শেষপর্যন্ত কী বাঁচবেন জাব্বারি?

Irani woman
রেইহানে জাব্বারি

উইমেন চ্যাপ্টার: ধর্ষককে হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক ইরানি নারী একেবারে শেষ মূহূর্তে এসে ফাঁসির দড়ি থেকে রেহাই পেলেন। তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, এই স্থগিতাদেশ মাত্র ১০ দিনের জন্য।

২৬ বছর বয়সী রেইহানে জাব্বারি জানান, ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মচারি মোরতেজা আব্দলালি সারবান্দি ২০০৭ সালে তাকে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বাসায় নিয়ে যায় এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এসময় তিনি তাকে ছুরিকাঘাত করলে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০০৯ সালে তেহরানের একটি ক্রিমিনাল কোর্ট রেইহানেকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তদন্তে জালিয়াতির অভিযোগ এনে এবং বিচারে সকল সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি উল্লেখ করে এই রায়ের তীব্র নিন্দা জানায় মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তাছাড়া এই হত্যাকাণ্ড আত্মরক্ষার্থে হয়েছে বলেও দাবি করে সংস্থাটি।

জাতিসংঘ কার্যালয়ের মানবাধিকার হাই কমিশনার বলেছে, এটা ছিল ধর্ষকের হাত থেকে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা হিসেবে হত্যা এবং জাব্বারি কখনই ন্যায়বিচার পায়নি। বুধবার এক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি জানায়, জাব্বারির মায়ের ফেসবুক বার্তা থেকে জানা যায় যে, জাব্বারিকে অন্য একটি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং ৩০ সেপ্টেম্বর তার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।  কিন্তু শেষমূহূর্তে ১০ দিনের জন্য দণ্ড কার্যকর স্থগিত রাখা হয়। সংস্থাটির মতে, মেয়েদের দণ্ড কার্যকর নিয়ে মায়ের পোস্ট দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে প্রতিক্রিয়া হয়েছে, তারই সূত্র ধরে এটা স্থগিত করা হয়ে থাকতে পারে। জাব্বারির মা লিখেছিলেন, ফাঁসি কার্যকরের পর তিনি তার মেয়ের মরদেহ নিয়ে যাবেন এসে।

রেইহানের মা শোলে পারাভান বলেন, তিনি তাঁর মেয়েকে শেষবিদায়ের জন্য সময় গুনছিলেন। নিজে নিজে চলাফেরা করতে পারেন না, কারাগারে তাঁকে নিয়ে যেতে বাসার বাইরে একটি গাড়ি অপেক্ষা করছিল।

ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, দণ্ড স্থগিত হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই তিনি তার মেয়ের ফোন পান। জাব্বারি বলছিলেন, ‘বিদায়, প্রিয় মা। আমার সব কষ্টের শেষ হয়ে যাবে আগামীকাল ভোরবেলাতেই। তোমার সাথে আমার পরের পৃথিবীতে দেখা হবে এবং এই পৃথিবীতে তোমার থেকে আলাদা হওয়ার কষ্টটা জানি বলেই পরের জন্মে আর কোনদিন ছেড়ে যাবো না’।

ইরান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এই মামলাটি পরিচালনা নিয়ে বেশকিছু অভিযোগ উঠেছে। অ্যামনেস্টি জানায়, দুই মাস ধরে জাব্বারিকে একা একটি সেলে রাখা হয়েছিল, আইনজীবী বা পরিবারের কাউকে সেখানে যেতে দেয়া হয়নি।

 

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.