সম্পত্তিতে নারীর সম-অধিকারের বিষয়টি কতদূর?

women wealthউইমেন চ্যাপ্টার: সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকারের পরিবর্তে যেটুকু অধিকার এখন রয়েছে সেটুকু নিশ্চিত করার উপরই আপাতত জোর দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সরকারের একজন সংসদ সদস্য।  অন্যদিকে বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, মূলত ধর্মীয় কারণেই সরকার সমানাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদে সাক্ষর করেও তা বাস্তবায়ন করছে না।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে এসব মন্তব্য করেন উপস্থিত প্যানেল আলোচকেরা। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে নারীর উচ্চপদে আসীন হওয়ার বিষয়টি ক্ষমতায়নে কোনো ভূমিকা রাখছে কি-না এবং নারী উন্নয়নে পুরুষের ভূমিকাও আলোচনায় উঠে আসে।

গত বছর এসময়ে বিবিসির আমন্ত্রণে লন্ডনে হান্ড্রেড উইমেন বা একশ নারী শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা একশ নারী। আজকের বিশ্বের নারীদের ঝুঁকি, চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল সেই অনুষ্ঠানে। ওই অনুষ্ঠানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশের নারীদের ক্ষমতায়ন অধিকার ও উন্নয়ন নিয়ে গত শনিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ সংলাপের এই পর্বটি।

এতে আলোচক ছিলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য তারানা হালিম, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুর রউফ, উদ্যোক্তা ও লেখক রুবানা হক। সংলাপে অংশ নিয়ে একজন দর্শক জানতে চান, সম্পত্তিতে সমান উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সম-অধিকারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন কোন আইন করা কি বাংলাদেশের বাস্তবতায় সম্ভব ?

জবাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য তারানা হালিম বলেন, সম্পত্তিতে নারীর অধিকার বৈষম্যপূর্ণ। তবে সরকার সমানাধিকারের বিষয়ে ধীরে এগুতে চায়। এজন্য নারী উন্নয়ন নীতিমালার আলোকে কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, একবারেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে না। ধীরে ধীরে এগোতে হবে। তিনি বলেন, “আপাতত যে অধিকার আছে নারী কিন্তু সেটুকুও ভোগ করতে পারেন না। দেখা যায় গ্রামাঞ্চলে ভাইরা দখল করে নিয়ে যান বা নারীদের জোর কম বলে যেটুকু অধিকার সেটুকুও পাননা। যেটুকু আছে আমরা সেটুকু আগে নিশ্চিত করতে চাই”।

বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, বিভিন্ন ধরনের আইন বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও নারীর অধিকারসহ অনেক বিষয় নিশ্চিত করা যায়নি। কারণ এসব বিষয়ের অনেকগুলোর ক্ষেত্রেই ধর্মীয়  রীতি মেনে নেয়া হয়। তবে তার দাবি মূলত আইনের শাসন নেই বলেই নারী তার অধিকার পায় না।

তিনি বলেন, “সিডও সনদের যে অঙ্গিকার করেছে বাংলাদেশ তা করতে হলে আইন পরিবর্তন করতে হবে। কিন্তু পারেননা এ কারণে যে মানুষের ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে”। আরেকজন দর্শক জানতে চান ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে প্রশাসন কিংবা রাজনীতিতে নারীর উচ্চপদে আসীন হওয়া কতটুকু জরুরী ?

জবাবে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুর রউফ বলেন ,নারী পুরুষ উভয়কে নিয়েই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। কাউকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে বা আলাদা রেখে উন্নয়ন হবে না। তবে দেশের নারীরা এখন এগিয়ে আসতে শুরু করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের নারীরা মাত্র সামনের দিকে এগোনো শুরু করেছে। প্রথমেই ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ডে চলে গেলে হবে না। তাঁরা তো এগিয়ে আসছেন। তাঁরা ঘরের বাইরে এসে কথাবার্তা বলা শিখেছেন। শেখার একটা প্রয়োজন রয়েছে। সেদিক দিয়ে বিচার করতে গেলে আমাদের নারীরা যে পিছিয়ে রয়েছেন তা বলব না”।

অপর প্যানেল আলোচক উদ্যোক্তা ও লেখক রুবানা হক বলেন, নারীরা অর্ধেক কাজ করলেও আয়ের ক্ষেত্রে তার প্রাপ্তি কম। তবে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “শীর্ষস্থানে একজন নারীর অবস্থান অতীব জরুরী। শুধু ক্ষমতায়ন কিন্তু একমাত্র বিষয় না, এর সাথে সাথে নিরাপত্তাহীনতার একটা ব্যাপার আছে। কাজেই শীর্ষ অবস্থানে যিনি থাকবেন তিনি যদি ক্ষমতায়িত হন তাহলে নারী অনেক নিরাপদ থাকবে এবং একইভাবে ক্ষমতায়নও সম্ভব হবে।”

তারানা হালিম বলেন, ক্ষমতায়নের জন্য উচ্চপদে থাকা জরুরী নয়। তবে প্রশাসন ও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ জরুরী। কারণ এগুলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গা।

আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, বাংলাদেশের দুজন নারী দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ পদে রয়েছেন কিন্তু তারপরেও নারীর ক্ষমতায়নে কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে তা রাজনৈতিকভাবে মূল্যায়ন অত্যন্ত কঠিন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.