টেলিভিশনে ঈদ আনন্দ ও বিক্ষিপ্ত ভাবনা

tv_television_Bangladeshতানিয়া কামরুন নাহার: ঈদ নিয়ে টিভি চ্যানেলগুলোতে সব সময়ই বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। যদিও বিজ্ঞাপণের যন্ত্রণায় এসব অনুষ্ঠান দর্শকেরা শেষ পর্যন্ত কতটুকু দেখেন সেটা একটা প্রশ্ন বটে!রিমোটে একের পর এক চ্যানেল ঘুরাতে ঘুরাতেও কোন চ্যানেলে একটু স্থির হয়ে বসার উপায় নেই। ঈদের অনুষ্ঠান দেখা মানে যেন একটা হাংগামা।

ঈদের আনন্দ মানেই শিশুদের উল্লাস। কিন্তু শিশুদের জন্য চ্যানেলগুলোতে আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান প্রায় দেখাই যায়নি। তবুও এর মাঝে দু একটি অনুষ্ঠান যে একেবারেই হয়নি তা নয়। ঈদের দিন সকালে এনটিভিতে মুস্তফা মনোয়ার পরিচালিত পাপেট শোটি শিশুরা পছন্দ করেছে। সার্কাসের অনুষ্ঠানটিও শিশুদের আকর্ষণ করেছে। তৃতীয় দিনের সিসিমপুর অনুষ্ঠানটির জন্যও এনটিভিকে ধন্যবাদ দিতেই হয়। আর টিভিতে শিশুদের জন্য ঈদ আনন্দ অনুষ্ঠানটিও ভাল হয়েছে। আর বাদ বাকি চ্যানেলে শিশুদের জন্য উল্লেখযোগ্য তেমন অনুষ্ঠান দেখা যায়নি।

দেশের একমাত্র সংগীত চ্যানেল গানবাংলা দর্শকদের পুরোই হতাশ করেছে। গান বা মিউজিক ভিডিও কোন কিছুর মধ্যেই কোন ছিরি পেলাম না। ভাল লেগেছে ৭১ টিভিতে ধারাবাহিকভাবে লেখক তসলিমা নাসরিনের সাক্ষাৎকার। এই সাক্ষাৎকার মনের মাঝে নতুন করে শক্তি যুগিয়েছে, দর্শকদের নতুনভাবে ভাবতেও শেখাবে। ঈদের পরদিন থেকেই অনন্ত জলিলের সিনেমা ও সাক্ষাৎকার নিয়ে অনেকেই ফেসবুকে মজার মজার স্ট্যাটাস দিয়েছে। এবার ঈদে অনন্ত জলিল থাকা মানেই যেন সেই অনুষ্ঠান হিট, ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছে। অনন্ত জলিলের সিনেমার গান, গানের চিত্রায়ন নিয়ে প্রশংসাই করতে হয়। অভিনয়, উচচারণ, সিনেমার অবাস্তব কাহিনী ইত্যাদি ইমপ্রুভের জন্য অনন্ত জলিল আরেকটু মনোযোগী হলে ভাল করবেন।

Tania
তানিয়া কামরুন নাহার

এবার ঈদ উপলক্ষে আড়াইশোর মত নাটক/টেলিফিল্ম প্রচারিত হচ্ছে চ্যানেলগুলোতে। সাত দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠান প্রচারের এক ব্যাপক উৎসব যেন! এত এত চ্যানেলে, এত এত নাটকের মাঝ থেকে কোন নাটকটি আসলেই মানসম্মত তা খুঁজে বের করা যেন খড়ের গাদায় সুঁই খোঁজার মত দুরূহ। চ্যানেল ঘুরাতে ঘুরাতে যে নাটকই চোখে পড়ছে, সেখানেই প্রেমিক/প্রেমিকা নয় স্বামী/স্ত্রীর ঝগড়া নিয়ে সস্তা রসিকতা, আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করে সুড়সুড়ি দিয়ে দর্শকদের হাসানোর অপচেষ্টা। নাটকগুলোতে অভিনেতা/অভিনেত্রীদের সারাক্ষণ এত উত্তেজিত/ ক্রেজি অবস্থায় দেখে ভয়ই লাগছিল। প্রায় সব নাটকে একই অভিনেতা অভিনেত্রীদের উপস্থিতি ও গতানুগতিক কাহিনীর কারণে বোঝাই যাচ্ছিল না কোন চ্যানেলে কোন নাটক দেখছি। আর কিছুক্ষণ পর পর বিজ্ঞাপণের জ্বালা তো ছিলই। এদিক দিয়ে বিটিভির অনুষ্ঠানগুলো অবশ্য ছিল বিজ্ঞাপণের যন্ত্রণামুক্ত। বিটিভির সংগীতানুষ্ঠানগুলো এক কথায় অপূর্ব হয়েছে, দর্শককে নস্টালজিক করে তুলেছে। বিটিভির নৃত্যানুষ্ঠানও ছিল বেশ জাঁকজমকপূর্ণ।

নাগরিক জীবনে আমরা দিন দিন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছি। এমনকি এক পরিবারের ভেতরেও, প্রত্যেকে আলাদা আলাদা টেলিভিশন যন্ত্রে নিজের পছন্দ মত অনুষ্ঠান দেখছি আমরা। এর মধ্যে এক ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানটিই যেন পারে পরিবারের সবাইকে একসাথে করতে। প্রতি বছরের মত এবারও ঈদের পরদিন বিটিভিতে ‘ইত্যাদি’ প্রচারিত হল। যদিও অনুষ্ঠানটি দিন দিন বৈচিত্রহীন ও একঘেঁয়ে হয়ে যাচ্ছে। বিটিভিতে আরেকটি ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান ‘’মামা-ভাগনে’’-ও ভাল লেগেছে। আনন্দমেলা গতানুগতিক বস্তাপঁচা।

চ্যানেল টুয়েন্টিফোরে একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন দেখা গেল। “মায়ের সাথে ঈদ’’ এই থিম এই চ্যানেলের বিশেষ ব্যক্তিদের সাথে করা সাক্ষাৎকারগুলো ভাল লেগেছে, কিছু কিছু রীতিমত চোখও ভিজিয়েছে। উঠতি সেলিব্রেটিদের নিয়ে করা বিভিন্ন চ্যানেলের টকশোগুলোতে চোখ ধাঁধানো জাঁকজমক থাকলেও ভেতরটা ছিল বৈচিত্রহীন। সেই একই প্যাঁচাল, সেই একই মুখ ঘুরে ফিরে।

চ্যানেলগুলোতে নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠান শুরু না হলেও ঘণ্টায় ঘণ্টায়, ৩০ মিনিট পর পর সংবাদ প্রচারে কোন অনিয়ম দেখা যায়নি। সংবাদের আধিক্য বিজ্ঞাপণের মতই বিরক্তির কারণ ঘটিয়েছে। ঈদের দিনে সাধারণ মানুষের উৎসবে মেতে উঠার খবরগুলো আনন্দ দিয়েছে। পাশাপাশি তুবা গার্মেন্টসের শ্রমিকদের অনশন ও গাজায় ইসরাইলি হামলার খবরগুলো বিষন্ন করেছে মনকে।

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.