শান্তা মারিয়া:
বাংলাদেশের গণমাধ্যমের অন্ধকার দিকগুলোর একটি হলো যৌনহয়রানি। সেই ষাটের দশক থেকেই এই কাহিনী চলছে।
গত ত্রিশ বছর ধরে দেশের প্রথম সারির বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে চাকরি করেছি। এর আগে অনেকবারই মিডিয়ায় যৌন হয়রানির বিষয় নিয়ে লিখেছি। আজকে আবার লিখতে বাধ্য হচ্ছি। প্রদীপের নিচে অন্ধকারের মতো বাংলাদেশের মিডিয়ায় যৌন হয়রানি ঘটছে অনেক দশক ধরেই। কিন্তু এই সত্য কথাগুলো কেউ সাহস করে বলতে চায় না। বিভিন্ন কারণে এই কথাগুলো ভিকটিমরা বলেন না। কারণগুলো প্রধানত হলো চাকরি চলে যাওয়া, অধিকতর হয়রানির শিকার হওয়া, সামাজিক সম্মানহানি এবং পারিবারিক সমর্থনের অভাব। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যারা হয়রানি করেন তারা প্রতিষ্ঠানে প্রভাবশালী। তাদের হাতেই থাকে চাকরি। এমনিতেই মিডিয়ার চাকরি খুবই অনিশ্চিত। পান থেকে চুন খসলেই চাকরি যেতে পারে যদি খুঁটির জোর শক্ত না হয়। আবার নির্যাতনকারী যদি প্রভাবশালী হয় তাহলে তো কথাই নেই। এক মিডিয়া থেকে ভিকটিম চাকরি ছেড়ে গেলে সে অন্য মিডিয়াতেও চাকরি পাবে কিনা সন্দেহ।
ষাটের দশকে বাংলাদেশে খুব কম সংখ্যক নারী পত্রিকায় চাকরি করতেন। বিটিভিতে (তখন পিটিভি) ছিলেন কয়েকজন। পত্রিকায় নারীদের দিকে তাকিয়ে উদ্দেশ্যমূলক হাসি ঠাট্টা, চরিত্র নিয়ে আলোচনা, তার শাড়ি পরার ধরন নিয়ে এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মুখরোচক আলোচনা ছিল ডালভাত। সত্তরের দশকে যারা বিটিভির প্রযোজক (প্রোগ্রাম প্রোডিউসার) ছিলেন তাদের অনেকের নামেই অনেকবার নারী শিল্পীদের অনৈতিক প্রস্তাব, অনৈতিক সম্পর্কে বাধ্য করা, হয়রানি এমনকি ধর্ষণের অভিযোগও উঠেছে। আশির দশকে একটি ধারাবাহিক নাটকের সুবিখ্যাত প্রযোজকের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ এবং গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
সেসময় যদি পত্রিকায় কর্মরত কোন নারীর পারিবারিক জীবনে কোন সমস্যা দেখা দিত (যেমন, ডিভোর্স হওয়া, স্বামীর মৃত্যু) তাহলে তাকে খুব সহজে হাত করা যাবে এমনটি ভেবে নিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেয়ার ঘটনা অনেকবারই ঘটেছে। এগুলো জানতে পেরেছি আমাদের অনেক সিনিয়র নারী সাংবাদিকের কাছ থেকেই।
নব্বই দশকে আমি সাংবাদিকতায় আসি। এবার যেসব ঘটনা বলবো তা আর শোনা কথা নয়। একেবারে নিজের চোখে দেখা।
