গৃহকর্মী নির্যাতনরোধের উদ্যোগকে আন্দোলনে রূপ দিতে হবে

0

Girls Domesticউইমেন চ্যাপ্টার: সাম্প্রতিক সময়ে ক্রমবর্ধমান গৃহকর্মী নির্যাতন প্রতিরোধে উদ্যোগী হতে হলে অবশ্যই এই প্রচেষ্টাকে আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। আন্দোলন ছাড়া এই উদ্যোগ শুধুমাত্র আন্তরিক প্রচেষ্টা বা সভা-সেমিনার-মানববন্ধন করলেই সফলকাম হওয়া যাবে না। আন্দোলনের মাধ্যমে বিদ্যমান আইনের বাস্তবায়ন ঘটানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রকে এ ব্যাপারে উদ্যোগী হতে বাধ্য করতে হবে।

ঢাকার লালমাটিয়ায় এনজিও ফোরাম অফিস ভবনে অায়োজিত শনিবার ‘গার্ল ডোমেস্টিক ওয়ার্কার্স ভয়েজ ক্যাম্পেইন’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় সবাই উপরোক্ত বিষয়ে একমত হন।

বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন,  নির্যাতনরোধে নিজ নিজ ঘরেই প্রথম উদ্যোগ নিতে হবে। একইসঙ্গে দায় নিতে হবে রাষ্ট্রকেও। সমাজ কাঠামোর পরিবর্তনের আবশ্যকীয়তার কথাও বলেন অনেক অংশগ্রহণকারী। তবে সবাই এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকাকেও সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে বলেন, সচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যমের বিকল্প নেই।

সভায় ১ অাগস্ট ২০১৩ সাল থেকে ২০১৪ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত এবং ৭০ জন কন্যাশিশু গৃহশ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন শাপলা নীড়ের অ্যাডভোকেসি কর্মকর্তা আতিকা বিনতে বাকী। এতে দেখা যায়, শতকরা ২০ ভাগ শিশু মানসিক, শতকরা ৮৬ ভাগ শিশু ভয়াবহ শারীরিক, শতকরা ১৭ ভাগ শিশু যৌননির্যাতন, শতকরা ২০ ভাগ শিশু হত্যা ও অাত্মহত্যা এবং শতকরা ৭ ভাগ শিশু নিখোঁজ রয়েছে।

এছাড়া সরাসরি সাক্ষাৎকারে শতকরা ৮০ ভাগ শিশু মানসিক, ৫৩ ভাগ শিশু দৈহিক এবং শতকরা ৭ ভাগ শিশু যৌন নির্যাতনের কথা জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গৃহকর্মী নির্যাতন প্রতিরোধে হাইকোর্টের কিছু নির্দেশনামা থাকলেও তার বাস্তবায়ন চোখে পড়ে না। যেমন বলা হয়েছে, ১২ বছরের নিচে শিশুদের কাজ করতে দেয়া হবে না এবং বাংলাদেশ সরকার তাদের মৌলিক শিক্ষা নিশ্চিত করবে; ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুকর্মীদের ক্ষেত্রে তাদের চাকরিদাতা দক্ষতা উন্নয়নে কিছু প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে অথবা এসব প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ দেবে; সহিংসতাসম্পর্কিত মামলাগুলো সরকার দেখভাল করবে; ইউনিয়ন পরিষদে শিশুদের নাম-ধাম লিপিবদ্ধ করবে; মাসে অন্তত একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হবে এসব শিশুর; কর্মঘন্টা, বিশ্রাম, বিনোদন, ছুটি এবং মজুরি নির্ধারণ করে দেবে সরকার। কিন্তু বাস্তবে এগুলোর কোনটারই প্রয়োগ দেখা যায়নি আজ পর্যন্ত।

এছাড়া বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এ গৃহকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাদের সুরক্ষায় কোনো মনিটরিং এর ব্যবস্থা নেই, শ্রম আদালতে অভিযোগ উত্থাপনেরও কোন সুযোগ নেই।

সভায় উপস্থিতদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গৃহকর্মী নির্যাতনের ছোটখাটো খবরগুলো মিডিয়াতে আসেই না। কেবলমাত্র কেউ বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার শিকার হলে বা নিহত হলে তখন তা খবর হয়। সাম্প্রতিক সময়ে আদুরী নামের কিশোরী মেয়েটির ওপর নির্যাতনের ঘটনাই কিছুটা আলোচিত হয়েছিল মিডিয়াতে।  কিন্তু এসব ঘটনার ফলোআপ নিউজ যেমন জরুরি, তেমনি প্রয়োজন যার যার অবস্থান থেকে সচেতনতা সৃষ্টিতে উদ্যোগী ভূমিকা নেয়া।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন “শাপলা নীড়” বাংলাদেশ অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিস ইয়োকিকো ফুজিসাকি।

কন্যাশিশু গৃহশ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় অাটটি বেসরকারি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে সৃষ্টি হওয়া ‘গার্ল ডোমেস্টিক ওয়ার্কার্স ভয়েজ ক্যাম্পেইন’ শনিবার এই মতবিনিময় সভার অায়োজন করে। সংস্থাগুলো হচ্ছে, অপরাজেয় বাংলাদেশ, এসিস্ট্যান্টস ফর স্লাম ডুয়েলার্স (এএসডি), নারী মৈত্রী, ফুলকি, শাপলা নীড়, সবুজের অভিযান ফাউন্ডেশন, সুরভি ও ইপসা, যারা এই শিশুদের জন্য ‘শিক্ষণ কেন্দ্র’ স্থাপন করে বিনা বেতনে শিক্ষা ও বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে আসছে।

এই সংস্থাগুলির যৌথ উদ্যোগে সৃষ্টি হয়েছে  ‘গার্ল ডোমেস্টিক ওয়ার্কার্স ভয়েজ ক্যাম্পেইন’ নামে একটি সম্মিলিত প্রচারাভিযান। উক্ত প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে ইতোপূর্বে “বিশ্ব শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস ২০১৪” এ বেশ কিছু কর্মসূচী পালন করা হয়েছিল, যেমনঃ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা সভা আয়োজন, ক্যাম্পেইন পোস্টার পেস্টিং, লিফলেট বিতরণ, র‍্যালী এবং মানববন্ধন।

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ২৩ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.