“কোথাকার মেয়ে” এবং আমার ইতর আত্মীয়-স্বজন

মুক্তাশ্রী চাকমা সাথী: অামার এক লন্ডন ফেরত, বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করা বড় ভাই মদ খাইয়া নিয়ম কইরা বউ পেটায়, বউরে নানা রকম যৌন নির্যাতন, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে। মদ না খাইলে উনি অবশ্য দুনিয়ার ভালা মানুষ। ১০/১২ বছর ধইরা তার বউ এইসব সহ্য করসে, গত পরশু অার না পাইরা অামার কাছে অায়া কয়, “সাথী, অার তো পারতেসি না। বয়স হইতেসে, ছেলে বড় হইতেসে, অামি অালাদা হইতে চাই”।

2অামি কইলাম ভালোমতো চিন্তা কইরা সিদ্ধান্ত নেও, কারণ এই সমস্ত কেইসে জামাইরা অাইসা মাফ চাইলেই, বউরা অাবার কুত্তার মতো ফেরত যায়। তারপর চাইরদিন পর অাবার মাইর খায়। ” সে একদিন ভাইবা অাবার খবর দিলো, সে অার ফেরত যাবে না। অামি অামার কাজের অংশ হিসাবেই সে কী কী পন্থায় ডিভোর্সের জন্য অাবেদন করতে পারে, তা জানায় দিলাম।

এখন অামার অাত্মীয় স্বজনের কথা হইলো, অামি ক্যামনে এই কাম করতে পারলাম। ভাইয়ের পক্ষ না লইয়া কোথাকার কোন মাইয়া ( যার সাত পুরুষের ভাগ্য অামার ভাই তারে বিয়া করসে) তারে সাহায্য করলাম? ভাইয়ের কুনো দোষ নাই, শুধু মদ খাইলে একটু মাথা গরম করে। অার স্বামী হিসাবে বউয়ের উপর তার যৌন অাকাংখা পূরণ করার অধিকার তো তার অাছেই, তা সে যতোই বিকৃত হোক। অামি কতো বড় বেয়াদপ অার কত্তো বড় কাবিল যে বউরে পথ দেখাইলাম। দুই একটা দেশ ঘুইরা নিজেরে অামি কি ভাবতাসি। সাথী ছোটকালেও বেয়াদ্দপ অাসিলো, বিয়া করনের পরও বেয়াদ্দপ অাছে।

টু দ্য অাত্মীয় স্বজন ইন মাই লিস্ট- অামি প্রয়োজনে বড় ভাই কী কী করসে তার বউয়ের লগে, তারও সাক্ষী দিমু। অামি যে কতো বড় বেয়াদ্দপ তা জানার এখনো বাকী অাছে। সময় থাকতে বড় ভাইরে সামলান। এমন ভায়ের চাইতে “কোথাকার মেয়ে” অামার কাছে বেশী অাপন। অপ্নেরা দূরে গিয়া মরেন।

আপডেট: আমাদের বাসায়  গত পরশু ( ৩রা সেপ্টেম্বর, ২০১৬) অভিযোগকারী  বউয়ের  অনুরোধে এই পারিবারিক নির্যাতনের  ঝামেলা নিয়ে  পারিবারিকভাবে  মিটমাট  করা যায় কিনা তার উদ্দেশ্যে  মিটিং বসে।  মিটিং-এ উপস্থিতি সর্বমোট  ১৩ জন।

১।  অভিযোগকারী  বউ  (পরবর্তীতে বউ  হিসেবে উল্লেখ করা হবে),

২।  অভিযুক্ত জামাই  (পরবর্তীতে জামাই  হিসেবে উল্লেখ করা হবে),

৩। তার  বোন  যিনি  আমার  কাজিন ( ছদ্মনাম  সুফলা-  উনি পারিবারিক নির্যাতনের শিকার কিনা তা সম্পর্কে আমি  নিশ্চিত নই,  কিন্তু গুজব আছে উনিও  মানসিক  নির্যাতনের শিকার, কিন্তু  ভালো স্ত্রী তাই কিছু বলেন না),

