মা হওয়া কি অন্যায়?

Safe Motherhoodতাহমিনা বেগম: আমার পরিচয় বলতে হয়তো সেরকম কিছুই নেই। আমি এ দেশের আর দশজন নারীর মতো একজন কন্যা, স্ত্রী, মা। এর পাশাপাশি কিছুদিন আগেও আমি একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলাম্। শিক্ষকতার করার জন্য যোগ্যতা হিসেবে যা যা লাগে তা আমার আছে বলেই আমি বিশ্বাস করি।

এম.এ, বি.এড, শিক্ষক নিবন্ধন সকল পরীক্ষায় উর্ত্তীণের সনদ নিয়েই শিক্ষকতা পেশা শুরু করেছি। যোগ্যতার এসব কিছুসহ আমি চট্টগ্রামের স্বনামধন্য স্কুল বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বিদ্যালয় দিবা শাখায় গত দুই বছর ধরে শিক্ষকতা করে আসছিলাম। আমি বদলি শিক্ষক হিসেবে উক্ত স্কুলে যোগদান করি। উল্লেখ্য কোন প্রকার পরীক্ষা এবং নিয়োগ পত্র ছাড়াই বছরের পর বছর শিক্ষকেরা কর্মরত রয়েছেন।

লেখাটা চাকরি পাওয়া কিংবা হেয় করার উদ্দেশ্যে নয়। আমি লিখছি নিরাপদ মাতৃত্বের অধিকার নিয়ে। গত বছরের মাঝামাঝি আমি সন্তান সম্ভবা হই। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে বছরের শুরুতে আমার কাছে জানতে চাওয়া হয়, আমি কখন ছুটিতে যাব। আমি এপ্রিল মাসের শুরুতে যাব বলে জানাই। মাঝখানে এসএসসি পরীক্ষার জন্য স্কুলের শ্রেণী কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

মার্চের ২২ তারিখ বিদ্যালয় খোলার পর ২৩ তারিখ সকালে আমাকে জানানো হয়, কাল সকালেই আমাকে অন্য আরেকজনকে চার্জ বুঝিয়ে দিতে হবে এবং চাকুরী ছেড়ে দিতে হবে। আমি বিনা বেতনে ছুটির আবেদন করলে আবেদনপত্র ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হয়। জানিয়ে দেয়া হয়, আমাকে কোন প্রকার ছুটি দেয়া হবে না। ছুটি না দেয়ার কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, বিদ্যালয়ের বিপদে চাকুরী দেয়া হয়েছে এখন আপনি অসুস্থ।(এখন আমার পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয় যা গত দু’বছরে হয়নি) আপনাকে আর আমাদের প্রয়োজন নেই।

আমার প্রশ্ন, তাহলে কি মা হওয়া পাপ? নাকি আমরা দ্বিতীয়বার মা হতে পারব না? ছুটি নেয়ার আগ মূহূর্তে একজন মাকে এরকম মানসিক এবং শারীরিক কষ্ট দেয়ার কি মানে?

মেয়েদের বিদ্যালয়, নারী প্রশাসক, একজন মায়ের কাছে এরকম আচরণ আমার প্রত্যাশার বাইরে। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নারী হওয়া সত্বেও আমরা কেন এরকম আচরণের শিকার হব? বলতে পারবেন কেউ?

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.