আইভী উত্তরে যা বললেন…..

Ivy 3উইমেন চ্যাপ্টার: নারায়ণগঞ্জের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী সাম্প্রতিক সময়ের বহুল আলোচিত টক-শো এর বিষয়ে দু:খ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আমার প্রতি দেশবাসীর একটা অন্যরকম প্রত্যাশা আছে আমি জানি। আমি সেই প্রত্যাশাটা ক্ষুন্ন করেছি বলে সত্যিই কষ্ট লাগছে। এতোটা উত্তেজিত হয়ে যাওয়া আমার উচিত হয়নি মোটেও। কিন্তু আপনারাও নিশ্চয়ই দেখেছেন যে, পরিস্থিতি মোটেও আমার অনুকূলে ছিল না। কেন যে ফাঁদে পা দিলাম, সেটাই ভাবছি এখন’।

তিনি বলেন, সাংসদ শামীম ওসমানের নানারকম কদর্য মন্তব্যে মাথা ঠিক রাখা সম্ভব হয়নি। এজন্য তিনি দর্শক-শ্রোতাদের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, কেউ যাতে তাকে ভুল না বোঝে। তবে এটাও বলেন যে, এই ঘটনায় দেশবাসীর মধ্যে নানারকম প্রতিক্রিয়া হলেও, বিশেষ করে যারা আমাকে ভালবাসে, পছন্দ করে, তাদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করেছে, এটা তিনি বুঝতে পেরেছেন, কিন্তু শামীম ওসমান নিজেকে অপ্রতিরোধ্য ভাবেন, তাই তাকেও সমুচিত একটা জবাব দেয়া উচিত ছিল বলে আমার মনে হয়েছে। সেদিক দিয়ে খুব একটা ভুল কাজ যে হয়েছে, তাও বলবো না।

উইমেন চ্যাপ্টারকে টেলিফোনে মেয়র আইভী বলেন, দেশবাসী মনো:ক্ষুন্ন হলেও নারায়ণগঞ্জবাসী ঠিকই খুশি হয়েছে। তারা আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে আইভী বলেন, শামীম ওসমান একের পর এক মন্তব্য করে, ঘটনা ঘটিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে, তাকে কেউ কিছু বলার সাহসটুকু পর্যন্ত করছে না, সেখানে দেশবাসীর সামনে মুখের ওপর তাকে ওই কথাগুলো বলা আমার উচিতই ছিল। কাউকে না কাউকে তো সেই গুরুদায়িত্বটুকু পালন করতেই হয়। তাই আমাকে সেদিন ‘কর্কশ’ মনে হলেও আমি কিন্তু সত্যি কথাটাই বলেছি।

শামীম ওসমান মুখে যতোই বড়াই করুক না কেন, আসলে উনি একটা ভীতু প্রকৃতির মানুষ বলেও মন্তব্য করেন আইভী। গত ১৯৯৩ সালে বিদেশ থেকে পড়াশোনা শেষ করে দেশে আসার পর থেকে এ পর্যন্ত তিন তিনবার তিনি শামীম ওসমানকে দৌড়ানি খাইয়েছেন বলেও জানান।

নারায়ণগঞ্জের মানুষ শামীম ওসমানের কীর্তিকলাপের জন্যই ভয় পায়, সেখানে তাকে সামনাসামনি ‘গডফাদার’ বলার মতো সাহস কয়জনের আছে? এমন প্রশ্নও তোলেন আইভী।

পাশাপাশি মেয়র আইভী গণমাধ্যম বিশেষ করে ৭১ টেলিভিশনের সমালোচনা করে বলেন, ‘তারা যদি সত্যিই আমার আসার কথা গোপন রেখে শামীম ওসমানকে এনে থাকে, তাহলে খুবই অন্যায় করেছে। তার চেয়েও বেশি অন্যায় করেছে অফ এয়ারের খবর ফাঁস করে দিয়ে। এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এটা সাংবাদিকতার নীতি পরিপন্থী, অনৈতিক’।

আইভী বলেন, আবার শামীম ওসমান যে জানতেন না আমি আসছি অতিথি হিসেবে, এটাই বা মানি কি করে? তিনি তো যথেষ্ট কাগজপত্র নিয়েই সেদিন স্টুডিওতে হাজির হয়েছিলেন। সহ-অতিথি সাংবাদিক মর্তুজাকেও তো তিনি অপমান করেছেন। এটা পুরোটাই সাজানো ঘটনা হতে পারে বলে ধারণা করছেন আইভী।

