পুরুষতান্ত্রিক যৌন সন্ত্রাস

রুদ্রনীল: ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনের একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে। মেয়েদের এখন কর্মক্ষেত্রের সর্বত্র দেখা যায়। তারা সমাজের সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখছে। কোথাও কোথাও পুরুষকেও ছাড়িয়ে গেছে। অপরদিকে প্রচলিত পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পুরুষকে ভাবতে শিখিয়েছে তুমিই শ্রেষ্ঠ। নারী পুরুষের কাছে শুধুই ভোগের বস্তু। সেই নারীকে যখন দেখে ঊর্ধ্বতন পদে, নেতৃত্বে, তখন নারীকে দমনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে যৌনসন্ত্রাস।

Kalo haatনারীর জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে পুরুষের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্যই পুরুষতন্ত্রের আবির্ভাব হয়েছে। যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ ইত্যাদি নানাভাবে পুরুষতন্ত্র নারীর স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

পুরুষ নারীর উপর যে অবদমন চালায় তাকে বৈধতা দিতে দায়ী করে নারীর পোষাককে। এই ধারণা থেকেও স্পষ্ট পুরুষ নারী শরীরকে শুধু যৌনবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে। গোটা সমাজটাই পুরুষতন্ত্রকে আত্মস্থ করে নারীর জন্য তৈরি করছে নানা বিধি নিষেধ। ইভটিজিং, ধর্ষণ তথা যৌন সন্ত্রাসের মাধ্যমে পুরুষ তার আধিপত্যকেই সুসংহত করে।পুরুষের যৌন নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে শক্তি প্রদর্শনের বিষয়টিই প্রধান হয়ে উঠে।

নারীর স্বাভাবিক চলাফেরা নিয়ন্ত্রণে যখন তেঁতুলতত্ব, মিষ্টি তত্বকে প্রতিষ্ঠিত করা হয় এবং তা পুরুষের স্বাভাবিক প্রবণতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তখন বুঝতে হবে এখানে শুধু সেই কারণটিই নয়, এর পেছনে বড় কোন কারণ আছে। নিরাপত্তাহীনতার জন্য মেয়েরা বোরকা হিজাব পরছে। তারা পুরুষকে চ্যালেঞ্জ করছে না, বরং পরোক্ষভাবে জানিয়ে দিচ্ছে পুরুষের কাছে স্বাভাবিক চলাফেরার স্বাধীনতাটুকু ভিক্ষা চাচ্ছে। অধিকার ছেড়ে দিয়ে মান রক্ষার ব্যস্ততা।

বৈষম্যহীন পৃথিবীর জন্য চাই নারীমুক্তি। পুরুষতান্ত্রিক রাজনীতিকে অগ্রাহ্য করেই অর্জন করতে হবে এই নারীমুক্তি।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.