বীরাঙ্গনাদের পাশে থাকি

Shahmika-Agoon1
শাহমিকা আগুন

শাহমিকা আগুন: আমাদের বুকের ভেতরে নিঃশ্বাস নেয় এ কোন মহাকালের হিংসাত্মক আক্রোশ! কে সে যে সবকিছু ছিন্ন-ভিন্ন লণ্ড-ভণ্ড করে দিতে পারলে পরিতৃপ্ত হয়! কেন এত ধ্বংস, হত্যা আর লুটতরাজের মহাতাণ্ডব! ফিলিস্তিনে ইসরাইলী হামলা, নাইজেরিয়ায় বোকোহারাম নামে উগ্র ইসলামী জঙ্গীবাদিদের হামলা, ইরাকে এবং সিরিয়ায় কট্টরপন্থী ইসলামিদের হামলা। শুধু বুক হিম করা মৃত্যু আর রক্ত আর ব্যবচ্ছেদের পুনরাবৃত্তি।

বোমার আঘাতে ছড়ানো-ছিটানো শিশুর দেহ, স্প্লিন্টারের ক্ষত গায়ে জড়িয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করা কিশোরীর মুখ কিংবা সন্তানহারা মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ আমাদের মনুষ্যত্বকে উল্কার আঘাতে প্রকম্পিত করে। কিন্তু সবকিছু উপড়ে বুক হিম হয়ে যায় যখন এত অত্যাচারের পরেও সেই কিশোরী বা সেই মাটির শরীরকে ত্রিশ কিংবা পঞ্চাশজন পুরুষ মিলে দাঁত- নখর –বীর্যের উন্মাদনায় কামড়ে কামড়ে কেটে ফুঁড়ে ব্যবচ্ছেদ করে, রক্তাক্ত করে তাদের জিঘাংসার খেদ মেটায় প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের পরিতৃপ্তিতে! যুদ্ধের নামে চলছে নারী শরীরে চরম হিংস্রতা আর অত্যাচার খোদাই এর ঘৃণ্য চেষ্টা।

মাথা ঝুঁকে যায় যখন ইসরাইলী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মরদেছি কেদার ঘোষণা দেয় যে, ‘ফিলিস্তিনের আরব নারীদের ধর্ষণ করাই যুদ্ধ জেতার একামাত্র কৌশল।‘ বুকটা খান খান হয়ে যায় যখন দেখি নাইজেরিয়ার তিনশ শিশু কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয় কিনবা ধর্মের নামে যে যুদ্ধ চলছে ইরাক-সিরিয়ায় সেখানে ঘর থেকে মেয়েদের টেনে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়!

তবু ফিলিস্তিনি কিংবা ইরাকী নারীদের ভাগ্য কিছুটা ভাল কেননা যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ধর্ষণকে বেছে নেয়া হয়নি, যেমনটি নেয়া হয়েছিল বাংলাদেশী নারীদের ক্ষেত্রে। ভাবতেই গা শিউরে ওঠে যে একটি দেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, সেনাবাহিনী প্রধান থেকে শুরু করে প্রতিটি বিভাগের প্রধান মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেই দেশেরই একটি অংশের নারীদের ধর্ষণের মাধ্যমে আক্রান্ত করে তাদের উপর ভয়াবহ অত্যাচারের আঁচড় বসাতে।

Birangona-11হত্যা, রাহাজানি, লুঠতরাজ, অগ্ন্যুৎপাত, ধ্বংস করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, নয় মাসের যুদ্ধে চার লাখেরও বেশি নারী ও শিশুকে তারা ধর্ষণ করেছে। সেই থেকে আমাদের বীরাঙ্গনাদের ছায়াজীবনের শুরু।

ত্রিশ লাখ শহীদের করোটির মতোই এই বীরাঙ্গনারা তাই বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে গেছেন। হারিয়ে যাওয়া সেই করোটিদের খোঁজ-খবর করার জন্য এই জুন মাসে গিয়েছিলাম বাংলাদেশে। কিছু অসহ্য ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে এসেছি। তার কিছুটা আপনাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিয়ে নিজের কষ্টের বোধ একটু হালকা করার চেষ্টা করছি।