নব্বই দশকে যারা বিভিন্ন পত্রিকায় সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন তাদের অনেকেরই (সকলের নয়) আলুর দোষ ছিল। নারী লেখকদের টেবিলের সামনে বসিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা ফাউ প্যাচাল পাড়া ছিল তাদের মজ্জাগত। এছাড়া নারী কবি-লেখকদের কাঁধে হাত রেখে কথা বলা, তাদের সঙ্গে প্রেম-প্রেম আচরণ করা, রিকশায় নিয়ে ঘুরতে যাওয়া (কারণ এই খবিসদের বেশিরভাগেরই তখন গাড়ি ছিল না) ছিল মামুলি বিষয়। এমনকি বয়েস নেদিয়ে পড়া অনেক সাহিত্য সম্পাদকও স্নেহের প্রকাশ হিসেবে নারী লেখকদের মাথায়, কাঁধে, পিঠে হাত রেখে তারপর কবিতা প্রকাশ করতেন। মজার বিষয় নারীরা কিন্তু পুত্রস্নেহে বশীভূত হয়ে কোন পুরুষ লেখকের কাঁধে হাত রাখতেন না। তবে তরুণ কবিদের অনেকেই সেসময় সাহিত্য সম্পাদকদের নিত্যনতুন প্রেমিকা সরবরাহের দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করার বিনিময়ে নিজেদের লেখা প্রকাশে সফল হয়েছিলেন।
এখানে আমি অনেক নারী কবিকেও বলতে চাই, কী দরকার ছিল ওইসব সাহিত্য সম্পাদকের কুরুচিকে প্রশ্রয় দিয়ে, তাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ার বিনিময়ে কবিতা প্রকাশের? কী এমন বিখ্যাত হলেন? একজনের স্বেচ্ছায় দেয়া প্রশ্রয়ের ফলে যে অন্যদের ভিকটিম করার পথ খুলে দেয়া হয় সেটা কি আপনারা বোঝেন না? সেসময় একটি ঐতিহ্যবাহী দৈনিকের একজন সাহিত্য সম্পাদকের প্রেমের ঠেলায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ওই অফিসেরই ফিচার বিভাগে কর্মরত আমার এক তরুণী বন্ধু (সে নিজেও কবি ছিল) আত্মহত্যা করেন। সেই ঘটনারও কোন বিচার হয়নি। যাক, সাহিত্য সম্পাদকদের নষ্টামীর কিচ্ছা পরে একদিন আলাদাভাবে লিখবো।
নব্বই দশকে অনেক নারী পত্রিকায় যোগ দিতে থাকেন। ফিচার, এডিটোরিয়াল, সম্পাদনা, নিউজ ডেস্ক ও ন্যাশনাল ডেস্কে সাবএডিটর হিসেবে নারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। সেইসঙ্গে অল্পবিস্তর যৌন হয়রানির ঘটনাও সংখ্যায় বাড়তে থাকে। খুব সাধারণ একটি উদাহরণ দিই। নিউজ ডেস্কে সেসময় ধর্ষণ ও খুনের খবরগুলো একজন হয়তো কমপাইল করতেন। সন্ধ্যার সময় শুরু হতো উচ্চগলায় ডাকাডাকি ‘আজ কে ধর্ষণ করছে, কে খুন করছে?’ নিউজ ডেস্কে কাজের সময় নারীদের জন্য খুবই অস্বস্তিকর ছিল এই কথাগুলো। কিন্তু সহ্য না করলেই শুনতে হতো আপনারা চিরদিন নারীই রয়ে গেলেন, সাংবাদিক হতে পারলেন না’।
