জন্য হলেও ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন তবু ইমোশনাল ইটিং থেকে বেড়িয়ে এসে সুস্থ থাকুন। মনে রাখুন বিশেষজ্ঞদের মতে মুটিয়ে যাওয়া শুধু সকল রোগের লক্ষণ নয়; এটি নিজেও একটি রোগ।

লেখক: অনলাইন এক্টিভিস্ট

]]>
https://womenchapter.com/views/34431/feed 0
পিতৃতন্ত্র ও পুরুষের অসহায়ত্ব https://womenchapter.com/views/34423 https://womenchapter.com/views/34423#respond Sat, 30 May 2020 16:10:05 +0000 https://womenchapter.com/?p=34423 স্নিগ্ধা রেজওয়ানা:

যে লেখাটা আমি লিখতে যাচ্ছি এই লেখাটির চিন্তা আমার বহুকাল আগের, তখন আমি সদ্য মাস্টার্স পরীক্ষার ভাইভা বোর্ড শেষ করে, বাইরে আমার এক বন্ধুর সাথে বিভাগের করিডোরে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ এক স্যার এসে প্রশ্ন করলেন আমার ছেলে বন্ধুটিকে, আপনার চাকরি-বাকরির কী খবর? আমার ছেলেবন্ধুটি সেদিন উত্তর করেছিল, “চাকরি তো পেতেই হবে স্যার। বাসার অনেক চাপ, পরিবারের সবার দায়িত্ব তো আমাকে নিতেই হবে, পাঁচ ভাইবোনের সবাই পড়ছে, আমিই একমাত্র ছেলে, আমাকেই তো সবাইকে দেখতে হবে, ছেলে বলে কথা”। অন্যদিকে যখন আমাকেও একই প্রশ্ন করা হলো, আমি তখন উত্তর দিয়েছিলাম, “আমি নারী হবার কারণে আমার পরিবার থেকে চাকরির কোনো চাপ নেই, চাপ আছে, তবে তা কেবলই বিয়ের।” সেদিন সেই মুহূর্ত থেকেই এই বিষয়টি আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দিলেও কালের আবর্তে কোথায় যেন চিন্তাটা হারিয়ে গিয়েছিল।

কিছুদিন আগে উইমেন চ্যাপটারে প্রকাশিত একটি লেখা আমার নজরে পড়ে, লেখাটির টাইটেল ছিল সম্ভবত “মেল মুড সুইং বা ডিপ্রেশন এর কথা কেউ বলে না”। লেখাটি পড়ার অনেকদিন আগে থেকেই আমার মাথায় পুরুষতন্ত্র, পিতৃতন্ত্র কীভাবে পুরুষকে অনেক বেশি নিমজ্জিত করে ফেলেছে বা কীভাবে পুরুষকে পিতৃতন্ত্রের বেড়াজালে আবদ্ধ করে রেখেছে সেটি আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। অথবা যদি বলি পিতৃতন্ত্র কীভাবে খোদ পুরুষকে কেবল পৌরুষের নির্মাণে নিমগ্ন করে রেখেছে সেই গল্পটি আমাদের মাথায় আসে না। এই লেখাটি পড়ার পর যেন আরো বেশি করে আমি এই লেখাটা লেখার তাগিদ অনুভব করলাম।
যেহেতু আমি একজন নারী আমার জন্য পুরুষের বাস্তবতা বোঝা বা অনুধাবন করা কেবলই পর্যবেক্ষণের। লেখকের সাথে আমি একমত পুরুষের বিষন্নতা নিয়ে আমরা আসলেই ভাবি না। কিন্তু এই না ভাবার পেছনে আসলে দায়ী কে? খুব গভীরে ভাবলে সহজেই ধারণা করা যায় এধরনের ভাবনার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে পিতৃতন্ত্র।

ভেবে দেখুন তো কে আসলে আমাদের সমাজের পুরুষকে পৌরুষত্ব বা পুরুষ হতে শেখায়, জবাবটা খুব সহজ।

প্রথমত আমাদের পরিবারই আমাদের ছেলে সন্তানদের পুরুষালী হওয়ার বা পৌরুষের শিক্ষা দেয়। আর আমাদের পরিবার যে মতাদর্শ লালন করে সেই মতাদর্শটি হচ্ছে পিতৃতান্ত্রিক। বলা বাহুল্য আমাদের পরিবারের বেশীরভাগ মায়েরাই এই পিতৃতান্ত্রিক মতাদর্শকে ধারণ ও লালন করেন। তাইতো আমাদের সমাজের বেশিরভাগ মায়েরা এখন পর্যন্ত ছেলে সন্তানের কাছ থেকে যে ধরনের আচরণ প্রত্যাশা করেন, সেটি নারী সন্তানের কাছে আশা করেন না। ছেলে সন্তানের উপস্থিতি আমাদের পরিবারকে, আমাদের মায়েদেরকে এক ধরনের সামাজিক নিশ্চয়তা প্রদান করে, যার মূল উৎস হচ্ছে বংশ রক্ষার নিশ্চয়তা। এবং বংশ সুরক্ষা নিশ্চয়তা থেকেই শুরু হয় পুরুষতন্ত্রের বীজ বপন। তাইতো খুব অল্প বয়স হতেই ছেলে সন্তানটিকে শেখানো হয় তাকে তার নিজ পরিবারের দায়িত্ব নিতে হবে। অন্যদিকে কালেভদ্রে খুব কম মেয়েকেই তার মায়েরা বলে থাকে যে, তোমাকে আমাদের পরিবারের দায়িত্ব নিতে হবে। এই যে পরিবারের দায়িত্ব একজন ছেলে সন্তানকে নিতে হবে, এই শেখানোর মধ্য দিয়েই শুরু হয় পুরুষের অসহায়ত্ব।

