ভারতে বন্ধ্যাকরণ, নাকি মৃত্যুফাঁদ?

Ligation
ছবিটি বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইট থেকে নেয়া

উইমেন চ্যাপ্টার: ভারতে আবারও বন্ধ্যাকরণ করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন নারী মারা গেছেন। প্রাথমিকভাবে হেলাফেলাভাবে অস্ত্রোপচার করতে গিয়েই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছেন কর্তৃপক্ষ।

ছত্তিশগড় রাজ্যে সরকারি এক বন্ধ্যাকরণ স্বাস্থ্য ক্যাম্পে অস্ত্রোপচারের পর ১১ জন নারী যায়। ৫৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে আরো অন্তত বিশ জন মৃত্যুর সাথে লড়ছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা রয়েছে।

বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়েছে, শনিবার ছত্তিশগড়ের পেনডারি নামে একটি গ্রামে ৮৩ জন নারীর ওপর টিউবেকটমি অর্থাৎ বন্ধ্যাকরণের জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়। জানা গেছে, মাত্র একজন ডাক্তার ছয় ঘণ্টার মধ্যে এতগুলো অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচারের পর পরই নারীরা পেটে প্রচণ্ড ব্যথা এবং জ্বরের অভিযোগ করতে থাকেন। রাজ্য সরকার ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ডাক্তারসহ চারজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই চিকিৎসকই গত বছর ৫০হাজার বন্ধ্যাকরণ অস্ত্রোপচারের জন্য রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী রমন সিং বলছিলেন, খুবই দু:খজনক ঘটনা এটি। কর্তব্যে গাফিলতিকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশে যখন পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, সেই মূহূর্তে এমন একটি দুর্ঘটনা অনেককেই নিরুৎসাহিত করতে পারে বলে তিনি আশংকার কথা জানান। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন এই বলে যে, যারা হাসপাতালে আছেন, তাদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বন্ধ্যাকরণ শিবিরে এর আগেও ভারতে দুর্ঘটনা এবং হেলাফেলা করার বহু নজির রয়েছে। ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে বিহার রাজ্যে মাঠের ভেতর কোনো চেতনানাশক ছাড়াই দুঘণ্টায় ৫৩ জন নারীর ওপর অস্ত্রোপচার করার দায়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এছাড়া নোংরা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেও অনেক সময় এ ধরনের অস্ত্রোপচার করার অভিযোগ আছে। এতে করে সংক্রমণের হার বাড়ছে।

ভারতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসাবে সরকারি উদ্যোগে এ ধরনের বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি চালানো হয়। সাধারণত দরিদ্র পরিবারের নারীরা টাকার কারণে বন্ধ্যাকরণে রাজী হন।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.