নারী ও পুরুষের সম্পর্ক

women abstractরওশন আরা বেগম: নারী ও পুরুষের সম্পর্ক কী রকম হওয়া উচিত এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যে সম্পর্ক তৈরী হয় তা কিভাবে মূল্যায়ন করা হয় এই প্রশ্নগুলো আমি পেয়েছি। আমরা নারীর সমালোচনা করি, পুরুষের সমালোচনা করছি কিন্তু নারী ও পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক কি রকমের হওয়া উচিত সে বিষয়ে তেমন আলোচনা হয় না। একটা নারী ও পুরুষের মধ্যে যে সম্পর্ক তৈরি হয় সেই সম্পর্কটি কিসের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে সেটি আগে প্রথমে দেখতে হবে।

কাজের ক্ষেত্রে বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ক তৈরি হতে পারে, সহপাঠি হিসাবে বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। এই সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা ফরমাল ব্যবহার থেকে যাবে। তবে এই বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ক থেকে অনেক সময় স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অথবা মিউচুয়াল বোঝাপড়ার মাধ্যমে একটা শারীরিক সম্পর্কও তৈরি হয়ে যেতে পারে। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিবাহ বহির্ভুত শারীরিক সম্পর্ককে মেনে নেওয়া হয় না। যদিও সমাজে এর অস্তিত্ব রয়েছে। তবে আমি এখানে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কি রকম হওয়া উচিত শুধু সেই বিষয়টি আলোচনা করবো।

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যে সম্পর্কটি তৈরি হয় তা শুধু শারীরিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। কারণ শুধুমাত্র  শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে বেশী দূর অগ্রসর হওয়া যায় না। এর সাথে আরো কিছু বহুমাত্রিক সম্পর্কের সংযোগ থাকা দরকার। তা না হলে জীবনে এক ঘেয়েমি বা অতৃপ্তি চলে আসবে। সংসার জীবনে একজন পুরুষ আজীবন একজন নারীর সাথে জীবন অতিবাহিত করতে পারে কয়েকটি বিশেষ শর্তে।

এটি প্রকৃতি বিরুদ্ধ আচরণ বটে। কারণ নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যে বহুগামিতা বিদ্যমান। মানুষের এই বহুগামী আচরণকে অস্বীকার করা হলে প্রাণীকূলের যৌন আচরণকে অস্বীকার করা হবে। তবে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কিছু বিশেষ কলাকৌশলের মাধ্যমে আজীবন সুখী দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করতে পারে। এসবই মানুষের পক্ষে সম্ভব। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হলেই এই সম্পর্ক গভীর হয় না। এই সম্পর্কের গভীরে যেতে গেলে অন্যান্য বহুমাত্রিক সম্পর্কের সংযোগ থাকার দরকার।

কিন্তু আমাদের সমাজে এই ধরনের সম্পর্ক তৈরি হয় না। যার ফলে দেখা যায় নারীকে সারা জীবন ঐ ছেলে-মেয়ে নিয়েই ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়, আর স্বামী তার নিজের আলাদা জগত নিয়েই ব্যস্ত থাকে, যে জগতে স্ত্রীর প্রবেশ অধিকার আর থাকে না। তবে এর যে ব্যতিক্রম নেই তা নয়। এখানে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মধ্যে ভালবাসা, শ্রদ্ধা, দায়িত্ব কর্তব্যবোধ সবই আছে। শুধু যে জিনিসটা নেই তা হলো একের চিন্তায় অন্যের প্রবেশাধিকার। এই ধরনের সম্পর্ক আজীবন টিকে থাকে, তবে মানসিক তীব্র প্রশান্তির ধারে কাছে কোন দিনও যেতে পারবে না।

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকতে পারে, তবে পার্থক্যকে আস্তে আস্তে কমিয়ে যে একটা মৌলিক অবস্থানে আনা সম্ভব। এই অসম্ভব কাজটি করার জন্য দুজনেই মানসিকভাবে উদার হতে হবে। স্বামী ও স্ত্রীর উদারতা সংসারে স্বর্গীয় সুখ এনে দেয়। স্বামীর উদার হাত স্ত্রীর উপর কোন আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না। এই আধিপত্য বিস্তারের মনোভাব থেকেই সংসারের ভিতরে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়। অনেক সময় নারী হয়েও স্বামীর উপরে এই আধিপত্য বিস্তারের কাজটি করে থাকে। স্বামীর উদার মানসিকতা, সহযোগিতার হাত নারীকে অনেক উপরে নিয়ে যেতে পারে। তবে এই ক্ষেত্রে নারীর নেওয়ার ক্ষমতার উপরও কিছুটা নির্ভর করে। আবার স্বামীরও ভাল কিছু নেবার মানসিকতা থাকা উচিত। এই ভাবে একে অপরের লেনদেনের মাধ্যমে একটি আজীবন সুখী সংসার গড়ে তোলা যায়।

একে অপরের প্রতি সততা, ভালবাসা, শ্রদ্ধা যেখানে অক্ষুন্ন থাকে সেই মিলনে স্বর্গীয় ভাব থাকে। তবে এখানে আমি আরেকটি জিনিসের উপর জোর দিতে চাই তা হলো চিন্তা ভাবনার অংশীদারিত্ব। আমি নিজেকে দিয়েই এই লেখার ইতি টানতে চাই। এই আমি সাহিত্য বোদ্ধা নই। সাহিত্যকে ভালবাসি, ভালবাসা শিখেছি একজনের কাছ থেকে সে আমার স্বামী শাখা নির্ভানা। এটি তার ছদ্ম নাম। এই নামে মুক্তমনায় অনেক ছোট গল্প লিখেছে। এই গল্পের প্রথম পাঠক আমি। তার তৈরী ছোট গল্পের কত চরিত্র যে আমাকে কাঁদিয়ে বুক ভাসিয়ে দিয়েছে তার হিসাব নেই। আমি তার গল্পের মহা ভক্ত। শুধু তাই না তার গল্পের সৃষ্টির পিছনের প্রধান যোগান দাতাও। এই ফেসবুকের পাতায় আপনারা হয় তো অনেকেই তা জানেন। আমি অনেক কিছু শিখেছি এই মানুষটির কাছ থেকে। আজও শিখছি। হয়তো কেউ বলতে পারেন আমার নেওয়ার ক্ষমতা আছে। ভাল লাগলে নেওয়ার ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। এখানেই শেষ নয়। এই বিশ বছরের সংসার জীবনে আজও সারা রাত জেগে সাহিত্য আলোচনা করে সময় পার করে দেই। কখনো কখনো সারা রাত শুধু গান দিয়ে সময় পার করি। কত নির্ঘুম রাত কাটে দর্শন আলোচনায়, তার কোন হিসাব নেই। আমরা দু জনে প্রচুর আলোচনা করি, যা আমাদের দু জনের লেখার মধ্যে চলে আসে। আমাদের এই সম্পর্কটি আস্তে আস্তে তৈরি হয়েছে, বা তৈরি করে নিতে হয়েছে।

 

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.