চিনে নিন নেপালের ‘মাদার তেরেসাকে’

উইমেন চ্যাপ্টার:

১২,০০০ নারীকে পাচার হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছেন ‘নেপালের মাদার তেরেসা’, চিনে নিন পদ্মশ্রী প্রাপ্ত অনুরাধা কৈরালাকে।

পৃথিবীতে নানা সময়ে এমন কিছু মানুষের জন্ম হয়, যারা আদতে সমাজকর্মী নামে পরিচিত হলেও কিছু কিছু মানুষের কাছে তাঁদের আবির্ভাব ঘটে, তেমনই একজন হলেন নেপালের অনুরাধা কৈরালা। ‘মাইতি নেপাল’-এর প্রতিষ্ঠাতা তথা সমাজকর্মী হিসাবে তাঁর পরিচিতি আজ সারা বিশ্বে। তাঁর জন্ম নেপালে ১৯৪৯ সালের ১৪ এপ্রিল। মা লক্ষ্মীদেবী গুড়ুং এবং বাবা কর্নেল প্রতাপ সিং গুড়ুং।

সমাজের জন্য কাজ করা শুরু করেছিলেন কালিম্পং-এর সেন্ট জোসেফ কনভেন্ট স্কুলে পড়ার সময় থেকেই। স্কুলের মাদার এবং সিস্টারদের দেখে সমাজের জন্য কাজ করার আগ্রহ জাগে তাঁর। বরাবরই তিনি মাদার তেরেসার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছেন, তাঁর জীবনাদর্শনকে পাথেও করেই এগিয়ে গিয়েছেন নিজের লক্ষ্যে। নিজের জীবনে প্রায় ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাঠমান্ডুর বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষকতা করেছিলেন। তবে অবশেষে নিজেকে নিয়োগ করলেন সেই সমাজের কাজেই। গড়ে তুললেন ‘মাইতি নেপাল’ সংস্থা।

কী এই ‘মাইতি নেপাল’ সংস্থা?
শুরুটা হয়েছিল একটি ছোট্ট ঘর থেকে, যেখানে পতিতালয় থেকে মেয়েদেরকে তুলে এনে আশ্রয় দিয়েছিলেন তিনি, যাদের সেইসময়ে মাথার ওপর কোনও ছাদ ছিল না। অনেকসময়েই এমন হয় যৌন পাচার চক্রের শিকার হওয়া মেয়েদের তাঁদের পরিবার বা বন্ধু-বান্ধব কেউই গ্রহণ করে না। সমাজের এই অসহায় নারীদের উদ্ধার করে আশ্রয় দেওয়া এবং তাদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব নেওয়া- এই সব কাজই করত মাইতি নেপাল, যার নেতৃত্ব দিতেন অনুরাধা। যতদিন না এইসব মেয়েরা নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর মতো ক্ষমতা অর্জন করতে পারছে ততদিন এই সংস্থা তাদের সবরকমের দায়িত্ব পালন করতো।

আজ এই সংস্থার সুনাম দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছে। সংস্থাটি বর্তমানে একাধিক কর্মসূচীও পালন করেন, যার মধ্যে রয়েছে সচেতনতা বৃদ্ধি, সম্প্রদায় সংবেদনশীলতা কর্মসূচি, নারীদের উদ্ধার অভিযান, পাচারকারীদের গ্রেফতার করা। উদ্ধারকারীদের আইনি সাহায্য প্রদান করা, নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচী পাশাপাশি নারীদের জন্য অ্যান্টি রেট্রো-ভাইরাল থেরাপি ইত্যাদি।

স্বীকৃতি- অসাধারম প্রতিভাধর এই নারী এখনও পর্যন্ত তাঁর সাহসিকতার স্বীকৃতি স্বরূপ ৩৮টি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। অনুরাধা কৈরালার প্রচেষ্টাকে সম্মান জানাতেই নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর তারিখটি পাচার-বিরোধী দিবস হিসাবে পালন করা হয়।

শুধু তাই নয়, ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কারেও ভূষিত হোন তিনি। ২০১০ সালে তাঁকে ‘সিএনএন হিরো অফ দ্য ইয়ার’ বলে অভিহিত করা হয়।

বয়সের ভারে এখন তিনি অনেকটাই কাবু হয়েছেন। তবে এই ৭০ বছর বয়সে এসে দাঁড়িয়েও হাল ছেড়ে দেননি। সমাজে মেয়েদের বিপদে-আপদে বরাবরই ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

তাঁর ২০ বছরের কর্মজীবনে তিনি প্রায় ১২,০০০ মেয়েকে পাচার হওয়ার হাত থেকে উদ্ধার করেছেন। সমীক্ষা বলছে, ভারতে ঠিক এই সংখ্যক মেয়েই প্রতিবছর পাচার হয়ে যায়! একজন মহিলা হয়ে মেয়েদের অসহায়তার দিনে মেয়েদের পাসে দাঁড়িয়ে ‘নেপালের মাদার টেরেসা’ বলেও অভিহিত করা হয়।

(সংগৃহীত)

শেয়ার করুন:
  • 925
  •  
  •  
  •  
  •  
    925
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.