‘বিধবা’ বা ‘সিঙ্গেল মা’ এর সেক্স যখন ট্যাবু!

সুপ্রীতি ধর (ইংরেজি থেকে অনূদিত):

কুড়ি বছর বয়সী সদ্য তরুণ এক ছেলের মা আমি। বয়স ৪০, বিবাহিত জীবনে বিধবা। থাকি ভারতের আসামে। অন্যদের মতোন আমারও যৌন চাহিদা আছে যা এই সমাজের চোখে অনেকটাই বদহজমের মতোন।

একজন পুলিশ কর্মকর্তার চতুর্থ কন্যা আমি ছোটবেলাতে মাকে হারাই। সুতরাং জীবনটা শুরু থেকেই সহজ ছিল না। অনেক ঘাতপ্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে গেছে আমার শিশুকাল। একটি পশ্চাৎপদ ও ছোট্ট শহরের ততোধিক রক্ষণশীল পরিবারের কন্যাশিশু হিসেবে যেসব ভয়ংকর অভিজজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তার সবই পাড়ি দিয়েছি আমি।

আমার ঠিক এক বছরের ছোট ভাই ছোটবেলা থেকেই বাবার এবং অন্য আত্মীয়দের সবার মনোযোগের কেন্দ্রে। অন্যদিকে আমরা মেয়েরা ‘অনাকাঙ্খিত’ ছিলাম পরিবারে। যে কারণে সবসময়ই আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা হতো। বাবার জন্য আমরা অভিশাপ বা বোঝা ছাড়া আর কিছুই ছিলাম না। এরকম একটি নেতিবাচক পরিবেশেও কিছু কিছু বিষয় ছিল যে কারণে জীবনটা একেবারে অমূল্য মনে হয়নি। বরং সুন্দর হয়ে উঠেছিল। চারপাশের সুন্দর প্রকৃতি আমাকে একটি উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাতে সাহায্য করেছিল।

একদিন এক গ্রীষ্মে একটি শান্ত নদীর ধারে সূর্য উঠার ক্ষণটিতে দাঁড়িয়ে ১০ বছর বয়সী একজন নিজেকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এই বলে যে সে একদিন একজন ভালো মা হবে। অথচ তখন ‘ভালো মা’ বলতে কী বোঝায় তা জানা ছিল না ওই মেয়েটির। কিন্তু আমি খুবই নিশ্চিত ছিলাম যে আমি এবং আমার বোনেরা যে ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি শৈশবে, এই ভালো মা হওয়াটা তার বিপরীত কিছু, ভালো কিছু।

আমি কখনও আমার বন্ধুদের মতোন বয়ো:সন্ধির সময়টি উপভোগ করতে পারিনি। যদিও দেখতে পাচ্ছিলাম যে আমার নিজের একটি চমৎকার ভবিষ্যত অপেক্ষা করে আছে এবং তাই সবটুকু ভালবাসা উজাড় করে দিয়েছিলাম ছবি আঁকায়। কিন্তু সমস্যা হলো আমি আমার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে গিয়ে যা যা লাগে তার জন্য বাবার সাথে যুদ্ধটা করতে পারছিলাম না। তার চেয়ে বরং হেরে যাওয়াটাই সহজ ছিল। তিনি চেয়েছিলেন কেবল তার ছেলের অর্থ-ক্ষমতাসম্পন্ন একটা নিরাপদ ভবিষ্যত গড়তে। কাজেই সংসারের প্রতিটি অর্থই তিনি ছেলের পিছনে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এমনক্ষেত্রে কী করে আমি তাকে বলি যে আমি একটি বই কিনতে চাই বা আমার একটি রং এর বাক্স লাগবে!

আমি এবং আমার বোনেরা ভাগ্যকেই মেনে নিয়েছিলাম। আমরা ছিলাম একজন ধনী পিতার ততোধিক দরিদ্র কন্যা সন্তান। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। যত বড় হচ্ছিলাম ততোই অপেক্ষা করছিল আরও অনেক অভিজ্ঞতার। একটা চ্যালেঞ্জিং সময় দুবাহু মেলে অপেক্ষা করেছিল সেই দিনগুলিতে। একজন মদ্যপ, আসক্ত ব্যক্তির সাথে বিয়ে হয়ে গেল খুব অল্প বয়সেই। তারপর সন্তান এলো পেটে, লেখাপড়াটা বাধাপ্রাপ্ত হলো। এ সবকিছুই আমাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।
কিন্তু এসময়েই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, না, একদমই ভেঙে পড়বো না, যা হয় হোক। মনে পড়ে গেল ওই নদীটির সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেয়া প্রতিশ্রুতির কথা। আর এটাই ছিল আমার প্রকৃত লড়াইয়ের শুরু।