আমি খুব অবাক হইনি যখন ইংরেজী স্কুলের পাঠ শেষ করে বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য পাড়ি জমানোর প্রতীক্ষারত কিছু তরুণ–তরুণী বীরাঙ্গনা শব্দটির সাথেই পরিচিত নয়। আমি সব সময় একটি কথা বলি। বীরাঙ্গনারা খারাপ মহিলা এই ভেবে বীরাঙ্গনাদের কথা পাঠ্যপুস্তকে ছাপানো হয়নি, তাদের দেখানো হয়নিটেলিভিশনে। আমাদেরমতো একটি গোটা প্রজন্ম বড় হয়েছি শুধু এই জেনে যে, স্বাধীনতা যুদ্ধে নারীনির্যাতন হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্যাতনের ধরন যে কী বিভীষিকাময় ছিল সে সত্যটি জানা এবং পরের প্রজন্মকে জানানোর প্রয়োজনীয়তা কেউ উপলব্ধি করেননি। আমি ইংল্যান্ডে থাকি।

এখানে গত বছর জুন থেকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কিছু তরুণ (ডাঃ ফেরদৌস আহমেদ ফয়সাল, ঈসা খান রাশেদ, জুয়েল রাজ, লিপি হালদার, আবুল হাসনাত, সুহানা জামান) শক্তি মিলে বীরাঙ্গনাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ফান্ড রাইজিংসহ সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বীরাঙ্গনাদের একসাথে করে ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপন করেছি বাংলাদেশে।

আমরা ‘অরগানাইজেশন ফর ওয়্যার হেরয়িন্স’ নামে একটি সংগঠন করেছি এবং বীরাঙ্গনাদেরকে মুক্তিযদ্ধা বা সমমানের স্বীকৃতি আদায়ের জন্য বাংলাদেশের নারী আইনজীবীরা যে রিটটি হাইকোর্টে জমা দিয়েছেন তার সমর্থনে দেড়শত মানুষের মানববন্ধন করে তাদের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি স্মারকলিপি ব্রিটেনের বাংলাদেশের হাই কমিশন মিজারুল কায়েসের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর পৌঁছে দেই।

স্কাইপের মাধ্যমে বীরাঙ্গনাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার ব্যবস্থা করে দিয়েছি বিশিষ্ট সাংবাদিক জনাব আব্দুল গাফফার চৌধুরী, হাউজ অব লর্ডসের সদস্য ব্যারোনেস পলাউদ্দীনসহ উপস্থিত সকলের।

বীরাঙ্গনাদের দুর্বিষহ জীবনের বৃত্তান্ত তাদের নিজেদের মুখে শুনে সেদিন কেউ অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি। ব্যারোনেস পলাউদ্দিন এবং আব্দুল গাফফার চৌধুরী দুজনেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বাংলাদেশের বীরাঙ্গনাদের পুনর্বাসন এবং অধিকার আদায় এর ব্যাপারে কথা বলেছেন। আব্দুল গাফফার চৌধুরী বিভিন্ন মন্ত্রীর সঙ্গে বীরাঙ্গনাদের পুনর্বাসনের জন্য কথা বলেছেন। এছাড়া ফান্ড রাইজিং ও সচেতনতা বৃদ্ধি এর জন্য সাহায্য করছেন।

সুখবর হল সরকার রিটটির পক্ষে রায় দিয়েছে। গত বছর থেকেই অনেক বীরাঙ্গনার সঙ্গে আমি নিয়মিত ফোনে কথা বলি। জুন মাসে বাংলাদেশে গিয়ে বীরাঙ্গনাদের চিকিৎসা, তাদের ও তাদের সন্তানদের পুনর্বাসনের জন্য দেখা করলাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে।

সরকার বীরাঙ্গনাদের নিয়ে সহমর্মি। বাংলাদেশে থাকার সময় ১৮০০ কিলোমিটার ঘুরে কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, রানীশংকৈল, শ্রীপুর, কুমিল্লা, সিরাজগঞ্জের কিছু বীরাঙ্গনার সঙ্গে দেখা করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল।

ramaখুব খারাপ লেগেছে বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করে আসতে পারিনি। চট্টগ্রামে বন্যা হচ্ছিল। কিন্তু আলাউদ্দীন খোকনের কাছ থেকে শুনেছি, তিনি ভাল নেই। রমাদি নিজের লেখা বই ফেরি করেন, খালি পায়ে হেঁটে বেড়ান। শরীর খারাপ বলে ফেরি করা বন্ধ।

রমাদি কে একবার আশ্বাস দিয়েছিলাম যে তাকে ভাল একটি ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে দেব। কিন্তু আমাদের শামুকজীবীরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আবার মাথাটি খোলসের ভেতর ঢুকিয়ে নিয়ে ঘাপটি মেরে বসে থাকায় সেই আশ্বাস আর বাস্তবায়ন করতে পারিনি। সে আমার অনেক বড় লজ্জা!

