মা যেন থাকে আমার মননপটে

Mother Goose 1উইমেন চ্যাপ্টার: আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে, একজন মায়ের চিরন্তন চাওয়া। আর আমরা যদি বলি, আমার মা যেন থাকে আমার মননপটে, একটি দিনের জন্য নয়, সারাজীবন, আমৃত্যু, তাহলে কি ভুল বলা হবে?

আজ বিশ্ব মা দিবস। মাকে ভালবাসতে বছরের একটি দিনের প্রয়োজন পড়ে না, মা এমনই এক বিষয়, যা আমাদের ভিতরে প্রোথিত থাকে অনুক্ষণ। এর প্রকাশ দেখা যায় না, শুধু অনুভবে মেলে মায়ের স্পর্শ। প্রতিটি নি:শ্বাসেই আমরা জেনে-না জেনেই স্মরণ করি মা’কে।

তারপরও কর্পোরেট সংস্কৃতি তাদের ব্যবসার খাতিরেই হোক, আর অন্য কোনো ধান্দার কারণেই হোক, একটি দিনকে মায়ের জন্য নির্দ্দিষ্ট করে দিয়েছে। যে যার মতো ব্যবসা করুক, আমরা না হয় আরেকটি দিনে সবাই মিলে একসাথেই ভালবাসি আমাদের মায়েদের।

যাদের মা এখনও বেঁচে আছেন, তাদেরকে বলি, আজ একটিবার মাকে স্মরণ করুন, লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই, মা তো মা’ই। তাছাড়া মায়ের কাছে শত অন্যায় করে দাঁড়ালেও মা ক্ষমা করে দেন। মা এমনই একটা শক্তি। যার নেই, সেই জানে, কি নেই। মাথার ওপর এমন নি:স্বার্থ, উদার আকাশ কোথায় পাবেন আপনি?

একবার অসুস্থ মায়ের খোঁজ নেয়ার সুবিধার্থে মা দিবসে একটা মোবাইল কিনে দিয়েছিলাম। পরে মা একদিন বললেন, ‘তুই ফোন করিস না কেন, সারাদিন ফোনটা ধরে শুয়ে থাকি, ফোনটা ধরে থাকলে মনে হয়, তোকেই ধরে আছি’। এই হলো মা।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো গতকাল রাত ১২টা থেকেই ভরে গেছে মায়ের স্তুতিতে, মাকে ভালবাসা প্রকাশ দিয়ে।

সাংবাদিক বোরহানুল হক সম্রাট লিখেছেন, “সাত ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট আমি। ৬ জনের পরে একালে আর সন্তানের আকাঙ্খা থাকে না মানুষের। এত কষ্ট করতে কে চায় ? তারপরও আমার মা আমাকে পৃথিবীতে এনেছেন। কমপক্ষে সাত সাতবার জীবন-মরণের মাঝামাঝি যেয়ে, চোখে অন্ধকার দেখার মতো, দাঁতে দাঁত রেখে অজ্ঞান হবার মতো তীব্র কষ্ট সহ্য করে, আমাদের সাত, সাতজনকে জন্ম দিয়েছেন তিনি। কম করে হলেও চৌদ্দটি বছর শুধু দুধের সন্তানদেরকে নিয়ে সময় পার করেছেন। ১৪ বছর। কত ঘাত প্রতিঘাতে সবার অলক্ষ্যে নিয়ে দুধ খাইয়েছেন তিনিই। সাতজনের গু-মুত পরিস্কার করেছেন। কল চেপে পানি টেনেছেন, কাঁথা ধুয়েছেন, কাঁথা শুকিয়েছেন। ঘর মুছেছেন, ঘর করেছেন বাবার। আহারে, অসুখ হওয়া সন্তানকে দেখতে রাতভর জেগে উঠেছেন, কত শত বার। ঠিক সময় ঘুমাতে বলেছেন, ভোর বেলায় ঘুম ভাঙ্গিয়েছেন, পড়াতে বসেছেন, পড়তে বলেছেন বার বার। শাসন করেছেন, তুমুল মেরেছেন, বাসা থেকে বের করে দিয়েছেন, অভিমান ভাঙ্গিয়ে, নতুন জামা পড়িয়ে দিয়েছেন, সিথি কেটে চুল আচরিয়ে দিয়েছেন প্রত্যেকটা দিন। বুকে টেনেছেন, বুকে টানছেন, এখনো। হ্যা একজনই, স্রেফ একজনই করেছেন এসব এবং তিনিই। মনে পড়ে…মনে আছে মা। চোখ ভিজে উঠে মা। ও মা, মা গো, তুমিই তো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মা, তুমি আমার মা…”।

সাংবাদিক জাহীদ রেজা নূর লিখেছেন, সাতরং ফুল এখন পেলে সবগুলো পাপড়ি উড়িয়ে দিয়ে বলতাম, মাকে চাই….।

