চলে যাচ্ছে বাবা, ছেলের কাছে শেষ চিঠি

0

Dying dad 2উইমেন চ্যাপ্টার: সিমন ল্যাংস্টন, একজন ব্রিটিশ বাবা, যিনি ব্রেইন ক্যান্সারের একেবারে শেষ পর্যায়ে। চলে যাচ্ছেন, কিন্তু যাওয়াটা খুব সুন্দর করে যাচ্ছেন তিনি। ভালবাসাময়, হৃদয়ের এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়ে যাচ্ছেন। তিন বছরের ছেলেকে তিনি লিখে যাচ্ছেন সিরিজ চিঠি, যাতে তিনি নিজের জীবনের সবচেয়ে উ্ল্লেখযোগ্য সময়গুলো সুন্দরভাবে, যত্নের সাথে তুলে ধরেছেন। সেই সময়গুলোর মধ্যে আছে, জন্মদিন, যেদিন তিনি ড্রাইভিং টেস্টে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, বিয়ের দিনের মূহূর্তগুলো।

তিন বছর বয়সী ছেলে আলফি এখনও বুঝতে পারছে না কিছুই, কিসের চিঠি, কেন চিঠি, বাবারই বা কি হয়েছে, কিন্তু ছেলে বড় হয়ে একদিন বুঝবে, বাবার ভালবাসা কি ছিল, তা জানতে পারবে, সেই আশাতেই বাবার এই চেষ্টা।

সিমনের স্ত্রী কেলি ডেইলি মেইলকে বলেন, ‘আমরা দুজনই ছেলেটাকে জানাতে চাই যে, বাবা ওকে কতটা ভালবাসে এবং কিভাবে তার বাবা তাকে সারাজীবন আগলে রাখবে’।

এক রাতে সিমন বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎই চোখে অন্ধকার দেখতে পান, কিছুটা অসুস্থও বোধ করেন। মুখের একটা পাশ যেন তার অবশ হয়ে আসছিল। বায়োপসির পর গত জুনে চিকিৎসকরা ৩২ বছর বয়সী সিমনকে জানান যে, তার মস্তিষ্কের ঠিক মাঝখানে একটা টিউমার হয়েছে যা কিনা রূপ নিয়েছে ক্যান্সারে। তার কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়, হাঁটাচড়াও করতে পারেন না আর। দুই সপ্তাহ ধরে রেডিয়েশন দেয়ার পর চিকিৎসকরা জানান, তার ব্লাড কাউন্ট একেবারেই নিচে নেমে গেছে, কোনো চিকিৎসাতেই এটা আর সারানো সম্ভব হবে না বলেও জানিয়ে দেন চিকিৎসকেরা। বেঁচে থাকার সময় দিয়ে দেন মাত্র ছয় মাস। এই কটা দিনই তাঁর অনন্তের পথে যাত্রার প্রস্তুতির সময় হিসেবে ধরে নেন সিমন।

কেলি বলেন, চিকিৎসকরা আমাদের জানান, রেডিওথেরাপিতেও বিশেষ কোনো কাজ হবে না। আর তখনই আমরা দুজনই সিদ্ধান্ত নেই যে, বাড়িতেই তার জন্য আরাম হবে, যেখানে আমি তাকে দেখভাল করতে পারবো। আলফির সাথেও সে যেন পুরো সময়টুকু কাটাতে পারে। কেলি আরও জানান, তিনি সিমনের শুক্রাণু ফ্রোজেন করে রেখেছেন, যাতে পরবর্তীতে তিনি আইভিএফ এর মাধ্যমে তার আরও একটি সন্তানের মা হতে  পারেন।

ক্যান্সার ধরা পড়ার পর এবার হ্যালোইন উৎসবে সিমন এবং ক্যালি তাদের বিয়ের পোশাক পরে, আবারও বিয়ের অঙ্গীকারের কথা পুনরাবৃত্তি করেছেন। একই দিনে ক্যান্সার আক্রান্তদের জন্য বিশেষ তহবিল তোলার একটি অনুষ্ঠানও করেছেন সিমন। এখন তিনি বেশিরভাগ সময়ই কাটাচ্ছে আলফির ভবিষ্যত নিয়ে চিঠি লেখার কাজে।

সিমনের এই উদ্যোগের পিছনে যার কাহিনী উৎসাহ জুগিয়েছে, তিনি হলেন টেক্সাসের একজন অসুস্থ পিতা মিচেল হুইজেনহান্ট। গত অক্টোবরের শেষদিকে তিনি মারা যান মারফান সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়ে। মৃত্যুর পর তার স্ত্রী আবিষ্কার করেছিলেন একগুচ্ছ চিঠি, যা তিনি লিখে গেছেন তাদের এক বছরের মেয়েকে। চিঠিগুলো মেয়ের ১৮ বছর পর্যন্ত প্রতি জন্মদিনে একটি একটি করে খোলার কথাও বলে গেছেন ওই বাবা। আরেকটা গল্প আছে একইরকমের। গত বছর টেনেসে ১২ বছর বয়সসী টেলর মারা যায় নিউমোনিয়ার জটিলতায় ভূগে। কিন্তু রেখে যায় এরকম অসংখ্য চিঠি যা কিনা তার ভবিষ্যত নিয়ে সব স্বপ্নে ভরা ছিল।

সিমন ল্যাংস্টন এবং ক্যালি চাইছেন, একটা স্মরণীয় ফ্যামিলি হলিডে উদযাপন করতে, যা এই চিঠিগুলোর লিগ্যাসিতে আরেকটু মাত্রা যোগ করবে। সামনের ক্রিস্টমাসেই এটা তারা করতে চাইছেন। ক্যালি বলেন, কিন্তু তার আগে পর্যন্ত সিমনকে বাসায় পেয়ে আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ, আমি তাকে জীবনের সর্বোচ্চ আনন্দটুকু দিতে পারছি, এতেই খুশি’। ক্যালির মতে, সিমনের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা আসলেই নেই, কিন্তু দু:খ করে কী হবে। আমরা  ভাগ্যবান মনে করছি এই কারণেই যে, বিদায় জানানোর যথেষ্ট সময় আমরা পেয়েছি এবং এর পুরোটাই আমরা অর্থবহ করে তুলতে পারছি’।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ৩০ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.