993611_10152012768611124_1632818603_nগিয়েছিলাম শ্রীপুরে বীরাঙ্গনা মমতাজ কে দেখতে। মমতাজ হলেন সেই বীরাঙ্গনা যাকে ন’মাসের গর্ভাবস্থায় আটজন পাকিস্থানি সৈন্য গণধর্ষণ করেছিল। তার সন্তানটির পৃথিবীর আলো দেখার ভাগ্য আর হয়নি। পেটের ভেতরে মায়ের জরায়ু আর পায়ুপথের সাথে জড়িয়ে পেঁচিয়ে পচে গলে সে বাংলার স্বাধীনতার ইতিহাসের সাথে মিশে গেছে। দেশে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে। মৃত্যু পথযাত্রী মমতাজকে নদীপথে হাসপাতালে নিয়ে তিন মাস পরে সেই মৃত শিশুর হাড়গোড় বের করে আনা হয়। কিন্তু চিরদিনের জন্য অকেজো হয়ে যায় মমতাজের পায়ুপথ এবং যোনীপথ। ডাক্তাররা তার তলপেট কেটে তার কোলন টিকে(পায়খানার রাস্তা) বের করে দেয় এবং গত বেয়াল্লিশ বছর এভাবেই মল ত্যাগ করেন তিনি। সারা জীবনে ষোলটি অপারেশন হয়েছে তার। তার কোলনটি ঢেকে রাখার জন্য কোলন ব্যাগ কেনার ক্ষমতা নেই। তাই পরনের ছেড়া ময়লা শাড়িটি দিয়ে তিনি তার কোলনটি ঢেকে রাখেন।

আমি নিজে হাসপাতালে ক্যান্সার রোগিদের সঙ্গে দীর্ঘ দিন কাজ করেছি। তাই অনেক বীভৎস দৃশ্য দেখেছি এবং সহজে আমি আর বিচলিত হইনা। কিন্তু বীরাঙ্গনা মমতাজের ঘা হয়ে যাওয়া কোলন দেখে আমি শিউরে উঠেছি। ময়লা শাড়ি আর বাতাস থেকে জীবাণু মিলে মিশে তার কোলনটির কী বেহাল অবস্থা, তা অবিশ্বাস্য! সবসময় কোলনটি দিয়ে রক্ত পড়ে। শুধু তাই নয় তার মলত্যাগ স্বাভাবিক উপায়ে হয় না। তার জন্য প্রয়োজন একটি ভাল টয়লেট।

কিন্তু কোথায় সেটি? নেই। কোলন দিয়ে বের হয়ে আসা তার মল পরিস্কার করতে হয় নদীর পানিতে। মমতাজের মেয়ের নাতনিটি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। আমি পুষ্টিবিদ। ভাবছিলাম হায়! কত সহজে বাংলাদেশের পানি কলুষিত হয়ে ডায়রিয়া ছড়ায়। তখন দুপুর বেলা। বীরাঙ্গনা মমতাজ সামনে এনে দিলেন শসা। মজা করে জিজ্ঞেস করলাম, ভাত রান্না করেননি? খুব লজ্জা পেলেন। বললেন, স্বামী কামলা খেটে দু’দিনে, চারদিনে যা আয় করত তা দিয়ে ভাত জুটত। স্বামী মারা গেছে ঊনচল্লিশ দিন। অনেক ধার করেছেন। এখন আর কোন উপায় নেই। তাই ঘরে চাল নেই, চুলোয় উনুন নেই। আমার গালে একটি শক্ত চড় পড়ল। আমি হীনমন্যতায় থমকে গেলাম। আমি নিজের এবং বন্ধুদের কিছু টাকা নিয়ে খুব বড় মুখ করে গেছিলাম যে বীরাঙ্গনাদের কিছু আর্থিক সাহায্য করব। বুঝে গেলাম কত বড় দুরাশা নিয়ে এসেছি।

তবু দায়িত্ব নিলাম তার, তার নাতনির চিকিৎসার, টয়লেট এর সুব্যবস্থার। আর তার ঋণ পরিশোধের। বাংলাদেশে গিয়ে নিজের শরীর খারাপ হতে শুরু করেছে। কিন্তু আমায় নেশায় পেয়েছে। যেতেই হবে বীরমাতাদের কাছে। আমার দুই ভাই দিদারুল আর নেহেরুলকে নিয়ে শুরু করলাম এক নতুন যাত্রা।

দীর্ঘ ১২ ঘন্টা জার্নি করে ঢাকা থেকে ছুটে গেলাম কুড়িগ্রামের নীলকণ্ঠ গ্রামে। কুড়িগ্রামের বীরাঙ্গনাদের আবদার ছিল এক বেলা মাংস দিয়ে ভাত খাবে। কেউ তাদের ভাল খেতে দেয় না। ইচ্ছে ছিল একসাথে বসে ভাত খাব। কিন্তু তা আর হলো না। আমরা পৌঁছালাম সন্ধ্যায়। দুপুরে কুড়িগ্রামে ভাত খাব বলে রাস্তায় আর কোথাও থামলাম না। ভেবেছি বগুড়ার পরেই কুড়িগ্রাম। কোথায় কী! সে পথের আর শেষ কোথায়!