এমনকি ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন নিয়ে বিভিন্ন কৌতুক (যেগুলো ভারবাল অ্যা্বিউসের পর্যায়ে পড়ে এবং খুবই অস্বস্তিকর), কিছু অ্যাডাল্ট কথাবার্তা এগুলোও নারীদের হাসিমুখে সহ্য করতে হতো। ভুক্তভোগীদের নিশ্চয়ই মনে পড়ছে। বিস্তারিত দাখিলায় না যাই।
একটি বড় জাতীয় দৈনিকে প্রথমবারের মতো একজন তরুণী স্পোর্টস রিপোর্টার যোগ দিলেন। ব্যস, আর যায় কোথায়। বিবাহিত, অবিবাহিত রকমারি পুরুষ সহকর্মীরা তাকে প্রেমের প্রস্তাব (পড়ুন বদামীর প্রস্তাব) দিতে লাগলেন। ব্যর্থ হয়ে তাকে নানাভাবে ভারবাল অ্যাবিউসও করেছেন। কোন ফল হয়নি অভিযোগে। কাছাকাছি সময়ে আরেকজন তরুণী রিপোর্টার যোগ দেয়ার পর তিনি যখন বিয়ে করবেন তার আগে তাকে ভয়াবহভাবে উত্ত্যক্ত করা শুরু করলেন ওই অফিসেরই একজন সহকর্মী রিপোর্টার। কিন্তু এবারও অভিযোগ জানিয়ে কোন ফল হয়নি।
নিউজ ডেস্কের এক অসহায় নারী সাবএডিটরকে নিয়ে (চাকরি খাওয়ার ভয় দেখিয়ে) বিবাহিত নিউজ এডিটর কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে বেকায়দাতেও পড়ে যান। এসবই চোখে দেখা ঘটনা।
ফিচার বিভাগের এক নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানি করায় অন্য সহকর্মীরা মিলে ধোলাই দেয়ার ঘটনাও ঘটে।
অধুনা বিলুপ্ত একটি অনলাইনের একজন নারীকে একজন প্রবীণ নিউজ এডিটর (এবং বস) যৌন হয়রানি করায় ওই অনলাইনে কর্মরত আমার এক বন্ধু প্রতিবাদ করে চাকরি ছেড়ে দেন।
নতুন শতকে একের পর এক টিভি মিডিয়া আসতে থাকে। মাত্রা বেড়ে যায় মিডিয়া হাউজের ভিতরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, যৌন হয়রানি, ভিডিও ফাঁস ইত্যাদি ঘটনার। নিউজ কাস্টারের সঙ্গে চিফ নিউজ এডিটরের রঙ্গলীলা হয়ে যায় ওপেন সিক্রেট এবং স্বতঃসিদ্ধ। যিনি রাজি হবেন না, প্রতিবাদ করবেন তিনি বাতিল।
কয়েক বছর আগেও একটি বিশাল টিভির চিফ নিউজ এডিটরের টেলিফোন সংলাপ ফাঁস হয়, যেখানে তিনি একজন নিউজ কাস্টারকে বলছেন, তুমি আমার ৫৫ নম্বর প্রেমিকা। ওই ৫৫ নম্বরের অভিযোগের পরও চাকরি হারাননি সেই ব্যক্তি।
বিশাল বড় একটি টিভি চ্যানেলের মালিককে নিয়মিত নারী সরবরাহ করে দেশে বিদেশে প্রভূত সম্পদ অর্জন করা এক সাংবাদিক দম্পতির গল্পও অনেকেরই জানা।
পাঁচ তারকা হোটেলে একজন মিডিয়া মালিকের একটি সুইট বুক করাই থাকতো । সেখানে নিয়মিত তরুণী নিউজ কাস্টারদের ছরে বলে কৌশলে পাঠানো ছিল একজন নারী চিফ নিউজ এডিটরের ডিউটি। সেসব খবরও নিশ্চয়ই সাংবাদিক মহলে বহুল চর্চিত।
