চাপের মুখে সাইনবোর্ডে পরিবর্তন, পরিস্থিতি আগের মতোই

DSC08516
নতুন সংশোধিত সাইনবোর্ড

উইমেন চ্যাপ্টার: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মহাখালি ডিওএইচএস আবাসিক এলাকার পার্কের একটি সাইনবোর্ডের ভাষা নিয়ে তুমুল তোলপাড়ের মুখে এর ভাষা পরিবর্তন করে নতুন সাইনবোর্ড বসিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বুয়া বা গৃহভৃত্যদের হাঁটার ওপর নিষেধাজ্ঞা  আরোপের ব্যাপারে পরিস্থিতি এখনও আগের মতোই আছে বলে জানা গেছে। বুয়াদের পার্কে হাঁটাচলা এখনও নিষিদ্ধই আছে।

সাইনবোর্ডটিতে লেখা ছিল, “পার্কের ভিতরে গৃহভৃত্য/বুয়াগনের Walk Way তে হাটা নিষেধ” । ছবিটি ফেসবুকে প্রকাশের পর জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং সর্বস্তরের মানুষ এই সাইনবোর্ডের সমালোচনা করে। ছবিটি ফেসবুক পাতায় আপলোড হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রায় ১১০জন তা নিজেদের ওয়ালে শেয়ার করেন এবং শত শত মানুষ এই সাইনবোর্ডের প্রতি ধিক্কার জানান। সাইনবোর্ডটি স্পন্সর করেছিল বাংলালিংক নামক মোবাইল কোম্পানি, তারাও এরকম একটি সাইনবোর্ডে স্পন্সর করার জন্য ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরে।

সবটাই চলছিল ফেসবুক কেন্দ্রিক এবং মিডিয়া বিষয়টি দক্ষতার সাথে এড়িয়ে যায়। মূলত সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত এলাকার কোনো বিষয়, বিশেষ করে “কাজের বুয়া/গৃহশ্রমিক” নিয়ে এতো মাতামাতি করার কিছু নেই, এ কারণেই হয়তো বিষয়টি গুরুত্ব পায় না। খবর পৌঁছে যায় বিদেশী দাতা সংস্থা “শাপলা নীড়”-এও, যেহেতু তারা কন্যাশিশু গৃহশ্রমিকদের অধিকার আদায়ে কাজ করছেন। শাপলা নীড় থেকে এডভোকেসি অফিসার আতিকা বিনতে বাকী (আতিকা রমা) ব্যক্তিগতভাবে কয়েকটি পত্রিকার সাথে যোগাযোগ করে  খবরটি প্রকাশে ব্যর্থ হন কোনো অদৃশ্য চাপের কারণে।

DOHS
আগের সাইনবোর্ডটি

আতিকা বলেন, “দু’টি পত্রিকা নিউজ কভার করেছিল জানি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা সেই সংবাদ কোথাও ছাপাননি। আসলে ভেতরে বিষয়টা কি ঘটেছে তা জানি না। তবে ছাপায়নি এটুকু বলতে পারি। শেষে উইমেন চ্যাপ্টারের সাথে যোগাযোগ করি। এটুকু আশা ছিল যে উইমেন চ্যাপ্টার অন্তত নিরাশ করবে না এবং তাই হয়েছে। উইমেন চ্যাপ্টার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এবং খুব সাহসিকতা ও দক্ষতার সাথে সংবাদটি কোন পক্ষপাত অবলম্বন না করেই উপস্থাপন করেছে।”

এরপর উইমেন চ্যাপ্টার থেকে যোগাযোগ করা হয় বাংলালিংক মোবাইল কোম্পানিতে। বাংলালিংক সাইনবোর্ডটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং জানায় যে, তারা শুধু সাইনবোর্ডটি স্পন্সর করেছে, এখানে কি লেখা আছে তারা তা জানেন না। তারা আরও জানায়, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা আর ঘটবে না। অনতিবিলম্বে বাংলালিংক সাইনবোর্ডটি থেকে তাদের স্পন্সর বাতিল করে এবং ২৬ অক্টোবর উইমেন চ্যাপ্টার আরও একটি সংবাদ প্রকাশ করে বাংলালিংকের স্পন্সর বাতিল প্রসঙ্গে।

একইসাথে শাপলা নীড় এবং উইমেন চ্যাপ্টারের পক্ষ থেকে মানবাধিকার সংগঠন “আইন ও সালিশ কেন্দ্র”-র সাথে যোগাযোগ করা হয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র ডেপুটি ডাইরেক্টর গীতা চক্রবর্তী জানান, বিষয়টি তারা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন এবং খুব শীঘ্রই তারা মহাখালি ডিওএইচএস কর্তৃপক্ষর সাথে যোগাযোগ করবেন। শুধু তাই না, প্রয়োজনে এর জন্য প্রয়োজনীয় আইনী পদক্ষেপও তারা গ্রহণ করবেন।

Atiqa Roma
আতিকা রমা

আইন ও সালিশ কেন্দ্র থেকে মহাখালি ডিওএইচএস কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে মহাখালি ডিওএইচএস কর্তৃপক্ষ জানান, অচিরেই তারা সাইনবোর্ডটি থেকে “পার্কের ভিতরে গৃহভৃত্য/বুয়াগনের Walk Way তে হাঁটা নিষেধ” কথাটি বাতিল করবেন।

আজ ১৯ নভেম্বর সকালে মহাখালি ডিওএইচএস পার্ক এলাকায় গিয়ে নতুন একটি সাইনবোর্ড দেখতে পাওয়া যায়, যেখানে আলোচিত ঐ অংশটি সাইনবোর্ডটি থেকে বাতিল করা হয়েছে। উইমেন চ্যাপ্টারের নিজস্ব প্রতিনিধি এবং শাপলা নীড়ের প্রতিনিধি পার্কে দায়িত্বরত গার্ডের সাথে কথা বলে জানতে পারেন, সাইনবোর্ডটি থেকে উল্লেখিত অংশটি বাতিল করা হলেও বাস্তবতা পুরোটা আগের মতোই। বুয়া বা গৃহভৃত্যদের জীবনের কোনো পরিবর্তন আসেনি সাইনবোর্ডের ভাষা পরিবর্তনের পরও।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহাখালি ডিওএইচএস এলাকার এক সিকিউরিটি গার্ড বলেন, “আমরা গরীব মানুষ। এই রকম হাজারটা নিয়ম-কানুন আমাদের মাইনা চলতে হয়। আপনাদের যোগাযোগের জন্য সাইনবোর্ড থিকা শুধু ওই লিখাটা বাতিল করা হইসে, কিন্তু আমাদের উপরে নির্দেশ আছে, সবকিছু আগের মতোই চলবে। মানে ম্যাডামদের সাথে যেসব কাজের মানুষ পার্কে আসবে তারা এইখানে হাঁটতে পারবে না। তবে পার্কের ভিতরে বেঞ্চে বসে থাকতে পারবে।”

এরপর যোগাযোগ করা হয় মহাখালি ডিওএইচএস পরিষদ অফিসে। সেখানে একজন কর্মকর্তার কাছে গৃহকর্মীরা পার্কে হাঁটতে পারবে কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

 

 

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.