পাকিস্তানে নারী-শিশুকে পুড়িয়ে হত্যা

Rape victউইমেন চ্যাপ্টার:  পাকিস্তানের পুলিশ বলছে, ফেসবুকে ধর্মকে অবমাননা করা হয়েছে,এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষুব্ধ লোকজন বেশকিছু বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে একজন নারী ও দুটি শিশুকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, নিহতরা পাঞ্জাব প্রদেশের গুজরানওয়ালা শহরের সংখ্যালঘু আহমাদি গোষ্ঠীভুক্ত। বিবিসি এ খবর জানায়।

১৯৭৪ সালে পাকিস্তান আইন করে  আহমদিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনকে অমুসলিম বলে ঘোষণা করা হয়। লাহোরের ১১২ কিলোমিটার উত্তরে গুজরানওয়ালা শহরের আরাফাত কলোনিতে রোববার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আহমাদিয়া সম্প্রদায়ের এক যুবকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট করার অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আহমাদিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। দেড় শতাধিক উত্তেজিত ব্যক্তি থানায় গিয়ে ওই যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মামলা করার দাবি জানায়। পুলিশের সঙ্গে উত্তেজিত লোকজনের যখন কথা হচ্ছিল, তখন আরেক দল লোক গিয়ে আহমাদিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়িঘরে হামলা চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।

আহমাদিয়া সম্প্রদায়ের মুখপাত্র সেলিম উদ্দিন বলেন, চার বছর আগে তাঁদের সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় ৮৬ জন নিহত হন। ওই ঘটনার পর এটিই সবচেয়ে ন্যক্কারজনক হামলা। তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা ছিল নির্বিকার। উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে থামাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

তবে পুলিশ সেলিম উদ্দিনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তারা জনতাকে থামাতে চেষ্টা করেছে।  দুমাস আগে ওই একই প্রদেশের একটি গ্রামের পুলিশ স্টেশনে গিয়ে এক কিশোর আহমদিয়া সম্প্রদায়ের একজনকে গুলি করে হত্যা করেছিল।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.