পনের বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাবশালী অনেক পুরুষ সাংবাদিক অনেক নারী সাংবাদিককে যৌন হয়রানি করেছেন, অনেকের সঙ্গে মিউচুয়াল লেনদেনের ভিত্তিতে অনৈতিক সম্পর্ক গড়েছেন, প্রচুর লীলাখেলা করেছেন। প্রিধানমন্ত্রী বিট করেন এই দাপট দেখিয়ে অনেক নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানি করেছেন অনেক সাংবাদিক।
মোট কথা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার নারী সাংবাদিকদের একটি অকথিত মর্মান্তিক বেদনার বিষয় হলো যৌন হয়রানি। বিভিন্ন রূপে, বিভিন্ন চেহারায়, বিভিন্ন আকারে, ছোট বড় বিভিন্ন গুরুত্বে এই সমস্যাটি হাজির হয় মিডিয়ায় কর্মরত নারীদের সামনে।কখনো প্রেমের প্রস্তাব, কখনো অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ, কখনো যৌনগন্ধী বিদ্রুপ ও কথাবার্তা, কখনো যৌন হুমকি, কখনো কম্পিউটার স্ক্রিনে অশালীন ছবি সেভ করে রাখা, কখনো ফেইসবুকে হয়রানি, আবার কখনো আড়ালে আবডালে তার নামে রসালো আলাপ, কখনো তার চরিত্রে বদনাম আরোপ-এমন কোনো নারী সাংবাদিক নেই যিনি পেশাজীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে এগুলোর মুখোমুখি হননি।
প্রতিবাদ করতে গেলে হয় তার চাকরি যায় অথবা তাকে উদ্দেশ্য করেই নানা রকম বিরূপ কথাবার্তা চালু হযে যায় অফিসে। অনেক সময় খেতাব জোটে ‘পাগল মহিলা’। ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে সিনিয়র পুরুষ সহকর্মী অথবা কর্তৃপক্ষের যৌন হয়রানির শিকার হয়ে নিরবে চাকরি ছেড়েছেন অনেক নারী সংবাদকর্মী কারণ প্রতিবাদ করে বিষয়টি নিয়ে হইচই করলে তারই সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশংকা থাকে। তাই কিল খেয়ে কিল হজম করেই অনেকটা চুপিসারে বিদায় নেন তারা। অথবা হয়রানিকারীর কুপ্রস্তাবে অনিচ্ছা সত্তেও সাড়া দিয়ে নিজের চাকরি ও পজিশন ধরে রাখেন্ অনেক নারী।
আবার ভিন্ন চিত্রও আছে।
আমার ব্যক্তিগত একটি অভিজ্ঞতা বলি। তখন একটি মিডিয়া হাউজে সিনিয়র পজিশনে যোগ দিয়েছি। এক জুনিয়র সহকর্মী অভিযোগ করলেন একটি অফিসিয়াল অনুষ্ঠানের সময় তার পিঠে(তিনি শাড়ি পরা ছিলেন) হাত দিয়েছেন এক সিনিয়র পুরুষ সহকর্মী। আমি অভিযোগ শুনে সাথে সাথে কয়েকজন সহকর্মীকে সাথে নিয়ে বিষয়টির সুরাহা করলাম। নারীটির পক্ষে দাঁড়ালাম অবশ্যই। কিন্তু কয়েক মাস পরে অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম ওই নারীর সঙ্গে ওই পুরুষের বেশ ভালো খাতির হয়ে গেছে। এবং তারা দুজনে মিলে আমার বিরুদ্ধেই ঘোঁট পাকাচ্ছেন। এরকম মানসিকতা থাকলে কিভাবে আপনি ন্যায়বিচারের ব্যবস্থা করবেন ?
