শেষতক ধর্মের ছায়াতলেই আমরা

কাকলী তালুকদার: বাংলাদেশে রাষ্ট্র ধর্ম নিশ্চিত হয়েছে, এবার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ধর্মের বিপক্ষে কথা বললে তাদের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের কোন দায় দায়িত্ব নেই!  তা হিন্দু, বৌদ্ধ, ক্রিস্টান ধর্মের কথা? নাকি একক রাষ্ট্রীয় ধর্মের কথা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সেই বিষয়টা প্রধানমন্ত্রী যদি পরিষ্কার করতেন তবে নিজের ঘরটা একটু  আসবাবপত্র দিয়ে সাজাইতাম!

Freedom of speechইচ্ছে থাকলেও সবাই ঘর সাজাইতে পারে না, অনিরাপত্তা এখন আমাদের ছায়াসঙ্গী! নিরাপত্তা পেলে নিজেকে একটু স্থায়ী করার কথা ভাবতে পারি। প্রতিদিন ধর্মের কারণে যে মানুষগুলো কাঁটাতার পেরিয়ে যাচ্ছে, তাদেরকে বলতাম এবার তোমরা থামো, কোথায় যাচ্ছো নিজের দেশ ছেড়ে? দেখো আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সকল ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন!

ধর্মের বিরুদ্ধে যারা আজ কথা বলে তারা খুন হলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেই সত্য, কিন্তু যারা নিজের ধর্মকে ভালবাসে, নিজের দেশকে ভালবাসে তাদেরকে নিরাপত্তা দিচ্ছে তো রাষ্ট্র! তবে বোকার মতো কেন রাত দিন কাঁটাতার পার হচ্ছো তোমরা? এমন নেমক হারামও তোমরা হতে পারো, জানা ছিল না।
যে ভালবাসায় এতোদিন শুধু মানুষ ছিল, এবার থেকে ধর্ম বিবেচনায় ভালবাসতে শুরু করবো সবাইকে, কেমন হবে আমার সেই ভালবাসা? এখন থেকে ভালবাসা চার ভাগ হয়ে যাবে। ধর্মের ভিত্তিতে ভালবাসা, আশা করি সেই ভালবাসায় খাদ থাকবে না, তবে এক চোখা ভালবাসার জন্ম হবে বড় জোর।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি  চাইলে রাষ্ট্রে একটা রাষ্ট্রীয় চশমা বানানো যেতে পারে, যা  চোখে পড়লে প্রতিটি মানুষের চেহারা দেখার আগে ধর্ম দেখা যাবে সেই চশমায়! তারপর হতে পারে প্রতিটি ধর্মের আলাদা চশমা। আমরা সবাই যখন সবার দিকে তাকাবো শুধু ধার্মিকদের দেখবো, কোন মানুষ খুঁজে পাবো না!

মানবিকতা যেখানে ফেইল করবে, আশা করি সেখানে ধর্মই আমাদের বড় আশ্রয় হিসেবে কাজ করবে।

আপনি সত্যি কথাই বলেছেন, দেশে যখন বড় একটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হবে, যখন আমরা সবাই বাঁচার জন্য চিৎকার করবো তখন একজন আরেক জনকে গিয়ে জিজ্ঞেস করবো, তোমার ধর্ম কী? বর্তমান মিডিয়ার মতো, মৃত্যু পথযাত্রীকে বার বার জিজ্ঞেস করবো, তোমার বড় পরিচয় বল? তোমার ধর্ম কি?  

যদি অন্য ধর্মের হয় তবে আরো ব্যস্ত হয়ে নিজের ধর্মের লোকজন খুঁজে বের করবো বাঁচাতে! আমি তো আমার ধর্মকেই বেশী ভাল বাসবো সব সময়, তাই না? তাই আগে আমি আমার ধর্মের মানুষই খুঁজবো। না, সেখানে আশা করি কোন ধর্মের অবমাননা হবে না। এটা আমার অধিকার, আগে নিজের ধর্ম রক্ষা করা। রাষ্ট্র আমাকে সেই  অধিকার আর নিরাপত্তা শিখিয়েছে।
ঘৃণা তো করা যাবে না!
হিন্দু পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর আর সেই  মুক্তিযোদ্ধা যাদের গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে,  আমরা সম্মান জানাই সেই সকল ধার্মিকদের যারা তাঁদেরকে  হত্যা করেছেন বাংলার মাটিতে। আচ্ছা সেই মুক্তিযোদ্ধা কি শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ ই মার্চের বক্তৃতা শুনে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন? আজ ৪৫ বছর পর সেই মুক্তিযোদ্ধা খুন হয়ে গেলেন স্বাধীন বাংলাদেশে!
সবকিছুই পরিবর্তনশীল, সংস্কৃতি, রাজনীতি পরিবর্তন হয়ে যায়। ১৯৭৫ এর আগস্ট মাস যেমন আমাদের সব পরিবর্তন করে দিয়েছে, ঠিক তেমনি ২-১৫-২০১৬ সাল আমাদের অনেক পরিবর্তন করে দিয়েছে। পরিবর্তন হয়েছে আমাদের জীবন, দৃষ্টিভঙ্গি, নিরাপত্তায়, পরিবর্তন হয়েছে আমাদের রাজনীতিতে।
আমাদের প্রধানমন্ত্রী বয়সের সাথে সাথে অনেক দায়িত্বশীল হয়েছেন, ধার্মিকদের কথা বিবেচনা করেই দেশ চালাচ্ছেন!  তাই আমাদের এখন সবারই নিজেদের ধর্মের ঘরে ফিরে যাওয়ার সময় হয়েছে!  বেলাশেষে সবাই যেমন নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যাই!
সময়ের বয়স বেড়েছে, আমাদেরও বেড়েছে, তাই বিদায় নেয়ার সময়ও হয়েছে। বয়সের সাথে সাথে সংসারের দায়িত্বটাও তরুণদের হাতে ভাগ করে দিতে হয়। ক্ষমতা তো চিরকাল হাতে রাখা যায় না!
বয়সের ভারে আমাদের ধর্ম কর্মে মন দেয়াই সর্ব শ্রেষ্ঠ কাজ। তখন ধর্মই আমাদের একমাত্র আশ্রয়।

শেয়ার করুন: