প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা: প্রাপ্তি ও ক্ষয়

0

Primary Eduলীনা পারভীন: আমাদের দেশে বর্তমানে যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু আছে তা কি কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগুচ্ছে? নাকি যেমন খুশি তেমন সাজো নীতিতে চলছে? নাগরিক হিসাবে আমার কাছে এখন এটি একটি বড় জিজ্ঞাসা!!

জীবনের প্রতিটি স্তরে শিখেছি, জেনেছি শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড আর শিক্ষাই মুক্তির একমাত্র পথ। এখন জীবনের এই পর্যায়ে এসে শিখছি, শিক্ষা হলেই হবে না, তা হতে হবে কার্যকর শিক্ষা। অশিক্ষা, কুশিক্ষা বা নামমাত্র শিক্ষা জীবনের মুক্তি নিয়ে আসতে পারে না। পারে একটি মেরুদণ্ডহীন জাতি দিতে। তাহলে আমাদেরই এখন সময় এসেছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার, আমরা কোন শিক্ষায় জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাব? মেধাহীন জাতি শুধু স্বপ্ন দেখতেই পারে, বাস্তব করতে পারে না। 

তবে দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, বাংলাদেশ মনে হয় মেধাহীন শিক্ষিত জাতি গড়ার দিকে এগিয়ে যেতে চাইছে। কোমলমতি ছোট ছোট বাচ্চাগুলোকে আজকে আমরা কি শেখাচ্ছি? একদিকে তাদেরকে আমরা বলছি মিথ্যা বলা মহাপাপ, চুরি করা অন্যায়। আবার তারা এও দেখছে আমরা অভিভাবকরাই তাদেরকে প্রশ্ন এনে বলছি, বাবা, এগুলো মুখস্ত করো, কি দরকার কষ্ট করে একগাদা পড়াশোনা করার? কি হবে পুরো বই পড়ে?

শর্টকাট মেরে কিভাবে ভালো রেজাল্ট করা যায় তাই শিখছে আমাদের বাচ্চারা। তবে আমরা কি ভেবে দেখছি যে এই শর্টকাট আমাদেরকে কোন শর্টকাটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে? একটু চিন্তা করে দেখেছি কি এই শর্টকাট আমাদেরকে জাতি হিসাবে ধ্বংসের শর্টকাট রাস্তাও দেখিয়ে দিচ্ছে? আমাদের রাষ্ট্রকর্তারা কি একটু ভেবে দেখবেন? আজকের দিকে তাকাবেন না দয়া করে, একটু সামনের দিকে তাকিয়ে ভাবুন।

Leena Pervin

লীনা পারভীন

এই যে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা, তার উপকারিতা কি? কি বাড়তি উপকার আমরা পেয়েছি এই সমাপনী পরীক্ষার সিস্টেম চালু করে? তার একটা মূল্যায়ন এখনই করা  দরকার। ফলাফলের উপর এই সিস্টেমের রিনুয়ালের সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। ছোট ছোট বাচ্চাগুলোকে একটা প্রতিযোগিতায় আমরা পাঠাচ্ছি, তারা না বুঝে, না শিখে সেই প্রতিযোগিতায় শামিলও হচ্ছে, আর তার সাথে বাড়তি যুক্ত হয়েছে চুরিবিদ্যা শিক্ষা। এর চেয়ে বাড়তি কোন প্রাপ্তি আমার চোখে পড়েনি। আমার দু সন্তান গতবছর এই পর্যায় শেষ করে এসেছে তাই বাস্তবের শিক্ষা থেকেই এই কথা বলছি।

দোহাই লাগে, দয়া করে আমাদের নৈতিক শিক্ষাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবেন না। একটা জাতির যদি নৈতিকতাই না থাকে তাহলে সভ্য জাতি হিসাবে গর্ব করার আর কিছু থাকে না। আমরা শ্লোগান দেই, আজকের সন্তান আগামীর ভবিষ্যত। তাহলে আমরা কি নিজের হাতে ধরে এই ভবিষ্যতকে নষ্ট করে দিচ্ছি না? এর অধিকার কি আমাদের কারো আছে?

এক্ষেত্রে আমি অবশ্যই অভিভাবকদের ভূমিকাটাকেও ছোট করে দেখতে পারছি না। আপনি আপনার সন্তানের মূল্যবোধ, নীতি, নৈতিকতা শিক্ষার দায়িত্ব ঠিক করবেন, অন্য কারো হাতে তা ছেড়ে দিবেন না। এই যে চারদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মত ঘটনা ঘটছে, আপনি আপনার সন্তানকে শেখান, এ কত বড় অন্যায়, এ বিরাট চুরি আর চুরি করে কেউ সাহসী হতে পারে না। এ দা্য়িত্ব আপনার। আপনার সন্তান খারাপ রেজাল্ট করুক, কিন্তু সত্যকে ভালোবাসতে শেখান। অন্যায়কে ঘৃণা করতে শেখান। রাষ্ট্র, প্রশাসন তাদের রাজনীতি করবেই, তাদেরকে অন্তত আমাদের জীবন, আমাদের সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে রাজনীতি করতে দেব কিনা সেই সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা ও অধিকার আমার আপনার আছে।

তাই আসুন, আমরাই শপথ নেই আমাদের আগামীকে রক্ষার, প্রতিরোধ, প্রতিবাদ গড়ে তুলি। হাহাকার করে কিছু হবেনা।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ৪১ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.