দিল্লি এখনও নিরাপদ নয়

Rape protestউইমেন চ্যাপ্টার: ভারতের রাজধানী দিল্লি এখনো মেয়েদের জন্য নিরাপদ নয়। পুলিশের কাছে বছরের প্রথম চার মাসের তথ্য অনুযায়ী দিনে গড়ে ছয়টি ধর্ষণ আর ১৪টি যৌন হয়রানির অভিযোগ ফাইল করা হয়েছে। যদিও পুলিশ শতকরা ৯০ ভাগ কেসই মীমাংসা করেছে বলে দাবি করেছে।

দিল্লী পুলিশের তৈরি করা ডাটা বেস অনুযায়ী, জানুয়ারী থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৬১৬টি ধর্ষণ আর ১৩৩৬টি যৌন হয়রানির কেস নথিভুক্ত হয়েছে। ২০১৪ সালে ধর্ষণের মামলার সংখ্যা বিগত বছরের ৪৫০ টি নথিভুক্ত কেসের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেশী। ২০১৪ সালে যৌন হয়রানির ফাইলভুক্ত কেসের সংখ্যাও এক হাজারের বেশী। পুলিশ জানাচ্ছে, বছরের প্রথম চার মাসে নথিভুক্ত হয়েছে এমন সকল কেসের শতকরা প্রায় ৮৯ ভাগের বিচারকাজ শেষ হয়েছে এবং আসামী গ্রেফতার হয়েছে।

পুলিশ আরও জানাচ্ছে, ২০১৩ সালে নথিভুক্ত হয়েছিল ১৫৫৯টি ধর্ষণ এবং ৩৩৪৭টি যৌন হয়রানির কেস, ২০১২ সালে নথিভুক্ত কেসের সংখ্যা ছিল ৬৮০টি ধর্ষণ আর ৬৫৩টি যৌন হয়রানির।

ভারতের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো’র হিসাব অনুযায়ী এপর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যক ৫৬৮টি ধর্ষণ মামলা হয়েছে দিল্লীতে ২০১১ সালে, একই বছরে মুম্বাইতে ধর্ষণ মামলার সংখ্যা ছিল ২১৮টি।

ভারতের রাজধানী শহরটি ‘ ধর্ষণের শহর’ বলে কুখ্যাতি পায় ২০১২ সালে ডিসেম্বর মাসে ২৩ বছর বয়সী ইন্টার্ন চিকিৎসক ‘নির্ভয়া’র গ্যাং রেপের শিকার হয়ে নির্মম মৃত্যু বরণ করার পরে। তরুণ ওই চিকিৎসককে মোট ছয়জন মিলে চলন্ত বাসে ধর্ষণ করে, ধর্ষকদের মধ্যে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ধর্ষকও ছিল। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের পর নির্মম নির্যাতন চালিয়ে তাকে চলন্ত বাস থেকে ছুঁড়ে মারার বেশ কয়দিন পর মেয়েটি সিঙ্গাপুরে মারা যায়। এই ঘটনা তখন পুরো ভারতবর্ষ জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দেয়।

রোমহর্ষক ওই ঘটনাটির পরে দিল্লী পুলিশ নারীদের নিরাপত্তারক্ষায় বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়। দিল্লী পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, ভারতীয় ক্রাইম ব্যুরো’র রিপোর্টে দেখা যায় শতকরা ৯০ ভাগ কেসে কোন না কোনভাবে পরিচিত লোকদের দ্বারাই নারীরা ধর্ষণ এবং যৌন হয়রানির শিকার হয়ে থাকে। শতকরা ১০ ভাগের মতন কেসে অপরিচিত লোক নারীদের উত্যক্ত করার সাহস পায়।

পুলিশ অফিসারটি আরও জানান, পরিচিতদের দ্বারাই ধর্ষণ বা যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার ফলে এই জঘন্য অপরাধটি দমন করা অনেকক্ষেত্রেই মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। কারণ বেশীরভাগ নারীই এই হয়রানির কথা বাইরে প্রকাশ করতে চান না বা পরিবারের চাপের কারণে প্রকাশ করতে পারেন না।

দিল্লী পুলিশের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার মিস বর্ষা শর্মা জানান, নারীদের সুরক্ষায় পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। মোট ১১টি জেলায় এই বিশেষ পুলিশের ইউনিটটি নারীদের নিরাপত্তা বিধানে কাজ করে চলেছে।

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন স্কুল এবং কলেজের মেয়েদের আত্মরক্ষার কৌশল শেখানোর জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত ট্রেনিং কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের মধ্যে জেন্ডার সংবেদনশীলতা সম্বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এপর্যন্ত প্রায় ৮৬০ জন পুলিশ সদস্য জেন্ডার সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রমে অংশগ্রহন করেছেন।

এর বাইরেও নারী পুলিশের একটি ভ্রাম্যমান দল ২৪ ঘণ্টার জন্য মোতায়েন রাখা হয় হয়রানির শিকার নারীদের তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদানের জন্য। হিসাবে দেখা গেছে বিভিন্ন ভাবে যৌন হয়রানির শিকার নারীদের কাছ থেকে দিনে গড়ে ৩০ টি ফোন আসে নারী পুলিশের এই দলটির কাছে। এই বছরের এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১১,৪৩৯ টি এই ধরনের সহায়তা চাওয়া ফোন রিসিভ করেছে নারী পুলিশের এই দলটি।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.