সারা দিনের ক্ষুধার্ত, পরিশ্রান্ত আমরা পৌঁছানোর পর বীরাঙ্গনা মায়েরা এসে জড়িয়ে ধরলেন। তাদের দেখে সব ক্ষুধা-তৃষ্ণা উবে গেল। অনেক না বলা কথা, অনেক বছরের গুমোট যন্ত্রণার আর বঞ্চনার না বলা সত্য কাহিনী!

আহারে স্বাধীনতা! কত দাম যে এর! কত যে ত্যাগ! মানুষের জীবন যে কত কঠোর হতে পারে! কে লেখে এই নির্মম গল্প! তরুবালা, রহিমা, আবিরুন, দুলু, ময়না, সুরুজ জান, খোদেজা, গেন্দি, মেহেরজান, খুকি, আসমা, বসিরুন, আয়শা কত কত নাম।

১৯৭১ সালে তাদের সবার বয়স ছিল বার থেকে বিশ বছর। সবাই বিবাহিতা ছিলেন। সবাই পাকিস্তানি সৈন্য দ্বারা গণধর্ষণের শিকার। সুরুজ জান ছিলেন ছয় মাসের গর্ভবতী এবং চারজন পাকিস্তানি তাকে ধর্ষণের পর তার গর্ভস্থ সন্তানটি মারা যায়। স্বামী সেই থেকে নিখোঁজ। তরুবালা ছিলেন এক মাসের গর্ভবতী যখন তিনি পাঁচজন মিলিটারি দ্বারা ধর্ষিত হন। তার সামনেই তার স্বামীকে মেরে ফেলা হয়। গেন্দি ছিলেন তিন মাসের গর্ভবতী যখন দশ জন মিলিটারি তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার স্বামীকে মেরে ফেলে এবং তাকে ধর্ষণ করে।

আমি স্তব্ধ হয়ে ভাবছিলাম গর্ভবতী নারীদের গণধর্ষণ কি করে সম্ভব! আর প্রতিটি নারীই হানাদারদের হাত পা ধরে বলছিল যে তারা পোয়াতি। তাহলে! হানাদাররা তো জানত যে তারা একজন গর্ভবতী নারীকে ধর্ষণ করছে। উত্তরটা পেলাম কিছু পরে। যখন কথা বললাম আবীরুন এর সঙ্গে। তার কোল থেকে তার ছেলেটিকে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। নাকে-মুখে রক্ত উঠে মারা যায় শিশুটি। সেই অবস্থায় একজন মাকে ধর্ষণ করেছে চারজন নরপশু।

একই ঘটনা ঘটেছে ময়না, মেহেরজান, খুকি, আসমার ক্ষেত্রে। কারো আড়াই মাসের বাচ্চা, কারো চার মাসের বাচ্চা আর কারো ছয় মাসের। বাচ্চাকে মায়ের কোল থেকে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। কিছু বাচ্চা ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছে। কিন্তু মিলিটারিদের উদ্দেশ্যই ছিল বাচ্চাগুলোকে মেরে ফেলা। বাঙালির বংশ নিপাত করা।

যা এখন আমরা ফিলিস্তিনি শিশুদের ক্ষেত্রে দেখতে পাচ্ছি। দুঃখ হল বিশ্ব বিবেক তখন জাগেনি বাঙালি শিশু হত্যার বিরুদ্ধে। আর পাকিস্তানি সেনারা খুব ভাল করে করেই জানতো যে একজন গর্ভবতী নারীকে গণধর্ষণ করলে গর্ভস্থ শিশুটি মারা যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। একইসঙ্গে অসহায় নারীটির মৃত্যুর আশংকা অনেক বেড়ে যায়। তারা নারী ও শিশুদের জন্য আর মূল্যবান গুলি খরচ করতে চায়নি। রহিমা, দুলু, ময়নাকে নিয়ে গিয়েছিল ক্যাম্পে।