পিতৃতান্ত্রিক মতাদর্শ আমাদের এই শিক্ষাই দান করে একটি ছেলে সন্তানই কেবল একটি পরিবারের দায়িত্ব বহন করতে সক্ষম। আর এই সক্ষমতা নিশ্চিত করবে তার পুরুষতান্ত্রিক চর্চা। এরই সূত্রে একটি ছেলে সন্তানকে শিশুকাল থেকে শেখানো হয় তাকে হতে হবে শক্ত, যত কষ্টই হোক, তার কান্না করা বারণ। আর ভয় পাওয়া বারণ, ভয় পেয়ে মায়ের নিরাপদ আঁচলে মাথা গোঁজা বারণ। তার মন খারাপের অনুভূতি প্রকাশ করা বারণ, তার জন্য সকল প্রকার কোমলতা বারণ, চার দেয়ালের ছোট্ট ঘরের মাঝে তার স্বপ্নকে নিবদ্ধ করা বারণ। এতো এতো বারণের বেড়াজালে সেই শিশুকাল থেকেই একটি ছেলে সন্তানকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হয় জীবনের কঠোর বাস্তবতায়।

তার শৈশবের সূত্রপাত ঘটে এই লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে যে তাকে তার পরিবারের দায়িত্ব বহন করতে হবে যেকোনো মূল্যে। হোক সেটি পাঁচ/চার অথবা তিন সদস্যের পরিবার। তাকে শেখানো হয় তার নিজের পরিবার, বাবা-মা-ভাই-বোন এর পরিবার, উভয় পরিবারের সকল প্রকার অর্থনৈতিক দায়দায়িত্ব কেবলই তার। সহজ বাংলায় বললে যেটি দাঁড়ায়, ছেলে সন্তানটিকে এই বাস্তবতায় ফেলে দেওয়া হয় যে সেই হবে তার পরিবারের এবং তার বাবা-মার পরিবারের একমাত্র অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি, যেন টাকা রোজগার করা ছাড়া একজন পুরুষের আর কোনো চাহিদা থাকতে নেই।

এ তো গেল বাবা-মায়ের প্রত্যাশা থেকে ছেলেকে নির্মাণের প্রক্রিয়া। এবার চলুন এই ছেলেটি যখন শৈশবের পায়ে বেরিয়ে তার যৌবনে অনুপ্রবেশ করে তখন তার সাথে কী কী ঘটে সেটি দেখি। তার প্রেমিকা অথবা তার জীবনসঙ্গিনী যাই বলুন না কেন, তাদের মনন ও চিন্তাশীলতায় পুরুষতান্ত্রিক মতাদর্শ বিবর্জিত নয়। বেশিরভাগ নারী এমনভাবে পিতৃতান্ত্রিক মতাদর্শে বাঁধা যে তারা কোনভাবেই একজন পুরুষকে অসহায়, কল্পনাপ্রবণ, আবেগী অথবা ঘরকুনো হিসেবে দেখতে আগ্রহী নয়।
তাইতো প্রেমিকা অথবা সহধর্মিনী তারাও শয়নে-স্বপনে কেবল এমন একজন পুরুষকেই কামনা করেন যিনি হবেন তার অভিভাবক, যে পুরুষ তার জীবনের সকল অর্থনৈতিক সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দানে সক্ষম। কারণ নারীকেও তো পিতৃতান্ত্রিক মতাদর্শের আলোকে এভাবেই শেখানো হয়েছে যে পরিবারের সকল অর্থনৈতিক দায়দায়িত্ব কেবলই পুরুষের। কারণ পিতৃতান্ত্রিক মতাদর্শ একটি মেয়ে বাচ্চাকে এই শিক্ষায় শিক্ষিত হবার সুযোগ করে দেয় না যে একজন নারী তার নিজ ও পরিবারের অর্থনৈতিক দায়িত্ব নিতে সক্ষম। তাকে শেখানো হয় না পরিবারের অর্থনৈতিক দায়িত্ব নেয়ার জন্য তাকেও একটি ছেলের ন্যায়ে প্রস্তুত হতে হবে, তাকেও সমানভাবে সমানতালে তার জীবনসঙ্গিনীর সকল বিষয়ে সকল দায়িত্বকে ভাগ করে নিতে হবে। এ জাতীয় সুশিক্ষার সুযোগ আদৌ পিতৃতন্ত্র তাকে দেয় কি? নাকি সে কেবলই ভাবতে শিখে পুরুষতান্ত্রিক মতাদর্শর গ্রাসে, পুরুষ হচ্ছে একমাত্র কামাইয়ের মেশিন, পুরুষের কঠোরতাই কেবল পুরুষের সৌন্দর্য, পুরুষকে কেবল শাসন করা মানায়। যে পুরুষ কান্না করে অথবা যে পুরুষ শাসন করার ক্ষমতা রাখে না অথবা যে পুরুষের মনটা নরম, সে আবার পুরুষ নাকি? তো খুব স্বাভাবিকভাবেই বেচারা পুরুষের সামনে আর কোন গতি থাকে না। না থাকে তার ঘর, না থাকে তার পর। তার বেদনা প্রকাশের কোনো জায়গা থাকে না অথবা তার বেদনা প্রকাশের কোনো সুযোগ তাকে পিতৃতন্ত্র করে দেয় না।

