শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমছে

WCL 1উইমেন চ্যাপ্টার: বাংলাদেশে গত এক দশকে দেশে শিশুমৃত্যুর হার ৪০ শতাংশ কমেছে। কয়েক দশক ধরে জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তা, সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়নে ধারাবাহিক কাজ এবং গ্রাম পর্যায়ে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সেবামূলক কাজের ফলেই এটা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) নারী স্পিকারদের ফোরামে বাংলাদেশে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাসে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অগ্রগতির বিষয়টি প্রশংসিত হয়।

ওই ফোরামে বলা হয়, বাংলাদেশের গ্রামগুলোতে এখনও ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ শিশু জন্ম নেয় ধাত্রীর সহায়তায়। উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রসূতি মায়ের সেবা ও শিশু জন্মের প্রয়োজনীয় সেবার ব্যবস্থা থাকলেও প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নেই। তাই জরুরি সেবার ক্ষেত্রে বেগ পোহাতে হয়। তাই অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে উন্নত ও আধুনিক ধাত্রীসেবার জন্য প্রচুর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল দরকার।

মেয়েদের শিক্ষার হার বাড়ছে বলে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় ফোরামে।  বলা হয়, বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন ও জনমত জোরদার হচ্ছে। অন্যদিকে, ইপিআই কর্মসূচির সাফল্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি বাংলাদেশ পোলিওমুক্ত ঘোষিত হয়েছে। প্রতিবছর শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানোর কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। এসব কার্যক্রমের সামগ্রিক ফল হিসেবে দেশে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস পেয়েছে।

ফোরামে বাংলাদেশে ডায়রিয়া রোগের ক্ষেত্রে সাফল্যের বিষয়টিও আলোচিত হয়। বলা হয়, আগে ডায়রিয়ায় শিশুরা মারা যেত। শিশু জন্মদানের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মাতৃমৃত্যু বাড়ত। আইসিডিডিআরবির আবিষ্কৃত খাওয়ার স্যালাইন আজ সারা বিশ্বে অসংখ্য শিশুকে ডায়রিয়ার অকালমৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাচ্ছে।

অনুরূপভাবে সম্প্রতি বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ডা. কাইয়ুমের আবিষ্কৃত ‘কিউম্যাট’ মাতৃমৃত্যু হ্রাসে অবদান রাখছে। এই ম্যাট এখন বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশের ধাত্রীরা ব্যবহার করছেন। মাত্র দেড় ফুট বাই দেড় ফুট মাপের কয়েক পরতের কাপড়-তুলা প্রভৃতির সাহায্যে খুব কম দামের এই ম্যাট ব্যবহার করে গ্রামের ধাত্রীরা সহজেই বুঝতে পারেন সন্তান জন্মদানের সময় মায়ের রক্তক্ষরণ মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে কি না। প্রয়োজনে দ্রুত হাসপাতালে পাঠিয়ে মরণাপন্ন মায়ের জীবন রক্ষা করা সহজ হচ্ছে।

বাংলাদেশে সবার সমবেত চেষ্টায় শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার খুব দ্রুতই আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.