৪। আমার  আরেক নারী  কাজিন  ( ছদ্মনাম কাকলি  – ইনি  বলেছেন,  ইনি স্বামী হতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার না হলেও অন্যান্য  “ছোট খাটো- যা কোন পরিবারে হয় না?”  –  (ঊনার  কথায়)  ঝামেলা  অনিয়মিতভাবে  ফেইস  করেন এবং উনি  স্ত্রী যেমন হওয়া  দরকার তা , তাই কিছু  বলেন না) ,

৫। আমার বাবা, মদ খাওয়া বা এবং বউ পিটানোর  ইতিহাস নাই।      

৬। আমার  মা।

৭। আমার  ছোট  কাকা।  যৌবন  বয়সে  মদ খাওয়া বা/এবং বউ পিটানোর  ইতিহাস আছে,  কিন্তু ঊনার ছেলেমেয়ে সাবালক বড়ো হওয়ার পর  থেকে উনি এই চর্চা থেকে মুক্ত।      

৮।  আরেকজন অধিকাংশ সময় মাতাল হয়ে  থাকা + বিভিন্ন  ঝামেলা প্রায় তৈরিকারী+বউ পিটানোর  ইতিহাস  আছে পুরুষ কাজিন  (ছদ্মনাম  পটল)

৯  ও ১০।  আমার সাবালক  ভাইপো ও  ভাগ্নি

১১। আমার আপন ভাইয়ের বউ টোরী।

১২ ও  ১৩ । আমার আরও দুই কাজিন ভাই  ”ক ও খ”  যাদের  মদ খাওয়া সংক্রান্ত বা এবং বউ পিটানোর  কোন  ইতিহাস নাই।

এবং  আমি।

ছোট কাকা এবং পটল বাসায় পা দেওয়ার  সাথেই সাথে  বলতে লাগলেন, উনাদের অনেক কাজ আছে, তাড়াতাড়ি কথা শেষ করতে হবে, বাইরে ঝড়- বৃষ্টি  শুরু হওয়ার আগে উনাদের চলে যেতে হবে। এইসব  মিটিং সিতিং হইল “সময় অপচয়”।  

বাবা কথা শুরু করলেন এবং বউ ও জামাই দুই জনের কথা সবার  সামনে  বলার  অনুরোধ   করলেন। কিন্তু বউ জামাই কথা বলার আগেই সবাই কথা শুরু কইরা দিল এবং বউয়ের কী কী দোষ তার ফিরিস্তি দিতে লাগল। ফিরিস্তির এক পর্যায়ে  জামাই বললো, ঊনি সংসার করতে চান এবং  বউ যা বলেছে তার অধিকাংশ মিথ্যা কথা।  ঊনার গত  তিনদিন বউ বাচ্চার জন্যে অনেক মন পুড়েছে,  ঊনি মদ খান সত্য, মদ খেয়ে  ঊনি উনার মতো থাকতে চান, ওই সময় বউ তার কানের কাছে ঘ্যানঘ্যান করলে তার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। যার কারণে মাঝে মাঝে ঊনি বউয়ের গায়ে হাত তুলে ফেলেন।

3বউ বলল,  “জামাই মদ  খাইলে ঊনার  মেজাজ ঠাণ্ডা রাখার জন্যে আমরা মা আর ছেলে মিলে জামাইয়ের  হাত পা ধুয়ে দিই,  ভালো মন্দ রাইন্ধা দি, তারপরও ঊনি নিয়মিত মারেন।  মাসে দুই মাসে একবার মাইর  খাইলে সহ্য করে যাইতাম, এক থাপ্পড় -দুই থাপ্পড় খাইলে  সহ্য করে যাইতাম,  কিনতু প্রতিদিন, প্রতিদিন  মাইর… এমনো  আছে যখন নাক দিয়া রক্ত  পড়সে, চুল টাইনা ছিড়ে দিসেন, মাথা দেয়ালে ঠুকে দিসেন, আরও অন্যান্য অনেক নির্যাতন যা মুরুব্বির সামনে আমি বলতে পারবো না। আর সহ্য করতে পারছি না বলেই ডিভোর্স চাই।”      