আবার ঘর থেকে বের হয়ে যে পুরুষ যখন তার বন্ধুদের কাছে তার জীবনের গল্প বা বাস্তবতা দুঃখ এসব কথা শেয়ার করতে যান, তখন আমার অনেক ছাত্রদের মুখেই শুনেছি, যে তাদের বন্ধুরা যে ধরনের সান্ত্বনা দেন তাদের বক্তব্য থাকে অনেকটা এরকম, “মামা তুমি এটা একটা কথা বললা, তুমি একটা পুরুষ মানুষ হয়ে এরকম ভেঙ্গে পড়লে তোমার চলে, আরে বাঁচবি ব্যাটা বীরের মতো, বাঘের মতো বাঁচ, নাইলে বউয়ের হাতে বিড়ালের মতো গলায় ঘন্টা পইরা বউয়ের আঁচলের তলায় থাকতে হইবো।” অথবা “শোন মামা, যদি টাকা থাকে পকেটে, পুরা দুনিয়া তোমার হাতে, টাকা ছাড়া ব্যাটাছেলে গো কোন পরিচয় নাই”, অথবা তুমি কেমন পুরুষ যে বউরে টাকা কামাই করতে পাঠাও, বউরে টাকা কামাই করতে পাঠাবা, আবার আশাও করবা যে বউ তোমার হাতের মুঠোয় থাকবে, তাইলে কেমনে হবে? বউ যদি ১০ টাকা কামাই করে তোমারে কামাই করতে হবে ১০০ টাকা, তাইলে দেখবা ঘরে শুধু শান্তি আর শান্তি।

অর্থাৎ পুরুষ পিতৃতন্ত্রের আদর্শ বা মতাদর্শকে এমনভাবে ধারণ করে যে তার আর দশটা স্বাভাবিক মানুষের মতো তার অনুভূতি তা প্রকাশের সকল রাস্তা বন্ধ করে দেয়। তাহলে কীভাবে পুরুষের বিষণ্নতা অথবা পুরুষের বেদনার গল্পগুলো আমাদের সামনে আসতে পারবে? তথাপি অনেক পুরুষকে এও বলতে শুনি পিতৃতন্ত্র একটি ভালবাসার নাম। দুঃখজনক হলেও ব্যাপারটা যেন অনেকটা এরকম, গাধার মতো পুরুষ কেবল সারাজীবন শুধু ঘানি টেনে বেড়াবে এবং মজা হচ্ছে পিতৃতন্ত্র যে পুরুষকে এরকম গাধা বানিয়ে রেখেছে দিনের পর দিন, সে বিষয়ে পুরুষের কোনো মাথাব্যথা নেই, বরঞ্চ এই গাধার মতো জীবন যাপন করেই সে মহা উল্লাসে উল্লসিত।

সবশেষে এতোটুকুই বলবো, পিতৃতন্ত্র যে কেবল নারীকেই থেকে বঞ্চিত করেছে তা নয়, পুরুষকেও তার মানুষ হবার অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে, পুরুষকে তার মানবিক গুণাবলি আয়ত্ত করা থেকে বঞ্চিত করেছে, পুরুষকে তার মানবিক মূল্যবোধের বা অনুভূতি বহিঃপ্রকাশে বাধাগ্রস্ত করেছে।

কাজেই পিতৃতন্ত্রের এই বেড়াজাল থেকে যতক্ষণ না পর্যন্ত পুরুষ এবং নারী উভয়ের মানুষজন বেরিয়ে আসতে না পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কারো পক্ষেই মানুষ হিসেবে আমাদের মানবিক অনুভূতিগুলো প্রকাশের সুযোগ থাকবে না। আমাদের কারোরই আর মানুষ হিসেবে পরিচয় দেয়ার সুযোগ থাকবে না। আমরা কেবলই বেঁচে থাকবো নারী অথবা পুরুষ হয়ে তথা একটি লিঙ্গ সর্বস্ব সত্তা হিসেবে।

শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়,ঢাকা
পিএইচডি ফেলো, অকল্যান্ড ইউনিভারসিটি অফ টেকনোলজি,
নিউজিল্যান্ড।

]]>
https://womenchapter.com/views/34423/feed 0
আজন্ম অভিশাপ! https://womenchapter.com/views/34419 https://womenchapter.com/views/34419#respond Fri, 29 May 2020 21:33:05 +0000 https://womenchapter.com/?p=34419 জেসমিন আরা:

আঙ্গুরি বেগম দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে সকাল দশটা, তার বুকের ভেতর কাঁপুনি শুরু হয়। বাড়ির কলিং বেল বাজে, সে আতঙ্কিত বোধ করে। কিন্তু স্ট্রোকে অবশ হয়ে যাওয়া মুখে সে অভিবাক্তি ফুটে ওঠে না। বাড়ির কাজের মেয়ে খাদিজার সাথে তার রুমে ঢোকে ফিজিওথেরাপিস্ট বদরুদ্দিন। আঙ্গুরি বেগম প্রাণপণে তার অর্ধ আড়ষ্ট জিব নেড়ে খাদিজাকে তার কাছে থাকতে অনুরোধ করে, যা খাদিজার কাছে শুধু গোঙ্গানির মতই মনে হয়। বদরুদ্দিন ইশারায় খাদিজাকে বাইরে যেতে বলে, হতাশা আর অসহায়ত্বে আঙ্গুরি বেগমের দুচোখ জলে ভিজে উঠে।