প্রতিটি নারীকে হানাদারের হাতে তুলে দেয়ায় রাজাকার আল-বদরদের ছিল প্রত্যক্ষ ভূমিকা। বসিরন লুকিয়েছিল কাচা পায়খানার নীচে কোন জায়গায়। সেখান থেকে রাজাকার তাকে তুলে নিয়ে এনে তিনজন মিলিটারির হাতে তুলে দেয়। মিলিটারিরা কয়েক ঘন্টা বা কয়েক দিন তাদের উপর যে তাণ্ডব চালিয়েছিল তার দায় বয়ে যাচ্ছেন এই নারীরা জীবনের প্রতিটি ক্ষণে, প্রতিটি পলে।

প্রতিটি নারীই বিবাহিত ছিলেন এবং একজনকেও তাদের স্বামী রাখেনি। নিজ বাসভূমে পরবাসী তারা। নিজ ঘরে আর ঠাঁই হল না! ঠাঁই হয়নি সমাজ নামের শৃঙ্খলিত প্রাচীরে। সেখানে সারা জীবন মাথা ঠুকেও একবিন্দু স্বীকৃতি মেলেনি তাদের। মিলেছে শুধু লাঞ্ছনা-গঞ্জনা আর বীরাঙ্গনা জীবনের তিরস্কার। দিনের পর দিন অভুক্ত ছিলেন, পড়ে ছিলেন ষ্টেশনে, নদীর পাড়ে, পরনে কোন কাপড় ছিল না বলে উলঙ্গ ছিলেন দিনের পর দিন। না। এক তিল মায়া হয়নি কারো। অনেক দূরে নিজের পরিচয় লুকিয়ে কাজ করতে যেতেন। তাতেও বিপত্তি। কোন না কোন ভাবে জেনে যেত বাড়ির কর্তা আর তাতেই বিপত্তি! মাছের বিষ্ঠা আর আঁশের মত ছুঁড়ে ফেলে দিত যতদূর সম্ভব। যেন বাড়ির পাশে থাকলেই দুর্গন্ধ ছড়াবে!

প্রত্যেকেই নিজের হাত দেখালেন। কাঁটা ছড়া ফারা গেজ আর চরাই উৎরাই মাখা হাত। তাদের জীবনের মতই। বললেন তারা এখনো খড়ি ফাটান। এক মণ খড়ি ফাটালে দশ টাকা পান। তাই দিয়ে কোন রকমে টেনে নিচ্ছেন এই জীবন। ঝড়ে ভাঙা বটের ঝুড়ির মত প্রতিটি বীরাঙ্গনা আমার পায়ে পড়লেন তাদের কোন ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য। এই বুড়ো বয়সে আর পারছেন না। কারো ছেলে মেয়েই মায়ের পরিচয় দিতে চায় না। যে যুদ্ধ শিশুকে এত সাইক্লোন- তুফান পার করে বুকে আগলে বড় করেছেন সেই ছেলেই মাকে খারাপ মেয়েছেলে বলে গালি দেয়। বললেন শুধু দিনে দুবার না, শুধু একবার একমুঠো ভাত আর মাথা গোঁজার একটা ব্যবস্থা যদি করে দিতে পারি! আমার বুক ফেটে কান্না আসছিল। যে দেশে রাজাকার বাংলাদেশের পতাকা তুলে সংসদ চষে বেড়ায় সে দেশে বীরাঙ্গনা মায়েদের এই করুণ পরিণতি দেখে নিজের সত্ত্বার ওপর লজ্জা হল। ধিক ধিক ধিক!

তাদের কাছ থেকে সে রাতের মত বিদায় নিলাম। বিদায় নিলাম। কিন্তু যাবো কোথায়! যিনি আমাদের থাকার ব্যবস্থা করবেন বলেছিলেন তিনি কিছুই করেননি। বললেন, কোন হোটেলে গিয়ে চেষ্টা করতে। আমরা সারাদিন, সারা রাত না খাওয়া। আমার কষ্ট লাগছিল আমাদের ড্রাইভার আর আমার দুই ভাইয়ের জন্য। তাদের চোখ মুখ শুকিয়ে চিমসে গেছে। তাকানো যাচ্ছিল না। হোটেলে গেলাম। না। জায়গা খালি নেই। ড্রাইভার বলল এটা গ্রাম। এখানে হোটেলে আমি থাকতে পারব না। রাত তখন দশটা। আমার রীতিমত কান্না পাচ্ছিল। কাউকে চিনি না। আমরা ডাকবাংলো, এনজিও অফিস, হাসঅপাতাল সব ঘুরলাম। না। কেউ আমাদের রাখবে না। খিদেয় তখন বমি বমি লাগছিল। রাত ১১টায় একটি এনজিও এর দারোয়ানের হাত পা ধরলাম।

