পাকিস্তানে আবার ‘অনার কিলিং’

Rape victউইমেন চ্যাপ্টার: ‘অনার কিলিং’ এর নামে পাকিস্তানে আবারও একটি মেয়েকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি খোদ হাইকোর্টের সামনে উপস্থিত লোকজনের সামনেই ঘটেছে। লাহোর পুলিশ বলছে, মঙ্গলবার হাইকোর্টের সামনে ২৫ বছর বয়সী অন্ত:সত্ত্বা ফারজানা পারভিনকে তার ভাই এবং বাবা নির্মমভাবে পেটানোর পর পাথর ছুঁড়ে হত্যা করে। তার অপরাধ ছিল, পরিবারের অমতে ভালবেসে একজনকে বিয়ে করা।

পুলিশ আরও জানায়, ফয়সালাবাদের বাসিন্দা ফারজানা কয়েক মাস আগে পরিবারের অমতেই বিয়ে করে জরনওয়ালার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইকবালকে। ফারজানার পরিবার তখন ইকবালের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করে। গত মঙ্গলবার এই মামলারই সাক্ষ্য দিতে ফারজানা উপস্থিত হয়েছিলেন আদালতে। স্বামীকে রক্ষায় তিনি ছিলেন বদ্ধপরিকর। তারা যখন আদালতে পৌঁছান, তখন প্রথমে বাবা ও ভাইয়েরা আকাশে গুলি ছুঁড়ে ফারজানাকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালায়।কিন্তু এতে ব্যর্থ হয়ে কমপক্ষে ২০ জন মিলে তাদের দুজনের ওপর লাঠিসোটা ও পাথর নিয়ে হামলা চালায়। ফারজানা তিন মাসের অন্ত:সত্ত্বা ছিলেন। পাথর এসে তার মাথায় লাগলে প্রচুর রক্তক্ষরণের একপর্যায়ে তিনি মারা যান। স্বামী ইকবাল কোনরকমে পালিয়ে বাঁচেন।

এই ঘটনার পর পুলিশ ফারজানার বাবাকে গ্রেপ্তার করলেও ভাইয়েরা পালিয়ে যায়। পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতালে পাঠায় এবং শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইকবাল এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্ট অনুসারে প্রায় নয়শ নারী ‘সম্মানজনক হত্যা’র নামে তাদের পরিবারের হাতে নিহত হয়েছে।
শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.