উইমেন আর নট অ্যালাউড

0

Iraqউইমেন চ্যাপ্টার: সৌদি আরবে পুরুষসঙ্গী ছাড়া কোনো একা নারীর রেস্টুরেন্টে প্রবেশের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, তার কড়া সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। রক্ষণশীল মুসলিম এই দেশটির বেশকিছু রেস্টুরেন্টের প্রবেশপথে ‘উইমেন আর নট অ্যালাউড’ শীর্ষক সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। তবে সংগঠনগুলো এটাও বলছে যে, এটা ব্যক্তি মতামতেরই প্রতিফলন।

একজন রেস্টুরেন্ট মালিকের বরাত দিয়ে গালফ নিউজ জানিয়েছে, রেস্টুরেন্টের ভিতরে অনেকগুলো অঘটন ঘটতে দেখেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ধরনের ঘটনা ঘটবে না, এই নিশ্চয়তা পেলেই কেবল এই সাইনবোর্ড তুলে নেয়া হবে। কেননা, এ জাতীয় ঘটনা ব্যবসার দুর্নাম ঘটায়।

একটি অনলাইন পত্রিকা খবরটি পরিবেশন করে এভাবে, ‘একা মেয়েরা ফ্লার্ট করা, ধূমপান করা এবং মোবাইল ফোন ব্যবহারের মতো বিষয়গুলোতে মানসিকভাবে অস্থিতিশীল বলেই তাদের একা প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরবের রেস্টুরেন্টসমূহ’।

তবে সৌদি আরবই সম্ভবত বিশ্বে অন্যতম এক দেশ যেখানে নারী অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। সেখানে নারীদের গাড়ি চালনার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

যদিও একা চলাফেরার ওপর এখন পর্যন্ত কোন নিষেধাজ্ঞা বসানো হয়নি, তবুও বলা হয়েছে, সবসময় কোনো পুরুষ সঙ্গীকে সাথে নিয়ে চলাচল করতে হবে। সেই পুরুষ সঙ্গীটি স্বামী, বাবা বা ভাই হতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির ব্লগাররা ধূমপায়ী নারী এবং মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী নারীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত নারী বলে অভিহিত করেছেন। একজন লিখেছেন, কোনো পুরুষ সঙ্গী ছাড়া নারীদের রেস্টুরেন্ট থেকে দূরে রাখাই শ্রেয়।  এ ধরনের নারীদের জন্য তো আর রেস্টুরেন্টটাই বন্ধ করে দেয়া চলে না!

ওই ব্লগার আরও লিখেছেন, একজন নারী তখনই তার লাইন অতিক্রম করেছে যখন সে একা রেস্টুরেন্টে এসেছে এবং মোবাইল নিয়েই পড়ে ছিল। আরেকজন লিখেছে, অনেক নারী রেস্টুরেন্টে আসে, যাদের ভিতরে কোনো ধরনের শ্রদ্ধাবোধ নেই। তালাল নামের একজন জানান, তার ভাইয়ের রেস্টুরেন্ট আছে এবং সেই ভাই তাকে বলেছে যে, পরিবারের জন্য রেস্টুরেন্টে আলাদা সেকশন থাকলেও নানাধরনের হয়রানির ঘটনা প্রায়্শই ঘটে। অনেক নারী আসে, যারা অন্যদের না চিন্তা না করেই জোরে জোরে কথা বলে। তাদেরকে আস্তে কথা বলতে বাধ্য করা কঠিন।

সৌদি আরবে নারীদের ভোটাধিকার থাকলেও আগামী বছরেই কেবল স্থানীয় নির্বাচনে অংশ  নিতে পারবেন, এর আগে নয়। মেয়েদের বিয়ের কোনো ন্যুনতম বয়সসীমা নেই, এমনও আছে যে, নয় বছর বয়সেই মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেন বাবারা। কিছু নির্দ্দিষ্ট এলাকায় মেয়েরা বাইসাইকেল চালাতে পারেন, কিন্তু তাদের পরনে থাকতে হবে পূর্ণমাত্রায় ইসলামিক পোশাক, আপাদমস্তক ঢেকে, সঙ্গে কোনো পুরুষকে সাথে নিয়েই কেবল তা সম্ভব।

সৌদি আরবের ন্যাশনাল সোসাইটি ফর হিউম্যান রাইটস এর প্রধান খালিদ আল ফাখরি জানান, এ ধরনের ঘটনা আইনের পরিপন্থি এবং রেস্টুরেন্ট মালিকদের ব্যক্তিগত মতামতেরই প্রতিফলন।

 

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ২০ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.