বললেন, বড় সাহেবের সঙ্গে কথা বলতে। ফোন করলাম। তিনি বললেন, তার বড় সাহেবের সঙ্গে কথা বলতে। ফোন করলাম। বললেন, আমরা ডোনার ছাড়া রাখি না। বললাম যে আমি ডোনার। বীরাঙ্গনাদের কাজে এসেছি। বড় সাহেব বললেন যে, তিনি এসে আগে দেখবেন আমাদের। পছন্দ হলে থাকতে দেবেন। না হলে চলে যেতে হবে। আমি তখন প্রার্থনা করছিলাম যেন আমাদের পছন্দ হয়। কনে দেখার পরীক্ষায় এর আগে কখনো বসতে হয়নি। কেমন লাগে বুঝতে পারলাম। যাক। অবশেষে তিনি এলেন এবং কিছুক্ষণ কথা বলে চরম সুখবরটি দিলেন। কনে পছন্দ হয়েছে এবং সে রাতের জন্য আমরা থাকতে পারব। আহা! কী স্বস্তি! এ তো গেল কুড়িগ্রামের কথা!

Birangona-3-thankurgaon1ঠাকুরগাঁ এর অভিজ্ঞতা আরো করুণ! ঠাকুরগাঁ গিয়ে আমরা বসে ছিলাম সকাল থেকে, অথচ যাদের ভরসায় গেছি তাদের কোন দেখা নেই! সেখানেও একই অবস্থা। কিছু চিনি না। সারাদিন আমরা না খাওয়া। তাদের ধারণা হয়েছে, আমি ইংল্যান্ড থেকে গেছি বীরাঙ্গনাদের ভিডিও করে নিয়ে সেটা দিয়ে ফান্ড কালেক্ট করার ধান্ধায়। এছাড়া বিদেশ থেকে একজন মানুষ কেন গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে বেড়াবে! কী আর করা!

আমার ব্যর্থতা ছিল তাদের বোঝাতে না পারার। যাক পরে অনেক কষ্টে সেখানের বীরাঙ্গনাদের কাছাকাছি পৌঁছেছি। আমার জন্য কত বড় দগদগে সত্য অপেক্ষা করছিল তা তখনো বুঝতে পারিনি। আমরা অনেক উঁচু-নিচু রাস্তা পার হয়ে গেলাম বীরাঙ্গনা তমিনা খাতুনের বাড়িতে। গ্রামের অন্য সব বাড়ি ঘর থেকে দূরে এই বাড়িটি। অনেক খুঁজলাম। অনেক ডাকাডাকি করলাম। না। কেউ নেই। মনটা খারাপ হল। এত দূর এসেও দেখা পেলাম না! আমরা ফিরে যাচ্ছিলাম। হঠাত কানটা একটু খাড়া হল। চিলের চি চি কিংবা বিড়ালের ম্যাও ম্যাও শব্দ ভেসে আসছে দূর থেকে। খুব মৃদু! শব্দ ধরে এগুতে লাগলাম। ও মাগো! একটি ভাঙ্গা ঘরের দাওয়ায় অর্ধ নগ্ন শুয়ে আছে এক বুড়ো মহিলা।

শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে সে তার অস্তিত্ব জানান দেয়ার চেষ্টা করছে। কাছে গিয়ে জানতে পারলাম তিনি খুব অসুস্থ। তার ডান পাটি ভেঙে গেছে এক মাসের উপরে। কোন চিকিৎসা তো দূরে থাক, একটি প্যারাসিটামল ট্যাবলেটও কপালে জুটেনি ব্যথা কমানোর জন্য। আমি কী বলব কোন ভাষা খুজে পেলাম না। দুদিনে একবার মেয়ে আসে খাবার নিয়ে। কারণ মেয়ে অনেক দূরে থাকে। আর তখনই সে মায়ের মল–মূত্র সব পরিষ্কার করে দেয়। আমরা যাবার কিছু আগে মেয়ে এসেছিল। তাই আমরা পরিস্কার জায়গায় বসতে পেরেছি। নয়ত তিনি খুব বিব্রত হতেন। ভাবলাম এই ঠা ঠা রোদে মানুষের কতবার তৃষ্ণা পায়! হায় এই বীরাঙ্গনার কপালে এক গ্লাস পানিও জোটে না প্রচণ্ড তৃষ্ণায়! আর বৃষ্টি যদি আসে!