এক দেড় মাস আগে রাতে বাথরুমে যাবার সময় মাথাঘুরে পড়ে যান, তারপর কী হয়েছিল সে তা জানে না। হাসপাতালের বিছানায় যখন চোখ খুলে বড় ছেলে মনুকে দেখে ডাকতে যায়, তখন বুঝতে পারে সে ভালো করে জিভ নাড়াতে পারছে না। এরপর ডাক্তার আর ছেলেদের আলাপ আলোচনা থেকে বুঝতে পারে তার শরীরের ডানপাশটা ও পা দুটা স্ট্রোকে অবশ মানে প্যারালাইজড হয়ে গেছে। হাসপাতাল থেকে বাড়ি আসার পর শুরু হয়েছে ফিজিওথেরাপি। দিন দিন এই ফিজিওথেরাপিই তাকে মানসিকভাবে পীড়িত করে তুলছে। নিজের অবস্থা বোঝাবার জন্য প্রাণান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছেন, কিন্তু তার আড়ষ্ট জিভ থেকে উচ্চারিত অনুরোধ, অনুযোগ, অনুনয়, কোনকিছুই আজ পর্যন্ত কারো কানে পৌঁছাতে পারেনি সে ।

সেই প্রথম দিন যেদিন তার ছেলের বউ স্নিগ্ধা বদরুদ্দিনকে তার ঘরে রেখে রান্নাঘরে ফিরে গিয়েছিল সেদিন থেকেই আশি বছর বয়সের আঙ্গুরি বেগমের জীবনে শুরু হয়েছে এই নতুন লাঞ্ছনা। বদরুদ্দিন তার পায়ের পাতার কাছে ম্যাক্সির প্রান্তটায় হাত রাখতেই তিনি মনে মনে কুঁকড়ে ওঠেন, ইচ্ছে হয় পাটা তুলে দুম করে একটা লাথি মারে। পক্ষাঘাতে আড়ষ্ট পা একবিন্দুও নাড়াতে পারে না, কিন্তু মনের ভেতরে জ্বলেপুড়ে খাক হতে থাকে সে।

বদরুদ্দিনের মেয়েলি কণ্ঠ কানে আসে,

“খালাম্মা, আইজকা আবার পায়জামা পিনছেন ক্যান? কাপড়ের উপার দিয়া কেমনে মাসাজ দিমু আপনেরে?” কথা বলতে বলতে বদরুদ্দিন তার পায়ের তলায় তেল মাখিয়ে শক্ত হাতে চাপ দিতে থাকে, তিনি একটু ব্যথা অনুভব করেন। আঙ্গুরি বেগম বুঝতে পারেন, একটু একটু করে তার অনুভূতিগুলো ফিরে আসছে। তার মনের কোণে একটু আশার আলো জ্বলে ওঠে, হয়তো অচিরেই তার এই গ্লানির অবসান হবে।

প্রথম যেদিন মালিশের ছলে বদরুদ্দিন তার যৌবন উত্তীর্ণ শরীরের গোপন স্থানে হাত দিয়েছিল সেদিন আঙ্গুরি বেগমের মন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গিয়েছিল, মনে পড়েছিল সেই ছেলেবেলা থেকে মেয়ে হয়ে জন্ম নেবার যাতনার কথা। মনের গোপন কুঠুরিতে জমিয়ে রাখা সব কষ্টের স্মৃতিরা একে একে নতুন করে বুকের ভেতরে সুনামির ঢল বইয়ে দিয়েছিল। সে কবেকার, যেন অন্য কোন জনমের কষ্টগুলো বুকের ভেতরে তুফান তুলেছিল।

সেই প্রথম মাকে ছেড়ে দাদীর সাথে থাকতে হয়েছিল, তার মা গিয়েছিল নানা বাড়ির কাছের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। দুদিন পর মা ফিরেছিল তার ভাই কামালকে কোলে করে। কত বয়স তার, তিন, কিবা চার। কিন্তু ঐ দুদিনে তার বয়স যেন বেড়ে গিয়েছিল কয়েকশগুণ। তার আশপাশের কেউ, এমন কি তার মাও জানতে পারেনি কোথায় হারিয়ে গিয়েছিল তার নিষ্পাপ, ভাবনাহীন শৈশব। মাকে নিয়ে চলে যাবার সময় বাবা তাকে দাদীর কাছে রেখে যায়,

“মা, ওরে তোমার কাছে রাইখ্যা গেলাম, একটু দেইখা রাইখ”।

দাদী জোর গলায় বলেছিল,

“হেইডা আর আমারে কইতে হইবে না, আমি আমার নাতনিরে বুক দিয়া আগলাইয়া রাখমু।“ প্রথম রাতটা দাদীর কাছে কিসসা শুনে স্বপ্নের মতো কেটে যায়, ছোট্ট আঙ্গুরির মার কথা একবারও মনে পড়ে না। সকালে দাদী মুড়ির মোয়া, নারকেলের নাড়ু খেতে দেয়। দুপুরে পুকুর থেকে গোছল করিয়ে এনে দাদী তাকে সিম-আলু দিয়ে রান্না করা মাছের তরকারি দিয়ে ভাত খেতে দেয়। খাবার পর তার ভীষণ ঘুম পায়, দাদীর ঘরের চৌকিতে শুয়ে পড়ে। দাদী বলে,

