নারীর প্রতি সম্মান বনাম আমাদের শিক্ষা

শিল্পী জলি: একজন সাংবাদিকের লিখা পড়লাম। তার বক্তব্যে তিনি যা বোঝাতে চেয়েছেন তাহলো, দক্ষিণ এশিয়ার পুরুষ সমাজ নারী সমাজকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে মাথায় তুলে দিয়েছেন– কবি-সাহিত্যিকগণ যুগ যুগ ধরে কবিতা-গল্পে শুধু নারীর গুণগান গেয়েছেন, তাই নারী সমাজ বখে গিয়েছে, এবার পুরুষদের ভবিষ্যত ঝরঝরে।

কিছুদিন আগে গুলতেকিন খান তার জীবনের কষ্টের কথাগুলো লিখতেই তিনি যেভাবে তাকে আক্রমণ করেছিলেন, তখনই বুঝেছিলাম তাঁর দৃষ্টিতে নারীর অবস্হান কোথায়। নইলে গুলতেকিনের সত্যি কথায় তার গায়ে ফোসকা পড়ার কথা ছিল না।

Shilpi Jolley 2
শিল্পী জলি

যাইহোক, দক্ষিণ এশিয়ার বেশীরভাগ কবি- সাহিত্যিক, বা প্রেমিক পুরুষগণ ঐ কবিতাগল্পেই শুধু নারীর জয়গান করেন, বাস্তবে নয়। বরং বাস্তবে তাদের বউরাও বিয়ে হতেই কলে বা বেসিনে বাসনকোসন মাজে এবং রান্না ঘরে ঢুকে হলদি, মরিচ, লবন দিয়ে রান্নাবাটি শুরু করে দেয় । তারপরও তাদের অবস্হার বারটা বাজতে থাকে– যাকে এক কথায় শোচনীয় পরাজয় বলা যেতে পারে।

যেসব দেশে এখনও ৯৫ % ছেলে ঘরের কোন কাজ করে না সেসব দেশে নারীদের জীবন কেমন সে বিষয়ে উন্নত বিশ্বের কোন ছেলেকেই আর বলে বোঝাতে হয় না। দেশের সব প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হওয়া মেয়েও বিয়ে হতেই রান্নাবান্নায় এক্সপার্ট হয়ে যায়, অথচ কয়েকবার ফেল করা ছেলেও যুগের পর যুগ ধরে ঘরের কাজ জানে না এবং জানলেও করার প্রয়োজনবোধ করে না।

এক সময় মনে হতো, শিক্ষিত,উদার, অভিনেতা, সাংবাদিক, কবি-সাহিত্যিক, ব্লগার, বা কমিউনিস্ট পার্টির ছেলেরা অবশ্যই নারীর ব্যাপারে উদার হবে। সত্যি বলতে, এভাবে উদার শ্রেণীর ছেলে খুঁজতে গেলে বিপদ বাড়বে বই কমবে না। কেননা তরুণ সমাজ বয়সজনিত হরমোনের কারণে নারীদের প্রতি কিছুটা উদার হলেও মাঝ বয়সী অধিকাংশ পুরুষই নারীর প্রতি পুরোই কট্টর। তাই উদার পুরুষ পেতে হলে বাতি নিয়ে খোঁজা ছাড়া উপায় নেই। তারপরও হয়তো হতাশাই মিলবে।

যাইহোক, সাংবাদিক ভাইয়ের লিখায় নারী সমাজের প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার হাজার পুরুষের মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে– যা পড়লেই বোঝা যায় দক্ষিণ এশিয়ার তিনি এবং তারা কোন চিন্তার মানুষ।

