অপরাগতার দায় কেন একা নারীর

Asma
আসমা বেগম

আসমা বেগম: শিক্ষিত অশিক্ষিত, চাকরিজীবী, সংসারী নির্বিশেষে মেনে নিয়েছি সন্তান ধারণ যেহেতু এককভাবে নারীর অধিকারে তার দেখাশোনা, লালন পালন ও এককভাবে নারীকেই নিতে হবে। এটা তাদের দায়িত্ব। যেহেতু সন্তান মানেই গোছানো নিয়ম মাফিক জীবন যাপন, সেহেতু একটা সুন্দর গোছানো সংসার তৈরির সব দায় দায়িত্ব ও মেয়ের উপর ই বর্তায়। সময় মত খাবার, স্কুল, গোসল, বাচ্চার পড়াশুনা, বাচ্চার আদব কায়দা সব ই মায়ের দায়িত্ব। বচ্চার কাশি সবার আগে মাকে জিজ্ঞেস করা হবে ওর ঠাণ্ডা লাগলো কি করে? এর দায় ও মায়ের। এমন মানসিক গঠনে একটা মেয়ে চাকরি করা সেটা নিজের ভাল লাগা, নিজের যোগ্যতা কাজে লাগানো, সংসারের প্রয়োজন এ , এক ধরনের অস্থিরতার মাঝে রাখে তাকে। মাঝে মাঝে এই পরিস্থিতি অপরাধবোধের জন্ম দেয় নারীর মনে।

একজন নারীর স্বামী অন্য কোন নারীর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে, এর দায়-দায়িত্ব ও নারীর [সে তার স্বামীকে ধরে রাখতে পারেনি]। কেউ পুরুষ কে জিজ্ঞেস করবে না, কেন? এই প্রশ্নের উত্তর ও নারীকেই দিতে হয়। এই অবস্থায় বস্তবে যখন কোন পুরুষ [যে কোন কারণেই হউক] নতুন সঙ্গী খুঁজে নেয়, পুরুষ নিজে, পরিবার এবং সমাজ ধরেই রাখে বাচ্চা রেখে মেয়েটা আর কোথায় যাবে? এই স্বামীর সাথে ই কাটিয়ে দিবে, একদিন মোহ কেটে গেলে স্বামী ফিরে আসবে।

৮০ বছর পূর্বে আমার অশিক্ষিত দাদী সংসার ছেড়ে যেতে পারেনি এই সমাজের কারণে। স্বামীর বাড়িতে সে তার ছেলেদের নিয়ে আলাদা সংসার পেতেছে। স্বামীর সাথে কোন সামাজিক, পারিবারিক বা অর্থনৈতিক সম্পর্কই সে রাখেনি। এখন আমাদের মেয়েরা অনেক শিক্ষিত, নিজে একটা সংসার চালিয়ে নেয়ার মত ক্ষমতা রাখে। কিন্তু আমাদের সমাজ এখন ও সেই ৮০ বছর আগের সমাজ ই আছে। আমাদের মানসিকতা ও সে আগের জায়গায় ই আছে। সে চাইলে ও তার ছেলে মেয়ে নিয়ে আলাদা থাকতে পারে না।

প্রতিনিয়ত, সকাল সন্ধ্যা রাত নিজের অসম্মান নিজের প্রতি করুণা নিয়ে স্বামীর সংসারে থাকতে বাধ্য করে আমাদের পরিবার আর সমাজ। যদিও বা নারী এই অসম্মান থেকে মুক্তি চায়, নেয় সাহসী কোন পদক্ষেপ, প্রয়োজনে আলাদা বাসায় থাকা শুরু করে, তখন থেকে ই শুরু হয় নারীর চরিত্র হননের নাটক। ঘরে বাইরে অফিসে সে আর নারী নয়। কারো মা বা বোন নয়। সে তখন একটা শরীর। কামুক শরীর।পুরুষের শরীর কে আমরা স্বইকার করছি, তার প্রেম কে সম্মান করছি কিন্তু নারীর শরীর থাকতে নেই, প্রেম থাকতে নেই। সে শুধু ই পাত্র। স্বামী ছেড়ে যাবার পর নারী অন্য কোন সম্পর্কে না জড়িয়ে ই নানা শারিরিক হ্যেরাস্মেন্ট [মৌখিক] এর স্বীকার হয়, আর যদি অন্য সম্পর্কে জাড়ায় ও তাহলে তো আর কথাই নেই, সে সবার গমন যোগ্য।

ছেলেরা কি শুধু ই শুক্রানু উৎপাদনের কারখানা?!! এর বাইরে তার কি আর কোন দায় নেই? !!!
শরীর উত্তাপ খুঁজে শরীর, ভ্রমণ শেষে ঢেলে দেয় প্রানের বীজ
বীজ খুঁজে ফেরে বীজ, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মাতে প্রাণ
সৃষ্টি করে প্রাণ ভোমরা

সেই জীবন্ত প্রাণের সব দায় কি শুধু ই নারীর? আমরা কি একবার ও প্রশ্ন করবো না কেন, কেন তুমি আমাদের সৃষ্টির সব কিছুর ভাগ বুঝে নিবে না? যদি একেবারে ই অপারগ হও, সমাজ কেন তার অপারগতার দায় নারীকেই নিতে বাধ্য করবে?

আমাদের সমাজ এখন ও শুধু মা ভিত্তিক পরিবারের জন্য প্রস্তুত না। কর্পোরেট বা পারিবারিক বা সামাজিক কোন স্তরেই না। আমাদের দেশে এখনও কোন ভাল daycare নেই যেখানে নারী তার সন্তানের জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয় পাবে। আমারা শিক্ষিত হয়েছি, কিন্তু শিশুরও যে আত্মসম্মান আছে তা এখনও জানি না। খুব অবলীলায় আমরা আমদের শিশুদের জিজ্ঞেস করতে পারি……তোর মা এত রাতে বাসায় আসে কেন? তোর বাবা তোদের রেখে কেন চলে গেল?………………কেউ গিয়ে তার বাবাকে জিগ্যেস করবে না। তার বাবার সাথে এদের ই কারো দেখা হলে তারা রাজনীতি নিয়ে আলাপ করবে, খেলা নিয়ে আলাপ করবে ……সমাজ আর দিন বদল নিয়ে………movie নিয়ে আলাপ হবে………তার GF নিয়ে কেউ কথা বলবে না, তারা পূর্বের ছেলেমেয়েদের কথা কেউ জিজ্ঞেস করবে না।

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.