“দাদু, আমি পুকুর থন থাল বাসুনগুলা মাইজ্জা, গোছল কইরা আসি, তুমি ঘরের বাইরে যাইও না। দাদী চলে যাবার পর মার কথা মনে পড়ে, একটু কান্নাও পায় তার। কতটুকু, বা কতক্ষণ ঘুমিয়েছে তা এখন আর সে মনে করতে পারে না। কিন্তু আজও তার স্পষ্ট মনে আছে সেই বীভৎস দৃশ্য। ঘুমের ঘোরে ছোট্ট আঙ্গুরি হঠাৎ অনুভব করে কেউ যেন তার জাঙ্গিয়ার ইলাস্টিক ধরে টানছে, চোখ মেলতেই দেখে ছোট কাকা তার পাশে বসা। কাকা হাত দিয়ে তার মুখ চেপে ধরে, আর অন্য হাতে তার পেশাবের রাস্তায় হাত বুলাতে থাকে। লজ্জায়, শরমে, শিশু আঙ্গুরির মরে যেতে ইচ্ছে করেছিল তখন। একটু পরে কাকা তাকে ছেড়ে দেয়, আর বলে,

“এই কথা কাউরে কইও না কিন্তু, মাইনশে তোমারে মন্দ কইবে।“ দাদী ফিরে এসে আঙ্গুরিকে কাঁদতে দেখে জানতে চায়,

“কী হয়েছে দাদু, কান্দো ক্যান? মায়ের কথা মনে হইছে, চিন্তা কইরো না মা আইয়্যা পরবে।“ সে দাদীকে কিচ্ছু বলতে পারে না, শুধুই ফুঁপিয়ে কাঁদে। রাতে দাদু তাকে অনেক জোর করেও কিছু খাওয়াতে পারে না। সারারাত দুচোখের পাতা এক করতে পারে না সে, শুধুই ভয় হয় তার। মা ফিরে এসে আঙ্গুরির পরিবর্তন দেখে একটু অবাক হলেও, কিছু জানতে চায় না তার কাছে। ভয় আর শঙ্কা নিয়ে দিন কাটলেও কিছুদিন পর আঙ্গুরি ভুলে যায় সেদিনের কথা।

দশ বছরের আঙ্গুরি সকালবেলা ছোট ভাইয়ের হাত ধরে মসজিদের মক্তবে যায় আরবি শিখতে। সেদিন সকালে ভাইয়ের জ্বর, মা পাশের বাড়ির মাইমুনার সাথে মক্তবে যেতে বলে। মাইমুনাকে পাওয়া যায় না, মামা বাড়ি গেছে। শেষমেশ সে একাই সাহস করে মক্তবের দিকে ছোটে। ভেতরে ঢুকে দেখে মুয়াজ্জিন তফাজ্জল ঝুঁকে ঝুঁকে কোরান তেলাওয়াত করছে, তখনও আর কেউ সেখানে আসেনি। আঙ্গুরি ফিরে যাবার জন্য দরজার দিকে মুখ ফেরালে তফাজ্জল ডাক দেয়,

“আঙ্গুরি আরবি না পইড়া বাড়িত যাইতেছ ক্যান?” ভীত আঙ্গুরি উত্তর দেয়,

“হুজুর, এহনো সবাই আসে নাই, আমি একটু পরে আসি?“

“ওরা এহনই আইসা পরবে, তোমার বাড়ি যাওনের দরকার নাই। এইডা তো ভালো সময়, তোমারে ভালো কইরা পড়া বুজাইতে পারমু।“ সংকোচ ও দ্বিধা নিয়ে সে তফাজ্জলের সামনে বসে, রেহালের ওপর আম সিপারা মেলে ধরে। তফাজ্জল তার তুলার গদিওয়ালা আসন থেকে নেমে আঙ্গুরির এক্কেবারে সামনে এসে বসে। হাতের বেতটা দিয়ে ওর মাথা থেকে ওড়নাটা সরাতে চেষ্টা করে,

“এই গরমের মইদ্ধে মাথায় ঘুমটা দিছ ক্যান?” আঙ্গুরির সমস্ত শরীর অবশ হয়ে যায়, সে যেন পাথর হয়ে যায়। তফাজ্জল পান খাওয়া ফাটা লাল ঠোঁটে ওর কপালে চুমু খায়। তার মুখের বিশ্রী আর উৎকট গন্ধে আঙ্গুরির বমি এসে যায়, সে ছুটে পালাতে চায়। তফাজ্জল খপ করে ওকে জড়িয়ে ধরে বুক, পিঠে হাত বুলাতে থাকে। এর মাঝে মসজিদের বারান্দায় ছেলেদের আওয়াজ শোনা যায়, তফাজ্জল আঙ্গুরিকে ছেড়ে দেয়,

“এই মাইয়্যা, মন দিয়া শোন, কাউরেই কিন্তক কিচ্ছু কইবা না। আর তোমার কথা কেউ বিশ্বাসও করবে না। কাউরে কইলে তোমার মাবাপ আর তোমার উপর আল্লার গজব পড়বে ।“

