ইসলামে প্রেম হারাম, ধর্ষণ কি হালাল?

0

সুষুপ্ত পাঠক:

বিয়ে ছাড়া সেক্স করা যাবে না বাংলাদেশে? যশোহরে একজন এমপি পুত্র এবং একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা নিভৃতিতে একান্ত সময় কাটিয়েছে, আর তাতেই থানা পুলিশ এক হয়ে গেছে। এর আগে ছাত্রী নেত্রী তার প্রেমিকের সঙ্গে হোটেলে সময় কাটাতে গিয়ে বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ভাষায় ‘ধরা’ খেয়েছিলেন।

এসব ঘটনায় প্রেমিক-প্রেমিকাদের ছবি সংবাদ মাধ্যম প্রকাশে যে রকম তৎপরতা দেখায়, তাতে প্রচ্ছন্ন একটা প্রতিহিংসার বহি:প্রকাশ ঘটতে দেখা যায়। এদেশে ধর্ষকদের ছবি ছাপা হয় না। কিন্তু যে ভালোবাসছে তাকে হেনস্থা করছে! দুজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ পরস্পর সম্মতিতে সেক্স করলে আমাদের নৈতিকতা খসে পড়ে।

এখানে পুরুষের বহুবিবাহ অনৈতিক নয়। এদেশে রেপিস্টদের হয়ে কথা বলা লোকের অভাব হয় না। নিরীহ রেপিস্টরা মেয়েদের উত্তেজক পোশাকের নির্মম শিকার! রেপিস্টিদের মানবাধিকার রক্ষার কথা বলার সাহস এদেশে কেউ দেখাতে পারলেও হোটেল কক্ষে রাত কাটানো নারী-পুরুষের প্রাইভেসির পক্ষে কথা বলার সাহস কেউ দেখায় না।

এদেশের ফুটপাথগুলোতে্ প্রকাশ্যে মুতে ভরিয়ে ফেললেও সমাজটা রসাতলে যায় না। মুতে আবার প্যান্ট বা পায়জামার ভিতর হাত ঢুকিয়ে অসভ্যর মতো পথেঘাটে প্যানিস ধরে টানাটানি করার দৃশ্য আপনার কাছে কুৎসিত না বরং সুন্নত। কিন্তু বাস দিয়ে যেতে যেতে রমনায় প্রেমিক-প্রেমিকার চুমোচুমির দৃশ্য দেখে আপনার মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে, দেশটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে …।

যারা আমাদের রক্ষণশীল সমাজ, আব্রু সংস্কার, নারী পুরুষের স্বাভাবিক দূরত্বকে সামনে আনতে চান তারা কেমন করে খোলা জায়গায় প্রসাব করেন? কেমন করে পুরুষের একাধিক স্ত্রী থাকার ধর্মীয় শাস্ত্রের পক্ষে দাঁড়ান? ইসলাম নারী-পুরুষের পরস্পর সম্মতিতে প্রেম-সেক্স করাকে ব্যাভিচার আখ্যা দিয়ে এই কাজের শাস্তি পাথর ছুড়ে হত্যার বিধান দিয়েছে। অথচ ইসলাম দাসীদের (যাদের বাজার থেকে কেনা হবে বা যুদ্ধবন্দি থেকে প্রাপ্ত) সঙ্গে অবাধ বিবাহ বর্হিভূত সেক্স করার অনুমোদন দিয়েছে (সুরা নিসা দেখুন) যাদের কোন সম্মতির প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ ইসলামে প্রেম হারাম ধর্ষণ হালাল!

এদেশের ৯০ ভাগ মুসলমান। এখানে ইসলামের প্রভাব সাংঘাতিক। দেশে ছায়া শরীয়া শাসন বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হচ্ছে। কিছুদিন আগেই কক্সবাজারে স্বামী-স্ত্রী একান্ত সময় কাটানো সময় আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ, মতান্তরে ধর্মীয় মূল্যবোধ, মতান্তরে ইসলামী মূল্যবোধের চৌকিদার পুলিশ সদস্যরা বিয়ের কাবিননামা দেখাতে চ্যালেঞ্জ জানায়। ইসলামী দেশের ধর্মীয় পুলিশরা যা করে, শরীয়া শাসিত দেশের মিডিয়া যেমন কভারেজ দেয়, মুসলিম দেশের জনগণ যেরকম রিয়েক্ট দেখায়- বাংলাদেশে আমরা সেটাই দেখছি…। অবাক হচ্ছি না…।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 434
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    434
    Shares

লেখাটি ১,৩৩৯ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.