ছোট কাকা বলল, “এতো কথা বলার দরকার নাই,  আমাদের পাশে তোমাদের যে জায়গা আছে, ওইখানে বাড়ি বানাও। জামাই-বউ ওইখানে থাকবা। ওইখানে সমাজ আছে, বউ পিটাইলেও সমাজ  বিচার করবে, বউ জামাইয়ের অবাধ্য হয়ে কোন ঝামেলা করলেও  সমাজ বিচার করবে।”  

বউ কইলো,  “ কিন্তু  আমার  ব্যবসা তো এইখানে,  জামাইয়ের ব্যবসাও এইখানে, ওইখানে গেলে আমরা খাবো কী? আর এইটা কী ধরনের কথা , ও মদ খায়, এইটা নিয়ে আপনেরা কিছু বলেন।”

কাকা বলল, “জামাই যা খাবে তা খাবা। তোমার কাজ করা লাগবে না।”

পটল,  কাকার কথা শেষ হইতে না হইতে  বউরে কইলো, “ওই মদ খাওয়া নিয়ে তুমার এত সমস্যা কেন? এইটা আমাদের কালচার”।  আমার মা কইলো, “ মদ খাও ভালা কথা, মদ তো ছেলেমেয়ে বহুত মানুষজনই  খায়। তোমাদের মতো ভেজাল কয়জন করে? মদ খাইয়া ভেজাল না কইরা থাকন যায় না?”

কাকলি  আপা বউরে  কইল,  “শোন মাইয়া,  জামাই আছে, মাথার উপর বড়ো একখান ছাতা আছে, জামাই গেলে বুঝবা, কী হারাইলা। তুমি কী ভাবসো এক জামাই ছাইড়া দিয়া আর এক জামাই নেওয়া এতো সহজ? পোলারা বউ গেলে বউ পায়, তুমি  ভাবতেসো  আর একটা জামাই বিয়া করবা? তোমারে কেউ নিতো না।”

বউ কইলো, “এইসব কী কন? আমি কি আর একজনরে বিয়া করার লাইগা জামাই ছাড়তে  চাইতেসি? মাইর খাই বইলা, ছারমু কিনা তা ভাবতেসি।”

আমরা ছুডু মানুষ হিসাবে চুপচাপ শুধু  কথা শুনতেসিলাম। এই সময় সবাই এক সাথে বউরে কী কী যেন উপদেশ দেয়া শুরু কইরা দিল। পটল ( আমার চেয়ে  ৮/১০ বছরের বড়ো) তার গলা উঁচা কইরা মহাগর্ব নিয়া চেয়ার ছাইরা দাঁড়াইয়া তর্জনী নাচায় নাচায় কইলো, “ আরে শোন, দোষ তোমার। জামাই বউ এর মধ্যে কতোকিছু হয়, বাড়ির ময়লা বাইরে আনো কেন? লজ্জা নাই তোমার? আমি মদ খাইয়া আমার বউরে সিগ্রেটের আগুন দিয়া ছেঁকা দিই। কই আমার বউ তোমার মতো  নালিশ  করতে  আসে?”

আমি জানি না আমার তখন মাথার মধ্যে কী হইলো,  আমি চিৎকার করে বললাম, “তোর শালা এইটা গর্ব করার ব্যাপার?  তোরে এই মুহূর্তে পুলিশের কাছে দেওয়া দরকার।  কতো বড়ো ইতর তুই?“ সে পাল্টা কইল,  “তুই নিজেরে কী মনে করস?  কয়েকটা দেশ ঘুইরা তুই বড়ো কাবিল?  আমার বউ আমি ইচ্ছা করলে পিটমু,  ইচ্ছা করলে জবাই দিমু, তোর কাছে নালিশ না নিয়া আসলে তুই এমনে আমার সাথে  কথা বলার কে?”   

