বিশ্ব টয়লেট দিবস ও আমাদের মেয়েরা

0
Tanya

তানিয়া কামরুন নাহার

তানিয়া কামরুন নাহার: আজ ১৯ নভেম্বর বিশ্ব টয়লেট দিবস। দিবসটির নাম শোনা থেকেই ভাবছি টয়লেট নিয়ে। ভদ্রলোকেদের এসব অবহেলিত, নোংরা ও হাস্যকর বিষয় নিয়ে কথা সাজে না। আমি যেহেতু ভদ্রলোক নই, তাই এ ব্যাপারে দু/একটি কথা বলার সাহস করছি।

পায়খানা, টাট্টিখানা, প্রক্ষালন কক্ষ, টয়লেট কিংবা হাল জমানায় বলা ওয়াশ রুম, যা-ই বলি না কেন, এই টয়লেট নামক জিনিসটা কিন্তু আমাদের প্রতিদিনের জীবনের একটি অংশ। টয়লেট ছাড়া একটি দিনের কথা শুধু একবার ভেবে দেখুন, দেখি! আমাদের দিনের শুরুই হয় ঐ টয়লেট থেকে। অথচ কত অবহেলিত এই টয়লেট!

নাগরিক সভ্যতায় প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন অত্যাধুনিক ঝা চকচকে শপিং মল, বিনোদন কেন্দ্র, মসজিদ, স্কুল, কলেজ, রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি। চারিদিকে উন্নয়নের জোয়ার। কিন্তু এ শহরে পাবলিক টয়লেটের যেন কোন প্রয়োজনই নেই। যাও বা কিছু আছে, সেগুলোও ব্যবহার উপযোগী নয়। নারীদের জন্য এসব টয়লেট তো রীতিমত বিভীষিকাময়। ভাবটা এমন যে, নারীদের আবার টয়লেটের প্রয়োজন আছে নাকি? ওদের কি টয়লেট পায়?

একজন লেখিকা তার লেখায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলতে চেয়েছেন যে, পুরুষেরা ইচ্ছে হলেই রাস্তায় প্রকাশ্যে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে পারে, কিন্তু নারীরা তা পারে না। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে তাঁর এই মতটির সাথে ভিন্নমত পোষণ করে থাকি। রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার মধ্যে এমন কোন বাহাদুরি নেই, বরং এ কাজটি সভ্যতা ও রুচি বহির্ভূত, পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর। কিন্তু যেহেতু আমাদের দেশের পাবলিক টয়লেট প্রায় নেই বললেই চলে, সেজন্য উপায়ান্তর না দেখে অনেকেই হয়ত বাধ্য হয়ে এভাবেই কাজটা সারেন। সেজন্য তাদেরকে দোষও দেওয়া যায় না হয়ত। কিন্তু নারী, নারীরা কী করবে? তারাও কি প্রকাশ্যে কাজটি সারবে?

কাজের প্রয়োজনে অনেকটা সময় বাইরে থাকতে হয় নারীদের। একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি টয়লেট ব্যবহার করে থাকেন। এর পেছনে যথাযথ কারণও রয়েছে বৈকি! নারীর  মাসিক (পিরিয়ড), গর্ভাবস্থা ইত্যাদি বিশেষ সময়ে টয়লেট ব্যবহার স্বাভাবিক কারণেই বেড়ে যায়। অথচ অনেক সময়েই দেখা যায়, কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা থাকে না। নারী ও পুরুষের জন্য একই টয়লেট ব্যবহার করাটা রীতিমত বিব্রত ও অস্বস্তিকর।

তবুও প্রয়োজন বলে কথা, তাই চোখ-কান-মুখ বন্ধ করেই কোনমতে টয়লেট ব্যবহার করে নিতে হয়। খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের সকল নারী শিক্ষার্থীর জন্য একটি মাত্র টয়লেট ছিল, ঐ ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের এক ও একমাত্র কমন রুমটিতে। এ অবস্থা ছিল দীর্ঘদিন। এখন অবশ্য অবস্থা ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে। আবার টয়লেট থাকলেও সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না।

আর পাবলিক টয়লেট!!! সেগুলো শুধু নামেই রয়েছে। দীর্ঘ লাইন পেরিয়ে অতি কষ্টে টয়লেটের দরজায় পৌঁছুতে পারলেও আপনাকে দ্বিগুণ কষ্ট নিয়ে ব্যবহার না করেই উলটো ফেরত চলে আসতে হবে। এতটাই নোংরা ও ব্যবহার অনুপযোগী। এসব টয়লেটে না থাকে পানি, না থাকে দরজার ছিটকিনি। এ ধরনের টয়লেট ব্যবহার করতে যাওয়াটা যেমন স্বাস্থ্যসম্মত নয়, তেমনি এসব  নারীরা জন্য নিরাপদও নয়। আর সেজন্যই ঘরের বাইরে বের হলে যেন টয়লেটে যেতে না হয়, নারীরা পানি কম পান কিংবা একেবারেই পান না করে থাকেন।  এর ফলে তারা কিডনী সমস্যাসহ নানা রকম শারীরিক সমস্যাতে আক্রান্ত হচ্ছেন।

এবার টয়লেট নিয়ে একটি ছোট্ট প্রশ্ন। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের টয়লেটগুলো নিয়ে ভূতের আতংক থাকে। এর পেছনে কারণ কী, একটু ভেবে দেখবেন কী? বাচ্চারা স্কুলের টয়লেট ব্যবহার করতে এত ভয় পায় কেন? এর পিছনে নিরাপত্তাজনিত কোনো আতংক নেই তো!

 

শেয়ার করুন:
  • 11
  •  
  •  
  •  
  •  
    11
    Shares

লেখাটি ২৪৩ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.