সেদিন সে আর আরবি পড়ায় মন দিতে পারেনি, তফাজ্জলই তাকে ধমকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিল। এরপর থেকে সে তার নিজের শরীরকেই ঘৃণা করতে থাকে, তার বাড়ন্ত শরীরের দিকে পুরুষের লালসার দৃষ্টিকে সে তার নিজের পাপ বলেই মনে করতে থাকে। চারপাশের কোন কিছুই তার আর ভালো লাগে না, নিজেকে এ পৃথিবীতে অবাঞ্ছিত ভাবতে শুরু করে সে। মা তার পরিবর্তন লক্ষ্য করলেও কোন সংশয় প্রকাশ করেনি, ভেবেছে মেয়ে তার বালিকা থেকে নারীতে রূপান্তরিত হচ্ছে।

তারপর কোথায় না মেয়ে হয়ে জন্মাবার পাপের শাস্তি পোহাতে হয়নি তাকে? প্রাইমারি ইশকুলের এসেম্বলি শেষে ক্লাসে ঢোকার সময় সহপাঠীর আনাকাঙ্খিত ছোঁয়া, বাড়ির লজিং মাস্টার, আত্মীয় সম্পর্কের কাকা, মামা, বাবার বান্ধু, জ্ঞাতি সম্পর্কের ভাইয়েরা, বাসের কনডাকটার, মার্কেটের ভিড়ের মাঝে, কত মানুষই যে তার এই শরীর নামক মন্দিরকে কলুষিত করতে চেয়েছে। কারো কারো চোখের ভয়ঙ্কর লোলুপ দৃষ্টি তাকে সাড়া জীবন তাড়িয়ে ফিরেছে। আঙ্গুরি বেগম তাই কখনও কন্যা সন্তানের মা হতে চায়নি, দুটি ছেলের মা হয়েছে সে।

জোয়ানকালে সে ভাবতো বুড়ো হলে আর কিছু না হোক পুরুষের লালসার দৃষ্টি থেকে মুক্তি মিলবে, তার সে ভাবনা মিথ্যে হয়ে গেছে। থেরাপি দিতে এসে প্রথম যেদিন বদরুদ্দিন থেরাপির নামে তার শরীরের গোপন আর অনাবশ্যক অংশ স্পর্শ করেছে, সেদিন মেয়ে হয়ে জন্মানকে মহা এক পাপ ছাড়া কিছুই মনে হয়নি তার। বিধাতার প্রতি প্রচণ্ড আভিমান হয়েছিল, মনের ভেতরে গুমরে উঠছিল হাজারো প্রশ্ন। স্রষ্টার কাছে বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে, “আমারে মাইয়্যা বানাইয়্যা জন্ম দিয়া ক্যান তুমি আমারে জনম জনম পাপী বানাইয়্যা রাখলা, মালিক! মাইয়্যা হওনের অভিশাপ কুনদিনই কি আমারে ছাড়বো না!”

****
লেখক পরিচিতি: জেসমিন আরা, ২০০৫ সাল থেকে আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে বসবাস করছেন। এযাবৎ চারটি বই প্রকাশিত হয়েছে, এবং আরও দুটি প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। আমার দ্বিতীয় কবিতা সঙ্কলন “মা তোমাকে” এবারের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে।

]]>
https://womenchapter.com/views/34419/feed 0
মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা আমার অধিকার https://womenchapter.com/views/34415 https://womenchapter.com/views/34415#respond Fri, 29 May 2020 09:28:31 +0000 https://womenchapter.com/?p=34415 জিন্নাতুন নেছা:

মে মাস মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার মাস এবং ২৮ মে সারা বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে থাকে মিন্সট্রুয়াল হাইজিন দিবস।

আজ থেকে ১৫ কিংবা ২০ বছর আগেও হয়তো মাসিক নিয়ে এমন করে খোলামেলা কথা বলার স্পেস বলেন, সাহস বলেন কোন কিছুই একজন নারী হিসেবে আমার অন্তত ছিলো না। বোধকরি কোন নারীরই ছিলো না। আমাদের মা, খালা, চাচি, বোনরা এমন শিক্ষা আমাদের দিতো না। বলতো মাসিক মানেই লজ্জার বিষয়। নারীর মাসিক হলেই পুরুষরা হাঁটা দেখলেই বুঝতে পারে, তাই চলাফেরাও বারণ ছিলো। এই ২০২০ এ দাঁড়িয়ে যখন নারীর মাসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে সরগরম অবস্থা তখন আমি যেমন ছোটবেলার স্মৃতি হাতড়াচ্ছি, তেমনি পরিবর্তন আদৌ কতটুকু বাস্তবতার ছোঁয়া পেয়েছে নাকি কেবলই কাগজে কলমে হয়েছে তা খুব ভাবাচ্ছে আমায়।