বললেন, দু ছেলে পাশেই থাকে, কিন্তু বীরাঙ্গনা বলে মায়ের পরিচয় দেয় না। বারবার এই অশীতিপর বৃদ্ধা হাতে ধরলেন তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে। চিকিৎসা করার জন্য ঢাকা নেয়া লাগবে। কিছু টাকা দিয়ে বললাম আপনার ছেলেদেরকে ঢাকায় আনার ব্যবস্থা করতে বলেন। বাকি দায়িত্ব আমি নিলাম। বীরাঙ্গনা তমিনা বললেন, যুদ্ধের সময় একজন রাজাকার তার বাড়িতে মিলিটারি নিয়ে আসে। তাকে গণধর্ষণের পর ফেলে রেখে চলে যায়। তার স্বামী তাকে ফেলে দেননি। তিন সন্তানের কথা চিন্তা করে তাকে রেখেছেন। কিন্তু তারা ঠাকুরগাঁ আর থাকেননি। তিনি বৃদ্ধ হবার পর তারা আবার ফিরে এসেছেন। কথা বলতে কষ্ট হচ্ছিল তার। আমি আর বেশি সময় নিলাম না। আসার সময় ভাগ্যক্রমে তার এক ছেলের সঙ্গে দেখা হল। তাকে বললাম তার মাকে ঢাকা নিয়ে আসতে। কিন্তু আমি থাকা অবস্থায় কেউ আর যোগাযোগ করেনি।

রানীশংকৈলে একটি দিঘী আছে যেটি একাত্তরে মানুষের রক্তে লাল রঙ ধারন করেছিল। কত মানুষ কে যে হত্যা করেছে! এই গ্রামে পেয়ে গেলাম মোখলেছা, মালেকা, আমিনাকে। তারা তিনবোন। চার বোন ছিলেন। একজন মারা গেছে। তার নাম বুদি। এই চার বোনের চারজনই বীরাঙ্গনা। তাদেরকে তিন মাস পাকিস্তানি মিলিটারিরা ক্যাম্পে আটকে রেখে অত্যাচার করেছিল। দিনে দশ থেকে বিশ জন মিলিটারি অত্যাচার চালাত। পরনে কাপড় রাখত না। চুল ছোট করে ছেটে দিত। যুদ্ধের শেষের দিকে মিলিটারি ক্যম্প থেকে পালাতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু পালাতে পারেনি জীবনের নির্মম সত্য থেকে।

Birangona-4-Amina2স্বাধীন বাংলার মানুষ রাজাকার, আল-বদ্‌র, আল-শামসকে দুধ ভাত পেতে দিলেও বীরাঙ্গনাদের মিললো না কোন আশ্রয়। আমিনা বিবাহিত ছিলেন। স্বামি তার এক বছরের সন্তান সহ তাকে ত্যাগ করেছে। তারা জমিদার বাড়ির পেছনে জঙ্গলে সারাদিন এই বাচ্চাসহ লুকিয়ে থাকতেন। গ্রামের মানুষ দেখলেই তাড়া করত। মেরে ফেলতে চাইত। দিনের পর দিন এই বাচ্চাসহ অভূক্ত থেকেছে। রাতের বেলা সেই জঙ্গলে বাঘ সহ নানা হিংস্র পশুর গর্জন শুনতে পেত। বাচ্চাকে বাঘে খেয়ে ফেলবে এই ভয়ে লোকালয়ে ছুটে আসত। মানুষের উঠোনে এসে আশ্রয় নিত। তাদের দেখলেই ঝাঁটা নিয়ে লাঠি নিয়ে মানুষ জন তেড়ে আসত। অচ্ছুৎ শুয়রের মত দূর দূর করে খেদাত। পরনে কাপড় ছিলনা। এক কাপড় পরে এক বোন লোকালয়ে যেত কিনবা বহুদূরে যেখানে তাদের কেউ চিনেনা। সে খাবার বা টাকা নিয়ে ফিরে আসলে আরেকজন সেই কাপড় পরে বের হত বাকি তিনজন নগ্ন লুকিয়ে থাকত সেই জঙ্গলে। তাদের মধ্যে আমিনা দ্বিতীয় বার পরিচয় লুকিয়ে বিয়ে করেছিল। পাঁচ বছর পর স্বামী যখন জানতে পারল যে সে মিলিটারি ক্যম্পে ছিল তখন সেই অপরাধের শাস্তি আমিনাকে দেয়া হল। ইট দিয়ে মেরে তার হাত-পা-দাঁত সব ভেঙে দিল তার স্বামী। তারপর যথারীতি সন্তানদের তার ঘাড়ে ফেলে রেখে চলে গেল। দীর্ঘ এক বছর পঙ্গু ছিল আমিনা।

তাদের কথা শুনতে শুনতে আমার খিঁচুনি উঠছিল। দুহাত শক্ত হয়ে মুষ্ঠবদ্ধ হচ্ছিল কী এক প্রতিবাদের আক্রোশে! কেন এ জীবন পেল তারা! কেন কেন কেন!

