ধূমপায়ীর বিধবা স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ

Joanne Hinkel holds a cigarette during tউইমেন চ্যাপ্টার: যুক্তরাষ্ট্রের একটি সিগারেট কোম্পানিকে একজন চেইন স্মোকারের বিধবা স্ত্রীকে ২৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ওই ধুমপায়ী ব্যক্তি ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

সিনথিয়া রবিনসন ২০০৮ সালে আরজে রেনোল্ডস টোব্যাকো কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি বলেন, ধূমপানের ফলে যেসব ঝুঁকি রয়েছে তা ক্রেতাদের জানাতে ব্যর্থ হয়েছে সিগারেট কোম্পানিটি। আর যতটুকু জানানো হয়েছে, তাও পর্যাপ্ত ছিল না বলে উল্লেখ করেন মিসেস রবিনসন।

১৯৯৬ সালে তাঁর স্বামী মাইকেল জনসন সিনিয়র মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মারা যান। তিনি প্রচণ্ড রকমের ধূমপায়ী ছিলেন এবং অনেক চেষ্টাতেও ছাড়তে পারেননি সিগারেটের নেশা। ফ্লোরিডার একটি আদালত যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম সিগারেট উৎপাদনকারী কোম্পানি আরজে রেনোল্ডসকে ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিশাল অংকের অর্থদণ্ডের নির্দেশ দেয়।

রবিনসনের আইনজীবী উইলি গ্যারি জানান, ‘আরজে রেনোল্ডস সিগারেট উৎপাদনের মাধ্যমে একটা বিশাল ঝুঁকি নিজের কাঁধে নিয়েছে এবং তারা এর ক্ষতিকর দিকটা ভোক্তাদের যথাযথভাবে না জানিয়েই তা বিক্রি করছে’।

ওই আইনজীবী আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি এই রায় আরজে রোনাল্ডস এবং এর মতো বড় বড় টোব্যাকো কোম্পানিগুলোর জন্য একটি বার্তা পৌঁছে দেবে, যা কিনা নির্দোষ-নিরীহ লোকজনের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে বাধ্য হবে তারা’।

তবে কোম্পানিটি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলে জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘এই রায় দেয়ার ক্ষেত্রে কোনরকম যৌক্তিকতা এবং নিরপেক্ষতার ধার ধারেনি আদালত। এখানে যেসব সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে, তা একেবারেই বেমানান। কোনো একক ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ক্ষেত্রেও এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থদণ্ড। আমরা এর বিরুদ্ধে আপিল করবো এবং আশা করছি যে আদালত আইনু অনুসারেই কাজ করবে’।

এর আগে ফ্লোরিডার আদালতের রুলিং অনুযায়ী যেসব ধূমপায়ী এবং তাদের আত্মীয়স্বজনদের প্রমাণ করতে পারতো যে তারা আসক্ত এবং সিগারেটের কারণেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে, তারাই কেবল মামলা রুজু করতে পারবে।

রবিনসনের মতোন এমন অনেক মামলার শুনানি হয়েছে আদালতে, কিন্তু এতো বিশাল অংকের অর্থ কেউই পাননি।

 

 

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.