আমি যখন প্রথম ঋতুবর্তী হই ঘটনাটি ছিলো এরকম “আমি তখন ৭ম শ্রেণিতে পড়ি। স্কুলে যাবার জন্য স্কুল ড্রেস পরে আমি যথারীতি রেডি হয়ে গেছি। কিন্তু এমন সময় আমার ভ্যাজাইনা শুধু ভেজা ভেজা লাগছিলো। এভাবে ৩-৪ বার আমি বাথরুমে যাই আর বের হই। বলা বাহুল্য এই সময় আমি থাকতাম মেসে আমার কাজিনের সাথে। আপা বললো, কী হয়েছে রে তোর? আমি ভয়ে লজ্জায় কিছুই বলতে পারছিলাম না। আমার মনে হচ্ছিলো আমার ভ্যাজাইনাতে কি জোঁক লেগেছে যে এতো রক্ত বের হচ্ছে? আমি ভয়ে রীতিমতো ঘরের দরজা বন্ধ করে বসে আছি। আর কান্না করছি। আপু দরজা ধাক্কালেও আমি খুলছি না।অবশেষে বাথরুমে রক্তের স্রোতধারা দেখে আপু বুঝতে পেরেছে আসলে কী হয়েছে? তখন আমাকে ডেকে নিয়ে উনি কাপড়ের এক টুকরা আর ফিতা দিয়ে বললেন এটা কীভাবে পরতে হয়? আরও বলেছিলেন, এইটা মাসিক। মাসের একটা নির্দিষ্ট সময় প্রতিটি নারীর এটা হয়। এই সময় বেশি দৌড়ানো যাবে না, সাবধানে থাকতে হবে। মাছ, মাংস না খাওয়ায় ভালো। তাতে নাকি আঁশটে গন্ধ হয়। এভবেই চলেছে আমার ২০০৭ সাল পর্যন্ত। এই কষ্টের আর অসচেতনতার দিনগুলো আজো আমায় শিউরে তোলে।”

বলে রাখা দরকার এই ট্যাবুগুলো থেকে আমি বেরিয়ে এসেছি আমি যখন কলেজে পড়ি। অর্থাৎ ২০০৭ সালের পর। সেটাও এই ফেইসবুকের বিভিন্ন পোর্টালের লেখালেখি দেখে। বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে জীববিজ্ঞান বই পড়ে।

এখন সময়ের বিবর্তনে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে নারীর মাসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নানান কাজ হচ্ছে, কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো, কতটুকু কাজ হচ্ছে কাজের পরিসর কতটুকু?? পরিবর্তন কতটুকু?

যখন স্কুলে পড়তাম দেখেছি গার্হস্থ্য অর্থনীতি বইতে এই সম্পর্কিত যে চ্যাপ্টার থাকতো, সেটা বাড়ি থেকে পড়ে আসতে বলা হতো। আর ছেলেরা তো কৃষিশিক্ষা পড়তেন, তাই এটি তাদের দরকার নাই।

এমনকি জীববিজ্ঞান বইয়ে যে চ্যাপ্টার আছে এই বিষয়ে নারী কিভাবে গর্ভবতী হয়, এই গর্ভধারণের সাথে নারীর মাসিকের সম্পর্ক, ছেলে সন্তান হবে না মেয়ে সন্তান হবে এইজন্য কার ক্রমোজোম দায়ী তাও সযতনে এড়িয়ে যাওয়া হতো। কিন্তু এই বিষয়গুলো নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জানা অধিকার। কিন্তু জানানো হয় না। আমি হয়তো অনেক বছর আগের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিলাম, কিন্তু আদৌ কি প্রেক্ষাপট খুব বেশি পরিবর্তন হয়েছে? আমার তো মনে হয় হয়নি।

খুব সাম্প্রতিক একটা উদাহরণ হলো এমন যে, “কোভিড-১৯ নিয়ে একটি ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রোগ্রামে হাইজিন কিট প্যাকেট দেয়া হয়েছিলো এক বেসরকারি সংস্থা থেকে। যেখানে এক প্যাকেজে ৪ প্যাকেট সেনোরা স্যানিটারি ন্যাপকিন ছিলো। এইটার ডেমো সেশনে একজন পুরুষ দাদা লজ্জায় যেমন অডিয়েন্স এর সামনে কিছু বলতে পারেননি, তেমনি এক দিদিও কিছুই বলতে পারেননি। নারীর যে মাসিক হয় তা না বলতে পেরে বলছিলেন, “নারীর যে প্রতি মাসে ইয়ে হয় না”! এইজন্য এগুলা দেয়া হয়েছে। এই হলো ২০ বছরে আমাদের সমাজের পরিবর্তন। নানান আন্দোলনের ফলাফল।

মিন্সট্রুয়াল হাইজিন বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থায় একট রমরমা ব্যবসার নাম। যেমন জেন্ডার টার্ম একটা এনজিওদের ব্যবসার নাম, ঠিক এটাও তাই। আপনি কোন এনজিওতে পিপি রেডি করতে চান তার সাথে কিছু অংশ জেন্ডার, ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স, নারীর মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এগুলো জুড়ে দিলেই আপনি ফান্ড পাবার জন্য পারফেক্ট।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য কয়টা এনজিও সংস্থায় নারীর জন্য মাসিক বান্ধব টয়লেট আছে?
যেখানে স্যানিটারি ন্যাপকিন রাখা হয়? যেখানে এগুলো ফেলার সুব্যবস্থাপনা আছে? এমনকি নারী যখন মাসিকের ব্যথায় কুঁকড়ে মরে যায়, কয়জন বস আছেন ঐ নারীকে সহমর্মিতার চোখে দেখেন কিংবা একবেলা ছুটি দেন? এমনকি সহকর্মী নারী থেকে পুরুষ সকলেরই বাঁকা চোখের অভাব নাই।
কিন্তু নারীর মাসিককালীন ছুটি কি নারীর অধিকার নয়? কর্মস্থলে মাসিক স্বাস্থ্য বান্ধব টয়লেট নারীর অধিকার নয়? কিংবা এই ব্যথায় কুঁকড়ে যাবার মূহুর্তে একটু সহমর্মিতা কি নারী তার সহকর্মীদের থেকে পাবার অধিকার রাখে না?
এই হলো বাংলাদেশের জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বেশিরভাগ এনজিও এর চিত্র।

