ডিভোর্স কোনো ন্যাক্কারজনক ঘটনা নয়

শামীমা জামান:

হাতি কুয়োয় পড়লে ব্যাঙ এও লাথি মারে, অপুর হয়েছে সেই দশা। ভেবেছিলাম লেবু কচলে তিতা হওয়া এই বিষয়টি (শাকিব-অপু) নিয়ে আর লিখবো না। কিন্তু কিছু নারীবাদীর লেখা দেখে আর না লিখে পারলাম না। আম পিপল যেমন মন্তব্য করছে, “’চলো আমরা এখন সবাই মিলে অপু কে …(অশ্রাব্য)” , তেমনি নারীবাদীরা তার মেরুদণ্ডহীন ব্যক্তিত্বে এতোটাই ক্ষিপ্ত যে পুরান জুতা, ছেঁড়া স্যান্ডেল আহবান করছেন এই ব্যাকবোনলেস মেয়েটাকে পেটানোর জন্য!

সত্যি কী বিচিত্র আপনাদের মানসিকতা! যে অসভ্যটি কেবলমাত্র তার নতুন প্রেম এর স্বীকৃতি কার্যকর করার মানসে সদ্য ফুটফুটে শিশুকোলে নয় বছরের বিবাহিত স্ত্রীকে ডিভোর্স লেটার পাঠায়, তাকে আপনারা জুতা ছুঁড়তে চান না। ছুঁড়তে চান অপুকে।

অপু কেন বিবাহ বিচ্ছেদ চান না! অপু কেন এই জীবাণুটির সাথেই সংসার করতে চান! আমিও চাই না অপু এই নষ্ট, ভণ্ড লোকটির সাথে সংসার করুক। কিন্তু কী বলুন তো, অপুর জায়গায় দাঁড়িয়ে এতো সহজ নয় এই আকস্মিক বিচ্ছেদ মেনে নেওয়া।
বাইরে থেকে নিজেদের সুখী অবস্থান থেকে বলাই যায়, অপু আপনি একজন সুন্দরী অভিনেত্রী, নতুন পুরুষ, নতুন জীবন আপনার জন্য কোন ব্যাপারই নয়, এগিয়ে চলুন। এগিয়ে হয়তো যাবেন অপু, জীবন যখন তাকে সেই পথেই ঠেলে দিলো। কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তে মা অপু একজন নতুন পুরুষকে খুঁজবে না। খড়কুটো আগলে ধরে রাখতে চাইবে তার সন্তানের বাবাকে। মা হিসেবে এ চাওয়া কি অন্যায়?

কারণ সে জানে, নারী হিসেবে সে আরেকটি ভালো স্বামী পেলেও তার সন্তানটি চিরতরে হারাতে যাচ্ছে তার বাবাকে। নতুন জীবন গুছিয়ে অপু সব পেলেও তার সন্তানের বাবাকে পাবে না। একজন মায়ের জন্য এ বড় বেদনার। সাহসী হয়ে, পুরুষ তাড়াই বলে বুক উঁচু করে চললেই বুক থেকে সব কষ্ট দূর হয়ে যায় না। ব্রোকেন ফ্যামিলির সন্তানরা কতটা অসহায় তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। তাই তো অপু শেষ চেষ্টা করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও আশা করছেন।

হ্যাঁ, হস্তক্ষেপ জরুরি। তবে তা প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত লাগবে না। চলচ্চিত্র শিল্পের কর্তা ব্যক্তিরা, ক্ষমতাধর মিডিয়া ,নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা মানুষগুলো এগিয়ে আসলেই হয়। না এগিয়ে এসে মিয়া বিবির জোড়া আবার এক করে দিতে হবে না। এই কুলাঙ্গারটাকে আপনারা যেভাবে ‘কিং খান’ বানিয়ে মাথায় করে রাখছেন, জাস্ট মাথা থেকে আছাড় মেরে ফেলে দিন এই ইন্ডাস্ট্রির বাইরে। বলতে পারেন একে কেন আপনারা এতো পোছেন? ওর অনেক টাকা? তো কী? সেই টাকার ভাগ কি আপনারা পান? তবে কেন এই অন্যায়কারীর সাথে লাঠিসোটা হয়ে আপনারা থাকেন? দিন শেষে সব দোষ ভিক্টিম এর উপরে চাপিয়ে দেন?

