যাদের জন্য প্রযোজ্য-৩: সাকিব নিষিদ্ধ, শাস্তি নাকি ধ্বংস?

Sakibসীনা আক্তার (৮ জুলাই ২০১৪): আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনের সুপরিচিত ক্রিকেটার সাকিব-আল-হাসানকে আগামী ছয় মাসের জন্য সব ধরনের খেলা থেকে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিবি। শুধু তাই নয়, ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সে ভিনদেশী টুর্নামেন্টে খেলার অনুমতিও পাবে না।  খবরটা জেনে যারপরনাই কষ্ট পেয়েছি, অসন্তুষ্ট হয়েছি। একেই বলে ‘লঘু পাপে গুরু দণ্ড’।

এই শাস্তির কারণ সাকিব লিখিত অনুমতি বা অনাপত্তিপত্র (এনওসি) না নিয়ে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট লিগে খেলতে গিয়েছিল। অবশ্যই এটা একটা অপেশাদার আচরণ কিন্তু এই আচরণের জন্য এত কঠোর শাস্তি যে ন্যায্য না তা হয়তো স্বয়ং বিসিবিও জানে। এ কঠোর শাস্তির আরো অনেক কারণ বিসিবি থেকে বলা হয়েছে যেমন, ‘সাকিবের মারাত্মক আচরণগত সমস্যা’ রয়েছে!  আরো কিছু আছে যা বোর্ড সভাপতি বলতে পারছেন না, ”সব কথা আপনাদেরকে আমরা বলতে পারছি না..’!!

উদ্ধত, আচরণগত সমস্যা- এ শব্দগুলো প্রায়ই অস্পষ্ট-ভাসাভাসা, সাকিবের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম মনে হচ্ছে না। সাধারণত সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ না থাকলেই এ ধরনের ভাসাভাসা বিষয় উত্থাপিত হয়। কারণ সাকিব দেশের বাইরে অনেক দেশের জন্যই খেলেছে, কিন্তু কেউ তার আচরণগত সমস্যার অভিযোগ তুলেছে এমনটি শোনা যায়নি।

বিসিবি’র কাছে সাকিবের আচরণ উদ্ধত কিন্তু ভিনদেশী দলের সদস্য, কোচ, দলনেতা, ম্যানেজমেন্ট কারো কাছেই তার আচরণ নিয়ে কোন সমস্যা নেই। তার মানে কি এই না যে, বিসিবি সাকিবকে সঠিকভাবে ম্যানেজ করতে পারছে না। বিসিবি’র সেই অক্ষমতার নাম কি সাকিবের আচরণগত সমস্যা! সেই অক্ষমতা ঢাকার জন্যই কি বিসিবি’র এত দাপট, এত কর্তৃত্ব এবং অন্যায্য শাস্তি!!

একটা প্রবচন আছে, ‘দেখতে নারীর চলন বাঁকা’, মানে কাউকে পছন্দ না হলে তার হাঁটাচলা সব খারাপ। সাকিবের আচরণে বিসিবি’র এত নাখোশ হবার কারণ কি তাঁর যোগ্যতা, সফলতা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা, প্রতিপত্তি, খ্যাতি, নাকি অন্য কিছু! বিসিবি কি সাকিবের আচরণ সংশোধন করতে চাইছে? দীর্ঘদিন একজন খেলোয়ারকে নিষিদ্ধ করা কি সংশোধন, নাকি তার ক্যারিয়ার ধ্বংস করার ব্যবস্থা! এ শাস্তি কেবল সাকিবের না, বরং তারঁ খেলা অনুরাগীদের জন্যও শাস্তি। অন্য যেকোনো পেশাজীবীর সাথে খেলোয়ার পেশাজীবীর মৌলিক পার্থক্য হচ্ছে একজন খেলোয়ারকে নিষিদ্ধ করা মানে তার সমর্থকদের তার খেলা থেকে বঞ্চিত করা।  অন্যভাবে বলা যায়, সমর্থকদের এক ধরনের শাস্তি দেয়া। বলার অপেক্ষা রাখে না যে বিসিবি সাকিবের খেলার অনুরাগী-সমর্থকদের মোটেই পাত্তা দেয়নি, অথচ সমর্থকরা হচ্ছে যে কোন খেলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশের এই সমর্থকদের জন্যই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় আমাদের দেশে।

তথাকথিত আচরণগত সমস্যার বাইরে অন্য কি বিষয় যা বিসিবি বলতে পারছে না! উল্লেখ্য কিছুদিন আগে এক খেলা চলাকালীন সময়ে সাকিবের স্ত্রী কিছু উত্যক্তকারীর শিকার হয়েছিল। শোনা যায় সাকিব তাদের মারধোর করেছে। বিসিবি সে ঘটনাটিকে উল্লেখ করেছে।  ঘটনাটির সূত্রপাত ভিআইপি গ্যালারীতে।

বলাই বাহুল্য, ভিআইপি গ্যালারী ব্যবহার করা উত্যক্তকারীরা সাধারণ কেউ নয়, মানে ‘ভিআইপি উত্যক্তকারী’। তাছাড়া সাধারণ কারো পক্ষে সাকিবের স্ত্রীকে উত্যক্ত করার সাহস হবার কথা নয়। কাকতালীয় কিনা জানিনা, তবে ঐ ঘটনার পর কিছু মিডিয়া যেন সাকিবের পেছনে উঠে পরে লেগেছে। সাকিব কি তাহলে ‘ভিআইপি উত্যক্তকারীদের’ প্রভাব, ক্রোধের শিকার হয়েছে? আমাদের দেশে ‘ভিআইপি প্রভাব’ কি করতে পারে তা আমরা সবাই কম-বেশী জানি! ‘সাধারণ পরিবার’ থেকে উঠে আসা সাকিবের প্রতিবাদ ‘ভিআইপি উত্যক্তকারীরা’ সহ্য করবে কেন! শোনা যায় ঐ ঘটনায় সাকিবের করা নারী নির্যাতনের মামলায় আসামীরা জামিন পেয়েছে। নারী নির্যাতন মামলায় আসামীরা কি জামিন পাওয়ার কথা? এটা অ-জামিনযোগ্য অপরাধ বলেই তো জানতাম!

সাকিব রাগের মাথায় দেশের জন্য না খেলার কথা বলেছিলেন। বিসিবি কি সেটাই চাচ্ছে? এতে সাকিব বা বিসিবি’র হয়তো তেমন কিছুই হবে না। কষ্ট পাবো, বঞ্চিত হবো আমরা যারা সাকিবের খেলার অনুরাগী, সমর্থক- অবশ্য তাতে বিসিবি’র কি কিছু এসে যায়!

 

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.