আর সরকারি পর্যায়ে নারীর মাসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নানান প্রকল্প নেয়া হয়েছে। স্কুল, কলেজগুলোকে মাসিক স্বাস্থ্য বান্ধব করা হচ্ছে।স্কুল,কলেজে স্যানিটারি প্যাড রাখা হচ্ছে যেনো মেয়েদের স্কুল, কলেজে গিয়ে মাসিক হলে তারা তা ব্যবহার করতে পারে। আবার অনেক বই, পুস্তকেও এই বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু নারীর মাসিক যে একটা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, এই ব্যাপারে নারীর হাত নেই। এইটা খুব স্বাভাবিক এক ধরনের পরিবর্তন বয়োঃসন্ধিকালে নারী এবং পুরুষের সকলেরই এক ধরনের পরিবর্তন আসে যা নারীর জন্য মাসিক আর পুরুষদের জন্য ও অন্য কোন হরমোনাল পরিবর্তন। বই পুস্তকে যুক্ত হলেও আসলেই কি ছেলে এবং মেয়ে উভয়কে এই বিষয়ে খুব সহজভাবে বোঝানো হয় কিনা তা আমার বোধগম্য নয়? আবার অনেক ক্ষেত্রে মনে হয় এই চ্যাপ্টারগুলো শিক্ষকগণ খুব সযতনে এড়িয়ে যান।

এই প্রেক্ষিতে একটা ঘটনা বলি, “কর্মের সুবাদে ৩০ জন কিশোর -কিশোরীর সাথে একটা ট্রেনিং প্রোগ্রামে কথা বলার সুযোগ হয়েছিলো। যেখানে তাদের মধ্যে মাসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলার সময় আমি কোন ধরনের স্বাভাবিকতা দেখিনি তাদের বডি ল্যাংগুয়েজে। বরং তাদের চোখমুখে লজ্জার স্পষ্ট ছাপ দেখতে পেয়েছি।” তাহলে আদৌ পরিবর্তনটা কোথায়?

একজন আন্তর্জাতিক সংস্থায় নারী কর্মী ও যখন মাসিকের ব্যথায় কুঁকড়ে যাবার সময় তার সুপারভাইজার এর কাছে ছুটি চান আর ছুটির কারণ হিসেবে মাসিকের ব্যথা জানাইলে সুপারভাইজার বেটার ব্যঙ্গরসাত্বক চাহনি আপনাকে বলে দেয় আপনি এইটা না বললেও পারতেন। বলতেন স্যার, “আই এম সিক। সো আই ওয়ান্ট টু লিভ”। তাহলে পরিবর্তনটা কোথায়?

এমনকি নারীর মাসিক পুরুষতান্ত্রিক সমাজের রাজনীতিকরণের বড় একটা জায়গা। বলা হয় মাসিক হলে নারী অপবিত্র হয়ে যায়। অশুচি হয়ে যায়। এই সময় নারীকে ছুঁয়ে থাকলে প্রার্থন করা যাবে না। নারীর মাসিক ট্যাবু, এই সময়ে নারী রান্না করতে পারবে না, এই সময়ে নারী গোয়াল ঘরে যেতে পারবে না, এই সময়ে নারী ফসলী মাঠে যেতে পারবে না, এই সময়ে নারী গোরস্থানে যেতে পারবে না, ব্লা ব্লা ব্লা। কিন্তু এই মাসিক-ই নারীর আবার বিশাল ক্ষমতা, যার বলেই নারী ‘মা’ হয়। ৯ মাস পেটে ধারণকৃত সন্তান কিন্তু সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে নারীর এই তথাকথিত, প্রচলিত অপবিত্র রক্ত পান করেই একটু একটু করে বেড়ে ওঠে মায়ের পেটের মধ্যে। আপনারা পুরুষরা সকলেই এই রক্ত পান করেছেন এইটা কি অস্বীকার করতে পারবেন? প্রশ্ন রইলো। তাহলে আজ কেন নারী মাসিকের সময়ে অশূচি, অপবিত্র?
তাহলে কি রাজনীতিকরনের মধ্য দিয়ে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নারীর মাসিককে কেবল সন্তান জন্মদানের উপায় হিসেবে চিহ্নিত করে নারীকে ঘরে আটকে রাখতে চায়?

সবশেষে বলবো নারীর মাসিক স্বাস্থ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যা নারীর অধিকার, আমি নারী, আমার অধিকার।

এজন্য সকল স্কুল, কলেজ,পাবলিক টয়লেট, সকল বেসরকারি সংস্থা, সকল গার্মেন্টস থেকে শুরু করে নারীর সকল কর্মস্থলই মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। নারীকে বিনামূল্যে কিংবা স্বল্পমূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন দিতে হবে।
শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনে বাবা মেয়েকে সেনোরা কিনে দিচ্ছে এইটার মাঝে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রতিটি ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ুক এই চিত্র এই উদ্যোগ নেবার সময় চলে এসেছে।

আসুন জোর দাবি তুলি মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা আমি নারী আমার অধিকার।

জিন্নাতুন নেছা
উন্নয়ন কর্মী।

]]>
https://womenchapter.com/views/34415/feed 0