ভাল থাকার মূলমন্ত্র কি?

0

Sunflowerফারহানা রহমান: ভাল থাকার জন্য কি কোন মূলমন্ত্র আছে? নাকি প্রতি মুহূর্তে নিরন্তন চেষ্টা করেই শুধু আমরা ভাল থাকি? আসলে ভাল থাকার জন্য সদিচ্ছা খুব জরুরী। কিন্তু জীবন তো সবসময়  আমাদের ইচ্ছের উপর নির্ভর করে চলে না। আজকের দ্রুতগতির জীবনে জটিলতার শেষ নেই। বাড়িতে, বাইরে, অফিসে, সব জায়গাতেই হাজারও ঝামেলা, দায়িত্ব, স্ট্রেস আর টেনশন। তাই ভাল থাকার ইচ্ছে থাকলেও সব সময় হয়তো সেটা সহজ নাও হতে পারে। তবে এটাও সত্যি যে নেতিবাচক জীবন দৃষ্টি আর অসন্তুষ্টি আমাদেরকে ভাল থাকতে বাঁধাগ্রস্থ করে। বিশ্বাস থাকতে হবে নিজের উপর। সমস্যা থাকবেই জীবনে কিন্তু সেটাকে অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যেই লুকিয়ে আছে ভাল থাকার মন্ত্র। সব কিছুতে পারফেকশন খুঁজতে যাওয়াটা বোকামি।

“ওয়ার্ল্ড ইজ নট পারফেক্ট” এটা মনে রাখা খুব জরুরী।

সকাল থেকে রাত অবধি খুব কম ব্যাপারই আমাদের মনের মত হয়। নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ,  প্রতিকূলতা আর ভোগান্তিতে ভরপুর আমাদের এই জীবন। তাই বলে কি আমরা জীবন বিমুখ হবো? জীবনকে উপভোগ করবোনা? তাহলে দিনের শেষে পরাজয়টা আসলে কার? তাই চাই পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি । অন্যের কথায়, অন্যের কাজে যখন আমরা রিয়াক্ট করি তখন আসলে আমরা অন্যের দ্বারা নিজে প্রভাবিত হই। নিজের ভাল থাকা, মন্দ থাকা তখন অন্যের হাতে চলে যায়। তাই প্রোএক্টিভ হওয়া শিখতে হবে, রিয়েক্টিভ নয়। প্রথমে নিজকে ভালবাসতে হবে, থাকতে হবে  আত্মসন্মানবোধ আর তাহলেই শুধু অন্যকে ভালবাসা বা সন্মান করা সম্ভব।

অনেক সময় দেখা যায়  আমদের নিজের উপরও  নিজের নানা ধরনের ক্ষোভ থাকে। কারও হয়তো নিজের চেহারা নিয়ে বিতৃষ্ণা, কেউ কেউ হয়তো  অন্যের অবস্থান, অন্যের ভাল রেজাল্ট বাঁ প্রতিষ্ঠা নিয়ে হতাশায় ভোগেন।  আর এখান থেকেই শুরু হয় নেতিবাচক মনোভাবের সূত্রপাত। তখন এমন হয় যে কোন কিছু শুরু হওয়ার আগেই মনে হয় খারাপটাই হবে আর এতেই জীবনের স্বাভাবিক রঙটাই একসময় নষ্ট হয়ে যায়। সব কিছুতেই নেগেটিভ মনোভাব তৈরি হয়।

তাই চাই পজেটিভ চিন্তাধারা। কারণ জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যে একমাত্র পজেটিভ আউটলুকই ফিরিয়ে আনতে পারে আশা আর আনন্দ। এমন নয় যে পজেটিভ ভাবলেই জীবনে কোন স্ট্রাগল থাকবে না, আর সব কিছুই আমাদের মনের মত হবে। তবে অবশ্যই এতে আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেও ঘুরে দাঁড়ানোর মত মানসিকতা তৈরি হবে। ইতিবাচক মনোভাব আমাদের সব সময় জীবনের ভাল দিকগুলো দেখতে শেখায়। দেহ মনকে সুস্থ রাখার জন্য যা খুবই প্রয়োজন। জীবনে চলার পথে ভাল-মন্দ, উত্থান-পতন থাকবেই, কিন্তু মন খারাপ করে হতাশ হয়ে বসে থাকলে তো চলবে না। বরং ইতিবাচক দৃষ্টি দ্বারা আমাদেরকে পারিবারিক পরিবেশ, সামাজিক প্রেক্ষিত আর নিজের মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখার চেষ্টা করতে হবে। ভাল আছি আর ভাল থাকবো এই বিশ্বাসটাই ভাল থাকার মূলমন্ত্র আসলে।

ভাল থাকার জন্য সুন্দরভাবে জীবন যাপন করার নিয়মনীতি শিখতে হবে। প্রথমেই নিজেকে মোটিভেট করতে হবে যে আমাকে ভাল থাকতে হবে যে কোন মুল্যে। নিজেকে বদলাতে হবে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের মাধ্যমে। সচেতনভাবে নেতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন মানুষকে এড়িয়ে চলতে হবে, আর সুসম্পর্ক রাখতে হবে এমন মানুষদের সাথে, যারা জীবনের যে কোন পরিস্থিতিতেই ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। কুসংস্কার বা ভিত্তিহীন বিশ্বাসে প্রশ্রয় না দিয়ে নিজের জগতের সীমানা বাড়াতে হবে।  শুধু কাজ আর বাড়ি তো জীবনের একমাত্র সীমা নয়। সমমনা বন্ধুবান্ধবের সাথে সময় কাটানো বা বই পড়া,গান শোনা, সিনেমা থিয়েটার দেখা, ফটোগ্রাফি বা ছবি আঁকা মানুষের মনজগতকে সমৃদ্ধ  করে আর সেইসাথে মানসিক প্রশান্তি আসে। অন্যের সাথে তুলনা না করে জীবনে রিয়েলিস্টিক গোল সেট করতে হবে। দিনের শেষে ভাল কাজের জন্য নিজেকে প্রশংসা করা ও যে কোন ছোট সাফল্যেও সেলিব্রেট করতে হবে তাহলেই দেখবেন আপনি আগের চেয়ে ভাল আছেন। আর প্রতিনিয়ত অন্যের মঙ্গল কামনা আপনার জন্য হয়ে উঠতে পারে সর্বাপেক্ষা মঙ্গলের কারণ। তাই নিজে ভাল থাকুন আর অন্যকে ভাল রাখুন।

   

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ১৫৮ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.