পুরুষের চোখে নারীরা কেবলই সেক্সি?

eve teasing 1ফারহানা রহমান: জানি না আমার মত করে কত নারীকে জীবনের প্রতি পদে পদে এই একটি কথাই শুধু শুনতে হয়েছে- ‘তুমি বা আপনি খুব সেক্সি’। আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে শুধু কি নারীরাই সেক্সি? এর মানে কি পুরুষরা কি সেক্সি নয়? আমরাও যদি যে কোন ভদ্রলোককে বা অল্প বয়সী কোন বাচ্চা ছেলেকে দেখার সাথে সাথে প্রথমেই বলি, তুই বা তুমি বা আপনি খুব সেক্সি, আপনার শরীর দেখলে আমার খুব লোভ হয়, তাহলে কেমন লাগবে সেই মানুষটার? জানি না আর কখনও জানাও হবে না। কারণ আমাদের সমাজে খুব কম নারী বোধ হয় আছে এরকম স্পষ্টভাষায় (নির্লজ্জভাবে) দেহের কথা বলতে পারে। সমাজের চোখে সো-কলড রুচি-বোধহীন (?) নারীর সংখ্যা ছেলেদের তুলনায় কম বলেই পুরুষের এত বাড়!

সম্প্রতি লেখালেখি নিয়ে এক ভদ্রলোকের সাথে পরিচয় হয়েছে। স্বভাবগত কারণেই আমি পুরুষদের সাথে খুব ভাল বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে পারি না। একজন পুরুষ আর একজন নারীর মধ্যে আসলেই কি কোন নিঃস্বার্থ বন্ধুত্ব হতে পারে কিনা এ বিষয়ে্ও আমি যথেষ্ট সন্দিহান। অন্তত আমার জীবনে আমি কোন পুরুষকে শুধুই বন্ধু হিসেবে পাইনি। সে যাই হোক, যে কথাটা বলছিলাম।

ভদ্রলোক আমার চেয়ে ৪/৫ বছরের ছোট হবেন। প্রথমেই বলে নেওয়া ভাল যে আমার চেয়ে একদিনের ছোট কোনও ছেলেকেও আমি সত্যি বলতে আমার ছোট ভাইয়ের মতই দেখি। আমার চেয়ে ছোট কারো সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্কের কথা আমার মাইন্ডসেট এ নেই বলেই আমি বিশ্বাস করি। তো সেই ছোটভাই একদিন আমার এলাকায় এসে আমাকে অনুরোধ করল তাঁর সাথে দেখা করার। আমি আমার এক ছোটবোনকে নিয়ে গেলাম এক রেস্টুরেন্টে তাঁর সাথে কথা বলার জন্য। দেখা হলো, খাওয়া দাওয়া কথাবার্তা হলো, বাসায় এলাম। রাতে দেখি ছোটভাই ইনবক্সে নক করছে। কথায় কথায় সেই ভাই একসময় বলেই বসলো, আপনি তো রীতিমত সুন্দরী! যাক এ পর্যন্ত বললে কোন অসুবিধা ছিল না। এরপরের কথাতেই আমার যত আপত্তি। উনি বললেন, আপনার ফিগার তো দারুণ, দেখেই লোভ হয়!!

বাপরে! এ দেখি আরেক কাঠি সরস! এতদিন এতটুকুই শুনেছি, তোমার বা আপনার ফিগার খুব সুন্দর। আপনাকে দেখে বোঝা যায় না আপনার ছেলে ইউনিভার্সিটিতে পড়ে, ইত্যাদি। এখন দেখি বুড়া বয়সে লোভের মুখে পড়লাম! হায়, খোদা! হাসবো না কা@দবো বুঝতে পারিনা।

এতো গেলো মধ্যবয়সের কথা। কারণ এখন আমাকে দেখলে কার লোভ হয়, কার চুমু খেতে ইচ্ছে করে, আর কার সত্যি ভাললাগে তাতে আর কিছুই এসে যায় না।কারণ এগুলো তো আর আমার সমস্যা না। কিন্তু খুব কষ্টের ছিল সেইসব দিনগুলো যখন মাত্র শিশু থেকে কিশোরী হয়ে উঠছি। একটা ঘটনার কথা প্রায় মনে পড়ে।

কতই বা বয়স হবে খুব জোর ১৩/১৪। ক্লাস এইটে পড়ি। ঈদের দিন সকালে নতুন জামা পরে এক বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছি। দূর থেকে দেখলাম রাস্তার দেয়ালের উপর বসে কিছু ছেলেপেলে আড্ডা দিচ্ছে। যেতে হলে ওদের সামনে দিয়েই যেতে হবে , কোন উপায় না পেয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে আস্তে আস্তে হেঁটে যাচ্ছি। ছেলেগুলোকে ক্রস করার সাথে সাথে ওদের মধ্যে থেকে কেউ একজন বলে উঠল, ‘দ্যাখ দোস্ত মেয়েটা কি সেক্সি’। জীবনে প্রথম কারো মুখ থেকে এই কথাটা শুনলাম। মনে হলও আমার গায়ে কেউ এসিড মারলেও বোধহয় এত জ্বলতো না। সাথে সাথে পিছনে ফিরে দৌড়ে কাঁদতে কাঁদতে বাসায় ফিরে আসলাম। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম সব হারাম হয়ে গেল। কাউকে কিছু বলতে পারিনা শুধুই কাঁদি আর কাঁদি। তারপর দু তিনদিন ধরে ফার্মেসি থেকে ২০/২৫ টা (ঠিক কয়টা মনে নেই) সিডাক্সিন কিনে  পানিতে গুলিয়ে খেয়ে ফেললাম। এরপর জানি না কি হয়েছিল।

হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম কয়েক দিন। গলার ভিতর নল ঢুকিয়ে ওয়াশ করেছিল। সেই যাত্রায় বেঁচে গেলাম। এখন ভাবি হায়রে বোকামি! হয়তো তখন মরেও যেতে পারতাম! তো কি হতো? কোথাকার কোন রাস্তার ছেলে আমারে একটু সেক্সিই না হয় বলেছিলো, তাই বলে আমি আমার এত মূল্যবান জীবনটাকে বিসর্জন দিতে গিয়েছিলাম! সেক্স করতেও তো কিছু শারীরিক যোগ্যতা লাগে, বেচারাদের তো সেটাও ছিল না, শুধু চোখের সুখের জন্য একটা মেয়েকে মুখ দিয়ে একটু সেক্সের অনুভূতি পেতে চেয়েছিল, আর তাতেই কিনা আমি বোকা মরতে বসেছিলাম!

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.