মিটু মুভমেন্টের সময় যখন কিছু কিছু নামী দামী (পড়ুন বদ লোক) সাংবাদিক, রথী মহারথীর বিরুদ্ধে সাহস করে কোন কোন নারী অভিযোগ করলেন তখন অভিযুক্তদের পাশে দাঁড়িয়ে গেলেন অনেকেই। অনেক নারী তাদের ‘ভাই আমার, জান আমার’ বলে সমর্থন করলেন। মিডিয়ার অন্য নারী সাংবাদিকরা অসচেতনতার কারণে কিংবা পদ ও সুবিধা হাসিলের উদ্দেশ্যে অভিযুক্তের হাতকে শক্তিশালী করেন। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত হন ক্ষমতাশালী। ক্ষমতার বলয়ে থেকে নিজেরাও ক্ষমতার ভাগ চান, সুবিধা চান অনেক নারী। যাদের অনেকেই সাম্প্রতিক ঘটনায় সতী ময়নার রোল প্লে করছেন। এই যে প্রবণতা, অর্থাৎআমার পক্ষের লোক, পরিচিত লোক, রাজনৈতিক বলয়ের লোক, স্বামী বা আত্মীয় স্বজন, আমার প্রতিষ্ঠানের বস,ভাইবন্ধু করলে আমি নির্যাতকের পক্ষে দাঁড়াবো এবং বিরোধী বলয়ের লোক করলে ফেসবুকে গলা ফাটাবো—এই প্রবণতার কারণেই কিন্তু নির্যাতকরা আশ্রয়, প্রশ্রয় পায়।
সাম্প্রতিক যে ঘটনাটি ঢাকা স্ট্রিমে ঘটেছে, সে প্রসঙ্গে বলি, আমার ধারণা এটি যদি আলতাফ শাহনেওয়াজ জুলাই বিপ্লবে ভূমিকা না রাখতেন বা ঢাকা স্ট্রিমে যোগ না দিতেন তাহলে এত জোরালো প্রতিবাদের মুখে পড়তেন না।
অথচ এই প্রবণতা পুরোপুরি আত্মঘাতী। কারণ নারীরা যদি সকল প্রকার বৈষম্য ও যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারতেন তাহলে সুস্থ পরিবেশ প্রতিষ্ঠার লড়াইটা অনেক সহজ হতো সকলের জন্যই।
আমার দলের লোক করলে লীলাখেলা আর বিরোধী দলের লোক করলে অমুকের পোলা এই মনোভাব থেকে বের না হলে কিচ্ছু করতে পারবেন না।
ঢাকা স্ট্রিমের সংবাদকর্মী স্বর্ণময়ীকে যে উক্তিটি করা হয়েছিল তা বিডিনিউজে পড়ে আমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। এত নোংরা মন্তব্য কিভাবে একজন সহকর্মী তদুপরি কবি করতে পারেন? সেখানে নারীদের নিয়মিত ভারবাল অ্যাবিউস, যৌন হয়রানি করা হতো বলে স্বর্ণময়ী ও তার আরও কয়েকজন সহকর্মী অভিযোগ করেছিলেন। যে অভিযোগের কোন বিচার হয়নি। আত্মহত্যায় প্ররোচনার বিষয়টি প্রমাণ সাপেক্ষ। সেটি আইনি প্রক্রিয়ায় হবে। তবে ভারবাল যৌনহয়রানির অভিযোগ নাকি তার বিরুদ্ধে আগেও হয়েছে। যখন তিনি প্রথম আলোর সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। তখনও কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা কেউ নেয়নি। কেন তখন প্রতিবাদ হয়নি? তিনি কামাল চৌধুরীর স্নেহচ্ছায়ায় ছিলেন বলে?
আমার কথা হলো, মিডিয়ায় নারীর প্রতি সকল প্রকার যৌন হয়রানি এবং বৈষম্য দূর করতে হলে রাজনৈতিক এ টিম-বি টিম ম্যাচ খেললে হবে না। সব ঘটনারই প্রতিবাদ করতে হবে। আর মিডিয়ায় কর্মরত নারীদের প্রতিবাদের সময় রাজনৈতিক পরিচয়টি ভুলে গিয়ে নির্যাতক (তিনি আওয়ামী, বাম, জুলাই বিপ্লবী, জামাতি যাই হোন না কেন) ও নির্যাতনের সমর্থনকারীদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। তখন ঘুমিয়ে গেলে হবে না। আর মিডিয়া ট্রায়ালের বলি হিসেবে তার স্ত্রী কন্যাকে টানবেন না।
আমি স্বর্ণময়ীসহ সকল ভিকটিমের প্রতি সংঘটিত অপরাধের বিচার চাই।
শান্তা মারিয়া: কবি, লেখক ও সাংবাদিক