আপনি কি যৌন হয়রানী করেন?

talakগীতিআরা নাসরীন: আমাদের মধ্যে একটা প্রচলিত ধারণা আছে যে, কোন বিশেষ প্রকৃতির মানুষই যৌন-হয়রানী করে থাকে। যৌন হয়রানী যারা করে তাদের ‘বখাটে’ থেকে শুরু করে ‘পশু প্রকৃতি’র বলে আমরা চিহ্নিত করি।

মুশকিলের ব্যাপার হলো এই যে যৌন হয়রানী যারা করে তারা কোন বিশেষ প্রকৃতির মানুষ নয়। তারা আপনারই চেনা কেউ, আপনার বন্ধু, ভাই, চাচা, ভাতিজা, মামা, ভাগ্নে, নানা, দাদা, নাতি, শিক্ষক, বস … অর্থাৎ যে কেউ।

যখন সমাজে যৌন-হয়রানীকে স্বাভাবিকভাবে দেখা হয় (ছেলেরা তো এমন একটু-আধটু করবেই), যৌন হয়রানীর দোষ মেয়েটির পোষাক-আচরণ ইত্যাদির উপরে চাপানো হয় (মেয়েমানুষ যেখানে সেখানে গেলে এরকম তো হবেই), হয়রানী যারা করে তাদের কোন শাস্তি হয় না, তখন সে সমাজে হয়রানী করার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।

সেই সংস্কৃতিতে ছেলেরা জোয়ান হয়ে ওঠার অংশ হিসেবে  যৌন হয়রানী শেখে, বন্ধুরা বাজি ধরে কোন মেয়েকে ধাক্কা দেয়, খারাপ কথা বলে। এমনকি যৌন হয়রানীকে রোমান্টিক করে তোলা হয়। কোন মেয়েকে অনুসরণ করা, তার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে টেলিফোন করা ইত্যাদির নাম Stalking. সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু আমরা গল্পে-নাটকে দেখি, এমতাবস্থায় মেয়েটি ছেলেটির প্রেমে পড়ে যাচ্ছে।

যৌন হয়রানী অপরাধ। সেটি প্রেম নয়, স্বাভাবিক আচরণ নয়, ‘পুরুষ’ হয়ে ওঠার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। আপনি নিজে হয়তো হয়রানী করেন না, কিন্তু আপনি যখন চুপ করে থেকে এই সংস্কৃতি কে উস্কে দেন, তখন আপনিও একজন সম্ভাব্য হয়রানীকারক। আপনি জানেন যে আপনার শিশু বাড়ির কোন সদস্যের হাতেই যৌননিপীড়িত হতে পারে, তারপরেও কেন আপনি চোখ বন্ধ করে থাকেন?

হয়রানীকে স্বাভাবিকভাবে দেখা হয় যেখানে – সেটা কোন মানুষের সমাজ হতে পারে না, তাইনা?  যৌন হয়রানীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।

“ফেসবুকে লেখালেখি করে কি হবে? নিজেদেরকে বদলাতে হবে” – এধরণের মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ এই ইভেন্টের পাতায়। সেই বদলানোর আহ্বান জানাতেই তো এই লেখা। নিজে কখনো হয়রানী না করলে কেমন হয়? বন্ধুদের আটকালে? নিজের ছেলে যখন এসব করে তবে অস্বীকার করার চেষ্টা না করে – তাকে যৌন হয়রানী যে অপরাধ তা বোঝালে? নিজ দলের নিপীড়ককে বাঁচাবার চেষ্টা না করে শাস্তি দিলে?

শিক্ষক কর্তৃক যখন হয়রানী হয় – তখন চুপচাপ নিজের পিঠ না বাচিঁয়ে ভিকটিমের পক্ষে দাঁড়ালে? যৌন নিপীড়ন বিরোধী যে হাইকোর্ট অর্ডার আছে, তার ভিত্তিতে কমিটি এবং অভিয়োগ সেল নিজের শিক্ষা ও কর্মপ্রতিষ্ঠানেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে কিনা সেটি নিশ্চিত করার চেষ্টা করলে? ‘ওরে ভীরু, তোমার হাতে নাই ভুবনের ভার’। নিজের চারপাশেই তো প্রচুর জায়গা বাড়ানোর জায়গা আছে।

 

‘রাবিসহ সারাদেশে যৌন হয়রানির প্রতিবাদে ফেসবুকে গণস্ট্যাটাস’  এর অংশ হিসেবে লিখিত।

১৬ অগাস্ট, ২০১৪

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.