ওয়াজিরিস্তানের স্কোয়াশ যোদ্ধা মারিয়া

Mariaউইমেন চ্যাপ্টার: পাকিস্তানের স্কোয়াশ খেলোয়াড় মারিয়া তুরপাকাই ওয়াজির বলছিলেন, তিনি একজন যোদ্ধা হিসেবেই জন্ম নিয়েছেন, মরবেনও তিনি যোদ্ধাদের মতোন। আফগান-পাকিস্তান সীমান্তে ওয়াজিরিস্তানের মতোন রক্ষণশীল এলাকায় মেয়েদের বাড়ি থেকে বের হওয়াই যেখানে নিষিদ্ধ, সেখানে মারিয়ার মতোন মেয়ে শর্টস পরে স্কোয়াশ খেলছে, এটা ভাবাই মুশকিল। আগামীকাল বুধবার থেকে শুরু হতে যাওয়া কমনওয়েলথ গেমস গ্লাসগো ২০১৪তে তিনি অংশ নিচ্ছেন পাকিস্তানের হয়ে।

মারিয়ার বাবা শামসুল কাইয়ুম ওয়াজির বলছিলেন, আমাদের অঞ্চলে মেয়েদের বাড়ি থেকে বেরই হতে দেয়া হয় না। কাজেই মারিয়াকে কিছু কৌশলের আশ্রয় নিতে হয়েছিল। তিনি চুল ছোট করে ফেলেন, তার যত মেয়েলি পোশাক ছিল সব পুড়িয়ে ফেলেন এবং লুকিয়ে লুকিয়ে কুস্তির প্রশিক্ষণ নেন। এভাবে একদিন ছেলে সেজে কুস্তি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জয়ীও হন। এরপর তার আগ্রহ বেড়ে যায় এবং তিনি ঝুঁকে পড়েন স্কোয়াশ খেলায়।

কিন্তু একদিন সব ফাঁস হয়ে যায়। তিনি যে মেয়ে এটা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর অন্য স্কোয়াশ খেলোয়াড়রা তার পিছনে লাগে এবং সত্যি সত্যিই তার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায় খেলা চালিয়ে যাওয়া। এমনকি তার পরিবারের জন্যও বিষয়টা কঠিন হয়ে যায়।

মারিয়ার বাবা বলছিলেন, লোকজন যখন মারিয়াকে বোরকা ছাড়া স্কোয়াশ খেলতে দেখে, তখন রীতিমতো হকচকিয়ে যায়। তারা তখন বলতে শুরু করে যে, মারিয়া তাদের জাত খুইয়েছে, তাদের মর্যাদা ক্ষুন্ন করেছে এবং প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। কিন্তু ২০০৭ সাল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মারিয়া এবং তার পরিবারের জন্য। সেবছর মারিয়া পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে অ্যাওয়ার্ড পান। কিন্তু এসময় সবার বাড়তি মনোযোগও আবার হিতে-বিপরীত হয় মারিয়ার জন্য। খেলা বন্ধ না করলে এর ফল ভাল হবে না বলে নানারকম হুমকি দেয়া হয় পরিবারকে।

বিষয়টি এতোদূর গড়ায় যে, মারিয়ার যাতে কোন ক্ষতি না হয়, সেজন্য স্কোয়াশ কোর্টে তার পাহারায় স্নাইপারদের নিয়োগ দেয়া হয়। এভাবে একদিন মারিয়া খেই হারিয়ে ফেলেন। তিনি বলেন, ‘আধুনিক স্কোয়াশ কোর্টে অনেক গ্লাস থাকে। ভিতরে যদি কোন বোমা বিস্ফোরণ ঘটে, তবে অনেক লোক এতে মারা যাবে’।

তিনি তখন নিজের রুমেই অনুশীলনের সিদ্ধান্ত নেন। এভাবে পরবর্তী চার বছর তিনি চালিয়ে যান। ২০০১ সালে কানাডা গিয়ে টরেন্টোর স্কোয়াশ একাডেমিতে যোগ দেয়ার আগে পর্যন্ত তিনি এতোটাই নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছিলেন।

বাধ্য হয়ে নির্বাসিত জীবন বেছে নিলেও মারিয়ার বাবার মতে, পাকিস্তানসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্বেরই উচিত তার মেয়ের গর্বে গর্বিত হওয়া। তিনি বলেন, আমাদের সমাজে লোকজন ছেলের জন্মে উৎসব পালন করে, মেয়ে জন্ম নিলে দু:খিত হয়। এই ধারণা বদল হওয়া প্রয়োজন। আমি চাই, আমাদের উপজাতিভুক্ত প্রতিটি মেয়ের সমান সুযোগ এবং অধিকার থাকা উচিত’।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.