নারীদের হাস্যোজ্জ্বল সেলফিতে ভরে গেছে টুইটার, ফেসবুক

Turkey 3উইমেন চ্যাপ্টার: তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রী বুলেন্ট আরিঞ্চ নারীদের সবার সামনে হাসতে মানা করার পর এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে খোদ তুরস্কসহ সারাবিশ্বে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে এ নিয়ে তোলপাড় চলছে রীতিমতো।

তুর্কী লেখক এজে টেমেলকুরানউপ-প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যকে’আপত্তিকর’ বলে বর্ণনা করেছেন।

গত কয়েক দিন ধরে তুরস্কের শত শত নারী এই মন্তব্যের প্রতিবাদে নিজেদের হাস্যোজ্জল মুখের ছবি সামাজিক মিডিয়ায় আপলোড করছেন।

বিবিসি বাংলার এক খবরে বলা হয়, সোমবার এক ভাষণে দেশের উপ-প্রধানমন্ত্রী তুরস্কে ‘নৈতিক অধঃপতন’ নিয়ে মন্তব্য করেন।

“সতীত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ,” মি: আরিঞ্চ বলেন।

“নারীরা জনসমক্ষে হাসবেন না”।

উপ-প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য তুরস্কে নারীদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। হাজার হাজার নারী টুইটার এবং ইনস্টাগ্রামের মত সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের হাস্যোজ্জল মুখের ছবি আপলোড করেছেন।

এই বিষয়ে প্রায় তিন লাখ টুইট করা হয়েছে, যেখানে ‘কাহকাহা’ বা তুর্কী ভাষায় হাসি, টপিক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

ব্যাঙ্গাত্মক হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে, যেমন #হাসিঠেকাও বা #নারীঠেকাও।

Turkey 2অনেকে মন্তব্য করেছেন যে, নারীকে জনসমক্ষে হাসা থেকে বিরত করার চেষ্টা না করে সরকারের উচিত ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে মনোযোগ দেওয়া।

লেখক এবং রাজনৈতিক ভাষ্যকার এজে টেমেলকুরান, টুইটারে যার ১০ লাখেরও বেশি অনুসরণকারী আছে, তিনিউপ-প্রধানমন্ত্রীর কথাকে ‘ভীষণ আপত্তিকর এক মন্তব্য’ বলে অভিহিত করেছেন।

মিস টেমেলকুরান নিজের হাস্যোজ্জল মুখের ছবি টুইটারে আপলোড করে অন্যান্য নারীদেরও তাই করার জন্য আহ্বান জানান।

“আমার টুইটার টাইমলাইন নারীদের হাস্যোজ্জল মুখের ছবিতে ভরে গিয়েছে, যা অসাধারণ এবং খুবই সুন্দর মনে হচ্ছে,” মিস টেমেলকুরান বলেন।

ছবি শেয়ার করার এ্যাপিইনস্টাগ্রামেও একই দৃশ্য।

ইনস্টাগ্রামে নিজের হাস্যোজ্জল মুখের ছবি আপলোড করে ২৩-বছর বয়স্ক হাজাল নাজ বেসলেইজি বললেন তিনি নিজেকে মুক্ত মনে করছেন।

“আমি হাসবো নাকি হাসবো না, সেটা আমার সিদ্ধান্ত,” মিস বেসলেইজি বলেন।

“আমার জীবনে নাক গলানো তাদের উচিত না”।

অনেক পুরুষও উপ-প্রধানমন্ত্রী বুলেন্ট আরিঞ্চ-এর সমালোচনায় যোগ দিয়েছেন।

তুরস্কের নাম করা টেলিভিশন উপস্থাপক ফাতিহ পোরটাকাল টুইটারে আশা প্রকাশ করেন যে, এই সবই ঠাট্টা-বাজি ছিল।

“নারীরা যদি প্রকাশ্যে হাসতে না পারে, তাহলে পুরুষদের উচিত হবে না প্রকাশ্যে কাঁদা,” মি: পোরটাকাল বলেন।

মি: পোরটাকালের মন্তব্য ছিল সরাসরি উপ-প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে, যাকে প্রায়ই তাঁর নেতা প্রধানমন্ত্রী রেজেপ তাইপ এরদোয়ান-এর ভাষণের সময় কাঁদতে দেখা যায়।

এদিকে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নারীরা তুরস্কের এই নেতার এহেন মন্তব্যের প্রতিবাদে রসাত্মক এবং ব্যাঙ্গাত্মক সব মন্তব্য করছে ফেসবুকে।

চন্দ্রাহত মুন নামের একজন সুইডেনবাসী বাঙালী লিখেছেন, ‘উচ্চ কন্ঠে কাঁদাও যাবেনা। কাঁদতে হবে মাথা নীচু করে। ফোঁপানির শব্দও যেন না আসে! খুব চেপে কাঁদতে হবে। চোখে জল ঝরবে অবিরাম কিন্তু টু শব্দ হবেনা! দিনে ২০ বার ট্রেইনিং। কোন সমস্যা নেই। অস্কার পাওয়া যাবে কারন এ দৃশ্য সুচিত্রা সেন ছাড়া আর কেউ করতে পারে নাই!

তিনি কিছু ইমোর ছবি দিয়ে লিখেছেন যে,  মেয়েদের এই ধরনের ইমো কি নিষিদ্ধ হবে? হাসিটা শোনা না গেলেও ভাব দেখে মনে হয় উচ্চ হাসি।  ভরসা নারীর উচ্চ কন্ঠে কান্না নিশ্চয়ই নিষিদ্ধ হবেনা! ভরসা নদী তুমি বহে যাও পাল তুলে…

 

 

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.