কুমিল্লার আম্বিয়ার কথা বলে আজকের মত লেখা শেষ করব। আম্বিয়াকে পাকিস্তানি সৈন্যরা ধর্ষণের পর সে গর্ভবতী হয়ে পড়ে। দেশ স্বাধীনের পর তার সন্তানটি জন্ম নেয়। কিন্তু শিশুটি বৈধ নয় এই ফতোয়া দিয়ে মসজিদের ইমাম শিশুটির মুখে লবন দিয়ে তাকে মেরে ফেলে। শিশুটির জন্ম অবৈধ কিন্তু শিশু হত্যার কাজটি তার কাছে অবৈধ হলো না! সেখানেই শেষ নয়।

বীরাঙ্গনা আম্বিয়া অবিবাহিত অবস্থায় সন্তান প্রসব করেছে তাই সে অসতী এই মর্মে ফতোয়া জারি করা হয় এবং চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার হাতে চল্লিশটি করে বেত্রাঘাত করা হয়। থেঁতলে দেয়া হয় তার হাতের পাতা। সারা জীবন ভাইয়ের সংসারে দাসী হয়ে পড়ে ছিলেন তিনি। মারা গেছেন সম্প্রতি।

এই হচ্ছে আমাদের বীরাঙ্গনাদের আমাদের ছায়ামানবীদের জীবন সুঁচে খোদাই করা নকশি কাঁথা।

আমি যখন বাংলাদেশে বীরাঙ্গনাদের মুখে তাদের উপেক্ষার জীবনের যন্ত্রণায় নীল আর বিবর্ণ হচ্ছিলাম লন্ডনে তখন যুদ্ধে নারী ধর্ষণ বন্ধের জন্য ওয়্যার সামিট হচ্ছে। বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ২০১৩ এর সেপ্টেম্বর মাসে আর বাংলাদেশ এই সামিটের পক্ষে স্বাক্ষর করেছে ২০১৪ এর মে মাসে। পৃথিবীর সমস্ত যুদ্ধাক্রান্ত দেশগুলো তাদের তথ্য-প্রমান-পোস্টার নিয়ে হাজির। অথচ যে দেশে সবচেয়ে বেশি নারীধর্ষণ হয়েছে, যে দেশে নয় মাসে চার লক্ষের উপর নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে, যে দেশে মায়েদের সামনে সন্তানকে মেরে তারপর তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে, যে দেশে মমতাজরা শরীরের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারিয়ে ঝুলন্ত কোলন নিয়ে ঘুরে বেড়ায় বেয়াল্লিশটি বছর সেই দেশের এই বীভৎসতার চিত্র দেখানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মিলল না একটি দেয়াল। আমার বুক ভেঙ্গে যায়। আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। আমি কী করি ! আমি কিছুই করতে পারলাম না। কিন্তু তাতে করে কী থেমে যাব আমরা! আমরা এক কঠিন লড়াই এর জন্য প্রস্তুত হচ্ছি। অনেক অনেক তারুণ্যশক্তি বাংলাদেশে। কেউ না কেউ এগিয়ে আসবেই। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি তারা পেয়েছেন। কিন্তু সেই মুক্তিযোদ্ধা ভাতা কবে পৌঁছাবে তাদের কাছে!

বীরাঙ্গনাদের নামের তালিকা জমা দেয়ার শেষ তারিখ ছিল ৩১ জুলাই। কতজন প্রকৃত বীরাঙ্গনার তালিকা জমা পড়েছে! আমি দেখেছি বীরাঙ্গনাদের নামের তালিকা নিয়ে বসে আছে, কিন্তু জমা দেয়নি। জমা দেবে না। পয়তাল্লিশজন বীরাঙ্গনা থেকে মারা গেছে বাঈশজন আর বেঁচে আছে তেঈশজন। মৃতদের জায়গায় এলাকার নেতারা তাদের পরিচিতদের মিথ্যে নাম ঢুকাচ্ছে। কিছু এনজিও, কিছু সুবিধাবাদীদের সংগঠনের হাতে আমাদের বীরাঙ্গনারা বন্দী। তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত আপনাকেই বাড়াতে হবে। আমাদের বীর জননীদের ওপর সকল অবিচার সকল অন্যায়ের বীজ উপড়ে ফেলার সময় এখনই। নয়ত জাতি হিসেবে আমাদের ক্ষমা নেই। ইতিমধ্যে বেয়াল্লিশ বছর কেটে গেছে। আরো বেয়াল্লিশ বছর যেন পার হয়ে না যায়।

শেয়ার করুন:
  • 47
  •  
  •  
  •  
  •  
    47
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.