ডিভোর্স দিতে পারিনি আমি, কারণ আমার না ছিল টাকা, না সময়। সেইসাথে ছেলের কাছে আমাকে ভালো মা হওয়ার একটা ইচ্ছা ছিল। তাই ডিভোর্স না দিয়ে দুজনে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিলাম। একটা চাকরিতে ঢুকলাম। ফলে নিজের রুটি-রুজি নিজেই জোগাড় করতে পারলাম। পড়াশোনাটাও চালিয়ে নিচ্ছিলাম, আর সেইসাথে ছেলের দেখাশোনা।

যেহেতু আমি ‘বৈধভাবে বিবাহিত’ ছিলাম, তাই আরেকটা বিয়েও করতে পারছিলাম না। সবশেষে একদিন যখন আমার সেই দায়িত্বহীন স্বামী মারা গেল, সমাজের চোখে আমি ‘বিধবা’ ট্যাগ পেলাম। কিছুতেই আমি এই ট্যাগ থেকে মুক্তি পেলাম না আমার সমাজে, কিন্তু তারপরও আমার জন্য এটা স্বস্তির ছিল এ কারণে যে আমি মুক্ত হতে পেরেছি। এবং আমার এরকম অনুভব হওয়ার জন্য মোটেও লজ্জিত হইনি আমি।

এটা কি খুব খারাপ শোনাচ্ছে? হতে পারে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যে আমার দীর্ঘ লড়াইমুখর জীবন আমাকে এরকম অনুভবের অধিকারটুকু দিয়েছে। আমি মোটেও সেই ১৮ বছরের তরুণী ছিলাম না যে কিনা তার কষ্টের কথা প্রকাশ করতে দ্বিধাবোধ করতো বা যে কোনদিন তার সাথে হওয়া সামাজিক এবং আইনি অবিচারগুলোর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে পারতো না। এখন আর আমি হিপোক্রেট নই। কিন্তু এটাও সত্য যে নিজের অধিকার আদায়ে আমার এই লড়াই আমাকে কোনো পথও দেখাচ্ছিল না।

আজ আমার পরিচয় আমি বিধবা এবং আমাকে বলতে দিন কীভাবে একটা সমাজ আমাকে শিখিয়ে দেয় যে কী জীবন আমি যাপন করবো!

সমাজ চায় একজন ডিভোর্সি বা একজন বিধবা নারী তার সারাজীবন পার করে দেবে কোনোরকম যৌন সম্পর্ক ছাড়াই। ঠিক কবে, কখন থেকে সে সেক্স থেকে বিচ্যুত হয়েছে, এটা কোনো ধর্তব্যের বিষয় নয়। এটা হতে পারে ১৮ বছর, হতে পারে ৫০ বছর। এ নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। আমি সবসময় সেক্সকে সুস্থ, স্বাভাবিক জীবনযাপন বলেই ভেবেছি, অথচ এটা না পাওয়ার এই ট্যাবু আমাকে প্রতিদিন একটু একটু করে কুরে কুরে খেয়েছে।

আমি হয়তো নানা কারণেই আবারও বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিতেই পারি, প্রথম ও প্রধান কারণ অবশ্যই আমার সন্তান। কিন্তু এর মানে কি এই যে আমার কোনো যৌন চাহিদা নেই বা আমি এরকম সম্পর্কে জড়াতে পারবো না?

ভারতীয় সমাজে একজন বিধবা হয়ে দ্বিতীয়বার কোনো জীবনসঙ্গী হিসেবে সঠিক মানুষটি পাওয়া খুবই কঠিন একটা বিষয়। কিন্তু আমি এটা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছি যে কেন আমি একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক যৌন জীবন পেতে পারবো না! কেন?

এমন একটা পরিস্থিতি যে অধিকাংশ মানুষ চায় না নারী এই সেক্স এবং সেক্সসম্পর্কিত কোনো বিষয় নিয়ে মুখ খুলুক, কথা বলুক। আমি এটাও ভালো করে জানি যে এই আমি কতোটা নিন্দা, ঘৃণা আর সমালোচনার মুখে পড়বো সবার সামনে আমার যৌন চাহিদার মতো এমন একটি ইচ্ছার কথা প্রকাশ করে! কিন্তু এটা আমার মৌলিক চাহিদা। আমি এটা অস্বীকার করি না, করতে চাইও না। প্রতিরাতে আমার শরীর স্পর্শ চায়, আমি এই চাওয়াতে কোনো দোষ দেখি না। আমি ঘুমাতে পারি না, কষ্ট হয়।

একজন ভালো এবং লেখাপড়ায় আগ্রহী ছেলের মা হিসেবে আমি নিজেকে একজন স্মার্ট ও সফল সিঙ্গেল মা বলেই জানি, বিশ্বাসও করি। আশা করি সমাজও এটা মানবে।

এও জানি যে আমি স্মার্ট এবং সফল যে কোনো ‘স্বাভাবিক’ পিতামাতার চাইতে, কারণ তারা বাবা-মায়ের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু কোনো কোনদিন খুব ক্লান্ত লাগে যখন আমি এমন সবকিছু নিয়ে কল্পনা করি যা আসলে আমার কল্পনা করার কথা না।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.