ছোট্ট, কিন্তু চমকে উঠার মতো দুটি ঘটনা

কাশফি জামান শ্যামা:
কেস স্টাডি -১: ছেলেটার ছদ্মনাম ‘রুপম’, বয়স আনুমানিক ১৪, এইচআইভি পজিটিভ। প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিকের পেশেন্ট। আমি ওকে যখন দেখেছি, তখন হসপিটালাইজড, আমাদের দেশের প্রথম শ্রেণির একজন শ্রদ্ধেয় সাইকিয়াট্রিস্টের নিবিড় পর্যবেক্ষণে বাচ্চাটা আছে। ১৫০০ মি. গ্রাম ভ্যালিয়াম ইঞ্জেক্টের পরেও ঘুমের লেশমাত্র ছিল না ছেলেটার চোখে। হঠাৎ দেখলাম ও উঠে বসলো, আর নিজের জিহ্বা কামড়াতে শুরু করলো। কিছু বুঝে উঠার আগেই উপস্থিত ডাক্তার আর নার্সদের উপর নিজের মুখ থেকে রক্ত ছিটিয়ে দিতে লাগলো।
কাশফি জামান শ্যামা

পরের ঘটনাটুকু আর নাইবা বলি……….

ছেলেটা ড্রাগস নিত, নামি ইংলিশ মিডিয়ামের পড়ুয়া ছেলেটি পারিবারিক সাহচর্য বলতে কী, তা জানেই না, আমি যতদিন রিসার্চ করেছি, ওর বাবাকে দেখিনি, মা খুব বিরক্ত, একমাত্র নানীকে ওর সাথে পেয়েছি। ভয়ংকর ক্রোধ ও লালন করছে মনে, যেকোনো সম্পর্ক ওর কাছে অপাংক্তেয়। সবাই এইচআইভিতে আক্রান্ত হলেই ও যেন স্বস্তি পেতো।
কেস স্টাডি-২: “Borderline personality Disorder “, কঠিন অথচ মোটামুটি দুর্লভ এই রোগটি গত শতকেও এদেশে ছিল একেবারেই অপরিচিত। মেয়েটির বয়স ১৩, নাম দিলাম ‘পরী’….এত্তো সুন্দর দেখতে আর কিছু বলে ডাকতে মনেই চায় না। হাসিখুশি, প্রাণশক্তিতে ভরপুর, টগবগে, স্মার্ট মেয়েটি নীরব এই রোগের শিকার।
এর প্রধান লক্ষণ আর সমস্যা হলো নিজেকে ঘৃণা করা, এতোটাই যে নিজেকে আঘাত করে, অথবা নিজেকে হত্যার চেষ্টা করা। ব্রোকেন ফ্যামিলির মেয়েটা স্বপ্ন দেখতো, আব্বু আর আম্মুর সাথে লাল রঙা একটা ছোট্ট গাড়ি চড়ে দূরে ঘুরতে যাচ্ছে,  রাস্তায় আব্বু বারে বারে আইসক্রিম, ফুচকা আর চকলেট কিনে দিচ্ছে…., খুব সস্তা, খুব সহজ স্বপ্ন!!!
বলাই বাহুল্য, মেয়েটার এই স্বপ্ন পূরণ হয়নি কখনও, যারা করতে পারতেন তারা নিজেদের কষ্টকে প্রাধান্য দিয়েছেন, আর বঞ্চিত মেয়েটা পারিবারিক যাঁতাকলে পড়ে ধীরে ধীরে নিজের অস্তিত্বকে ঘৃণা করা শুরু করে দিয়েছে, ক্রমেই তা BPD Syndrome এর রূপ নিয়েছে।
কাউকে আঘাত দেয়া নয়, বরং ঘটনা দুইটি বলার একটা উদ্দেশ্য আছে, দুইটি ক্ষেত্রেই পরিবারের আর্থিক অসঙ্গতি ছিল না, ছিল পারিবারিক বন্ধনের অভাব, ছিল ভালবাসা নেয়ার আর দেয়ার বড্ড অভাব!
শারীরিক অসুখের দাওয়ার মতো মনের অসুখেরও নিবারক আছে। একটু স্যাক্রিফাইস, সামান্য ছাড়, আর অনেক অনেক ভালবাসা …. জীবনে আর কী বা চাই!
বিশ্ব মানসিক হেলথ্ থিমে- স্যাইকোলজিক্যাল ফাস্ট এইড ( Psychological frist Aid) কে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, এই এইড-টাই পরিবার, এই এইড-টাই ভালবাসা…..সবাই পরিবারমুখী হোন, পরিবারকে অল্প হলেও সময় দিন, দাওয়া আর দোয়া দুটোরই কাজ হবে। 
লেখক: জুভেনাইল কাউন্সিলর, কিশোর ও কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্র।
শেয়ার করুন:
  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
    8
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.