আমি গলা ফাটাইয়া চেঁচাইয়া কইলাম, “তোর  বউ না আসলেও তুই যে আইজ  এই কথা কইসস, আমি তোর  বড়ো হইলে তোরে  ধইরা  ছেঁচতাম।” মিটিং এ  উপস্থিত  বড়ো ও ছোটরা অবস্থা বেগতিক দেইখা আমারেও চুপ করাইতে লাগল, পটলরেও  চুপ থাকতে বললো।    

লজ্জার ব্যাপার হইলো,  আমার মা আর  আমার “ক” ভাই  বাদে বড়োদের মাঝে কেউ  আর পটলরে তার  গর্ব কইরা সিগ্রেট দিয়া মানুষ পুড়ানোর  ব্যাপারে কিছু কইলো না।

কাকলি আপা বউরে কইল, “তোমাদের মধ্যে যে এতো এতো গণ্ডগোল, কখনো আমগোরে আইসা কইসো? তোমার জামাইরে এইসব না করার জন্যে আমরা যেন কিছু বলি?” আমি কইলাম- “ক্যান  উনার আইসা বলতে হবে? ঊনি যে কয়েকদিন পরপর বাসা থেকে পালাইয়া যায় , আপ্নারা আপ্নেগো ভাইরে  স্বপ্রণোদিত হওয়া কিছু বলেন নাই কেন? পালাইয়া তো বউ বার বার জামাইয়ের আত্মীয় গো কাছেই উঠসে।”

কাকলি আপা দুই আঙ্গুল  ঘইসা ঘইসা  আমারে কইলো, “তারা দুই জন সংসার করতাসে, আমরা বলার কেডা?” আমি কইলাম, “তাজ্জব মুরুব্বি তো আপনেরা! আমি যদি  জামাইয়ের ঘর থেইকা পালাইয়া আমার বাসায় উঠি,  আমার ভাই যদি আসলেই ভাইয়ের  মতো ভাই হয়, তার তো উচিত, তখনি আমার  জামাইরে ফোন কইরা  কওয়া, ওই বেটা, আমার বোনের  লগে কী করসস তুই?

Chitkarসুফলা  আপা  একটু  কইরা কইলো,  “কিন্তু আমগো ভাই তো আলাদা হইতে চায় না ,  আলাদা হওযনের কথা তো বউ কয়।” মা কইলো, ” জামাই কয় না, কারণ জামাই পিডা খাইতেসে  না, যে  পিডা খাইতেসে, সে আলাদা হইতে  চাইতেসে, এইডা বুঝনের আক্কল না থাকলে কেমনে  কী?

তারপর কোন ফাঁকে  আমার বাপ কইল, “বউমা, এইবার লাস্ট বার আমার কথা মাইনা আর একবার দেখ, যদি আবার তোমার গায়ে সে হাত তুলে, তাইলে তার জন্যে আমি  /আমার পরিবার তোমার সাথে  থাকবে।” বউ কইল, “মামু, আপনি যখন বলতেসেন আমি যামু।”

এর মাঝে সবাই বলতে থাকলো, “ এক হাতে তালি বাজে না… এক হাতে তালি বাজে না।”

এর মধ্যে  আমার বাপ বউরে  কইল, “তোমার লাইগা আজকে ভাই বোনের (আমার আর পটলের) মধ্যে  মনোমালিন্য  হইতাসে।” আমি কইলাম, “কোনটা  আমার ভাই? খবরদার তুমি বউ-এর ঘাড়ে দোষ  দিবা না, পটলের  দোষে পটলের লগে আমার গণ্ডগোল হইতেসে, বউরে এর মাঝে টানবা না।”

