দরকারে চণ্ডালী হও, কিন্তু যৌতুকের বলি না

Trina
শামরিন সুলতানা তৃণা

শামরিন সুলতানা তৃণা: কোন কাজকর্ম নেই। তাই বসে বসে ভাবি…।। একেক সময় এক এক বিষয় হয়ে ওঠে আমার ভাবনার বিষয় । আজ যেমন বিষয় ছিল বাংলা ভাষা। সত্যি বলছি এমন যুতসই ভাষা পৃথিবীর আর কোথাও আছে কিনা আমার জানা নাই । সবকিছুর জন্য এর ভাণ্ডারে আছে আলাদা আলাদা শব্দ, আলাদা বানান । যা কিনা নিজেই তার উপস্থিতি দিয়ে বুঝিয়ে দেয় সে কি বলতে চাচ্ছে । সহজ উদাহরণ সম্মোধনের কথাই ধরুন না কেন । তুই, তুমি, আপনি…। আরো কত কি । যার যে কোন একটির প্রয়োগ অনেক কিছু বুঝিয়ে দেয় । যা ইংরেজি You এর কম্মো নয় ।

যেমন সহধর্মিনী বাংলায় ব্যবহৃত শব্দগুলো বৌ, বউ, স্ত্রী……। নতুন বৌ আমি এভাবেই লিখতে পছন্দ করি । বানানটার মাঝে বেশ একটা সলজ্জ্ব ঘোমটা টানা মুখের উপস্থিতি বোঝা যায় । কিন্তু নিত্য দিনের ব্যবহারে নতুন কাপড় যেমন পুরানো হয় তেমন বিয়ের কয়েক বছর পর তাকে আমি বউ লিখতেই পছন্দ করি । যেন আটপৌরে জীবনের সাথী । বানানটার মাঝে একটা সবসময় পাশাপাশি থাকা ভাব আছে । আর স্ত্রী শব্দটা হল পরপুরুষদের জন্য । প্রথম থেকেই । যেন হাতে কাস্তে নিয়ে হাজির । অমর্যাদা করবে ? দেব ধর থেকে মাথাটা আলাদা করে ।

অপরদিকে বর , স্বামী …।। স্বামী বানান তার বিষম জটিলতা দিয়ে বুঝিয়ে দেয় ব্যাপারটা কত জটিল । অনেকটা কর্তার হুকুমে কর্ম এর মত । স্বামী … বাড়ির কর্তা, হাকিম নড়ে তো হুকুম নড়ে না , সে বাড়িতে মানে থরহরি কম্মোমান অবস্থা বাড়ির সবার । যাদের জন্য বাড়ির বউ চুলায় ভাত চাপিয়ে আয়াতুল কুরসি পড়ে । একটু এদিক ওদিক হলেই ঘরে বাজ পড়তে পাড়ে । তুলনামূলক বর শব্দটা বেশ । ব্যুৎপত্তি আমার জানা নাই । তবে মহাভারতে যখন দেবতারা কারো ওপর  সন্তুষ্ট হয় তখন তাকে বলে কি বর (উপহার) চাও যা হতো কিনা কোন ব্রহ্মাস্ত্র । যুদ্ধে সৌভাগ্য আনার নিমিত্ত । বর ! হম ……।

জীবনযুদ্ধে সৌভাগ্য আনার সাথী হিসাবে বরের সাথে যখন একটি মেয়ে বৌ থেকে সময়ের সাথে বউ হয়ে যায় , তখন বর যদি স্বামী হতে চায় তবে বউকেই নিজের বরের জন্যই স্ত্রী হতে হয় । মানে কাস্তে হাতে দাঁড়াতে হয় স্বামীর বিরুদ্ধে । নতুবা পরিণতি  হয় শামার মত । স্বামীর বিপরীত তাই স্ত্রী । বৌ অথবা বউ নয় ।

আর কোন মৃত্যু শোক নয় । আর কোন মৃত্যু কাম্য নয় । দরকারে চন্ডালী হও, কিন্তু যৌতুকের বলি না ।

 

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.