রুবেল-হ্যাপিগেট কেলেংকারী: গ্রামবাসীর ফুচকি ও ছ্যা ছ্যা রব

Self Sencorshipমাসকাওয়াথ আহসান: সময়টা নতুন। নারীর ক্ষমতায়ন ঘটেছে। নারীবাদীরা ‘ফিমেল হ্যারাসমেন্ট’ কেস করার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে। এর কারণ আছে। পিছিয়ে থাকা মেল শভিনিস্ট সমাজ অনেক ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে যত্রযত্র। তাই বিক্ষুব্ধ নারীসমাজ এখন ন্যায়বিচারের প্রশ্নে ঋজু।

এই ক্ষেত্রে বামপন্থীদের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। কারণ একদা যীশুর মত দাড়ি নিয়ে রবি ঠাকুরের দুটো পদ্যের ছত্র বলে অনেক নারীকে এক্সপ্লয়েট করেছে তারা। যেসব নিয়ে তসলিমা নাসরিন ক খ গ ঘ লিখে চলেছেন। অন্যদিকে মৌলবাদি মোল্লারা বিশাল দাড়ি নিয়ে বেহেশতের মেওয়া পাঠ করে; নারীকে অবরুদ্ধ করেছে সৌদী বস্তায়।

কষ্ট পেয়েছে মাঝের রোমান্টিক লোকগুলো। আজ ৭৩ বছর বয়সেও যাদের লুকিয়ে সিগেরেট খেতে হয় স্ত্রীর ভয়ে।তাদের কথা হয়তো ইতিহাসে অনুচ্চারিতই থেকে যাবে।

এখন নতুন সময়।নারী-পুরুষ সমান অধিকার সময়ের দাবী। কাজেই যে যত বড় কামেল ব্যক্তিই হোন না কেন ভুলে যান অতীতের প্রতিভা দিয়ে মুগ্ধ করে এক্সপ্লয়েট করার প্যারাডাইম। এখন মেয়েদের সঙ্গে পারসন হিসেবে মিশতে হবে; বন্ধুর মতো মিশতে হবে। আপনি যদি ক্রিকেটার হন এমন মেয়ের সঙ্গে মিশুন যে ক্রিকেট বোঝে; যে ক্রিকেটের রান আউট হওয়ার বিষয়টা উপলব্ধি করতে পারে। জীবন এবং ক্রিকেট একই বিষয়। এখানে যে কোন বন্ধুতায় রান আউটের ভয় থাকে। সেজন্য সচেতন থাকতে হয় ছেলেটি ও মেয়েটিকে।

হ্যাপী অভিনয় শিল্পী। তার সৃজনশীলতার জায়গাটি অভিনয়ে। ফলে ক্রিকেট যে সে বোঝে না তা তার হ্যারাসমেন্ট কেস দায়ের করা দেখে বোঝা যাচ্ছে। তারকাদের নিয়ে কিছু গসিপ, কিছু স্ক্যান্ডাল থাকতেই পারে। কিন্তু তার একটি মান থাকা জরুরী। আত্মমর্যাদাপূর্ণ ছেলের কেবল আত্মমর্যাদাপূর্ণ মেয়ের সঙ্গেই মেশা উচিত। এই ঘটনাটিতে আমি অবাক হইনি; এটাতো ২০১৪ সাল; আমার কাছে এটা কোন বিশাল অপরাধ বলেও মনে হয়নি। দুজন ভালো মানুষের মাঝেও খাপ-খাওয়াতে বা এডজাস্টমেন্টে সমস্যা হতে পারে।

যে কোন আলোচিত ঘটনার মাঝ দিয়ে আমরা শিখি; ঐশীর ঘটনাতেও আমরা সামাজিক শিক্ষা পেয়েছি মাদক ও শৃংখলার অভাব কী ভয়ানক পরিণতি নিয়ে আসতে পারে। সমস্যা হচ্ছে আমাদের অবদমিত পাঠকের চাহিদা ও নিউ মিডিয়ার যোগানের ভঙ্গিতে। আজো আমরা যে কোন ঘটনায় বর্বর সৌদীদের মতো পাথর ছোঁড়ার আদিমতায় ভুগি। এসব রগড় আমাদের পশ্চাদপদ হীনমন্য সমাজের একমাত্র বিনোদন যেন।

