মন ধর্ষণ বলে একটা কথা আছে!

mourn picরীআ মাহমুদ: ধর্ষকামী পুরুষদের আমি শরীরের নিরিখে সব সময় বিচার করিনা । নারী দেহ ধর্ষণ সেই প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে চলে আসছে। বীরভোগ্যা বসুব্ধরার তো জুড়ি নেই ! মন ধর্ষণ এর কথাটা আমার প্রায়শই মনে হয় । এ ক্ষেত্রে ধর্ষক নারী-পুরুষ উভয়ই হতে পারে । এখানে লিঙ্গভেদ করিনা।

তবে নারী মাত্রই শেকড় সন্ধানী তাই বেতস লতার মত জড়িয়ে থাকা তার স্বভাব । এই লতানো ব্যাপারটি রোমাঞ্চকর বটে, কিন্তু খুবই অস্থায়ী । বৃক্ষ এবং লতা এদের যুগলবন্দীতে যদি যুগল বন্দনা না থাকে তাহলে গোঁড়াপত্তন শিথিল হবে নিঃসন্দেহে । অই বন্দনাটি এক হতে হবে।

হ্যাঁ যা বলছিলাম ধর্ষকামী পুরুষদের আমরা সাজা দেই, নিন্দার্হ জানাই, কিন্তু মন ধর্ষকদের নাগাল পাইনে।

‘মেঘে ঢাকা তারা’র সেই কালজয়ী সংলাপটি মনে পড়ে ‘ দাদা আমি বাঁচতে চাই ।’ বিদ্যালয়ে শিশুমন কত ভাবেই না দলিত হয় ।

শিক্ষকদের অবিচারে , সহপাঠী দের উন্নাসিক আচরণে উদ্ধত মন্তব্যে । আমাকে একবার অনুজপ্রতিম বন্ধু সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে বলেছিল ‘ চোখে ভারি চশমা পরতাম , চশমা ছাড়া অচল ছিলাম , বন্ধুরা চোখ থেকে চশমা কেড়ে নিয়ে বলত এবার দ্যাখ তো কানা !’ শৈশবের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে ঝর ঝর করে কেঁদে ফেলেছিল । অথচ আজো প্রবাদ প্রবচনে পড়ানো হয় কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন ।

মানুষের অভব্য উচ্চারণ ব্যাকরণ বইয়ে ঠাঁই পেয়েছে । জয় গোস্বামীর ‘স্নান’ কবিতাটি পড়ে যারপর নাই শিহরিত হই অন্ধ কবির সঙ্গে প্রকাশ্য ঝরণায় স্নান করতে সাধ জাগে যে অঙ্গীকার করেছে জন্মান্ধ মেয়েটিকে জ্যোৎস্নার আলো দেখাবে ।

আহা এসব স্বপ্নে বিভোর হয়েই তো বেঁচে আছি । তৃতীয় নয়ন দিয়ে পৃথিবীটাকে দেখার যে কী আনন্দ তা চক্ষুষ্মানরা কতটুকু বোঝে ! যারা নিয়ত স্বপ্ন দেখায় এবং ভাঙে তারা কী জানে এর রক্তাক্ত ইতিহাসের কথা ! স্বপ্ন তো আঁকিবুকি কাটার রঙ-পেন্সিল নয় যে যখন-তখন আঁকবো আর মুছবো । যারা স্বপ্ন ভাঙে তারা ঐ ধর্ষকামীদের একজন ।

সমাজ দেশ কালের ইতিহাস প্রত্ন গবেষণায় আমরা বিস্তর কালক্ষেপণ করি, হৃদয়ের ইতিহাসের কথা হয়ত কবিরাই লিখে যায় একমাত্র , জয় তব বিচিত্র আনন্দ হে কবি জয় তোমার করুণা ।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.