শিশুরা তাহলে খাবে কী?

ma o sisu সুমন্দভাষিণী (জুন ৮): গত ৬ জুন জাতীয় সংসদে পেশ করা হলো ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেট। এ যাবৎকালের মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড় বাজেট। ভাল কথা, এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে বিভিন্ন মহলে। বিরোধীপক্ষ তো এককাঠি সরেস। কিন্তু কেউই কিছু বলছেন না শিশুখাদ্যের দাম বাড়ানো নিয়ে। আপাতদৃষ্টে মনে হচ্ছে, কারও ঘরে শিশু নেই। থাকলেও ব্যাংকের অঢেল টাকা, বা বাইরে থেকে আসে তাদের শিশুদের খাবার। তাই এ নিয়ে কারও দু:শ্চিন্তা নেই।

নতুন বাজেটে সব ধরনের শিশুখাদ্য ও গুঁড়া দুধের দাম বাড়ানো হয়েছে। সেইসাথে দাম বেড়েছে তামাকজাতপণ্য ও দিয়াশলাইয়ের। দ্বিতীয়টি নিয়ে আমার কোন মাথাব্যথা নেই, ধূমপায়ীরা নাখোশ হতে পারেন সে কারণে। আমার সমস্ত চিন্তা শিশুদের নিয়ে।

সত্যি অর্থমন্ত্রী সাহেব, আপনাকে ‘ব্রাভো’ না জানিয়ে পারছি না। আপনার অশোভনীয় আশাবাদী বাজেটটা আমার কাছে অশোভনীয়ই হয়ে রইল, আশাবাদের কোন জায়গা থাকলো না।

আপনাকেই বলছি অর্থমন্ত্রী সাহেব, বয়স তো কম হলো না, আপনার না হয় কম খেতে হয়, বেছে বেছে খেতে হয়। পুষ্টির আর প্রয়োজনও নেই তেমন। কিন্তু একবারও ভাবলেন না ওই কচি মানুষগুলোর কথা? ওরা তো এইদেশেই থাকবে, আপনার মতোন দীর্ঘদিন বাঁচবে বলেই এই পৃথিবীতে এসেছে। ওদের অপুষ্টি, কাতর মুখগুলো আপনার সুসজ্জিত ডাইনিং টেবিলে বাগড়া দেবে না তো?

পত্রিকার খবরে জানা গেল, বাজারে এখন প্রতিকেজি গুঁড়ো দুধ ডানো ৬০০ থেকে ৬১৫ টাকা, ডিপ্লোমা (নিউজিল্যাল্ড) ৬১০ থেকে ৬১৫ টাকা, ফ্রেশ ৫০০ থেকে ৫১০ টাকা ও মার্কস ৫০০ থেকে ৫১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা নাকি বলছেন, আগামী সপ্তাহে এর দাম আরো বাড়বে। ৪০০ গ্রাম ওজনের প্যাকেটজাত গুঁড়ো দুধ নিডো ২৫ টাকা বেড়ে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রকারভেদে ল্যাকটোজেনের দামও বেড়েছে। ৯০০ গ্রাম ওজনের প্যাকেটজাত ল্যাকটোজেন ৩০ থেকে ৩৫ টাকা বেড়ে ১১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এইদেশে প্রতিদিন কতসংখ্যক শিশুর জন্ম হয়, সরকার বাহাদুরের কাছে একটা হিসাব অবশ্যই আছে, কিন্তু এসব শিশুর প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় কি থাকে, সেটা কতজন জানে। একটা গরীব দেশে যে ছয় মাস শিশু বুকের দুধ খায়, এটুকুই তার ন্যায্য প্রাপ্তি একজন ভবিষ্যত নাগরিক হিসেবে। বাকি জীবনটা তার কাটে হাওয়া খেয়ে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেখানে শিশুখাদ্য বিনামূল্যে দেওয়া হয়, মায়ের খাবারও থাকে বিনামূল্যে, সেখানে এইদেশের সরকার দাম বাড়িয়েছে শিশুখাদ্যেরই। প্রজন্ম গড়ার কারিগরদের, বিশেষভাবে বলতে গেলে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টাদের বুদ্ধিমত্তার তারিফ না করে পারছি না। যে কোটি কোটি খরচ করে অস্ত্রচুক্তি হয়, যেখানে কোটি কোটি টাকার বাজেট থাকে দেশের তিন বাহিনীকে সুসজ্জিত করার জন্য, সেখানে দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মকে রীতিমতো না খাইয়ে রাখা বা পুষ্টিহীন রাখার ভালই কলাকৌশল রপ্ত করেছে সরকার। সাধুবাদ না দিয়ে পারা যায় না।

বিক্রেতারা আশার কথা শোনালেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে বাজেটের নেতিবাচক প্রভাব এখনও পড়েনি। তবে বাজেটের প্রভাব পড়বে আরও এক সপ্তাহ পরে। আমরা এরই মধ্যে আঙুল চুষতে শুরু করি।

শেয়ার করুন: