শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ার অঙ্গীকার নারী সাংবাদিকদের

Women netwoorkingউইমেন চ্যাপ্টার: একটা শক্তিশালী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গড়ে তোলা প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে নারী সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা বিনিময় বিষয়ক দুইদিনব্যাপী কর্মশালা শেষ হয়েছে।

অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন, নিউ মিডিয়ার মাধ্যমে এই নেটওয়ার্কিংকে আরো শক্তিশালী করা হবে। শুধু রাজধানী ঢাকা নয়, পর্যায়ক্রমে সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারী সাংবাদিকদের এই নেটওয়ার্কিংয়ের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরে বিদেশী সাংবাদিকরাও এই নিউ মিডিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারবেন।

সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সহায়তায় ব্রিজিং প্রোগ্রাম ফর জার্নালিস্ট’ প্রজেক্টের আওতায় অনুষ্ঠিত দুদিনব্যাপি এই কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ঢাকার আমেরিকান সেন্টারের পরিচালক ভিরাজ লাবেইলি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী, ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্টস্ এসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ডিকাব) সভাপতি মাইনুল আলম, ভোরের কাগজের সিটি এডিটর ইখতিয়ার উদ্দিন এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সেপ্রেসের বিশেষ প্রতিবেদক মুনিমা সুলতানা।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকান সেন্টারে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মেরিনা ইয়াসমিন, জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, অনলাইন সংবাদমাধ্যম উইমেন চ্যাপ্টারের সম্পাদক সুপ্রীতি ধর, এটিএন বাংলার বার্তা সম্পাদক শাহনাজ মুন্নী, বাংলা ভিশনের বার্তা সম্পাদক শারমীন রিনভী, দৈনিক জনকণ্ঠের বিশেষ প্রতিবেদক সুমি খান প্রমুখ। প্রকল্প সমন্বয়ক ভোরের কাগজের কূটনৈতিক প্রতিবেদক আঙ্গুর নাহার মন্টি।

বক্তারা বলেন, গণমাধ্যমে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারী সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ হতাশাজনক। পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের কারণে পুরুষদের চেয়ে নারীদের এ পেশায় টিকে থাকতে বেশি সংগ্রাম করতে হয়। সব মিলে নারী সাংবাদিকদের নিজেদের পেশায় টিকে থাকার স্বার্থেই প্ল্যাটফরম বা মোর্চা গড়ে তুলতে হবে। কর্মশালার সুপারিশে বলা হয়েছে, কোনো নারী সাংবাদিকের বিপদে অন্য নারী সাংবাদিকরা যাতে চুপ করে না থাকেন সেজন্য গেরিলা বাহিনীর কৌশল বা আদলে সংঘবদ্ধ হতে হবে ।

কর্মশালার বিভিন্ন আলোচনায় উঠে আসে, গণমাধ্যমে নারীদের প্রতি আগে যে ধরনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল তা কিছুটা কমেছে। ২০ বছর বা তার আগে যারা সাংবাদিকতায় এসেছিলেন তাদের তুলনায় বর্তমানে একজন নারী অনেক সহজে এ পেশায় ঢুকতে পারছেন। তবে যুদ্ধ থামেনি। নতুন করে যৌন হয়রানী, সাইবার ক্রাইমসহ অন্যান্য নির্যাতন বেড়েছে। চাকরি হারানো, ভালো কাজের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে নারী সাংবাদিকরা এখনো ‘মাতৃত্ব’ বিষয়টিকে ভয় পান। বিভিন্ন গণমাধ্যমও নারী সাংবাদিকদের নিয়োগ দেয়ার সময় এ ধরনের বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে আসে। এসব সমস্যার সমাধানে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। কর্তপক্ষ অন্যায় বা বৈষম্যমূলক আচরণ করলে নারীদের কণ্ঠস্বর বাড়াতে হবে। বিভিন্ন কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। নারীদের যোগ্যতা নিয়ে যাতে কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে সেজন্য প্রশিক্ষণ এবং পড়াশোনার গ-িও বাড়াতে হবে। গণমাধ্যমে পুরুষ সহকর্মীদের বিপক্ষ শক্তি না ভেবে সহকর্মী ভাবতে হবে। এক্ষেত্রে পুরুষদের এগিয়ে আসতে হবে।

নারী সাংবাদিকরা অনেক বেশি দায়িত্বশীল মন্তব্য করে ভিরাজ লাবেইলি বলেন, সাংবাদিকতায় নারীরা এগিয়ে আসছেন তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেকেই ঝরে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, নারীদের মধ্যে নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে সিনিয়রদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো প্রয়োজন।

সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী বলেন, শুধু নারী নয়, জেন্ডার ইস্যুর নেতিবাচক প্রভাব পুরো সমাজের ওপরই পড়ে। তাই নারীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

কর্মশালার প্রথমদিনে নারী সাংবাদিকদের জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম খুবই প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক ফরিদা ইয়াসমীন বলেন, ‘নারী সাংবাদিকতার উন্নয়নের জন্য দরকার গেরিলা নেটওয়ার্কিংয়ের। এর বিকল্প নেই এখন’।

সত্তর দশকের সাংবাদিকতার চিত্র তুলে ধরে সিনিয়র সাংবাদিক মাহমুদা চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এটাই বলে যে, দলমত নির্বিশেষে একটা শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম দরকার নারী সাংবাদিকদের। এজন্য নেটওয়ার্কিংটা জরুরি। সেইসাথে নারী সাংবাদিকদের পরিস্থিতি মোকাবিলা করে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন ভিরাজ লাবেইলি ও আঙ্গুর নাহার মন্টি।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.