কোথায় আজ ঈশ্বর? কোথায়?

Gaza 3জয়শ্রী সরকার: উঠোনভরা একঝাঁক শিশুর রক্তমাখা মুখ দেখবার জন্যে আমি ঘুম থেকে জাগিনি। রাতে কি একবারের জন্যে আমি ভেবেছিলাম, সকালে উঠে ফুলের মতো, চড়ুইয়ের মতো, টিয়া পাখির মতো শিশুদের দুমড়ে মুচড়ে থেতলানো মাথা দেখে আমার দিন শুরু হবে? না আর নিতে পারছি না।

কে পারছেন নিতে? বলেন তো, বুকে হাত রেখে বলেন, আপনারা পারছেন কি না! ওদের ভীড়ে আপনি কি একবারও আপনার সোনামনির রক্তমাখা মুখ ভেসে ওঠেনি?
কেউ স্বীকার না করলেও এ সত্য, এক ঝলকের জন্যে হলেও আপনি কেঁপে ওঠছেন। আপনার বুকে মোচড় দিয়ে ওঠেছে। রক্ত ক্ষরণ হয়ে মূর্ছা যাচ্ছেন।

যেমন সকাল থেকে আমার রক্তসঞ্চালন সহজগতিতে হচ্ছে না। কেবলই ওদের ভিড়ে আমার আড়াই বছরের ভাতিজার মুখ ভাসছে। যাকে একমাস দেখতে না পেয়ে আমি ছটফট করছি তাকে ওদের ভিড়ে দেখে আমার দম নিতে কষ্ট হচ্ছে। ইনহেলার নিয়েছি, কাজ করছে না। ঘুমের ঔষধ খেয়েও ঘুমুতে পারছি না।

কেউ কেউ পরামর্শ দিচ্ছেন শাহবাগ যেতে। কেউ বলছেন খেলা নিয়ে ভাবতে, ভাবতে সিনেমা নাচ গান, বা আজ ইফতারে কি খাওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে। না, আজ আমার ভাববার কিছু নেই। আজ কারো ভাববার কিছু নেই। রোজা উপবাস আজ কারো কাজে লাগবে না।

একই পৃথিবীতে থেকে যাদের জন্যে আমরা কিছুই করতে পারছি না। আমাদের বর্তমানে যাদের মেরে ফেলছে অসভ্য বর্বররা। জাতিসংঘ চুপ. মানবাধিকার কর্মীরা চুপ. রাষ্ট্র চুপ. প্রকৃতি চুপ এমন প্রকৃতিতে আমিই বা কেন বেঁচে আছি? বেঁচে থেকে কী লাভ, খেয়ে কি লাভ, রোজা, উপবাস করে ঈশ্বরের পায়ে প্রদীপ জ্বালালে কী লাভ?

কেনো আজ ঐ শিশুদের জন্যে বিশ্বের সকল মানুষ পথে নামছে না? কেনো উপবাস, রোজাকে বন্ধ রেখে ঈশ্বরকে বলছে না, হয় শিশুদের বাঁচাক, নয় পৃথিবীতে তাদের স্থান নেই। দৃশমান শিশু হত্যা করে অদৃশ্যের পূজা এ কোন ধর্মাচার! কেনো আমরা এখনো সুকান্তকে ডেকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছি না? কেনো তার কাছে জানতে চাইছি না, কেনো সে লিখে গিয়েছিল “এ বিশ্বকে এ-শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি,নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।”

না আর ঠিক নিতে পারছি না। রক্তের ঐ বন্যায় কলজের টুকরাদের ভেসে যেতে আর দেখতে পাচ্ছি না। কার কাছে যাই? কোন জাতিসংঘ, কোন মন্দিরে, কোন মসজিদে, কোন গীর্জায়? তারা কি আছে?

না, আমি আজ অন্তত কোন মন্দিরে যাবো না। পৃথিবী উল্টে গেলেও কোন ইশ্বরের নাম নেবো না। যে ঈশ্বর শিশুদের কান্না শুনে কাঁদে না, যে ঈশ্বর শিশুদের রক্ত দেখে ধরায় নামে না, আমার তেমন কোন ঈশ্বরের প্রয়োজন নেই। আমি চাই না । (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.