মেয়রের ভাষ্যমতে, টকশোর আগের তিনদিন ধরেই শামীম ওসমান নানা কথা বলে আসছিলেন। সাত খুনের মামলায় তাদের দুজনের সাক্ষ্যও নেয়া হয়েছিল। সেখানে আমি গডফাদারের জড়িত থাকার কথা বললেও কারও নাম বলিনি। কিন্তু শামীম ওসমান ঠিকই আমার চরিত্র নিয়ে নানা কথা বলে আসছিল। অনেক টকশোতে আমাদের ডাকা হয়েছে, শামীম ওসমান থাকবেন জেনে আমি সেগুলো এড়িয়ে গেছি। কিন্তু সেদিন মনে হয়েছিল, আমি না গেলে সে বরাবরের মতোই একতরফা কিছু কথা বলে চলে আসবে। তাই উত্তর দেয়াটা জরুরি ভেবেই গিয়েছিলাম। কিন্তু ঘটনা যে এমনদিকে মোড় নেবে বুঝতে পারিনি।

আপনাকে অনেকেই আদর্শ মানে, অনেকেই ভালবাসে, আপনার নির্বাচনের সময় সারাদেশের মানুষ এক হয়ে আপনার পক্ষে কথা বলেছেন, সেক্ষেত্রে আপনার প্রতি একটা উচ্চাশা তো সবারই আছে, তাই না? জবাবে আইভী বলেন,’ আমি জানি আমি অনেককে হতাশ করেছি। আমার শিক্ষা, পারিবারিক ঐতিহ্য, রাজনৈতিক আদর্শ কোনটাই যায় না ওইদিনের ঘটনার সাথে। কিন্তু আসলে কিছু উস্কানিমূলক মন্তব্যে মাথাটা ঠিক রাখতে পারিনি। যা আমার জন্য খুবই দরকার ছিল। আবার শামীম ওসমানকে যে সবাই সমীহ করে কথা বলে, এমনকি যে সাংবাদিকদের তিনি ‘অ্যালসেসিয়ান কুকুর’ বলে আখ্যায়িত করেন, সেই সাংবাদিকরাই আবার তার সাথে বসে কী করে, সেটাও আমার মাথায় ঢোকে না। কই, তারা তো কেউ একথার জন্য তাকে বয়কট করেনি?

এতো এতো ঘটনার জন্ম দিয়েও শামীম ওসমান কি করে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে, শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর স্নেহধন্য বলে, এটা কেমন রাজনীতি? প্রশ্ন করেন আইভী। শামীম ওসমানকে স্পেস দিতেই এতোসব ঘটনার অবতারণা বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন যে, শামীম ওসমানের বন্ধুরা তো সব বড় বড় সাংবাদিক। উদ্দেশ্য তো থাকবেই তাহলে।

আপনাকে কি মারতে এসেছিলেন শামীম ওসমান? এ প্রশ্নের জবাবে আইভী বলেন, না, এরকম কিছু ঘটেনি। তবে সাংবাদিক মর্তুজা বলেছেন, আমি কিছু একটা বলে স্টুডিও থেকে বেরিয়ে আসার পর ভিতরে অনেক উত্তেজিত দেখাচ্ছিল শামীম ওসমানকে।

কথার শেষে আবারো ক্ষমা চেয়ে আইভী বলেন, ‘আমি ক্ষমা চাইছি এমন উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে কথা বলার জন্য, কিন্তু শামীম ওসমানের মতোন লোকরা একের পর এক অন্যায় করেও পার পেয়ে যায় কোনো অদৃশ্য শক্তির বলে? গডফাদারকে যে সামনাসামনি গডফাদার বলার মতোন শক্তি ও সাহস রাখি, সেটাও সবাই বিবেচনায় আনবেন আশা করি’। আর শামীম ওসমানের এ ধরনের নারী বিদ্বেষী আচরণ তো এটাই প্রথম নয়, সে যে একজন নারীর সাথে কী ভাষায়, কী ভঙ্গিতে কথা বলতে হয়, তা জানে না, তাও সবাই জানে। কাজেই তার পক্ষ নেয়ার আসলে কিছুই নেই।

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.