এখনও দক্ষিণ এশিয়ায় যৌতুকের জন্যে মেয়েদেরকে মেরে ফেলা হয়, রেপ করে মেরে ফেলা হয়, প্রেমে সাড়া না দিলে মেরে ফেলা হয়, কারনে অকারণে এসিড মারা হয় …। তাদের বাবা , স্বামী, বা ভাইয়ের আশ্রয়ে থাকতে হয়, এবং অকালে বিধবা বা তালাক হলে বলতে গেলে, নো-বিয়ে। অথচ ছেলেদের তেমন কোন সামাজিক চাপই নেই। তারপরও তাদের কেউ কেউ নাকি দেশে পুরুষদের অত্যাচারিত জীবন দেখে কাহিল হয়ে পড়েছেন।

যদি তারা ইংল্যান্ডে যান তখন দেখবেন, সে দেশে পুরুষ সমাজ, নারী এবং শিশুদের আগে খাবার নেয় না, নারীদের জন্যে দরজা খুলে ধরে ‘আফটার ইউ, আফটার ইউ’ করে তারপরও তাদের মনে নারীদের প্রতি কোন খেদ নেই। কেননা প্রাইমারীতে থাকতেই সভ্যতা তাদের মজ্জায় ঢুকে গিয়েছে। অথচ দক্ষিণ এশিয়ার বেশীরভাগ পুরুষই যতই পড়ালেখা শেখে ততোই অমানুষ হয়, কেননা পরিবার / প্রাইমারীতে সামাজিক শিক্ষায় তারা মানবিকতা শেখে না –শেখে উঁচুনীচু এবং মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করতে। ফলে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি আজীবন সংকীর্ণই থেকে যায়। এমনকি তারা জ্ঞানের জাহাজ হলেও মানবিকতায় আর শূন্যের উপরে উঠতে পারে না ।

কলেজ/ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা শিখলেই মানুষ সভ্য হয় না–

সভ্য হতে হলে উন্নত চিন্তা, উদার মানসিকতা, এবং মুক্ত চিন্তার মানুষ হতে হয়।

আমাদের দেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আজীবন অমানুষ থেকেও হয়ত ডাটের সাথে জীবন পার করে দেয়া সম্ভব, তবে উন্নত দেশে থাকতে হলে উন্নত চিন্তার অধিকারী হওয়া জরুরি। আজও আমেরিকা ইংল্যান্ডে বসবাসরত দেশীয় যুবকগণ দেশে ছুটে যায় বিয়ে করতে। উদ্দেশ্য একটিই– সন্তানসহ ঘরের যাবতীয় কাজ বউয়ের উপর চাপিয়ে দেয়াসহ হম্বিতম্বি করা।

শেয়ার করুন:
  • 117
  •  
  •  
  •  
  •  
    117
    Shares

Over all it’s a very good article and liked it. But found some contradictory comments in my view, sorry if it offends anyone. And sorry for typing in English as in my lab pc avro is not installed.
“যদি তারা ইংল্যান্ডে যান তখন দেখবেন, সে দেশে পুরুষ সমাজ, নারী এবং শিশুদের আগে খাবার নেয় না, নারীদের জন্যে দরজা খুলে ধরে ‘আফটার ইউ, আফটার ইউ’ করে তারপরও তাদের মনে নারীদের প্রতি কোন খেদ নেই।”
When we are talking about equality, should we not feel embarrassed that only for being my gender I will get priority like a child? In my point of view, feminism is about being equal, not getting privilege. i will not like that only for my gender a person will treat my like a child.
“আজও আমেরিকা ইংল্যান্ডে বসবাসরত দেশীয় যুবকগণ দেশে ছুটে যায় বিয়ে করতে। উদ্দেশ্য একটিই– সন্তানসহ ঘরের যাবতীয় কাজ বউয়ের উপর চাপিয়ে দেয়াসহ হম্বিতম্বি করা।”
This is also too much generalised. i will personally prefer that my husband will be from my country and speaks my language. So that we can share the same feelings when we read a poem, listen to a song in my language. Overall the transfer of emotion will be easier.
“উন্নত দেশে থাকতে হলে উন্নত চিন্তার অধিকারী হওয়া জরুরি” This is also not true. I live in the “advanced” countries for last 6 years, but i can easily say that most of the males still does not have the equal view about women. At least I have heard cat calls many times in the street.

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.