গার্ল সামিটে যোগ দিতে যুক্তরাজ্য যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

Girl Summitউইমেন চ্যাপ্টার: বাল্যবিয়ে প্রতিরোধসহ মেয়ে শিশুদের অধিকার বিষয়ক গার্ল সামিট ২০১৪ বা কন্যাশিশু সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার তিন দিনের সফরে (২১-২৩ জুলাই) যুক্তরাজ্যে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটের সরকারি বাসভবনে বৈঠক করবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। পররাষ্ট্র তিনি জানান,  ব্রিটিশ সরকার ও ইউনিসেফের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এই গার্ল সামিটের আয়োজন করা হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এবং ইউনিসেফ এরনির্বাহী পরিচালক অ্যান্টনি লেইকের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী এই সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছেন। এছাড়াও যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জাস্টিন গ্রিনিং প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোনে এ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য বিশেষ অনুরোধ জানান।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের কন্যাশিশুদের অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অঙ্গীকার ও সফল প্রয়াসের আলোকে এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তার অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য একটি বিশেষ স্বীকৃতির প্রতীক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশের নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এটাই হবে যুক্তরাজ্যে তথা পাশ্চাত্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক । প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২০ সদস্যের একটি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল যুক্তরাজ্য সফর করবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি ও পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকসহ পররাষ্ট্র এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেখ হাসিনার অনুষ্ঠেয় দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এতে দুদেশের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হবে। এ বৈঠক ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন মন্ত্রী জাস্টিন গ্রিনিং এবং ছায়া পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডগলাস আলেকজান্ডারসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে আশা করেন তিনি।

সম্মেলন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গার্ল সামিটে কন্যাশিশুদের অধিকার সুরক্ষা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট ও সুদূরপ্রসারী অবস্থান তুলে ধরবে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে কন্যাশিশুদের কল্যাণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরা হবে। সম্মেলনের অন্যতম প্রতিপাদ্য মেয়ে শিশুদের মধ্যে বাল্য বিবাহের প্রবণতা বিষয়ে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বিভিন্ন আইনসহ গৃহীত পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংগের শান্তিরক্ষী বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আমিরা হকের পদত্যাগ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এদেশের একজন কৃতী সন্তানহিসেবে আমিরা হকের উচ্চ পদে যাওয়াতে আমরা গর্বিত। সম্প্রতি তার দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়েছে। জাতিসংঘের উচ্চ পদে এইসব পরিবর্তন অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।

মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে অনুষ্ঠেয় কন্যাশিশু সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কিছু সুদূরপ্রসারী ও সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করবেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি বাল্যবিবাহের মত সামাজিক সমস্যা নিরসনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি নেতৃস্থানীয় ভূমিকা নিতেও সক্ষম হবেন। আমাদের সরকার মনে করে, যে কোন মূল্যেই আমাদের প্রতিটি কন্যাশিশুকে যোগ্য ও পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ দিতে আমাদের সমাজ থেকে দারিদ্র্য, অশিক্ষা ও কুসংস্কারের পাশাপাশি বাল্যবিবাহের মত সামাজিক অন্যায়গুলোকেও দূর করতে হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাল্যবিবাহের উচ্চহারের অন্যতম দেশ হিসেবে পরিচিতি ও তক্মাটা ঘুচাতেও আমরা বদ্ধপরিকর।

এদিকে গার্ল সামিট সম্পর্কে যুক্তরাজ্য সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, ব্রিটিশ সরকার ও ইউনিসেফের উদ্যোগে বিশ্বব্যাপি কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য এ সম্মেলন আয়োজন করা হচ্ছে। ভ্রূণ অবস্থায় কন্যা শিশু হত্যা, মেয়েদের খৎনা, বাল্যবিয়ে ও জোরপূর্বক বিবাহের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে সচেতনতা সৃষ্টিই এ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য।

গত ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউসহ পশ্চিমা দেশগুলো নির্বাচন ও সংলাপের ব্যাপারে আগের অবস্থানে থাকার কথা বললেও বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্ক আরো জোরদার করেছে। সেই প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী দেশ যুক্তরাজ্যের মনোভাব ও সম্পর্কের গতিশীলতা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছরের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে সর্বশেষ লন্ডন সফরে গিয়েছিলেন।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.