ইউনিসেফ এর বিরুদ্ধে ছবি ব্যবহারের অভিযোগ

BD_UNI157954_frameউইমেন চ্যাপ্টার: অনুমতি ছাড়া তার নবজাতক শিশুর ছবি জন্মনিবন্ধন বিজ্ঞাপনে ব্যবহারের জন্য জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন সাংবাদিক নবনীতা চৌধুরী। সংস্থাটি এর জন্য দু:খ প্রকাশ করলেও বিজ্ঞাপণটি এখনও ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় টাঙানো দেখা গেছে বলে জানান তিনি।

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ নবনীতা উইমেন চ্যাপ্টারকে জানান, তিনি বন্ধুদের পরামর্শ মতোন এরই মধ্যে আইনজীবীর সাথে কথা বলেছেন।

বৃহস্পতিবার নবনীতা তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘আমি গভীরভাবে মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ যে ইউনিসেফ বাংলাদেশ আমার অনুমতি না নিয়েই নবজাতক মেয়ের ছবি তাদের প্রচারণা পত্রে ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে। আমি গত বৃহস্পতিবারেএই বিজ্ঞাপণ দেখার পর তাদের ফোন করেছিলাম এবং লিখেও জানিয়েছি। এর দুদিন পর তারা আমাকে চিঠি পাঠিয়ে ক্ষমাও চেয়েছিল। কিন্তু এই বৃহস্পতিবারেও দেখছি তারা আমার মেয়ের ছবি ব্যবহার করেছে পোস্টারে, এবং তা পুরো ঢাকা শহরেই আছে। এ ব্যাপারে সবার কাছে পরামর্শ চাইছি’।

নবনীতা চৌধুরীর এই পোস্টটি দৃষ্টি কাড়ে অনেকের। অধিকাংশই আইনী ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেন। এ ঘটনায় ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউন আজ শুক্রবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

পত্রিকাটিকে নবনীতা বলেন, ‘আমার মেয়ে আনন্দিতা কামালের জন্ম ১৫ জুন। এর পরদিন অর্থাৎ ১৬ জুন আমি তার একটি ছবি তুলে আমার ফেসবুক প্রোফাইল পিকচার হিসেবে দেই। ৩ জুলাই বন্ধুদের কাছ থেকে জানতে পারি যে আমার মেয়ের ছবি একটি ইংরেজি দৈনিকের শেষ পৃষ্ঠায় জন্ম নিবন্ধন নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টিমূলক একটি বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয়েছে’।

নবনীতা উইমেন চ্যাপ্টারকে আরও জানান, তিনি ৬ জুলাই ইউনিসেফ এ ফোন করে অভিযোগ করেন এবং কমিউনিকেশন, অ্যাডভোকেসি এবং পার্টনারশিপ অব ইউনিসেফ বাংলাদেশ এর চিফ সৈয়দা সীমা ইসলামকে ই-মেইল পাঠান। সংস্থাটির পক্ষ থেকে তখন এজন্য ক্ষমা চাওয়া হয় এবং বলে যে, পোস্টারগুলো তুলে নেয়া হবে। কিন্তু এই চিঠি চালাচালির পরও পোস্টারগুলো ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় দেখতে পেয়ে তিনি অবাক হয়ে যান।

এটা মারাত্মকভাবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউনিসেফ এর মতোন আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে তিনি এরকমটি আশা করেননি।

নবনীতা আরও জানান, তার অভিযোগের উত্তরে ৮ জুলাই ইউনিসেফ বাংলাদেশ এর ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ লুইস মভোনোর কাছ থেকে উত্তর পান। যাতে মি. মভোনো বলেন, ‘আমাদের একজন কনসালটেন্ট এবং বাংলাদেশে বার্থ রেজিস্ট্রেশন নিয়ে কাজ করে এমন একটি সহযোগী সংস্থার মধ্যে ভুল দু:খজনক বোঝাবুঝির কারণেই আপনার নবজাতক শিশুর ছবিটি ব্যবহার হয়েছে’। তিনি আরও বলেন, ওই কনসালটেন্ট নবনীতার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তার অনুমতি ছাড়াই ছবিটি নেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলেও উল্লেখ করেন মি. মভোনো।

এর পরিপ্রেক্ষিতে নবনীতা বলেন, এই ই-মেইলটি পাওয়ার পর আর কঠোর কোন পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবিনি। কিন্তু এই বৃহস্পতিবারেও যখন গুলশান, বাংলা মোটর, ধানমন্ডি, কারওয়ান বাজার এলাকায় পোস্টারটি দেখা গেল এবং বন্ধুরা জানালো, তখন বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছি।

এদিকে নবনীতাকে ই-মেইলের উত্তরে কমিউনিকেশন চিফ লেখেন, ‘আমরা আমাদের সহযোগী সংগঠনের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি যে, আপনার মেয়ের ছবিসহ জন্ম নিবন্ধনের প্রচারণামূলক পোস্টার রয়েছে ১০০টি। ২ জুলাই জন্মনিবন্ধন দিবস ২০১৪কে সামনে রেখে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় এই পোস্টারগুলো টাঙানো হয়। সহযোগী সংগঠন আমাদের বলে নিশ্চিত করেছে যে, তারা ছবিগুলো সরিয়ে নেবে রাতের মধ্যেই’।

নবনীতার ভাষায়, ‘কথা হলো প্রথমবার অভিযোগের পরও কেন পোস্টার তুলে নেয়া হলো না? এরপর রাতের মধ্যে ওই ১০০ পোস্টার তুলে নেয়ার কথা বললেও তা নামালো না কেন?

নবনীতা বলেন, ইউনিসেফ কর্মকর্তা মিথ্যা কথা বলেছেন। ৬ তারিখের এই উত্তরের পরও পোস্টার ঝুলতে দেখা গেছে। তাদের পক্ষ থেকে এটা খুবই দায়িত্বহীন আচরণ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নবনীতা।

 

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.