বিয়ের আগে যৌন সক্ষমতা পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক

men vs womenউইমেন চ্যাপ্টার: দক্ষিণ ভারতের একটি আদালত বিয়ের আগে নারী ও পুরুষের যৌন সক্ষমতা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করার পর তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিবিসি বাংলার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক সাইটে নিউজটির পক্ষে-বিপক্ষে মন্তব্য করেছেন পাঠকরা। কেউ কেউ এই সুপারিশকে যথোপযুক্ত বলে সমর্থন করলেও অধিকাংশ পাঠকই এর পিছনে ধর্মীয় কারণ টেনে নিয়ে এর বিরোধিতা করেছেন।

তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজধানী চেন্নাইয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টের একজন বিচারকের এই প্রস্তাবের পর দক্ষিণ ভারতে স্বাস্থ্য ও সমাজ বিশেষজ্ঞরা এর সমালোচনা করেছেন। তারা বলছেন, যৌন সক্ষমতা যাচাইয়ের এই পরীক্ষা যথাযথ হবে না, বরং এটা হবে পরাধিকার চর্চা। কারণ যৌন সমস্যা প্রায়শই অল্প সময়ের জন্যে স্থায়ী হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে বহু ও নানা কারণ থাকতে পারে।

মাদ্রাজ হাই কোর্টের একজন বিচারক এন. কিরুবাকারণ বলেছেন, বর্তমানে এই পরীক্ষা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে, কারণ যৌন অক্ষমতা বা শীতলতার কারণে ভারতে প্রচুর বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে। পাশাপাশি শুধু যৌন অক্ষমতা নয়, যৌনবাহিত রোগ শনাক্ত করতেও মাদ্রাজ হাইকোর্ট বিয়ের আগেই এই পরীক্ষা চালানোর কথা বলছে।

বিচারক বলেন, বিশেষ করে পুরুষরা অনেক সময়েই তাদের যৌন সমস্যার কথা গোপন করে বিয়ে করছে। আর এর মধ্য দিয়ে লঙ্ঘিত হচ্ছে নারীর সুস্থ জীবন যাপনের অধিকার। ডাক্তাররা যদি আগে থেকেই পরীক্ষা করে এই সমস্যা ধরতে পারেন তাহলে যৌন সমস্যা গোপন করে অক্ষম পুরুষদের বিয়ে করার ঘটনাও ঠেকানো যাবে। যেসব পুরুষ তাদের যৌন দুর্বলতার কথা গোপন করে বিয়ে করছে ও হবু স্ত্রীদের প্রতারণা করছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যেও সরকারের কাছে এই বিচারক প্রস্তাব করেছেন।

এর মাত্র দুদিন আগেই জাতিসংঘের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, নিজ স্ত্রীকে যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজনের একজন বিবাহিত নারী তার স্বামীর নানারকম যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি জাতিসংঘ শিশুবিষয়ক তহবিল বা ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবিসি বাংলার ফেসবুক পেজে শ্যামল শিশির নামে একজন পাঠক লিখেছেন, নি:সন্দেহে ভালো প্রস্তাব। এতে করে দাম্পত্য কলহ এবং সন্তানদের অনিশ্চিত জীবন যাপন করার হার কমে যাবে। কারণ সম্পর্ক বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ যৌন অক্ষমতা।

শরীফ আলামিন লিখেছেন, এটা বৈধ পন্থায় সম্ভব হলে অনেক নারী-পুরুষ লাঞ্ছনা থেকে রেহাই পাবে। অধিকাংশ পাঠকই এর বিরোধিতা করেছেন এটা ইসলাম ধর্মের সাথে সাযুজ্য নয় উল্লেখ করে। একজন লিখেছেন, এরপরে হয়তো শুনবো মেয়েরা গর্ভধারণে সক্ষম কিনা তা বিয়ের আগেই পরীক্ষা করে দেখতে হবে। অপর একজন লিখেছেন, সক্ষম হলে বিয়ে । অক্ষম হলে নয়! অক্ষম হলে ছেলেটা ক’টা মেয়েকে ভোগ করলো বা মেয়েটা ক’টা ছেলের কাছে সম্ভ্রম হারালো। এসব চিন্তা করাও পাপ । এটাকে ব্যক্তি স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করার সহজ মাধ্যম বলেও একজন মন্তব্য করেছেন।

তবে ভারতের আদালতের এই সিদ্ধান্তের সাথে জাতিসংঘের প্রতিবেদনকে সম্পর্কিত করা হলে দেখা যাবে যে, এ দুটোই পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। বিভিন্ন কেস স্টাডি অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে স্বামীর যৌন অক্ষমতাও নিজ স্ত্রীর ওপর শারীরিক কর্তৃত্ব ফলানোর একটা কারণ হিসেবে দেখা গেছে এবং তা প্রায়ই যৌন নিপীড়ন দিয়ে সমাপ্তি ঘটতে দেখা যায়।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, নি:সন্দেহে আদালতের এই সুপারিশ গুরুত্বপূর্ণ, তবে এর বাস্তবায়নের নামে যেন সমাজে কোনোরকম ‘সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টি না হয়, সেদিকে নজর দেয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.