তারপর আনুষ্ঠানিক মিটিং শেষ হইয়া গেলো, সুফলা আপা চলে গেলেন, কাকলি আপা কইতে লাগলেন, তার মা তার বাপের  কাছে মাইর খাইসে, তার কাকী কাকার কাছে মাইর খাইসে, চাকমা সমাজ এমন। আমি কইলাম, “জ্বে না। চাকমা সমাজ এমন না। কিছু ইতর আছে  এমন।  সব সমাজেই  আছে।”  

আমারে সে কইল, “তোমার মারে জিগাও, তোমার মার-ও পরিবারে ঝামেলা হইসে কিনা,”।  আমি মারে জিগাইলাম, “বাবা তোমার গাইয়ে হাত তুলসে কখনো?” মা হাইসা কয়, “না”। আমি কইলাম, “যদি কখনো এমন হয়, সে হাত তুলসে, আমারে কইবা। আমার কাছে বাপের  জন্যে  এক হিসাব, দুনিয়ার অন্য মাইনসের জন্যে  আরেক হিসাব না।”

কাকলি আপা কইল, “ তোর বিদেশি জামাই তো, তুই বহুত ফাল পারবি।” টোরি  কইলো, “আচ্ছা,  ওর না হয় বিদেশি জামাই,  আমার জামাই তো বিদেশি না।  আমারে যদি আমার জামাই একবারও  মারে, তাইলেও তো আমি থাকুম না। আপনের মেয়ে মাইর খাইলে আপনে আইজকা যেমনে বউরে জামাইয়ের  ঘরে ফেরত পাঠাইতেসেন, তেমনে পাঠাইতেন?“

কাকলি আপা কইল, “আমার মেয়ে যদি নিজের দোষে জামাই দ্বারা নির্যাতিত হয়, তাহলে আমি উল্টা মেরে মেরে আমার মেয়েকে নিজে গিয়ে জামাই এর ঘরে দিয়ে আসবো। আর যদি আমার মেয়ের কোন দোষ না থাকে, তাহলে আমিও জামাই এর শেষ দেখে ছাড়বো। হ, আমার মাইয়ারে আমি জামাই এর ঘর ছাড়ার আদর্শ দিই নাই।””

আমি মায়ের দিকে ঘুইরা কইলাম, “মা, জীবনে তোমারে ধন্যবাদ দিই নাই, আইজ দিতাসি, তুমি যে আমগোরে জামাইয়ের মাইর খাইলে ঐ ঘরে  ফেরত পাঠানোর মতো মা না, এইজন্যে তোমারে ধন্যবাদ।” আমার মা কইলো, “ কাকলি, আমার পোলা যদি আমার পোলার বউয়ের গায়ে হাত তুলে, তারে আমি তখনই ঘাড় ধইরা বাসা থেকে বাইর কইরা  দিমু।  ঝগড়া-ঝাঁটি  আর বউ পিটানোর মধ্যে পার্থক্য আছে। ” কাকলি কইলো, “মা হিসাবে তুমি তোমার পোলারে শাসন করতেই পারো কাকী, কিন্তু বউয়ের কোন অধিকার নাই জামাইয়ের ঘর ছাড়ার।”

( খিক খিক খিক খিক খিক)

এই সব ছাতার মাথা গণ্ডগোলের ভিতর আমি বউ জামাই দুই জনের কাছেই গিয়া কইলাম, “তোমরা একটু দুইজন একসাথে আর কারোরে ছাড়া  আমার রুমে  একটু  বসো? বসবা?”  দুইজনই আমারে কইলো “হ্যাঁ।”

Muktasree
মুক্তাশ্রী চাকমা সাথী

আমি কইলাম, “কিন্তু কে কোন দোষ করসে তা নিয়া কথা কইতে পারবা না। অন্য কিছু যেমন ধর… আজকের আকাশ কেমন ছিল, বাজারে কী উঠেছিলো এইসব নিয়া কথা বলতে হবে, পুরান  গু  উলটাইতে পারবা না।”  দুই জন হাইসা কুটি কুটি হইয়া কইলো, “আচ্ছা।”