…আজকাল মৃত মানুষেরা সব ফিরে ফিরে আসে আমার স্বপ্নে, কেন তারা আসেন, বলেন না, তবে আসেন। আমার মা-ও আসে। কাছে বসে আলতো করে কোলে তুলে নেয় আমার ঘুমিযে থাকা মাথাটা, বলে, চোখ খোল। খুলি না বলে মা আমাকে ঠাণ্ডা জলের ঝাপটা দেয়ার ভয় দেখায়। আমি হুড়মুড় করে উঠে বসে দেখি, ‘কেউ কোথাও নেই’….শুধুই শূন্যতা, শূন্যতা চারিদিকে। মা নেই তো কেউ নেই, কিছু নেই….লিখেছেন সুপ্রীতি ধর।

সুইডেন প্রবাসী চন্দ্রাহত মুন লিখেছেন, “মা কে একজন ব্যক্তি এবং মানুষ হিসেবে যতদিন দেখা না হবে ততদিন তাকে রোলে ফেলে পুজো করার আদিখ্যেতা চলবে। মা একজন মানুষ।এ ব্রাঞ্চে ভাল মন্দ সঙ্কীর্ণ উঁচুদরের নিচু মানসিকতার সংসারে ভাঙ্গন লাগানো, সংসার জোড়া লাগানো, ঘ্যান ঘ্যান প্যান করা ব্যক্তিত্বহীন মিন মা থেকে শুরু করে মাদার তেরেসা সব ধরনের মা আছে। প্লিজ। নিজের মাকে মানুষ হিসেবে মুল্যায়ন করুন। মা একটি সম্পর্ক। আমার পেটে আমার সন্তান জন্মেছে। তো আমি কি কারণে এতে মহান? বুঝলাম না!আমার সন্তান আমি মানুষ না করবো তো কে করবে বলবেন? এটাতে আমার সন্তানের এত ম্যা ম্যা করার কি আছে? তার আমার কাছে কোন ঋণশোধের দায় নেই। আমি যেটা করেছি বা করি সেটা আমার জব! আমার মানুষ হিসেবে এক দায়িত্বশীলতা। আর সে দায়িত্বশীলতা আমার পৃথিবীতে নানাভাবে আছে। নইলে আমি মানুষ নই। দ্যাটস ইট!
সব চাইতে করুন এভাবেই মাকে একটা ইমশনাল পুঁটুলি বানানোর এ সামাজিক এবং পুরুষতান্ত্রিক অপকৌশলটি আমাদের মননে বপন করা হয়।”

নাদেরা সুলতানা নদী লিখেছেন, “আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে, ফেসবুকে আজ এত ”হাসিমাখা মায়ের মুখের বন্দী ফ্রেম” ভালো লাগছে, খুব ভালো লাগছে এত এত ”মা” কে এক সাথে দেখে। আসলে আমি মনে করি প্রতিটা মায়ের তার বাচ্চা কে ঘিরে যে জগত সেই জগত সব সময়ই সুখী আর সুন্দর, বাস্তব জীবনে সেই মায়ের একটি সুখী সুন্দর সংসার থাক আর না থাক, তার চারপাশে খুব কাঙ্খিত ভালোবাসাময় একটা জগত থাক আর না থাক!!! ”মায়েদের” ঘিরে সবার সব ”স্মৃতি সজীব আর সতেজ থাকুক” ”থাকুক সব মা সুখী আর সুন্দর”!!! ভালবাসা আর শ্রদ্ধা পৃথিবীর সব ”ভাগ্য বঞ্চিত আর অবহেলিত মায়েদের জন্য!!!

সুব্রত ধর লিখেছেন, আমাদের শৈশবে মা দিবস ছিলনা, মা ছিলেন, এখনো আছেন। থাকবেন যতদিন আছি আমি, আমরা। ‘নয়ন সমুখে তুমি নাই, নয়নের মাঝখানে নিয়েছ যে ঠাঁই।’

কানাডাবাসী ইশাত আরা মেরুনা তাঁর এক বন্ধুর স্ট্যাটাস শেয়ার দিয়ে লিখেছেন,

কত কত ‘মা’… যাঁদের আদরে বেড়ে ওঠা… কত কত ‘মা’ আজ ছোঁয়ার বাইরে। আম্মা চাকুরী তে চলে গেলে অসংখ্য দুপুরে ভাত খাইয়ে দিতেন ‘অন্য মা’… হেফাজ চাচী… আমার কৃষ্টি আপার সেই মা… চাচী নেই…………চোখ বন্ধ করলেই তবু দেখতে পাই…
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসার দিন আম্মার সেই কান্না এখনো মনে জাগে… আহারে মা! আজ ১৩ টি বছর সেই মা’কে ছেড়ে বিদেশে… স্বপ্নেও ভাবিনি কোনদিন আম্মাকে ছেড়ে থাকতে হবে! ঘুমের ঘোরে অহমা ‘মা’ বলে ডেকে ওঠে। স্পর্শে আশ্বস্ত হয়… আমি আমার মাকে ছুঁইনা কতদিন……

সেই কবে ছোটবেলায় তসলিমা নাসরিন-ইয়াসমীন আপা’র মায়ের কথা জেনেছি… তিনি কবিতা হয়ে ওঠার আগে…
”মায়ের কাছে চিঠি”… খুব কষ্টের। খুব কষ্ট হয় আমার…………।

(ক্রমশ আপডেট হবে)

 

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.