ছেলেদের মায়েরা কি একটু শুনবেন?

0

ঈহিতা জলিল:

আমি একজন অতি ক্ষুদ্র মানুষ, সমাজ বদলে দেয়া আমার কাজ না, একার পক্ষে সম্ভবও না। কিন্তু আমি একজন ভবিষ্যত পুরুষের মা। ঐ পুরুষকে কিছু বিষয়ে ধারণা আমি দিতেই পারি। সে হয়তো মনে রাখবে না। তবে আমি প্রতিনিয়ত তাঁর কানের কাছে ঘ্যান ঘ্যান করি যাতে বিষয়গুলো মাথায় বসে যায়।

কয়েকটা বলছি ভবিষ্যত পুরুষের মায়েরা চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

# তোমাকে রান্না করতে জানতে হবে, কারণ তুমি কখন, কোথায়, কীভাবে থাকবে তুমি জানো না, আর যে মেয়ে তোমার স্ত্রী হয়ে আসবেন সে তোমার মায়ের চেয়েও বেশি ব্যস্ত হবে তাই কোনভাবেই আশা করবে না যে অফিস থেকে বাসায় যেয়ে তুমি খাবার রেডি পাবে, বরং পারলে খাবার তুমি রেডি করে ফেলো অথবা দুজন মিলে।

# আমি বা তোমার বাবা অসুস্থ হলে কখনও তোমার স্ত্রীকে আমাদের সেবা করতে বলবে না। তোমার মা-বাবার সেবা করার দায়িত্ব তোমার। তোমার স্ত্রীর না। সে তোমাকে বরো জোর সাহায্য করতে পারে। এর বেশি না।

আরো বলি, এখন মনে পরছে না। তবে মূল যে কথাটি বুঝাই তা হলো, ” তুমি বিয়ে করে বউ আনবে, তোমার বন্ধু আনবে যে কাঁধে কাঁধ রেখে তোমার সাথে যুদ্ধ করবে। কুক, ক্লিনার, নার্স না। এতে সমাজের কিছু মানুষ তোমাকে স্ত্রৈণ বলবে, জোড়ু কা গুলাম বলবে। তুমি কান দিবে না। কারন তোমার এই জীবন থেকে তোমার ছেলে শিখবে তাঁর স্ত্রীর সাথে কী আচরণ করতে হবে, আর মেয়ে শিখবে তাঁর স্বামীর কাছ থেকে কি আচরন সে আশা করতে পারবে।

এভাবে একেকটা পরিবার থেকে বদলে যাবে এই সমাজ। কারণ মায়েরা অনেক শক্তিশালী।

আরো কিছু কথা, যে স্বামী-স্ত্রীর মাঝখানে দুই পক্ষের পরিবার অতিরিক্ত ইন্টারফেয়ার করে তাদের জীবন কখনও সুখের হয়না। তাই মেয়ে বা ছেলে উভয়ের অভিবাবকদের উচিত বিবাহিত দম্পতির মাঝখানে কথা না বলা। বিশেষত বিয়ের প্রথম ৩/৪ বছর একটি দম্পতির সম্পর্কের ভিত তৈরি হয়। ওখানে অন্য কেউ, সে যেই হোন না কেনো, ডান হাত ঢুকালে সেই ভিত নড়বড়ে হয়ে যায়। বিয়ের প্রথমদিকে যে আবেগ থাকে তা পরে আর থাকে না। তখন অটোমেটিক তাঁরা দায়িত্ববান হয়ে যায়। এটা শেখাতে হয় না। বরং উপযাজক হয়ে শেখাতে গেলে ঐ দায়িত্ব বোঝা মনে হয়।

নবদম্পতিদের জন্য উপদেশ: মা অবশ্যই আদরণীয় কিন্তু তাদের নিজেদের সম্পর্কের ভিতর ঢুকতে দিবেন না। কথাটি ছেলে-মেয়ে উভয়ের মায়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আজকাল ডিভোর্সের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। এর অনেক কারণের মাঝে এটাও একটা অন্যতম কারণ। তাই সময় থাকতে সম্পর্কের সীমারেখা টানুন।

নব্য ও ভবিষ্যত শাশুড়িদের জন্য উপদেশ:

মেয়ের মায়েদের জন্য:
মেয়ের মায়েরা অহেতুক মেয়ের কাছে ফোন করে সংসারের খুঁটিনাটি জানতে চাইবেন না। তাঁর সংসার তাকে সামলাতে দেন। তাঁর স্বামী, তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ী, তাঁর দেবর-ননদ তাঁকে হ্যান্ডেল করতে দেন। আপনি আগ বাড়ায়ে কথা বলতে যাবেন না।

ছেলের মায়েদের জন্য:
ছেলে যখন বিয়ে করবে তখন আপনাকে বুঝতে হবে এখন তাঁকে মুখে তুলে খাওয়ানোর দিন শেষ। আর যদি সেটা না পারেন সরাসরি ছেলেকে বলে দিবেন, ” আমি চাই না তুমি কখনও বিয়ে করো”। আর যদি বিয়ের পর, ছেলে-বউ বেড়াতে গেলে সাথে আপনার যেতে ইচ্ছা করে, ছেলের বউ যেভাবে সাজে সেভাবে সাজতে ইচ্ছা করে, ছেলের বেড-রুম নিয়ে অতি আগ্রহ থাকে তাহলে প্লিজ কাউন্সিলরের কাছে যান। আপনার মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন।

এই সমস্যাগুলো সমাজে আছে। বউরা এগুলো কাউকে বলতে পারে না। আগের দিনে তো সহ্য করতো এখন ডিভোর্সে গড়ায়। তাই প্লিজ আপনারা সচেতন হোন।

মনে রাখবেন, “সময় গেলে সাধন হবে না।”

২৭.০৮.১৭
রবিবার

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 109.1K
  •  
  •  
  • 11
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    109.1K
    Shares

লেখাটি ২৪১,২৩৯ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.