আমি রুমে  তাগোরে  একা বসানোর ব্যাবস্থা কইরা, নিচে আইসা  কাকলি আপারে কইলাম,  “আপা, মাইয়াগোর গায়ে হাত তোলা এই ব্যাপারে আমার ঘাড়ের রগ একখান  ত্যাড়া। যদি কোন অপরিচিত মাইয়াও আইসা বলে, তার গায়ে কেউ হাত তুলসে, তাইলেও  আমি তার জন্যে যা করার তা করমু। অন্য মাইনসেরও সাহায্য  নিমু। এই যে তোমরা সবাই, আমার জামাই বিদেশি, জামাই নাই দেশে আমারে নেয় না,  আমি ছোট মানুষ , জীবনের এখনো কী দেখসি এইসব হাসা-মিসা কইয়া আমার মতামতরে ছোট দেখাইতে চাইলা, তাও যদি তুমি কখনো এমন পরিস্থিতিতে পইড়া  আসো, তাইলেও আমারে পাইবা।  যে বয়স্ক ব্যক্তির চুল সাদা কিন্তু মন সাদা না, বেটাগিরিতে ভরপুর, সেই বয়স্ক ব্যক্তিরে  আমি পুঁছি না।

কাকলি দি, বউ, জামাই আর তাদের পোলারে  ট্যাক্সি পর্যন্ত আগায় দিলাম। বাসায় ঢুইকা মা-রে কইলাম, “পটল যদি আর জীবনে এই বাসায় নিমন্ত্রিত হইয়া আসে, তাইলে আমি বাসা ছাড়মু। বাপরে  কইয়া দিয়ো। ঐ ইতর সবার সামনে তার বউয়ের কাছে মাফ চাইয়া তারপর আমগোর বাসায় নিমন্ত্রিত হবে। এখন আমার বাপের ইচ্ছা, তার এমন বেয়াদ্দপ মাইয়া দরকার, নাকি ইতর ভাইপুত যে গর্ব কইরা কয়, ‘আমি মদ খাইয়া, বউরে পুড়াই’।”

পুনশ্চ: পটলের বউ রে অনেকবার কওয়া হইসে, পুলিশর কাছে যাইতে, তারে যতবার কেউ এই সুপরামর্শ দেয়, ততবারই ঐ বেকুব যাইয়া পটলের কাছে গিয়া নালিশ দেয়, পরামর্শকারীর নামে। পটল তারপর মদ খাইয়া পরামর্শকারীর বাসায় আইসা পরামর্শকারীরে গালিগালাজ করে। এই সুপরামর্শকারীর মধ্যে কাকলিদিও একজন, এই ধরনের বেকুব মাইয়ার জন্যেও আমার কোন দরদ নাই।”

আমারে  হয়তো  অনেকেই  বলবেন, আমি কেন ঘরের  কথা বাইরে কইতাসি, কইতাসি কারণ এইসব  ঘরের  কথা না। এইসব প্রতিটা  ঘরে ঘরের কথা।  আর আমরা পরিবারের আত্মীয় স্বজনের  মহান সম্মান রক্ষার্থে  চুপ কইরা থাকি বইলায়, এইসবের সমাধান হয় না।  আমি  আমার এইরকম আত্মীয় স্বজন আছে বইলা লজ্জিত।  চরম লজ্জিত।  অনেক কিছুই করতে পারুম না।  কিন্তু কইতে তো পারুম।  আমি এখন যেমন লজ্জিত বোধ করতাসি, কোনদিন হয়তো ঊনারা, ঊনাদের ছেলেমেয়েরাও আমার মতো লজ্জিত হবেন। তাদের বাবা-মা, ভাই-বোনদের বুঝাবেন। চুপ মাইরা সহ্য কইরা যাওয়াটাও  তাদের  অন্যায় কাজে সাহায্য করা।  আমি বেয়াদ্দপ। আমি এইরকম বয়স্ক ব্যক্তিরে  সম্মান দেখাইতে জানি না।
শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.