ওহ! আবার ভিক্টিম কে, তাও তো আপনারাই ঠিক করে দেন। কাল একজন নারীবাদী তার আর্টিকেল এ লিখেছেন, “শাকিব নিজেও ভিক্টিম হতে পারে! কোন পরিস্থিতিতে সে বিয়ে করেছে। বিয়েতে তাকে বাধ্য করা হয়েছিল কী-না…ব্লা ব্লা…ব্লা…।”

ঠিক এইভাবেই আপনারা অন্যায়কারীর সাথে থেকে অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়ে যান। এমন ঘটনা নতুন নয়।
ক বছর আগে এক তরুণ কন্ঠশিল্পী তার শিশুবাচ্চাসহ তার প্রথম স্ত্রীকে ধোঁকা দিয়ে প্রেম করে প্রেমিকাকে বিয়ে করে ঘরে তুলে আনলো। নানা জল ঘোলা করে সে দুই বউকে দুই পাশে ধরে হাসি হাসি মুখ করে ছবি তুললো। আপনারা তাকে লাইভ অনুষ্ঠানে চল্লিশ হাজার টাকা দিয়ে ডেকে এনে গুণকীর্তন করে বলেন, ‘’আমাদের সবার হার্টথ্রব জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী বালেফীন চুমি…’’। অতঃপর সে আবারো বিবাহ করিবার স্বপ্নে আরও জল ঘোলা করে যায়। যে নারী নির্যাতক শিল্পীদের জেলে পচে মরা উচিৎ, আপনারা আপনাদের ক্ষমতা দিয়ে তাদের বন্ধু হয়ে জেল থেকে উদ্ধার করে আপনাদেরই ক্ষমতা দিয়ে বড় বড় পুরস্কারে তাদের গঙ্গাজলে স্নান সারিয়ে এই সমাজের সম্মানীয় মানুষ করে গড়ে তোলেন। ধিক আপনাদের !

ধিক সেই মেয়েগুলোকেও। প্রেমে পড়তে তাদের বিবাহিত পুরুষকেই বেছে নিতে হয়! দেয়ালে পিঠ না ঠেকলে ডিভোর্স এর মতো কঠিন সিদ্ধান্ত কোনো মানুষ নেয় না। এক্ষেত্রে অপুর প্রতি তোলা সব হাস্যকর অভিযোগগুলো শাক দিয়ে মাছ ঢাকা ছাড়া আর কিছু নয়। কারণ শাবানার মতো একজন অতি আদর্শ স্বামী প্রেমে পাগল স্ত্রী হওয়া ছাড়া অপুর আর কোনো দোষ দেখি না।

অপুর পাশের দরজাই আমার মামাবাড়ি। আমি খুব ভালো করে জানি সেই তালা কাহিনী। প্রেমিকার ইচ্ছে পূরণের জন্য শাকিবের একটা ছুতোর দরকার ছিল। এই তালা কাহিনীর জন্য যদি ডিভোর্স দিতে হয়, তবে ঘরে ঘরে অনেক স্ত্রীকেই তার স্বামীর ডিভোর্স দিতে হয়। দুটো ছোট বাচ্চা যাদের, একটি বাচ্চাকে গৃহকর্মীর কাছে রেখে তালা মেরে আরেক বাচ্চাকে স্কুলে দিতে যান, এমন নারীরা হাত উঠান তো একটু! যদিও অপু চাবি রেখে গিয়েছিলেন তার বোনের কাছে।

তবে শাকিব কেন এখনই এই ডিভোর্স এর আয়োজন করলো? পর্দার আড়াল থেকে যিনি পুতুল নাচের ইতিকথায় সুতো ঘোরাচ্ছেন সেই শাকিবের নয়া সুন্দরী শিক্ষিত উঠতি নায়িকাকে বলি, এক যুগ আগে এমনি করে এক অল্প বয়সী মেয়ে এক জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পীর ঘর ভেঙ্গেছিলো তার নতুন প্রেম দিয়ে, সেই মেয়েটিকে জিজ্ঞ্যেস করুন, উনি এখন ঠিক কেমন আছেন, তারপর আব্রাহাম বা জয় এর কাছ থেকে তার বাবাকে কেড়ে নিয়েন।
অপু প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, “ডিভোর্সের মতো একটি ন্যাক্কারজনক সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যায় না …’’।
শুনুন অপু, ডিভোর্স কোনো ন্যাক্কারজনক ঘটনা নয়। জীবন সুন্দর। আর তা উপভোগ করতে চাইলে শাকিবের মতো নেতিবাচক চরিত্রের মানুষকে অবশ্যই পরিত্যাগ করতে হবে।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.