যারা রুবেলের পক্ষ নিয়ে হ্যাপিকে অপমান করেছেন তারা যেন আউটডেটেড মেল শভিনিস্ট সমাজের প্রেতাত্মা। আর যারা হ্যাপির পক্ষ নিয়ে রুবেলকে অসম্মান করছেন তারা যেন সেই গ্রামের শেকল তুলে ধৃত তরুণ তরুণীর বিবাহ বন্দোবস্তীর মাতবরী প্রেতাত্মা।

রুবেল এবং হ্যাপি দুজনপ্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ। তাদের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে; তারাই এর সুরাহা করুক। আমাদের কী!এই ইস্যুতে ক্রমাগত সামাজিক বিকৃত মনের উন্মোচন ঘটেছে মিডিয়ায় এবং কিছু অতি-উৎসাহী দর্শকের; যারা জীবনের যে কোন বিষয়ে বানর খেলা দেখার আনন্দ নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে।

তারকাদের একটি সুনির্দিষ্ট চার্ম থাকে। সেটা অল্প অল্প করে খরচ করলে চার্মটা বেশীদিন টিকে থাকে;এটা হ্যাপি ও রুবেলের উভয়ের লক্ষ্য রাখা উচিত।

আধুনিক যুগে সমস্ত সম্পর্ক খুব স্বচ্ছ হওয়া উচিত; লেবু চিপে তেতো করার যুগ ফুরিয়েছে। সম্পর্কের একটা ভিত্তি অক্ষুণ্ণ থাকা উচিত। কোন সম্পর্কের অবসান মানেই একজন আরেকজনের শত্রু হয়ে যাওয়া নয়। বন্ধুতা যেন থাকে সারা জীবন এই অদৃশ্য সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর না করে কোন সম্পর্কে যাওয়া মানেই গোবরডাঙ্গা বাসীর জন্য রগড়ের উপাদান সরবরাহ।

সম্পর্কের সুষমা খুবই জরুরী একটি বিষয়। আর এক্ষেত্রে বিনয়ের জয় অনিবার্য।

আর নারী-পুরুষ সম্পর্কে  আই-কিউ বা বুদ্ধাংকের সাযুজ্য খুবই জরুরী। কারণ সম্পর্ক একটি অদৃশ্য দাবা খেলাও। এখানে নট সো ফার নট সো নিয়ার থিওরি খুবই জরুরী। অর্থাৎ প্রেমে দেবদাসের আলুথালু হবার সুযোগ আর নাই। এর মাঝ দিয়ে চমৎকার বন্ধুতা হয়ে গেলে তখন আর এতো সচেতন না থাকলেও চলে। তবে একটা থিন লাইন রাখা জরুরী। টেক স্যাভি নতুন এক পৃথিবীর যাত্রা শুরু হয়েছে। কাজেই জীবনের জ্যামিতি বদলে যাচ্ছে। তাই আবেগ নিয়ন্ত্রণ খুবই জরুরী আজকের সম্পর্কের দ্বৈরথে।

কোন ছেলে অন্য দুজন বান্ধবী নিয়ে আড্ডা দিতে দিতে যদি আসল বান্ধবীকে ফোন করে অপমান করে; সেই ছেলের সঙ্গে বাকি জীবন কাটানোর প্রত্যাশা হারিকিরি। আবার কোন মেয়ে যদি ছেলে বন্ধুর সঙ্গে টেলিকথন রেকর্ড করে; ঐ মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার চেয়ে এফবি আই-এর কোন নারী অপারেটিভ খুঁজে নিয়ে প্রেম করাই ভালো।

যে ক্রিকেট খেলে তার প্রথম এবং শেষ প্রেম আসলে ক্রিকেট। যে অভিনয় করে তার প্রথম এবং শেষ প্রেম আসলেঅভিনয়। তাই রুবেল-হ্যাপির এরিয়া অফ প্রাইভেসীতে আমাদের গ্রামবাসীর আর ফুচকি দেওয়ার কোন দরকার নাই। স্ব স্ব ক্ষেত্রে রুবেল-হ্যাপির সাফল্য প্রত্যাশা করছি।

(লেখাটি লেখকের ফেসবুক নোট থেকে নেয়া)

শেয়ার করুন: