সালমা লুনা:
চাচ্ছিলাম না কোনকিছু চোখের সামনে পড়ুক। অথচ হসপিটালের স্ট্রেচারে শুয়ে খিঁচুনি দেয়া বাচ্চাটার একটা ভিডিওই চোখে পড়ে গেলো।
বাবা মানসিক ভারসাম্যহীন কৃষক। দরিদ্র পরিবারটি তাই চৌদ্দ বছরের মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেয়। সেই মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে ভয় পায় বলে মা ছোট মেয়েটিকেও পাঠিয়েছিল বোনের সঙ্গী হতে।
সেই মেয়ের শ্বশুর এই ছবির হিটু মিয়া ধর্ষণ করেছে ৮ বছর বয়সী ছোট মেয়েটিকে।
জানা গেল পুত্রবধু অর্থাৎ বড় মেয়েটিকেও নাকি ধর্ষণ করেছিল শ্বশুর। সে স্বামীকে জানিয়েও ছিল। স্বামী শুনে তাকেই উলটো মেরেছে।
এও শোনা যাচ্ছে, স্বামীই নাকি বাবার কাছে স্ত্রীর ছোট বোন এই বাচ্চাটিকে নিয়ে গিয়েছে। নিয়ে যেতেই পারে। নিজের স্ত্রীকে ধর্ষণই যেখানে মেনে নিয়েছে।
সুতরাং এই অপরাধ পিতাপুত্র মিলেই সংঘটিত করেছে।
এসব খবর এখন মানুষের মনে আর তোলপাড় করে না।
শুধু আমাদের মত যাদের সুক্ষ্ম একটা মন আছে, নারী শরীরের কষ্ট ব্যথাটাকে যারা চিনি জানি, যাদের কন্যা সন্তান আছে তারা এসব পড়লে অস্থির হয়ে যাই।
পাগল পাগল লাগে।
আমার যত লেখালেখি এই ধর্ষণের প্রতিবাদেই। নারীর উপর সহিংসতার বিরুদ্ধেই। কিন্তু ক্ষোভের আগুন এখন জমাট কান্নায় পরিণত হয়েছে।
জানি, কিছু হয় না লিখে।
ব্লেড দিয়ে যৌনাঙ্গ কেটে ধর্ষণ করা হয়েছিল পাঁচ বছর বয়সী শিশু পূজাকে। সেই ধর্ষক সাইফুল আট বছর জেল খেটে এখন মুক্ত।
এমন আরো ধর্ষককে জামিনে মুক্ত হয়ে ফুলের মালা পরে কুমিল্লা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উল্লাস করতে দেখা গেছে বছর কয়েক আগেই।
এই তো গতকালই এক নারী নিপীড়ককে থানা থেকে মামলা উইথড্র করিয়ে ফুলের মালা পরিয়ে বের করে নেওয়া হলো। এবার অবশ্য হাতে কোরআনও দিয়েছে।
তা কী মনে হয় দেশবাসীর?
এসব কেন হয়? নারীর পোশাকের জন্য? তাহলে তনু তো হিজাবী ছিলো। আর ওই যে ডাক্তার মেয়েটা সেও তো হিজাব করতো।
যে মেয়েটির আট বছর বয়স সে তো পর্দারই উপযুক্ত হয়নি। বোনের শ্বশুর বাবার বয়সী লোক, সে কেন ছেলের শালীকে ধর্ষণ করে?
মেরেই ফেলতে চেয়েছিলো শ্বাসরোধ করে। মরে যায়নি। হয়তো দেশবাসীকে জানিয়ে যাবে বলে তার সাথে কী হয়েছে! তার বোনের সাথে কী হয়েছে!
এসবের পেছনে কে দায়ী বলে মনে করেন? পর্ন সিনেমা! মেয়েদের পোশাক! মেয়েদের সিগারেট খাওয়া! দেশে শরীয়াহ না থাকা! যৌনতা নিয়ে কুশিক্ষা! শিক্ষার অভাব!বিকৃতি!
কিচ্ছু না।
বিশ্বাস করেন এসবের কিছুই না।
শুধু আইনের প্রয়োগ নাই বলে এইসব ঘটেছিলো, ঘটছে এবং আরও ঘটবে।
শিশু ধর্ষণের ফলে মৃত্যু হলে যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ড হয়।
সেই ফাঁসিই কজনের হয়েছে? পূজার মতো আলোচিত ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষক যাবজ্জীবন পেয়েও তো দিব্যি এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে মুক্ত হাওয়ায়।
এই হিটু মিয়া আর তার পুত্র সজল গ্রেফতার হয়েছে। দেখেন আমাদের রাষ্ট্র কতদিন তাকে গরাদের মধ্যে ধরে রাখে! এরাও বেরিয়েই আসবে, লিখে রাখেন।
রাষ্ট্রই এই ধর্ষকদের সৃষ্টি করেছে। এক্ষেত্রে আইন আমাদের ধোঁকা দেয়। আইনজীবীরা তাদের সংসার চালাতে এদের মামলা লড়ে।
কাজেই বুঝতে পারছেন কেন ধর্ষকের অভয়ারণ্য এই দেশ?
না বুঝলেও অসুবিধা নাই। যতক্ষন আমার, আপনার, তার কন্যাটি নিরাপদ ততক্ষণ এসব জিনিস বুঝার দরকারই বা কী!
হতে দেন যা হচ্ছে। নিজের ঘরে ঢুকলে তখন দেখা যাবে, কী বলেন?
আর হ্যাঁ, মেয়েটি এখনও মরেনি।
আপনারা যারা ওর মৃত্যুগাঁথা লিখতে চাইছেন, আরেকটু সবুর করেন।
মরেই গেছে যদিও।
এটাকে কি আর বেঁচে থাকা বলে!